সম্মতি ওড়িশার, ১৪ দল নিয়েই হচ্ছে এবারের আইএসএল

অবশেষে আইএসএল( খেলার ব্যপারে সম্মতি জানিয়ে ওড়িশা এফসি(Odisha Fc)। একইসঙ্গে বাকি ক্লাব গুলোও ফেডারেশনের(AIFF) সময়সীমার মধ্যে নিজেদের সম্মতি জানিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ ১৪ দলকে নিয়েই আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে এবারের আইএসএল(ISL)। ওড়িশার এফসির(Odisha Fc) খানিকটা সংশয় নিয়েই হঠাৎই একটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। সেখানেই শেষপর্যন্ত এবার ওড়িশা এএফসি নিজের সম্মতি জানাতেই কার্যত সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে দিয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিটা ক্লাব তাগের হোম ভেন্যুও মোটামুটি পাকা করে ফেলেছে। যদিও ইন্টার কাশি(Inter Kashi) সহ কয়েকটি ক্লাব আরও দু-একদিন সময় চেয়ে নেওয়ায় ফেডারেশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে এই সপ্তাহের মধ্যেই ফেডারেশন আইএসএলের(ISL) সূচি যে ঘোষণা করতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন শুধুই সরকারীভাবে ফেডারেশনের ঘোষণা করার অপেক্ষায় রয়েছেন সকলে। কলকাতাতেই যুবভারতী হতে চলেছে মোহনবাগান(Mohunbagan) ও ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) হোম গ্রাউন্ড। সেইসঙ্গে মহমেডানের হোম গ্রাউন্ড হতে চলেছে এবার কিশোরভারতী। অন্যদিকে ইন্টারকাশিও খেলতে বাংলাতেই তাদের হোমগ্রাউন্ড বাছছে। শোনাযাচ্ছে বারাসত এবং কল্যাণী স্টেডিয়ামই হতে চলেছে তাদের হোম গ্রাউন্ড। যদিও এখনও পর্যন্ত তারা চূড়ান্ত করেনি। বরং ফেডারেশনের থেকে আরও দুটো দিন সময় চেয়ে নিয়েছে। অর্থাৎ বুধবারই ফেডারেশনের কাছে নিজেদের হোম গ্রাউন্ড নিশ্চিত করে দেবে ইন্টারকাশি।
ঘরের মাঠেই আইএসএলের ম্যাচ খেলবে কলকাতার তিন প্রধান, এএফসিতে চিঠি ফেডারেশনের

আইএসএল(ISL) কলকাতাতেই হচ্ছে। ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal), মোহনবাগান(Mohunbagan) ও মহমেডানের(Mohammedan Sc) সমর্থকরা তাদের প্রিয় দলের খেলা যুবভারতীতেই দেখতে চলেছেন। সুইস মডেলে এবারের আইএসএলে হবে হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচ। সূত্রের খবর সেই পদ্ধতিতেও কলকাতার তিন প্রধান তাদের ঘরের ম্যাচ কলকাতাতেই খেলতে চলেছে। এটা যে ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal), মোহনবাগানের কাছে বাড়তি পাওনা হতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যদিকে ক্লাব গুলোর আইএসএল(ISL) খেলার ব্যপারে এবার অন্যতম শর্ত ছিল এএফসির(AFC) স্লট পাওয়া। শোনাযাচ্ছে ইতিমধ্যেই নাকি এই মরসুমের জন্য খানিকটা ছাড়া যাতে তাদের দেওয়া হয়, সেই কথা জানিয়ে এএফসির কাছে আবেদন করে দিয়েছে ফেডারেশন। সেখানেই তারা জানিয়ে দিয়েছে যে এবারের আইএসএলে প্রতিটি দল ১৩টি করে ম্যাচ খেলবে। সেইসঙ্গে সুপার কাপে আইএসএলের দল গুলো ইতিমধ্যেই তিনটি করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে। সুতরাং সব মিলিটে ১৬ট করে ম্যাচ খেলবে প্রতিটি দল। সেই হিসাব জানিয়েই এবারের পরিস্থিতি মতো এএফসির কাছে স্লট পাওয়ার ব্যপারে ছাড়পত্র চেয়ে আবেদন করে দিয়েছে ফেডারেশন। এদিকে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে লিগ শুরু হলেও, সূচী এখনও পর্যন্ত তৈরি হয়নি। শোনাযাচ্ছে চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে সূচী ঘোষণা হতে পার। বিশেষ করে আদালতের রায় পাওয়ার পরই সূচী ঘোষণা হবে। কারণ লিগে রেলিগেশন থাকবে কী থাকবে না, সেই সমস্ত নিয়ে আদালত রায় দেবে। সেটা জানার পরই সূচীও ঘোষিত হবে।
মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের নাম ভুল উচ্চারণ, কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীকে কটাক্ষ মোহনবাগান সহ সভাপতির

দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী। সেই মনসুখ মাণ্ডব্যই(Mansukh Mandaviya) কিনা দেশের শতাব্দী প্রাচীন দুই ক্লাবের নাম ভুল উচ্চারণ করলেন! তাও আবার দেখে দেখে। মোহনবাগান(Mohunbagan) এবং ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) মতো ক্লাবের নাম ভুল বললেন। আর সেই ভিডিও ক্লিপ দেখেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে শুরু হয়েছে ট্রোলিং। শুধু তাই নয় এমন ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীকে(Union Sports Minister) কটাক্ষও করতে ছাড়েননি মোহনবাগানের সহ সভাপতি তথা তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh)। এই ঘটনা দুটো ক্লাব তো বটেই, বাংলাকেও অসম্মান বলে মনে করছেন তিনি। গত মঙ্গলবারই ক্লাব জোটের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের(Union Sports Minister) উপস্থিতিতে শেষ বৈঠকে বসেছিল ফেডারেশন(AIFF)। সেখানেই শেষপর্যন্ত প্রতিটি ক্লাবের যোগদানের কথা উল্লেখ করে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আইএসএল শুরু হওয়ার কথা ঘোষণা করে দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য। সেখানেই ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) এবং মোহনবাগানের(Mohunbagan) নাম নিতে গিয়ে ভুল করেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী। সেখানে তিনি কাগজ দেখেই বলেন মোহনবেগেন, ইস্টবেগেন। যদিও পরে অবশ্য ফের কাগজ দেখে ভুল ঠিক করেন। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। এই একটা ক্লিপিং কার্যত ঝড়ের মতো সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে। এমন শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের নাম কেমন করে তিনি দেখেও ভুল বলতে পারলেন, সেই নিয়েই উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। তীব্র কটাক্ষ করেছেন খোদ মোহনবাগানের সহ সভাপতি কুণাল ঘোষও(Kunal Ghosh)। VIDEO | Delhi: Union Sports Minister Mansukh L Mandaviya says, “The ISL is set to return for the 2025–26 season from February 14.” (Full video available on PTI Videos – https://t.co/n147TvrpG7 pic.twitter.com/ozJqwzY6Pz — Press Trust of India (@PTI_News) January 6, 2026 তিনি জানান, “কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী দেখে দেখে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের নাম উচ্চারণ করতে পারছেন না। শতাব্দী প্রাচীন দুই ক্লাব। জাতীয় ক্লাব মোহনবাগান, লড়াইয়ের নাম ইস্টবেঙ্গল। এই নামগুলো তিনি জানেন না। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহমেডান ভারতবর্ষের ফুটবলকে উজ্জ্বল করেছে। এরা বাংলার মনীষীদের অপমান করে। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলের নামও জানেন না। এদের দেখে রাখুন চিনে রাখুন। এরা বাংলা বাঙালীর নিজের হতে পারেন না। ক্রীড়ামন্ত্রী মনে হয় প্রথমবার নাম জানলেন মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলের।” সোশ্যাল মিডিয়াতে এই নিয়ে ট্রোলিং শুরু হয়েছে বিস্তর। চলছে নানান টিপ্পনিও। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর সেই ভিডিওটাই এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
না ফেরার দেশে চলে গেলেন আইলিগ জয়ী সুখেন

