SIR নিয়ে রাজ্য নির্বাচনী কমিশনে স্মারকলিপি প্রদেশ কংগ্রেসের, দুষলেন তৃণূল, বিজেপকে

কয়েক দফা দাবী নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি জমা দিল এবার কংগ্রেস(Pradesh Congress)। কংগ্রেসের এই স্মারকলিপিতে যেমন মতুয়াদের(Motua) পাশে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ আছে, তেমনই এসআইআরের সময়সীমা বাড়ানোর দাবীও জানানো হয়ছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের(Pradesh Congress) তরফে। সেইসঙ্গে বিএলও-দের ওপর যে বাড়তি চাপ পড়েছে সেদিকেই বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণের কতা জানানো হয়েছে রাজ্য কংগ্রেসের তরফে। একইসঙ্গে মতুয়াদের নিয়ে তৃণমূল(TMC) এবং বিজেপির(BJP) দ্বিচারিতার কথাও জানানো হয়েছে। এদিন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের(Pradesh Congress) সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের(Shubhankar Sarkar) নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের এক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে গিয়ে বিশেষ পর্যবেক্ষক ( রোল-রিভিশন) সুব্রত গুপ্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এক স্মারকলিপি প্রদান করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন কংগ্রেস নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী, প্রশান্ত দত্ত, পার্থ ভৌমিক, আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় এবং রোহন মিত্র কয়েকদিন আগেই দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের(TMC) দশ দলের কমিটির সদস্যরা। এবার রাজ্যে সরব হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস(Pradesh Congress)। তাদের জোরালো দাবী মতুয়াদের স্বার্থরক্ষা নিয়েই। এসআইআরের নামে যেন মতুয়াদের কোনওরকম অসুবিধা না হয় সেই কথাই জাদের স্মারকলিপিতে রয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের সাফ বক্তব্য মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে দ্বিচারিতা করছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি। মতুয়াদের কোনওরকম অসুবিধা যে রাজ্য কংগ্রেস মেনে নেবে না সেই কথাও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেসের(Pradesh Congress) স্মারকলিপিতে। মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে যে দ্বিচারিতা করছে বিজেপি(BJP) ও তৃণমূল(TMC) তা উল্লেখ করে কংগ্রেস প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয় যে, মতুয়ারা এদেশেরই নাগরিক, তাঁদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে কোনো নেতিবাচক পদক্ষেপ কংগ্রেস বরদাস্ত করবেনা। মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার ক্ষুন্ন করার যেকোনো অপচেষ্টা কংগ্রেস রুখবে বলেও এদিন দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এদিন স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয় দেশভাগের আগে যাঁরা বিভিন্ন কারণে উদ্বাস্তু হয়ে এদেশের মাটিতে এসেছেন তাঁরা এদেশেরই নাগরিক। সুতরাং ভোটার তালিকা থেকে মতুয়াদের নাম বাদ দেওয়া হলে তা হবে একটা বেআইনি ও অনৈতিক কাজ।
ভোট অঙ্কে কংগ্রেসের অস্ত্রও এবার মতুয়া! ঠাকুরনগরে সত্যাগ্রহের ডাক কংগ্রেসের

বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় কংগ্রেস পার্টি(Congress) অফিসে সাংবাদিক সম্মেলন করেন উত্তর ২৪ পরগনা গ্রামীন জেলা কংগ্রেসের সভাপতি ইন্দ্রানী দত্ত চ্যাটার্জি। সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি জানান, ভোটের আগে নাগরিকত্ব ইস্যুতে মতুয়াদের(Motua) বিপদে ফেলা হচ্ছে। ঠাকুর বাড়িতে ঘন্টার পর ঘন্টা তারা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি নিজে ঠাকুরবাড়িতে এসেছিলেন মতুয়ারা তার কাছে বিভিন্ন অভিযোগের কথা বলেছিলেন। মতুয়াদের(Motua) নাগরিকত্ব সুনিশ্চিত করতে মতুয়াদেত সার্বিক উন্নয়ন এবং জাতি গণনার দাবীতে ঠাকুরনগর স্টেশন সংলগ্ন ইন্দিরা গান্ধীর মূর্তির পাদদেশে সত্যাগ্রহ করবেন তারা। ইন্দ্রানির দাবি, কেন্দ্র সরকার যত তাড়াতাড়ি জাতি গণনা শুরু করবে তত তাড়াতাড়ি মতুয়ারা স্বীকৃতি পাবে। কংগ্রেসের এই কর্মসূচিকে কটাক্ষ করেছে শান্তনু ঠাকুর পন্থী অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক সুখেন গাইন। তিনি বলেন, মতুয়া উদ্বাস্তু মানুষেরা হয়রানি হয়েছে কংগ্রেসের কারণে। পূর্ব বাংলার মানুষেরা উদ্বাস্তু হওয়ার পেছনেই কংগ্রেস। আজকের মতুয়া দরদী হয়েছেন সামনে ভোট আসছে তাই মতো। মতুয়াদের ভোট দরকার? মতুয়াদের জন্য কি করেছেন? অন্যদিকে মমতা ঠাকুর পন্থী অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক সুকেশ চৌধুরী বলেন, দেশ ভাগের পরে ওপার বাংলা থেকে আসা মতুয়া উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব সুনিশ্চিত করার জন্য কংগ্রেস কখনো ভাবেনি। কংগ্রেস এই পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে মতুয়া এবং উদ্বাস্তু মানুষেরা বিজেপির পাতা ফাঁদে পা দিতে হয়েছে । হয়রানি হচ্ছে। এই হয়রানির দায় কংগ্রেসও এড়াতে পারে না। এখন যদি তারা রাজনীতি করতে না এসে সত্যি সত্যি মতুয়াদের অসুবিধা নিয়ে পাশে দাঁড়াতে চায় তাহলে তাদের স্বাগতম। এই বিষয়ে বিজেপি নেতা দেবদাস মন্ডল বলেন, এভাবে রাজনীতিতে ভেসে থাকা যায় না। কংগ্রেসের কথা কেউ শোনেনা। মতুয়ার নাগরিকত্বের জন্য ঠাকুরবাড়িতে যাচ্ছে এবং তারা নাগরিকত্ব পাচ্ছে।