মালদায় মহিলা BLO-র স্বামীকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে

দিনে রাতে হুমকির মুখে মহিলা বিএলও (BLO)। চরম আতঙ্কে নিরাপত্তাহীনতায় স্বাভাবিক কাজ করতে পারছেন না তিনি। অথচ তাঁর স্বামীর ওপর অকথ্য অত্যাচারের পরেও অভিযুক্ত তৃণমূল আশ্রিত জমি মাফিয়াকে গ্রেফতার না করে পুলিশের তরফ থেকে সালিশি করে বিষয়টি মিটমাট করে নেওয়ার প্রস্তাব বিএলও(BLO)-কে। সংবাদমাধ্যমের সামনে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন ওই মহিলা বিএলও(BLO)। অভিযোগ জানালেন বিডিওর(BDO) কাছেও। যেহেতু তিনি পার্শ্বশিক্ষক, তাই স্কুল ইন্সপেক্টরকেও অভিযোগ জানালেন তিনি। পাশে দাঁড়িয়ে ডেপুটেশন দিলেন তাঁর সহকর্মী সহ এলাকার শিক্ষকরাও। যাঁদের অনেকেই আবার বিএলও(BLO)-র কাজে নিযুক্ত। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার সুলতান নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাটিওন গ্রামের বিএলও নিবেদিতা মন্ডলের স্বামী কমল মন্ডলের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালায় এলাকার তৃণমূল আশ্রিত জমি মাফিয়া কসিমুদ্দিন। অভিযোগ, তার কথামত কাজ না করায় এমন হামলা চালায় কসিমুদ্দিন। পুলিশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ জানালেও পুলিশ কসিমুদ্দিনকে গ্রেফতার করেনি। উলটে সালিশি করে মিটিয়ে ফেলার প্রস্তাব দেওয়া হয় ওই বিএলও-কে। পাশাপাশি দিনরাত কসিমুদ্দিন বিএলওকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। এরপরেই হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের বিডিও এবং হরিশ্চন্দ্রপুর দক্ষিণ চক্রের বিদ্যালয়ের পরিদর্শকের কাছে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং অবিলম্বে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও ওই শিক্ষিকার নিরাপত্তা চেয়ে দাবিপত্র পেশ করলেন হরিশ্চন্দ্রপুর দক্ষিণ চক্রের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং সহ শিক্ষকরা। অবিলম্বে ওই অভিযুক্ত নেতাকে গ্রেফতার করা না হলে শিক্ষক সমাজ বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এমনকি, এসআইআর-এর কাজ থেকে তারা বিরত থাকবেন বলেও জানিয়েছেন। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন বিএলও নিবেদিতা মন্ডল। তিনি জানান অভিযুক্ত ওই কসিমুদ্দিন ঘটনার পর থেকেই প্রতি রাতে বাড়ি বয়ে এসে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া এই ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন তরফ থেকে ঘটনাটি বসে মিটিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। যদিও আজ সকালে খবরের জেরে এবং শিক্ষক সম্প্রদায়ের চাপের কাছে নতিস্বীকার করে পুলিশ অবশেষে এফআইআর করতে বাধ্য হয়। শিক্ষকদের অভিযোগ, “আমরা এখনও আতঙ্কে রয়েছি, দুষ্কৃতীরা বহাল তবিয়তে এলাকাতে ঘোরাঘুরি করছে। আমরা বাড়ি থেকে রাত্রিবেলা বেরোতে পারছি না। ও গ্রেপ্তার না হলে আমরা নির্ভয়ে থাকতে পারছি না।” এদিকে গোটা ঘটনাকে সামনে রেখে ফের শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির দাবি এলাকার বিভিন্ন যে সমস্ত অপরাধে শাসক দলসহ বড় বড় নেতা-মাথা জড়িয়ে থাকছে সেগুলো মিটিয়ে দিতে পুলিশি তৎপর হয়ে উঠছে। সালিশি করে মিটমাট করে দিতে বলছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের পুলিশের উপর থেকে আস্থা উঠে যাচ্ছে। যদিও এই ঘটনায় তৃণমূলের দাবি, অপরাধী যে দলের হোক না কেন পুলিশ প্রশাসনকে বলা হবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।
মালদায় তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির অভিযোগ

