আইএসএল না হলে বিদেশিদের ছেড়ে দেবে ইস্টবেঙ্গল!

শুধু কেভিন সিবিলেই ছেড়ে দিচ্ছেন এমনটা নয়। এই তালিকায় আরও অনেক বিদেশিই রয়েছেন ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal)। আইএসএল(ISL) নিয়ে টাল বাহানা চলছেই। আর এক সপ্তাহ দেখার পরই অর্থাৎ লিগ যদি না হয়, সেক্ষেত্রে সমস্ত বিদেশিদেরই ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেলেছে ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। মিগুয়েল, রশিদ(Mohammed Rashid) থেকে ক্রেসপোদের(Saul Crespo) ইচ্ছা না থাকলেও, ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে তারা। কারণ একটাই, অর্থ। আইএসএল(ISL) হওয়া নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনওরকম চূড়ান্ত নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। আর সেই কারণেই অনির্দিষ্টকালের জন্য ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) প্রস্তুতিও বন্ধ রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে মাঠে বল না গড়ালেও, অর্থ ব্যায় হয়েই যাচ্ছে। সেই কারণেই এই মরসুমে আইএসএল না হলে সকল বিদেশিকেই ছেড়ে দেবে লাল-হলুদ ব্রিগেড। আর পরবর্তী মরসুমে যদি ফের লিগ হয়, তখন আবার নতুন করেই হয়ত বিদেশি চয়ন করবে ইস্টবেঙ্গল। এই মরসুমে শেষবার সুপার কাপেই নেমেছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড(Eastbengal)। যদিও সেখানে ফাইনালে এফসি গোয়ার কাছে টাইব্রেকারে হারতে হয়েছিল লাল-হলুদ ব্রিগেডকে(Eastbengal)। সুপার শেষ হতেই লাল-হলুদ ফুটবলারদের লম্বা ছুটি। যতদিন না আইএসএল শুরু হওয়ার কোনও খবর পাওয়া যাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা মাঠে নামছেন না। দেশে ফিরে গেলেও বারবারই আইএসএল নিয়ে খবর নিচ্ছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁও(Oscar Bruzon)। কিন্তু কোনওরকম সদুত্তর নেই লাল-হলুদ ম্যানেজমেন্টের কাছে। এরই মাঝে শোনা গিয়েছিল যে কেভিন সিবিলে নাকি ছেড়ে দিতে চাইছেন ইস্টবেঙ্গল। এবার শোনাযাচ্ছে। এই মরসুমে আইএসএল না হলে, সব বিদেশিদের নাকি ইস্টবেঙ্গলই ছেড়ে দেবে। হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন রয়েছে। এর মাঝে আইএসএল নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয় কিনা গোটা দেশই এখন সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে।
ডিসেম্বরে বল পায়ে মাঠে নামছেন না ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা, ফিরে গেলেন শেষ বিদেশিও

ডিসেম্বরে আর বল পায়ে মাঠে নামছেন না ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) ফুটবলাররা। ভারতীয় ফুটবলের এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি তাতে শেষপর্যন্ত কী হয় সেই দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে লাল-হলুদ ম্যানেজমেন্ট(Eastbengal Management)। একমাত্র বিদেশি হিসাবে মিগুয়েল(Miguel Fereira) শহরে থাকলেও শেষপর্যন্ত তিনিও এবার পরিবারের সঙ্গে দেশে ফিরে গিয়েছে। আইএসএল(ISL) হওয়া নিয়ে নিশ্চয়তা পেলে তবেই নাকি কোচ থেকে ফুটবলারদের ডেকে পাঠানো হবে। আপাতত ডিসেম্বরে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সুপার কাপের(Super Cup) পরই ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) কোচ সহ বাকি ফুটবলাররা ফিরে গিয়েছিলেন। কয়েকজন