ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ভারতীয় বস্ত্র শিল্পে

বুধবার থেকেই কার্যকর হল ভারতের উপর চাপানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক। আর এর জেরেই বাণিজ্য শুল্ক পৌঁছাল ৫০ শতাংশে। এর ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতে বস্ত্র শিল্পে। ইতিমধ্যেই ভারতে অনেক জায়গাতেই বস্ত্র উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। আজ থেকে ভারতীয় বস্ত্র পণ্যের উপর ৫৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে হোয়াইট হাউস। গতবছর সব মিলিয়ে ৫.৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমেরিকায় রফতানি করেছিল ভারত। সেখানে এবার অতিরিক্ত শুল্কের কারণে উৎপাদনই বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের সভাপতি এস সি রালহান জানিয়েছেন, “ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতার কারণে বস্ত্র উৎপাদকরা তিরুপুর, নয়ডা এবং সুরাটে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশে কম খরচে তৈরি হচ্ছে পোশাক। তাদের তুলনায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছি আমরা।” তাঁর মতে চিন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ফিলিপিন্স এবং দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির তুলনায় ভারতীয় পণ্য প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে রয়েছে। কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে তৈরি পোশাকের ওপর ৬০.৩ থেকে ৬৩.৯ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। যার ফলে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে ভারতের বস্ত্র ব্যবসা। শুধুমাত্র বস্ত্র নয়, কার্পেটে শুল্ক হার বেড়ে হয়েছে ৫২.৯ শতাংশ। গতবছর ১.২ বিলিয়ন ডলারের কার্পেট আমেরিকায় পাঠিয়েছিল ভারত। এখন এই বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেয় সেদিকেই তাকিয়ে আছে বস্ত্র কারখানাগুলি। কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রাকেশ মেহরা বলেছেন, “সরকার এই মুহূর্তে কীভাবে সহায়তা করতে পারে তা নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলছে। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে দৃঢ় সমর্থন চাই এবং কাঁচামালের ক্ষেত্রে নীতি পর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাই।” সব মিলিয়ে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার শাস্তি হিসাবে ভারতের উপর অতিরিক্ত যে ২৫ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার ফেসারত দিতে হচ্ছে ভারতের বস্ত্র উৎপাদক সংস্থাগুলিকে। এর ফলে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তারা। শুধু বস্ত্র ব্যবসাই নয়, এর জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা সোনা, হীরে সহ সামুদ্রিক মাছ— বিশেষত চিংড়ি রপ্তানিতে বড় ধাক্কা আসতে চলেছে। ভারতের সামুদ্রিক খাদ্যদ্রব্যের প্রায় ৪০ শতাংশই রপ্তানি হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু এই শুল্ক বৃদ্ধির জেরে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি। সেক্ষেত্রে ভারতের অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা লাগবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা কী হয় সেটাই দেখার।