মালদায় আবারও তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। সমবায়ের জমি নিজের মনে করে গোপনে বেচে দিলেন বিধায়ক (Trinamool MLA)। তাও আবার জলের দরে, মাত্র ২১ লক্ষ টাকায়। রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখার্জির (Samar Mukherjee) বিরুদ্ধে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন সমবায় সমিতির (Malda Co-operative Society) কর্মকর্তারা। গোটা ঘটনা নিয়ে বিধায়কের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। সমগ্র ঘটনা সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদার সামসি এলাকায়। যদিও জমি বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়। তবে তা নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। সমবায়ের চেয়ারম্যান সহ সকল সদস্যের অভিযোগ, ২০২১ সালে সোসাইটির স্পেশাল অফিসার থাকাকালীন চাঁচলের সিঙ্গিয়া মৌজার ৬১৩ খতিয়ানের ২১৯৬/২৬৭৭ নং দাগের ১৩ শতক জমি জলের দরে বিক্রি করেন রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়। ওই জমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা বলে দাবি করেন সোসাইটির চেয়ারম্যান সহ অন্যান্যরা। অথচ, মাত্র ২১ লক্ষ টাকায় সোসাইটির সেই ১৩ শতক জমি বিক্রি করে দু’বছর পর্যন্ত সেই টাকা নিজের পকেটে রাখেন তৎকালীন স্পেশাল অফিসার তথা বিধায়ক। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হতেই ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে মালদা ডিস্ট্রিক্ট সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডের সামসি ব্রাঞ্চের এ্যাকাউন্টে জনৈক রেজাউল আলম নামক এক ব্যক্তি আরটিজিএস-এর মাধ্যমে সেই টাকা জমা দেন। সেই টাকার উৎস জানতে না পেরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চাপ দেন সোসাইটির কর্ণধাররা। এরপরেই সম্পত্তি বিক্রির বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে সোসাইটি কর্তৃপক্ষ। সোসাইটির বক্তব্য, সমর মুখোপাধ্যায় জমিটি বিক্রি করতে পারেন না। কারণ সেই সম্পত্তির অংশীদার সোসাইটির ব্যক্তিসভ্য, সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ফলে সামসি কো-অপারেটিভ মার্কেটিং সোসাইটির রেজ্যুলেশন ছাড়া সেই জমি এককভাবে কেউ বিক্রি করতে পারেন না। সমস্ত সদস্যদের অন্ধকারে রেখে এই জমি বিক্রি করেছেন রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়। দপ্তরের তরফে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং সেই তদন্তের ভিত্তিতে একটি রিপোর্ট তৈরি করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তা পাঠানো হয়। সেই তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে রতুয়ার বিধায়ক তথা সামসি মার্কেটিং সোসাইটির তৎকালীন স্পেশাল অফিসার সমর মুখোপাধ্যায়কে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও তার বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ শুরু হয়েছে সোসাইটির পরিচালন সমিতিতে। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা জমি বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক তথা সামসি কো-অপারেটিভ সোসাইটির স্পেশাল অফিসার সমর মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। চক্রান্ত করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। আমার ছবি ও সিগনেচার জাল করা হয়েছে।”
তৃণমূলের শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতির বিএলও হওয়া নিয়ে বিতর্ক মালদায়

তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা বিএলও(BLO), এই অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল মালদা। এই ঘটনা নিয়ে মালদা জেলা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ, তৃণমূলের শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি বিএলও(BLO)। তিনি প্রভাবিত করছেন ভোটারদের, চলছে কারচুপিও। আর এই নিয়েই মালদায় তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মালদার ইংরেজবাজার পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ১০১ নম্বর বুথের বিএলও হিসাবে নিযুক্ত হয়েছেন আশিস মণ্ডল। তিনি ঝলঝলিয়া রেলওয়ে হাই স্কুলের শিক্ষক। গত ৪ অগাস্ট তিনি বিএলও(BLO) হিসাবে নিযুক্ত হন। কাজ শুরু করেছিলেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয় ফিল্ড ওয়ার্ক। অর্থাৎ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিতরণ। এরই মাঝে গত ৮ নভেম্বর তৃণমূল তাঁকে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত করে। এর ফলে বিএলও(BLO)-র নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জেলা শাসকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি। এই বিষয়টি নিয়ে দ্রুত নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাতে চলেছে অনান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও। তবে এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বিষয়টি প্রশাসন দেখছে। অন্যদিকে ওই বিএলও(BLO) আশিস মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরেও তিনি একইভাবে ফর্ম বিলি করছেন, ফর্ম জমাও নিচ্ছেন। আশিস মণ্ডল বলেন, “আমি আগাস্ট মাস নাগাদ বিএলও(BLO) হিসাবে নিযুক্ত হয়েছি। চলতি মাসের ৮ তারিখে তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির মালদা জেলা সভাপতির পদ পেয়েছি। বিষয়টি আমি প্রশাসনকে জানিয়েছি।” এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার আন্দোলনে নামে বিজেপি। বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার পক্ষ থেকে জেলাশাসকের কাছে এই মর্মে একটি ডেপুটেশনও তুলে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে মালদা বিজেপির জেলা সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় জানান, “এ সম্পূর্ণ ভাবে অসাংবিধানিক। উনি তৃণমূলের পদে থেকে বিএলও(BLO) হিসাবে কাজ করায় কমিশনের বিধিভঙ্গ করেছেন। ওনার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আমরা আশা করি কমিশন ওনার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।”
গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল মালদহের অমৃতি এলাকা

গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে(gas cylinder explosion) কেঁপে উঠল মালদহের(malda) অমৃতি এলাকা। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত তিনটি বাড়ির সর্বস্ব। ক্ষয়ক্ষতি লক্ষাধিক টাকার আসবাবপত্র। ঘটনায় আহত বাড়ির একজন সদস্য সহ দুই প্রতিবেশীও। আহতরা হলেন বাড়ির মালিক সারিউল শেখ এবং আগুন নেভাতে আসা দুই প্রতিবেশী নুর নবী শেখ ও ইসমাইল শেখ। ঘটনায় আহত তিনজন চিকিৎসাধীন মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। মঙ্গলবার ভোররাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল মালদহের অমৃতি গ্রাম পঞ্চায়েতের লালাপুর গ্রামে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সারিউল শেখ, রিয়াজুল শেখ ও সালেহা বিবির বাড়ি। এদিকে এই ঘটনায় রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একটি ইঞ্জিন ও পুলিশ। যদিও দমকল আসার আগে তিনটি বাড়ির সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দমকল ও পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিটের জেরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। ঘটনায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরে আগুন আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। যদিও দীর্ঘ কয়েক ঘন্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের এক সদস্য রুখসানা খাতুন জানান, “রাতে তাঁরা বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন হঠাৎই বাড়িতে আগুন লাগে। কোনরকম ভাবে ছেলে মেয়েদের নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন।” পাশের বাড়িতেই ঘুমিয়ে ছিলেন আরেক পরিবারের সদস্য সারিউল শেখ। সেই সময় বাড়ি থেকে স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদেরকে বের করার সময় আহত হন সারিউল শেখ। প্লাস্টিকের চেয়ার টেবিলের ব্যবসা করেন সারিউল শেখ। ঘটনায় বাড়িতে থাকা প্লাস্টিকের সমস্ত আসবাবপত্র ও ৮ টি গবাদি পশু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘটনায় সরকারি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