বিদেশি শহের ফিরলেও কয়েকদিনের ছুটি কাটিয়ে সেই হিরোশি(Hiroshi Ibusuki), কেভিন(Cavin), রশিদরাও(Mohammed Rashid) ফিরে গিয়েছিলেন শহরে। তবে কলকাতায় থেকে গিয়েছিলেন মিগুয়েল ফেরেরা(Miguel Feriera)। কারণ আর্জেন্তিনা যেতে খরচ অনেকটা। সেইসঙ্গে তখন নাকি ডিসেম্বরের শেষ থেকে প্রস্তুতি শুরু হওয়ারও একটা কথা ছিল ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal)। ফলে এইটুকু সময়ের জন্য তিনি ফিরে না যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু আইএসএল নিয়ে জট এখনও অব্যহত। আদৌ আইএসএল(ISL) এবার হবে কিনা সেটা নিয়েও চলছে জোর জল্পনা। এমন পরিস্থিতিতে নাকি কয়েকদিন আগে মিগুয়েলকে ম্যানেজমেন্টের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এই ডিসেম্বরে ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) মাঠে নামার কোনওরকম সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ তিনি চাইলে ফিরে যেতেই পারেন। দুদিন আগেই নাকি পরিবারের সঙ্গে দেশেও ফিরে গিয়েছেন মিগুয়েল ফেরেরা। কবে থেকে ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) প্রস্তুতি শুরু হবে তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত আর কোনও আপডেট নেই। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে লাল-হলুদ(Eastbengal) ম্যানেজমেন্ট। আইএসএল কবে হবে সেটার ওপরই তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও নির্ভর করছে। একইসঙ্গে ইস্টবেঙ্গল সূত্রে আরও একটা খবর পাওয়া যাচ্ছে। যদি এই মরসুমে আইএসএল না হয়, সেক্ষেত্রে তারা তাদের অনেক বিদেশি ফুটবলারদের ছেড়েও দিতে পারে। তেমনও একটা ভাবনা নাকি রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আইএসএল হওয়া নিয়েই আশাবাদী লাল-হলুদ ম্যানেজমেন্ট।
ফাইনাল শেষ হতেই ইস্টবেঙ্গলের অনির্দিষ্টকালের ছুটি

সুপার কাপের(Super Cup) ফাইনালে হার। তারপরই অনির্দিষ্ট কালের জন্য ফুটবলারদের ছুটি দিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। এফসি গোয়ার কাছে হারের পরই সোমবার কলকাতায় ফিরেই স্পেনে ফিরে যাওয়ার বিমান ধরলেন সওল ক্রেসপো(Saul Crespo)। দেশীয় ফুটবলাররাও যার যার বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। তবে দলের সঙ্গেই কলকাতায় ফিরে এসেছেন হিরোশি(Hiroshi Ibusuki), রশিদ(Mohammed Rashid), মিগুয়েল, কেভিন এবং হামিদ। আপরাতত কয়েকদিন শহরে থেকে তারাও ফিরে যেতে পারেন তাদের বাড়িতে। আইএসএল কবে থেকে শুরু হবে তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সেভাবে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সেই কারণে আপাতত ফুটবলারদের বিশ্রাম দেওযারই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইএফএ শিল্ডের পর সুপার কাপেও সেই একই ফলাফলের পূণরাবৃত্তি। সেখানেও সেই টাই ব্রেকারেই হারতে হয়েছে লাল-হলুদ(Eastbengal) ব্রিগেডকে। এমন পরিস্থিতিতে দলের ফুটবলাররাও যে হতাশ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে পরপর দুটো প্রতিযোগিতার ফাইনালে পৌঁছনোর পরও। এরপর তাদের সামনে রয়েছে আইএসএল। যদিও সেই প্রতিযোগিতা কবে হবে তা এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ফাইনালের পরই ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) ফুটবলারদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। কবে থেকে অবশ্য লাল-হলুদের প্রস্তুতি শুরু হবে তা এখনও পর্যন্ত ঠিক নেই। সেই কারণেই ফুটবলারদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে। দেশীয় ফুটবলাররাও আপাতত কয়েকদিনের বিরতিতে। কবে থেকে ইস্টবেঙ্গলের পরবর্তী প্রস্তুতি শুরু হয় সেটাই দেখার অপেক্ষায় এখন সকলে।