বড়দিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ময়দানে শোকের ছায়া। মাত্র ৩৫ বঠরেই থেমে গেল প্রাক্তন ফুটবলার সুখেন দে-র(Sukhen Dey) জীবনের দৌড়। হঠাত্ই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত মোহনবাগানের আইলিগ(I league) জয়ী ডিফেন্ডারের। কর্মরত অবস্থাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন সুখেন দে। তাঁর এমন অকাল প্রয়ানে শোকস্তব্ধ বাংলার ময়দান সহ বাংলার ক্রীড়া মহল। শুক্রবার কর্মরত অবস্থাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। হাতপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। মোহনবাগানের হয়ে আইলিগ জিতলেও, ফুটবলের ময়দানে সুখেন দে-র(Sukhen Dey) উত্থান ইউনাইটেড স্পোর্টসের হাত ধরে। ইউনাইটেড স্পোর্টসের হয়েই প্রথম আইলিগ খেলেছিলেন সুখেন দে। এরপর খেলেছেন মোহনবাগানের(Mohunbagan) হয়ে। তাঁর ছোট খাটো চেহারা নিয়েই র্যান্টি মার্টিন্স, ওডাফা ওকোলিদের মতো তারকা ফুটবলারদের আটকে দিয়েছিলেন এই ডিফেন্ডার। ২০১৪-১৫ মরসুমে মোহনবাগানের আইলিগ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন সুখেন দে(Sukhen Dey)। ইউনাইটেড স্পোর্টসের পাশাপাশি সঞ্জয় সেনের কোচিংয়ে খেলেছিলেন মোহনবাগানের জার্সিতে। খেলা ছাড়ার পর ভারতীয় রেলে কর্মরত ছিলেন এই প্রাক্তন ফুটবলার। আগামী ১ জানুয়ারি ৩৬ বছরে পা দিতেন সুখেন। কিন্তু জন্মদিনের ৫ পাঁচ দিন আগেই সব শেষ। মাত্র ৩৫-এই না ফেরার দেশে চলে গেলেন সুখেন দে।
মেসির হাতে সবুজ-মেরুন জার্সি, নিজের হাতে উদ্বোধন নিজের মূর্তির

লিওনেল মেসির(Lionel Messi) হাতে সবুজ-মেরুন জার্সি। আর সেটাই এদিন তুলে দিলেন মোহনবাগানের(Mohunbagan) কর্তারা। বিশ্বকাপ জয়ের পর এই প্রথমবার আর্জেন্তাইন কিংবদন্তীর ভারত সফর। সেখানে আবার শুরুটা কলকাতা দিয়ে। সেখানেই মেসিকে ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই ছিল সাজো সাজো রব। একইসঙ্গে এলএম টেনের(Lionel Messi) সামনে আবার খেলল মোহনবাগান একাদশ। সেই নিয়ে মোহনবাগান কর্তারা কার্যত উচ্ছ্বসিত ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রথমে হোটেলে স্পনসরদের সঙ্গে ফটোসেশনে ব্যস্ত ছিলেন লিওনেল মেসি। সেখান থেকেই সুজিত বোসের উদ্যোগে তৈরি হওয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেসি মূর্তি উদ্বোধন করেন এলএম টেন। তাঁর পাশে তখন আপ্লুত রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বোস। সেখানেই আবার মেসির সঙ্গে উপস্থিত শাহরুখ খান। সেই ভিডিও দেখেই আপ্লুত সকলে। সঙ্গে রয়েছেন সুয়ারেজ, ডে পলদের মতো তারকারা। মেসির সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বললেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। মেসি মাঠে ঢুকতেই তাঁর হাতে উঠল ঐতিহ্যের মোহনবাগান জার্সি। আর সেই জার্সির নম্বর চির স্মরণীয় দশ। মেসির হাতে সবুজ-মেরুণ জার্সি দেখেও সকলে আপ্লুত। একইসঙ্গে এলএম টেনের মতো তারকারে চোখের সামনে দেখতে পেয়ে তখন মাঠের ফুটবলাররাও উচ্ছ্বসিত। সকলেই যেন তখন শুধু একটু মেসির ছোঁয়া পেতে চাইছেন। কেউ অটোগ্রাফ নিচ্ছেন তো কেউ আবার সেলফি নিচ্ছেন মেসির সঙ্গে। সুয়ারেজ, ডেপলের সঙ্গে মেসিও তখন খোশ মেজাজে। তারই মাঝে মেসির সঙ্গে সাক্ষাত ডায়মন্ডহারবার এফসির কোচ কিবু ভিকুনার। তাদের পরিচয় রয়েছে। মেসিকে কলকাতায় স্বাগত জানালেন তিনি। আবার ডায়মন্ডহারবার এফসির কয়েকজন ফুটবলারের আবদারও মেটালেন এলএম টেন। এরপর মাঠে ঘোরা শুরু। সেখানেই যেন তালটা কাটল। তাঁকে ঘিরে মাঠের মধ্যেই এত ভিড় হত শুরু করে, মেসির ম্যানেজারের সিদ্ধান্ত তাঁকে নিয়ে বেড়িয়ে যাওয়ার। এরপরই যেন উত্তাল যুবভারতী।