নিম্নমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে ঘিরে বিক্ষোভ গ্রামবাসীর

নিম্নমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরে। শনিবার দুপুরে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের ভক্তিপুর গ্রামে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে ঘিরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,ওই গ্রামেরই এক বাড়িতে বহুদিন ধরে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি চালু রয়েছে। অভিযোগ,কেন্দ্রের কর্মী মমিনা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের নিম্নমানের খাবার দিচ্ছেন। কখনও দেওয়া হচ্ছে পচা আলু বা সবজি, কখনও আবার পচা ডিম। এমনকি অনেক সময় বিভিন্ন অজুহাতে কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।প্রায় দেড় বছর ধরে এই অনিয়ম চলছে বলে দাবি করেছেন গ্রামবাসীরা।শনিবার দুপুরে যখন শিশুদের খাবার বিতরণের সময় আসে, শেষের দিকে কয়েকজন খাবার নিতে গেলে তখন কর্মী মমিনা খাতুন তাদেরকে খাবার দিতে অস্বীকার করেন বলেন খাবার শেষ হয়ে গেছে।কিন্তু সেই সময়ই স্থানীয়রা দেখতে পান রাঁধুনি চুপিসারে কিছু খাবার বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন।সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নজরে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। মুহূর্তের মধ্যেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র এলাকায়। বিক্ষোভকারী আব্দুল মালেক বলেন,আমাদের গ্রামের ছোট ছোট বাচ্চাদের জন্য যে খাবার সরকার থেকে দেওয়া হয়,তা যদি পচা হয় বা কেউ বাইরে বিক্রি করে দেয়,তাহলে এটা চরম অন্যায়।খাবার সঠিক নয় এবং নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে।বারবার বলা সত্ত্বেও কোন কর্ণপাত করেনি।আমরা চাই এর তদন্ত হোক। আরেক বিক্ষোভকারী নুরবানু বিবি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“আমাদের সন্তানদের পচা খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। অনেক সময় সেন্টার বন্ধ থাকে। বারবার বলার পরেও কোনও ফল হয়নি। আজ আমরা প্রশাসনের কাছে ন্যায় চাই। ভক্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা সমিদুল বলেন,প্রায় দেড় বছর ধরে আমরা এই ধরনের অনিয়ম দেখছি। অনেকবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আজ আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।” এ প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের সিডিপিও আব্দুস সাত্তার বলেন,ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রাথমিকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে। যদি কোনও অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তাল মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর, স্বয়ং মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগে রাস্তা অবরোধ

আবারও তৃণমূলের(TMC) গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। এবার মালদার(Malda) হরিশচন্দ্রপুরে ঘটেছে এই ঘটনা। সাংগঠনিক রদবদল হতেই, তৃণমূল নেতা, পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়িতে হামলা, আগুন, গাড়ি ভাঙচুর। পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামীকে পিটিয়ে মারার চেষ্টায় কোনও রকমে পালিয়ে বাঁচলেন তিনি। আর অভিযোগের তির তৃণমূলের(TMC) দিকেই। অভিযোগ স্বয়ং মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ও তাঁর ভাই ও অনুগামীদের বিরুদ্ধে।