তিন বিদেশির গোলে ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল

পঞ্জাব এফসিকে হেলায় হারিয়ে সুপার কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। তিন বিদেশির গোলেই বাজিমাত লাল-হলুদের। ৩-১ গোলে জয়ী ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা গিয়েছিল অস্কারের(Oscar Bruzon) মুখে। সেই কারণটা মাঠে নেমে ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিলেন কেভিন সিবিলে(Cavin) থেকে ক্রেসপো(Saul Crespo), মিগুয়েলরা। প্রতিপক্ষ শিবিরের দুই সেরা ডিফেন্ডার নেই। সেই সুযোগটা প্রথম থেকেই কাজে লাগানো শুরু করেছিল লাল-হলুদ ফুটবলাররা। ম্যাচের ১২ মিনিটেই প্রথম সাফল্য। মিগুয়েলের বাড়ানো লং বল। রশিদের জোরালো শটে ১২ মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যায় লাল-হলুদ ব্রিগেড। সেই থেকেই প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ বাড়ানো শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। প্রতিদিনের চেনা ছক ভেঙে এদিন আবার শুরু থেকে হিরোশিকে মাঠে নামিয়েছিলেন অস্কার ব্রুজোঁ(Oscar Bruzon)। তিনি আক্রমণে গেলেও সেভাবে অবশ্য খুব একটা কিছু করতে পারেনি। বরং ম্যাচের বয়স যখন আধ ঘন্টা পেড়িয়েছে সেই সময় বিপিনের ভুলেই পেনাল্টি পেয়ে যায় পঞ্জাব এফসি(Punjab Fc)। র্যামিরেজ যা জালে জড়াতে ভুল করেননি। তবে ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) এদিন দমে যাওয়ার দল ছিল না। বরং সেই সময় থেকে আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়ে। কর্ণার আদায় করে নেয় ইস্টবেঙ্গল। এবার লাল-হলুদের হয়ে গোলদাতা কেভিন সিবিলে(Cavin)। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ফের এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। এই সময়ই আবার খারাপ আচরণের জন্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড ডাগ আউট ছাড়তে হয় অস্কার ব্রুজোঁকে। যদিও ম্যাচ জয়ের ক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গলের সেটা কোনও বাধা হয়নি। বিরতির পর থেকে পঞ্জাব আক্রমণের চেষ্টা করলেও, বড্ড অগোছালো ফুটবলটাই খেলছিল তারা। সেখানেই মিগুয়েল(Miguel Ferrierra), ক্রেসপোদের(Saul Crespo), বিপিনদের(Bipin Singh) ভয়ঙ্কর আক্রমণ পঞ্জাবের রক্ষণে ক্রমাগত চাপ বাড়াতে শুরু করেছিল। এরই মাঝে অবশ্য হিরোশি সহ মিগুয়েল একাধিক সুযোগ পান, কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেননি। ৭১ মিনিটের মাথায় বক্সে ফের আক্রমণ ইস্টবেঙ্গলের। এবারও বল বাড়ান সেই মিগুয়েল। সেখানেই সওল ক্রেসপোর জোরালো শট। পঞ্জাব গোলরক্ষক এবারও ব্যর্থ। ম্যাচের ভবিষ্যৎ তখনই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। লাল-হলুদ গোলের ব্যবধান বাড়াতে পারে কিনা সেটাই দেখার ছিল। হিরোশি, এডমুন্ড, বিষ্ণুরা সুযোগ পেলেও সেই কাজটা আর করতে পারেনি। ফাইনালে পৌঁছনোর পরই যেন লাল-হলুদ(Eastbengal) ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে।