ব্রিগেডে প্যাটিস বিক্রেতাকে হেনস্থায় ক্ষুব্ধ মমতা

ব্রিগেডে পাঁচ লক্ষ কন্ঠে গীতা পাঠ। সেখানেই প্যাটিস বিক্রেতাকে হেনস্থার ছবি ভাইরাল। সেই ঘটনাতেই তীব্র ক্ষুব্ধ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। কৃষ্ণনগরের সভা থেকেই ফে একবার মমতার মুখে সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের কথা। একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দিলেন যারা এমন আচরণ করেছেন তাদের সকলকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এমন ঘটনা যে রাজ্যে বরদাস্ত নয় তা ফের একবার স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী(Mamata Banerjee)। কৃষ্ণনগরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সবকটাকে গ্রেপ্তার করেছি। এটা বাংলা। উত্তরপ্রদেশ নয়।” একইসঙ্গে মমতা আরও বলেন, “গীতাপাঠ তো আমরা সকলেই বাড়িতে করি। পাবলিক মিটিং করার কী দরকার? দুর্গাপুজো যখন হয়, তখন মিলেমিশে করি। আপনারা কে? যে ভেদাভেদ করছেন। আমি সবধর্মকে নিয়ে চলতে চাই। নতুন ধর্ম আমদানি করেছেন।” গত ৭ ডিসেম্বর ব্রিগেডে ছিল লক্ষ কন্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন। সনাতন সংস্কৃতি সংসদের উদ্যোগেই আয়োজিত হয়েছিল সেই সভা। সেখানেই উপস্থিত হয়েছিলেন ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্মগুরুরা। ব্রিগেডের(Brigade) সেই মাঠেই প্যাটিস বিক্রি করতে গিয়েছিলেন দুই বিক্রেতা। অভিযোগ সেই সময়ই নাকি অনুষ্ঠানে সামিল হওয়া কয়েকজন যুবক নাকি তাদের হেনস্থা করেন। শুধু তাই নয় প্যাটিসের বাক্সও উল্টে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তাদের মারধর ও উঠবোস করানোরও অভিযোগ উঠেছে। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হতেও খুব একটা বেশি সময় নেয়নি। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জায়গায় চিকেন প্যাটিস বিক্রি কেন, এই প্রশ্ন তুলেই বিক্রেতাকে হেনস্থা করা হয়। এই ঘটনা সামনে আসার পর আগেই ফুঁসে উঠেছিল তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। এবার কৃষ্ণনগরের মঞ্চ ক্ষোভ প্রকাশ খোদ মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
এসআইআর ইস্যুতে দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা মমতার

এসআইআর(SIR) নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্যে উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। সেই পরিস্থিতিতেই এবার কোচবিহারের মঞ্চ থেকে দলীয় কর্মীদের বিশেষ বার্তা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee)। এসআইআরের এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সঙ্গেই তুলনা করছেন মমতা। সেই পরিস্থিতিতেই সকলকে একসঙ্গে এবং দলগতভাবেই চলার নির্দেশ দিলেন মমতা(Mamata Banerjee)। একইসঙ্গে কোচবিহারের মানুষদের চিন্তা মুক্ত থাকারও বার্তা দিলেন তিনি। এসআইআর(SIR) প্রক্রিয়ায় কোনও সাধারণ মানুষ যদি সমস্যায় পড়েন তাঁর সাহায্যার্থে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দলীয় কর্মীদের দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। একইসঙ্গে দল যাতে এই সময় ঐক্যবদ্ধ ভাবে থাকে সেই নির্দেশও দিয়েছেন মমতা। এই পরিস্থিতিতে সরাসরি যুদ্ধের সঙ্গেই তুলনা করছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ বার্তা, “বিএলএরা যেমন কাজ করছেন করবে। দলও যেন ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করে। যুদ্ধ যখন বাঁধে, সবাইকে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে লড়াই করতে হয়।” এদিন কোচবিহারের সভা থেকেই সাধারণ মানুষকেও অভয় বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে কাউকে যদি হিয়ারিংয়ের জন্য ডাকা হয় তিনি যেন সেখানে যান সেই বার্তাই দিয়েছেন মমতা। যে যে কাগজ বা নথি তাদের কাছে রয়েছে সেই সমস্ত নিয়েই যাওয়ার কথা শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। একইসঙ্গে কোনও ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে সমস্যা হলে সেখানে যাতে তাদের সরকার ও দল সাহায্য করে সেই বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মোদির মুখে “বঙ্কিমদা”, নাম না করেই প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ মমতার

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়(Bankim Ch Chatterjee) ইস্যুতে এবার নাম না করেই নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee)। সংসদে অধিবেশন চলাকালীন সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রকে(Bankim Ch Chatterjee) বঙ্কিম দা বলে সম্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি(Narendra Modi)। লোকসভার ভেতরে তো বটেই, এই নিয়ে বাইরেও প্রতিবাদে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার কোচবিহারের সভা থেকে নাম না করেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কেমনভাবে এমজন মনীষিকে এভাবে সম্বোধন করতে পারেন তিনি সেই নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন খোদ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। এসআইআর আবহে এই মুহূর্তে তৃণমূলের(TMC) অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হল বাংলা ও বাঙালি। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দিকে বাঙালিদের ওপর অত্যাচার নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানেই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়কে(Bankim Ch Chatterjee) নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্য যে বিজেপির অস্বস্তি খানিকটা হলেও বাড়াবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কোচবিহারের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বললেন বঙ্কিমদা। যেন মনে হচ্ছে শ্যামদা, হরিদা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, যিনি জাতীয় গান রচনা করেছিলেন, তাঁকে এইটুকু সম্মান দিলেন না! আপনাদের তো মাথা নিচু করে নাকখত দেওয়া উচিত জনগণের কাছে। তাতেও ক্ষমা হবে না”। বিজেপির এমন নানান মন্তব্য নিয়েই সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকি মঙ্গলবার সংসদের বাইরে তৃণমূলের সাংসদরা রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্রের ছবি হাতে নিয়ে মৌন প্রতিবাদও জানিয়েছেন।
সীমান্ত এলাকায় পুলিশকে বিশেষ নির্দেশ মমতার, আক্রমণ করলেন বিজেপিকে

কোচবিহারে দুদিনের সফর। সেখানে গিয়েই এবার বর্ডার এলাকা নিয়ে মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। বিশেষ করে সেখানে রাজ্য পুলিশকে অনেক বেশি প্রো অ্যাক্টিভ হওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। তাঁর সাফ বার্তা বর্ডার থেকে নাকি অনেক কিছু এধার উধার হচ্ছে। সেসব বন্ধ করতে আরও বেশি করে নাকা চেকিং বাড়ানো উচিৎ বলেই মনে করছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমদিন প্রশাসনিক বৈঠকে বসেছিলেন মমতা। সেখান থেকেই তিনি বলেন, “কোচবিহার জেলা বর্ডার জেলা। আইনশৃঙ্খলা ভালোভাবে দেখে রাখতে হবে। বর্ডার এলাকায় অজথা কোনও হস্তক্ষেপ মানা যাবে না। বিশেষ করে এলাকার আইন শৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে হবে বলেই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়”। তিনি আরও জানান, ”রাজ্যের যারা অফিসার আছেন তাঁদের বলব, ভীতু হলে চলবে না। মারপিট করতে বলছি না, খুন খারাপি করতে বলছি না! তবে প্রো অ্যাকটিভ হন”। একইসঙ্গে আরও বেশি করে নাকা চেকিংয়ের ব্যবস্থা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ”বর্ডার দিয়ে প্রচুর লেনদেন ইধার-উধার হচ্ছে। নাকাচেকিংটা ঠিকমতো করুন।” সেই মঞ্চ থেকে বিজেপিকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি তিনি। মমতা বলেন, “যাঁরা বেশি সমালোচনা করেন, তাঁরাই এটা খেয়ে যায়! আর দোষ হয় অন্য লোকের। সব পাখি মাছ খায়, দোষ হয় মাছরাঙার!”
