‘গেরুয়া সন্ত্রাসের ন্যারেটিভ মিথ্যে প্রমাণিত হল’—সাধ্বী প্রজ্ঞা

মালেগাঁও বিস্ফোরণ কাণ্ডে বেকসুর খালাসের বিশেষ এনআইএ আদালতের রায় ঘোষণার পরই আদালতে আনন্দে প্রায় কেঁদেই ফেলেন প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর ওরফে সাধ্বী প্রজ্ঞা। বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের এনআইএ বিশেষ আদালতে প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস পেয়ে যান মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত বলে চার্জসিটে নাম থাকা প্রাক্তন এই বিজেপি সাংসদ সহ আরো ৭ জন। আর এই রায় ঘোষণার পরই সাধ্বী প্রজ্ঞা বলেন, ‘‘বছরের পর ধরে আমায় হেনস্থা করা হয়েছে৷ সমানে লড়াই করে যেতে হয়েছে৷ নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও আমায় দোষী বলে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে৷ সেই বোঝা আমি বয়ে নিয়ে বেড়িয়েছি৷’’ বৃহস্পতিবার মুম্বাই এনআইএ স্পেশাল কোর্টের বিচারপতি একে লাহোটি স্পষ্ট করে দেন যে প্রয়োজনীয় প্রমাণ না থাকায় প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর ওরফে সাধ্বী প্রজ্ঞা, প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ পুরোহিত, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রমেশ উপাধ্যায় সহ ৭ জনকে এই মামলা থেকে বেকসুর খালাস করে দেওয়া হল। বিচারক রায় ঘোষণা করার পরেই সাধ্বী প্রজ্ঞা বলেন, ‘‘আজ গেরুয়া পতাকার জয় হল, হিন্দুত্বের জয় হল৷ ‘গেরুয়া সন্ত্রাসে’র ন্যারেটিভ মিথ্যে প্রমাণিত হল৷’’ প্রসঙ্গত, মুম্বইয়ের এনআইএ-র বিশেষ আদালত ২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ কাণ্ডের ৭ অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করেছে৷ জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন তদন্তকারীরা৷ সন্দেহের বশে কাওকে সাজা দেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেছে আদালত৷ এদিন এনআইএ কোর্টে বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে সাধ্বী প্রজ্ঞা বলেন, ‘‘আমি সেই প্রথম থেকেই বলছি, যাঁরা তদন্ত করার কথা বলেছে, তাদের যুক্তির পিছনে কোনও কারণ তো থাকবে? আমায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে ডেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, অত্যাচার করা হয়েছে৷ আমার সারা জীবন নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে৷’’ সাধ্বী প্রজ্ঞা আরও বলেন, ‘‘আমি সাধুর জীবন কাটাচ্ছিলাম, আমায় অপরাধী বানিয়ে দিল৷ কেউ আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি৷ আমি বেঁচে আছি কারণ আমি সন্ন্যাসী৷’’
প্রমাণের অভাব মালেগাঁও বিস্ফোরণ কাণ্ডে বেকুসুর খালাস ৭ অভিযুক্ত

মুম্বাইয়ের বিতর্কিত মালেগাঁও বিস্ফোরণ কাণ্ডে প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস পেলেন ৭ মূল অভিযুক্ত। যার মধ্যে অন্যতম প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুর। এই ঘটনার চার্জশিটে নাম থাকা ৭ অভিযুক্তকেই বেকসুর খালাস ঘোষণা করল মুম্বাইয়ের এনআইএ-র বিশেষ আদালত। প্রায় ১৭ বছর ধরে চলা মামলার রায় প্রদান করে বিচারপতি একে লাহোটি জানালেন, “কেবল সন্দেহের বশে মামলা এগোনো যায় না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার পক্ষ।” আর তাই কার্যত প্রমাণের অভাবেই মুম্বইয়ের এনআইএ বিশেষ আদালত ৭ অভিযুক্তকে রেহাই দিল। অভিযুক্তর তালিকায় প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর ছাড়াও সেনাবাহিনীর প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ পুরোহিত, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রমেশ উপাধ্যায়, সুধাকর চতুর্বেদী, অজয় রাহিরকর এবং সুধাকর ধর দ্বিবেদী। ২০০৮-এর ২৯ সেপ্টেম্বর মোটরবাইকে রাখা দুটি বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে মালেগাঁও। বিস্ফোরণে ৬ জনের মৃত্যু হয়, জখম হন ১০১ জন। এই বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রথমে স্থানীয় থানায় মামলা হয় পরে এই তদন্ত ভাগ নেয় আন্টি টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস)। মোট ১৬ জনের নাম চার্জশিটে দেওয়া হয়। এই ঘটনার কারণে ২০০৮ সালের ২৩ শে অক্টোবর প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১১ সালে এই মামলা এটিএস এর হাত থেকে এনআইএর হাতে যায়। ২০১৮ সাল থেকে শুরু হয় সওয়াল জবাব। মোট ৩২৩ জন সাক্ষীর তালিকা তৈরি হলেও মোট ২৮২ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করে এন আই এ। মামলা চলাকালীন ২৬ জন সাক্ষী মারা যান, ৩৯ জন হাজিরা দেননি। তবে ঘটনায় মূল ষড়যন্ত্রী হিসেবে অভিযুক্ত সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরজামিন পাওয়ার পর মধ্যপ্রদেশের ভোপাল থেকে বিজেপির সাংসদ নির্বাচিত হন। ‘মালেগাঁও বিস্ফোরণে ৩ থেকে ৪টি সংস্থা কাজ করছে। সরকার পক্ষ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে যে বিস্ফোরণটি বাইকেই হয়েছিল। তদন্তে অনেক ত্রুটি ছিল। ঘটনাস্থল থেকে আঙুলের ছাপ পাওয়া যায়নি। বাইকের চেসিস নম্বর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ সংগ্রহ করেননি। প্রমাণ নষ্টের ঘটনা ঘটেছে’, জানাল মুম্বইয়ের এনআইএর বিশেষ আদালত।