নিরাপত্তা ও গ্রেফতারের দাবিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তৃণমূলেরই বিক্ষোভ। রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ। কার্যত উত্তাল মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর। অভিযোগ ব্লকের সাংগঠনিক রদবদলে পদ পেতেই নাকি মন্ত্রীর অনুগামীদের তান্ডব শুরু হয়। রাতের অন্ধকারে জেলা পরিষদ সদস্য ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে দোকানে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর,খুনের হুমকি, থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবিতে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ তৃণমূলের। অপরপক্ষের, মন্ত্রীর ভাইয়ের নির্দেশে হামলার অভিযোগ দলেরই নেতাদের, খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস মন্ত্রীর, খোঁচা বিজেপির, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ফের শিরোনামে হরিশ্চন্দ্রপুর এরপরই তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যা বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। মন্ত্রীর ভাইয়ের নির্দেশেই নাকি যুব তৃণমূল নেতাকে খুনের চক্রান্ত। বিস্ফোরক অভিযোগ তৃনমূলের পঞ্চায়েত সদস্যার। ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা। থানায় অভিযোগ দায়েরের পর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে ধর্ণা বিক্ষোভ তৃণমূলের অপরপক্ষের। ঘটনাস্থলে আইসি সহ বিশাল পুলিশবাহিনী।হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আইসি কে হাত জোড় করে অনুরোধ তৃণমূল নেতার।ক্রমশ অস্বস্তি বাড়ছে শাসক শিবিরে।গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে কটাক্ষ বিজেপির।খোঁজ নিয়ে দেখছি সাফাই মন্ত্রীর। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে ফের শিরোনামে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেনের বিধানসভা এলাকা হরিশ্চন্দ্রপুর।সাম্প্রতিক কালে একাধিকবার মন্ত্রী তাজমুলের সঙ্গে এলাকার দাপুটে জেলা পরিষদ সদস্য বুলবুল খানের দ্বন্দ্ব সামনে এসেছে।সংঘাতে জড়িয়েছেন দুই নেতার অনুগামীরা। দুই দিন আগে ব্লকের রদবদল হয়েছে।যা নিয়েও ক্ষোভ ছিল দলের অন্দরে।হরিশ্চন্দ্রপুর ১ (এ) ব্লক তৃণমূলের সভাপতি পদ খুইয়েছেন বুলবুল ঘনিষ্ঠ জিয়াউর রহমান। জায়গা পেয়েছেন মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ মোশারফ হোসেন।আবার যুব তৃণমূলে সভাপতির পদ পেয়েছেন মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ বিজয় দাস।যাকে কোনদিনও দলের পতাকা হাতে দেখা যায় নি। এমনটাই অভিযোগ করে ছিল তৃণমূলের একাংশ। তারপরেই গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রী অনুগামীদের তান্ডব। হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা মন্দিরা দাসের বাড়িতে গিয়ে তার স্বামী পূজন দাস কে খুনের হুমকি। দরজা ভাঙার চেষ্টা। বাড়ির বাইরে রাখা গাড়ি ভাঙচুর। পূজন দাস বুলবুল ঘনিষ্ঠ এবং এলাকায় জনপ্রিয় নেতা। যুব সভাপতির দৌড়ে তিনিও ছিলেন। তারপরেই আরেক বুলবুল ঘনিষ্ঠ নেতা ব্লক তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি সাহেব দাসের রেস্তোরাঁতে ভাঙচুর। অভিযোগের তীর মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ অঞ্চল তৃনমূল সভাপতি সঞ্জীব গুপ্তা, ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি বিজয় দাস, তার ভাই দুর্জয় দাস, তৃণমূল কর্মী জাবির হোসেনের দিকে। আক্রান্তদের দাবি মন্ত্রীর ভাই জম্মু রহমানের নির্দেশেই হয়েছে এই হামলা। এদিন তারা হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।তারপরে ৮১ নং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। আক্রান্ত নেতারা ছাড়াও সেই বিক্ষোভে সামিল হয়ে ছিলেন হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা স্বপন আলী। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা মন্দিরা দাসের আরো অভিযোগ তিনি এর আগে জম্মু রহমানের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, সিন্ডিকেটরাজ চালানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মন্ত্রীর ভাই জম্মু রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে ছিলেন।তার জন্যই এই হামলা। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না হলে আরো বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছে বুলবুল ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতারা। ঘটনাস্থলে রয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকার মানুষ।ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে এলাকায়। এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দিয়ে তৃণমূলের শেষের শুরু। কটাক্ষ বিজেপির। ঘটনা খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন বিধায়ক তথা মন্ত্রী তাজমুল হোসেন।শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
মালদহে এসটিএফ-এর বড় সাফল্য, উদ্ধার একুশ লক্ষ টাকার জাল নোট

আবারও বড় সাফল্য পেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF) মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর থানা এলাকার পিটিএস মোড়ে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ জাল ভারতীয় নোট। এই ঘটনায় দুই পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। ধৃত দুই যুবকের নাম হাজরাত বেলাল ওরফে মাসুদ ও তরিকুল ইসলাম। একজনের বয়স ২৪ বছর এবং অন্যজনের ২৫। ধৃত দুজনেরই বাড়ি মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর ও কালিয়াচক থানা এলাকায়। তারা ফারাক্কাগামী ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে ঘোরাঘুরি করছিল। তাদের তল্লাশি চালিয়ে দুটি ব্যাগ ভর্তি জাল নোট উদ্ধার হয়। মোট ২০ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা মূল্যের জাল নোট বাজেয়াপ্ত করেছে এসটিএফ। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সবকটি নোটই ৫০০ টাকার, মোট সংখ্যা ৪১৭৪টি। প্রাথমিক জেরায় ধৃতরা স্বীকার করেছে, এই জাল নোট বাংলাদেশ থেকে আনা হয়েছে। এই ঘটনায় বৈষ্ণবনগর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে ওই ধৃত দুই যুবকের বিরুদ্ধে। তদন্তে এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।
পথশ্রী প্রকল্পের দু কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে, তদন্তের নির্দেশ জেলা প্রশাসনের

মালদার গাজোল ব্লকের করকচ অঞ্চলের বিশ মাইল থেকে শহিল মোড় ও ভবানীপুর ভাঁটা মোড় পর্যন্ত রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। বহুবার এলাকার বাসিন্দারা ব্লক প্রশাসন, গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি— এমনকি জনপ্রতিনিধিদেরকেও জানিয়েছেন। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতে হলে প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। টোটো থেকে মোটরসাইকেল, এমনকি গাড়ি চলাচল করতে গিয়েও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। গ্রামে কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে অ্যাম্বুলেন্সও ঢুকতে পারে না রাস্তা খারাপের জন্য। গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি মত ব্লক প্রশাসন, পঞ্চায়েত, প্রশাসনের উদ্যোগে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ঘটা করে এই রাস্তার তৈরির ক্ষেত্রে পথশ্রী প্রকল্পের বোর্ড লাগানো হয়। যেখানে ৪.১ কিলোমিটার রাস্তা হওয়ার কথা এবং তার জন্য বরাদ্দ হয় ২ কোটি ২ লক্ষ ৫৩ হাজার ৩২১ টাকা।