সাসপেন্ড হুমায়ুন, বহরমপুরের সভা থেকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে(Humayun Kabir) সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল(TMC)। তার কয়েক ঘন্টা পরই বহরমপুরের সভায় তৃণমূল নেত্রী তথা মুক্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। সেখান থেকেই নাম না করেই হুমায়ুন কবীরকে(Humayun Kabir) বিঁধলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার(Mamata Banerjee) সাফ বক্তব্য একটা ধান পচে গেলে বাকিদের বাঁচাতে সেই ধানকে সরিয়ে দেওয়াই নাকি উচিৎ। তৃণমূলের এই পদক্ষেপের পরই বঙ্গ রাজনীতি মহলে শুরু হয়ে গিয়েছে নানান কানাভুসো। বেশ কয়েক মাস ধরেই দল বিরোধি মন্তব্য করে তৃণমূল কংগ্রেসের(TMC) অস্বস্তি বারবার বাড়াচ্ছিলেন হুমায়ুন কবীর। সম্প্রতি বহরমপুরে বাবরি মসজিদ তৈরি নিয়েও একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করতে শুরু করেছিলেন এই তৃণমূল বিধায়ক। অবশেষে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ারই সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল কংগ্রেস। এরপরই বহরমপুরের সভা থেকে নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) বার্তা। তিনি জানিয়েছেন, একটা ধান পচে গেলে সরিয়ে দিতে হয়। নইলে বাকি গুলোও পচে যায়। বৃহস্পতিবার সকালেই সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন ফিরহাজ হাকিম। সেখান থেকেই তিনি হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেন। সেখানেই ফিরহাদ জানিয়েছিলেন, “দল হুমায়ুনের সঙ্গে কোনওরকম সম্পর্ক রাখবে না।”
মুখ্যমন্ত্রীর মালদা সফরের আগে আরও অস্বস্তিতে তৃণমূল

সম্প্রতি তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বারবার দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটানোর নির্দেশ দিলেও, বাস্তবে ছবিটা অন্যরকম। তৃণমূলের চরম গোষ্ঠী কোন্দলের ছবি আবারও প্রকাশ্যে। তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার কাউন্সিলর তথা আইএনটিটিইউসি(INTTUC)-র জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন ওই পুরসভারই ভাইস চেয়ারম্যান। বোর্ড মিটিংয়ে, রেজুলেশন খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি রাজ্যের বেশ কিছু পুরসভার পাশাপাশি ওল্ড মালদা পুরসভার চেয়ারম্যানকেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই অপসারণ হয়েছে। নিজের ইস্তফা পত্র জমাও দিয়েছেন চেয়ারম্যান কার্তিক ঘোষ। এরপরই ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম একটি বোর্ড মিটিং ডাকেন। সেখানেই কার্তিক ঘোষের অনুগামী বলে পরিচিত পুরাতন মালদা পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা জেলা আইএনটিটিইউসি(INTTUC)-র সভাপতি বিশ্বজিৎ হালদারের বিরুদ্ধে রেজুলেশন খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মালদা থানায় অভিযোগও দায়ের করেন পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান। শাসক দলের এই গোষ্ঠী কোন্দলের ছবি সামনে আসতেই তা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপিও। ভাইস চেয়ারম্যানের অভিযোগ, সম্প্রতি চেয়ারম্যান ইস্তফা দিয়েছে। তা অফিশিয়াল ভাবে জানানোর জন্য বৈঠক ডাকা হয়েছিল। আর সেখানেই এই কাউন্সিলর রেজুলেশন খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। উচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশেই তিনি মালদা থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। যদিও, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ওই অভিযুক্ত কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ হালদার। তাঁর দাবি, তিনি ২০১১ সালের আগে থেকে দল করছেন। কোথাও অন্যায় দেখলেই প্রতিবাদ করেন। পাশাপাশি ভাইস চেয়ারম্যানকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ হালদার। এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে এটাই স্বাভাবিক। চেয়ারম্যান যখন অপসারণ হয়েছে। সেই পুরবোর্ডের কোনও গুরুত্বই নেই। সেখানে যা হবার তাই হচ্ছে। এই করতে করতে তৃণমূল দলটাই উঠে যাবে।” আগামী ৩রা ডিসেম্বর মালদা সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের এই ছবি নিঃসন্দেহেই দুশ্চিন্তায় রাখবে তৃণমূলকে। কেননা বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আর খুব বেশি বাকি নেই।
ঠাকুর নগরের সভা থেকে এসআইআর নিয়ে তোপ মমতার

বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন(Assembly Election)। তার আগেই এসআইআর নিয়ে তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। এবার মতুয়াদের এলাকা থেকেই কেন্দ্রের বিজেপি(BJP) সরকরকে একহাত নিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। সেই সভা থেকেই মমতার মুখে স্পষ্ট বার্তা, বীরভূমে জন্মেছে বলেই কিছু করতে পারছে না। নইলে তাঁকেও হয়ত এসআিআরের নাম করে বাংলাদেশী বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হত। বিধানসভার দিন যত এগিয়ে আসছে। ততই তৃণমূলও বাংলা ও বাঙালি অস্মিতায় শান দিতে শুরু করেছে। এসআইআর ঘোষণা হওয়ার আগে থেকেই বাংলা ও বাঙালির ওপর অত্যাচারের অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস(TMC)। বারবারই তারা বিভিন্ন জায়গায় বাংলা বললেই বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে যেমন সোচ্চ্বার হয়েছিল। তেমনই বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য বাঙালিদের নাকি নানান অত্যাচারের সম্মুখীনও হতে হওয়ার অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন মতুয়াগড়ে সভা করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। সেখানেও তাঁর মুখে বারবার বাংলা ও বাঙালির বিষয়ও উঠে এল। মতুয়াগড় ঠাকুরনগরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি? ভীরভূমে জন্মেছি, নইলে আমাকেও বাংলাদশি বলে দিত”। তিনি আরও বলেন, ”ভয় পাবেন না। বিজেপি ভয় দেখিয়ে প্রচার করছে। আমি থাকতে কারও গায়ে হাত দিতে দেব না।” আগামী ডিসেম্বরেই এসআইআরের তালিকা প্রকাশ হবে। সেই তালিকার পর যে বহ্গ রাজনীতি অন্যদিকে মোর নিতেই পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিএলও-দের দুর্দশার কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি মমতার

এসআইআরের(SIR) শুরু থেকেই বিরোধিতা করে এসেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। এবার রাজ্যে এসআইআর(SIR) বন্ধ করার কতা বলে নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। বিশেষ করে এই মুহূর্তে বিএলও-দের(BLO) যে পরিস্থিতি হয়েছে, সেই কথা উল্লেখ করেই নির্বাচন কমিশনকে কার্যত একহাত নিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী(Mamata Banerjee)। এবার যে এসআইআর নিয়ে লড়াইটা একেবারে চরমে পৌঁছেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। গত ৪ নভেম্বর থেকে রাজ্যে শুরু হয়েছে এসআইআর(SIR)। এই মুহূর্তে এনুরমারেশন ফর্ম দেওয়ার কাজ প্রায় শেষের পথে। কয়েকদিন পর থেকেই শুরু হবে ফর্ম জমা নেওয়ার কাজ। তারপর বিএলও দেরই কেই কাগজ তুলে দিতে হবে নির্বাচন কমিশনেক পোর্টালে। এই মুহূর্তে এই কাজ নিয়েই বারবার অভিযোগ তুলেছিলেন বিএলওরা(BLO)। প্রতিদিনই প্রায় কোনও না কোনও জায়গায় বিক্ষোভ করতে দেখা গিয়েছে বিএলও-দের। এমনকি কয়েকদিন আগে এই কাজের চাপে এওকজন মহিলা বিএলও-র আত্মহত্যার কথাও সামনে এসেছিল। এমন পরিস্থিতিতেই এবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরহ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। এই পরিস্থিতিতে সাহায্য না করে কিংবা সময়সীমা না বাড়িয়ে কলকাতার সিইও দপ্তর ভয় দেখাচ্ছে, বলেই অভিযোগ শানিয়েছেন তিনি। বিএলও-দের কথা বিবেচনা করেই এই মুহূর্তে এসআইআর থামানোর কথা বলে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা করছেন প্রবল চাপের মধ্যে যেভাবে বিএলও-দের কাজ করতে হচ্ছে, তাতে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সকলের পক্ষে ভোটারদের ফর্ম আপলোড করা সম্ভব কিনা। এমন পরিস্থিতিতে অসম্পূর্ণ ফর্মও তোলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মমতা। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ চেয়েই চিঠি লিখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে এই মুহূর্তে এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করার কথাও বলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের সুপ্রিমো।