অথচ ২০২৫ সালের আগস্ট মাস শেষ হতে চলল এখনও রাস্তার কাজ শুরু হল না। রাস্তার কঙ্কালশার দশা রাজ্যের পথশ্রী প্রকল্প এখন হতশ্রীতে পরিণত হয়েছে বলেই দাবি গ্রামবাসীদের। তাদের আরও দাবি, অবিলম্বে এ রাস্তার কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে, না হলে আগামী দিনে গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, টাকা বরাদ্দ হওয়ার পরও এই রাস্তা হল না, তাহলে এই টাকা কে আত্মসাৎ করল? কার পকেটে গেল? কেনই বা ঘটা করে রাস্তার উদ্বোধন করা হয়েছিল? রাস্তা অবিলম্বে যদি না হয় তাহলে আগামী দিনে গ্রামবাসীরা একজোট হয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। তৃণমূল পরিচালিত গাজোল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন জানান, “এই অভিযোগটি গ্রামবাসীরা বলেনি, কিছু বিজেপির লোক গ্রামবাসীদের উসকে এই কথা বলাচ্ছে। তবে এটা ঠিকই ওই রাস্তা এলাকার মানুষজনদের নিয়ে ব্লক প্রশাসন ও পঞ্চায়েত সমিতির লোকজন ঘটা করে উদ্বোধন করেছেন। ঠিকাদার সংস্থা পালিয়ে যায়নি এবং টাকাও কোথাও উধাও হয়ে যায়নি। এটা ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। বর্ষাকালের জন্য কাজটা আটকে আছে, পুজোর পরই এ কাজ শুরু হবে।” তৃণমূলের মন্তব্যের পাল্টা দিয়েছে বিজেপিও। গাজোল বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপির বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মণ জানান, “রাস্তার উদ্বোধনের নাম করে নারকেল ফাটিয়ে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে এই তৃণমূল সরকার। রাস্তার নামে টাকা বরাদ্দ হচ্ছে, অথচ সেই টাকা কোথায় গেল, কে চুরি করল? তৃণমূল সরকারকে আমরা এই টাকা চুরি করতে দেব না। জনগণের সাথে বিজেপিও এই আন্দোলনের পাশে রয়েছে।” অন্যদিকে, এই বিষয়ে গাজোল ব্লকের বিডিও সুদীপ্ত বিশ্বাস জানান, “আমার কাছে এই সমস্যার বিষয় নিয়ে গ্রামবাসীরা এসেছিল। তাদের কাছ থেকে অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তাদের অভিযোগ সঠিক। রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে খারাপ আছে। রাস্তাটি তৈরির জন্য পথশ্রী প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছিল। বিষয়টি প্রশাসন দেখছে।”
তৃণমূলের স্বাধীনতা দিবসের সভায় মমতাকে ‘আজকের মাতঙ্গিনী হাজরা’ সম্বোধন

গত শুক্রবার মালদা শহরের রথবাড়ি মোড়ে তৃণমূলের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন এবং শহীদ স্মরণ অনুষ্ঠান হয়। সেখানে যোগ দিয়ে চড়া সুরে বিজেপিকে ঝাঁঝালো আক্রমণ করেন তৃণমূল নেতারা। এবার ওই মঞ্চ থেকেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘আজকের মাতঙ্গিনী হাজরা’ বলে সম্বোধন করলেন মালদার তৃণমূল জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী। পাশাপাশি এদিন ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিজেপি নেতা-কর্মীদের রক্তে দেশকে আবার নতুন ভাবে স্বাধীন করার ডাক দিলেন তিনি। তাঁর কথায়, বিজেপি নেতারা আজকের ‘মীরজাফর’। তাঁদের রক্ত নিয়ে দেশে নতুন করে স্বাধীনতা আনার ডাক মালদার তৃণমূল সভাপতির। তিনি বলেন, “এ যুগেও বাংলায় মাতঙ্গিনী হাজরা জন্ম নিয়েছেন, তাঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নেতৃত্বে লড়াই করে প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে হবে।” তিনি এদিন বিজেপি নেতা-কর্মীদের কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মালদার কালিয়াচকের জালালপুরের বাসিন্দা এক যুবককে বাংলা ভাষায় কথা বলায় রাজস্থান থেকে জোর করে পুশব্যাক করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপে পড়ে এখন সরকার তাঁকে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে। তখন তাঁর বাবা, মা, পরিবার কেঁদেছিল। আমরাও বিজেপি নেতাদের পিছনে লাথি মেরে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেব। তখন দেখব তাঁর পরিবার কাঁদে কেমন করে।” বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীকে খুনি এবং ইংরেজরূপী রাক্ষসের সঙ্গে তুলনা করেন তৃণমূলের এই জেলা সভাপতি। এমনকী মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার পরেও সাংবাদিকদের প্রশ্নেও নিজের মন্তব্যে অনড় আব্দুর রহিম বক্সী। তিনি আরও বলেন, “ভিন রাজ্যে বাংলায় কথা বলায় পরিযায়ী