SIR-এ বলি ২৮! নির্বাচন কমিশনকে একহাত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজ্যে এসআইআর(SIR) শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়তে শুরু করেছে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এবার এসআইআরের জন্য তৈরি হওয়া আতঙ্ক এবং একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের(Election Comission) বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। কার্যত নির্বাচন কমিশনের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের জন্যই নাকি এখনও পর্যন্ত ২৮ জনের প্রাণ গিয়েছেন বলেই মনে করছেন মমতা(Mamata Banerjee)। রাজ্যে এসআইআর(SIR) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে আত্মহত্যার ঘটনা শোনা যাচ্ছে। এমনকি বিএলও-রাও নাকি অত্যন্ত বিধ্বস্ত। ইতিমধ্যেই বুধবার সকালে মালবাজারে এক মহিলা বিএলও-র(BLO) ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবী নাকি এই কাজের চাপের জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন সেই বিএলও। এই সমস্ত ঘটনা নিয়েই এবার সরব হয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী(Mamata Banerjee)। তাঁ সাফ বার্তা, নির্বাচন কমিশনের এমন অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের জন্যই নাকি মূল্যবান প্রাণগুলো চলে যাচ্ছে। বুধবারই এক্স হ্যান্ডেলে এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতে লিখেছেন, “আজ আরও একজন বিএলওকে হারালাম। অঙ্গনওয়াড়িতে কাজ করতেন ওই মহিলা। এসআইআরের এত চাপ নিতে পারেননি।’ সেখানেই মমতা লেখেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে একটা কাজ শুরু করে, কর্মীদের এত চাপ দেওয়া হচ্ছে কমিশনের তরফে যার জেরে মূল্যবান প্রাণ চলে যাচ্ছে। যে কাজ করতে আগে ৩ বছর সময় নেওয়া হয়েছে, রাজনীতির কারণে এবার তা ২ মাসে করা হচ্ছে।“ এই মাস থেকেই শুরু হয়েছে এসআইআর(SIR)। তার আগে নির্বাচন কমিশনের তরফে বলে দেওয়াই হয়েছে যে ২০০২ সালে যাদের নাম রয়েছে বা আত্মীয়দের নাম রয়েছে। তাদের কোনওরকম চিন্তা নেই। তবুও মানুষের মনেন নানান প্রশ্ন রয়েই গিয়েছে। সেইসঙ্গে চলছে নানান হিসাব নিকাশও।
সম্প্রীতিতে জোর তৃণমূলের, সমাবেশে উপস্থিত থাকতে পারেন মমতা ও অভিষেক

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের এক বছরেরর কম সময় বাকি। এই মুহূর্তে রাজ্যে শুরু হয়েছে এসআইআর(SIR) প্রক্রিয়া। সেই পরিস্থিতিতেই সংহতি ও সম্পৃতির ওপর জোর তৃণমূল কংগ্রেসের। আগামী ৬ ডিসেম্বর রাজ্যে বিরাট ভাবে পালিত হতে চলেছে সংহতি দিবস(Sanhati Divas)। সেখানেই উপস্থিত থাকতে পারেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee) এবং তৃণমূলের সর্বোভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee)। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে এখন থেকেই কোমড় বাঁধছে তৃণমূল কংগ্রেস(TMC)। প্রতিবছরই ৬ ডিসেম্বর রাজ্যে পালিন করা হয় সংহতি দিবস। এবারও যে তার অন্যথা হবে না তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে সেই দিনকে কেন্দ্র করে এবার তৃণমূলের(TMC) তরফে মলা সমাবেশ করারই পরিকল্পনা করা হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক চললে মেয়ো রোডের এই সমাবেশ উপস্থিত থাকতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee)। এই সমাবেশ আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের ছাত্র যুব ও সংখ্যা লঘু সংগঠনকে। দলের অন্যতম মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদারের তরফে জানানো হয়েছে, ”প্রতি বছর ৬ ডিসেম্বর সংহতি দিবস পালিত হয়, এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনটিতে জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি দিবস হিসেবে পালন করা হয় প্রতি বছর। এবারও সেটাই হবে। আমাদের ছাত্র, যুব সংগঠন, সংখ্যালঘু সংগঠন মিলে তার আয়োজন করছে। সকলে আমরা ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেব।” সেদিনের সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরই যে সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে সকলের তা বলাই বাহুল্য। সেদিনের সমাবেশ থেকে তারা কী বার্তা দেন সেটাই দেখার।