শ্রমিকরা পুলিশি অত্যাচারের মুখে পড়ছেন। বিজেপি শাসিত রাজ্যে তাঁদের ইচ্ছে করে ধরে ধরে জেলবন্দী করা হচ্ছে। বিজেপির নেতারা জেনে রাখুন— সুকান্ত মজুমদার, শমীক ভট্টাচার্য, দিলীপ ঘোষরা জেনে রাখুন, আপনাদের পরিবারের লোকজনও ভিন্ রাজ্যে গিয়ে বাংলায় কথা বলে বিপদে পড়তে পারেন। তখন বিজেপির নেতার পরিবারের লোকজনরাও রেহাই পাবেন না। তখন কী করবেন আপনারা?” যদিও তৃণমূল সভাপতির এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মালদা উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। তিনি বলেছেন, “তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে। তৃণমূল ভয় পাচ্ছে। ২০২৬ শে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ভয়েই উনি প্রলাপ বকছেন। উনি বিজেপি নেতাদের রক্ত পরে ঝরাবেন। আগেও তো নিজের দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামলাক। মালদায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে একের পর এক নেতা-কর্মী খুন হচ্ছেন। সেগুলো আটকানোর ক্ষমতা নেই, উনি আবার বিজেপি নেতাদের রক্ত কী ঝরাবেন। ওনারা আগে নিজেদের ঘর সামলাক, মানুষের ভালো দেখতে হবে না। তার জন্য ভারতীয় জনতা পার্টি আছে।”
১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকায় মাত্র দু মাস আগে বানানো নদীবাঁধ ভেঙে বন্যার আশঙ্কা মালদার মানিকচকে

জলের স্রোতে ভেঙে গেল মাত্র দুমাস আগে তৈরি করা বাঁধ। মাস দুয়েক আগে ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দে তৈরি হয়েছিল এই বাঁধ। সেই বাঁধ ভেঙে গেল ফুলহরের প্রবল জলের তোড়ে। বাঁধ ভেঙে হু হু করে সংরক্ষিত এলাকায় জল ঢোকার ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়াল মালদার মানিকচক ব্লকের ভূতনীর দক্ষিণ চন্ডীপুর এলাকায়। এর ফলে আতঙ্কে প্রায় দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষ। টানা বৃষ্টির জেরে ফুলহর নদীর জলস্তর বাড়ছিল। তবে বুধবার জলের চাপ সহ্য করতে না পেরে ভেঙে যায় নদীবাঁধ। ফলে আবারও বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিল ভূতনী এলাকায়। গত বছরের মতো এবারও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রামবাসীরা। সেচ দফতর থেকে প্রশাসন জনপ্রতিনিধি সকলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছেন গ্রামবাসীরা। বৃষ্টির মধ্যেই পুলিশ-প্রশাসন ও সেচ দফতরের আধিকারিকদের সামনে দেখানো হয় বিক্ষোভ। তাদের অভিযোগ, মাত্র তিন মাস আগে তৈরি হওয়া নদীবাঁধ কীভাবে ভেঙে যেতে পারে। বাঁধের জন্য বরাদ্দ টাকার বেশিরভাগটাই নয়ছয়ের অভিযোগ তুলেছেন তারা। উল্লেখ্য, গত বছর ভূতনীর দক্ষিণ চন্ডীপুরে বাঁধ কেটে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। দু’দফার বন্যায় প্রায় মাস দুয়েক গোটা ভূতনী এলাকা প্লাবিত হয়ে থাকে। এরপর শুখা মরশুমে মালদা জেলা সেচ দফতরের পক্ষ থেকে ভূতনীর দক্ষিণ চন্ডীপুরের কাটাবাঁধের জায়গায় ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দে নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দিন কয়েক আগেই সেই বাঁধ চুঁইয়ে বাঁধের নিচ দিয়ে একটু একটু করে ভূতনীর সংরক্ষিত এলাকার দিকে ফুলহরের জল ঢোকার দৃশ্য নজরে আসে গ্রামবাসীদের। যদিও সেচ দপ্তরের পক্ষ থেকে বালির বস্তা ফেলে সেই জল আটকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফুলহরের প্রবল জলের স্রোতে ভূতনীর দক্ষিণ চন্ডীপুরের নব নির্মিত বাঁধ ভেঙে গেল। ফলে ফুলহরের জল প্রবল গতিতে হু হু করে ভূতনীর সংরক্ষিত এলাকার দিকে ঢুকতে শুরু করেছে। এই জল দক্ষিণ চন্ডীপুরের বিভিন্ন নিচু এলাকা হয়ে আগামীতে ভূতনীর উত্তর চন্ডীপুর এবং হীরানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা ভাসিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা করছে গ্রামবাসীরা। স্বভাবতই এবছর ফের নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হল ভূতনীতে।