মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের নাম ভুল উচ্চারণ, কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীকে কটাক্ষ মোহনবাগান সহ সভাপতির

দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী। সেই মনসুখ মাণ্ডব্যই(Mansukh Mandaviya) কিনা দেশের শতাব্দী প্রাচীন দুই ক্লাবের নাম ভুল উচ্চারণ করলেন! তাও আবার দেখে দেখে। মোহনবাগান(Mohunbagan) এবং ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) মতো ক্লাবের নাম ভুল বললেন। আর সেই ভিডিও ক্লিপ দেখেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে শুরু হয়েছে ট্রোলিং। শুধু তাই নয় এমন ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীকে(Union Sports Minister) কটাক্ষও করতে ছাড়েননি মোহনবাগানের সহ সভাপতি তথা তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh)। এই ঘটনা দুটো ক্লাব তো বটেই, বাংলাকেও অসম্মান বলে মনে করছেন তিনি। গত মঙ্গলবারই ক্লাব জোটের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের(Union Sports Minister) উপস্থিতিতে শেষ বৈঠকে বসেছিল ফেডারেশন(AIFF)। সেখানেই শেষপর্যন্ত প্রতিটি ক্লাবের যোগদানের কথা উল্লেখ করে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আইএসএল শুরু হওয়ার কথা ঘোষণা করে দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য। সেখানেই ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) এবং মোহনবাগানের(Mohunbagan) নাম নিতে গিয়ে ভুল করেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী। সেখানে তিনি কাগজ দেখেই বলেন মোহনবেগেন, ইস্টবেগেন। যদিও পরে অবশ্য ফের কাগজ দেখে ভুল ঠিক করেন। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। এই একটা ক্লিপিং কার্যত ঝড়ের মতো সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে। এমন শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের নাম কেমন করে তিনি দেখেও ভুল বলতে পারলেন, সেই নিয়েই উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। তীব্র কটাক্ষ করেছেন খোদ মোহনবাগানের সহ সভাপতি কুণাল ঘোষও(Kunal Ghosh)। VIDEO | Delhi: Union Sports Minister Mansukh L Mandaviya says, “The ISL is set to return for the 2025–26 season from February 14.” (Full video available on PTI Videos – https://t.co/n147TvrpG7 pic.twitter.com/ozJqwzY6Pz — Press Trust of India (@PTI_News) January 6, 2026 তিনি জানান, “কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী দেখে দেখে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের নাম উচ্চারণ করতে পারছেন না। শতাব্দী প্রাচীন দুই ক্লাব। জাতীয় ক্লাব মোহনবাগান, লড়াইয়ের নাম ইস্টবেঙ্গল। এই নামগুলো তিনি জানেন না। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহমেডান ভারতবর্ষের ফুটবলকে উজ্জ্বল করেছে। এরা বাংলার মনীষীদের অপমান করে। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলের নামও জানেন না। এদের দেখে রাখুন চিনে রাখুন। এরা বাংলা বাঙালীর নিজের হতে পারেন না। ক্রীড়ামন্ত্রী মনে হয় প্রথমবার নাম জানলেন মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলের।” সোশ্যাল মিডিয়াতে এই নিয়ে ট্রোলিং শুরু হয়েছে বিস্তর। চলছে নানান টিপ্পনিও। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর সেই ভিডিওটাই এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
“অর্থ বাধা হবে না” – বার্তা মোদির, পাল্টা তৃণমূলেরও

শনিবার তাহেরপুর দিয়েই কার্যত ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিলেন নরেন্দ্র মোদী(Narendra Modi)। সেখানেই তৃণমূলকে(TMC) উদ্দেশ্যে কৌশলী বার্তা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর। যদিও পাল্টা দিতে খুব একটা দেরী করেনি তৃণমূল কংগ্রেসও(TMC)। মোদির(Narendra Modi) সেই সভায় সাফ বার্তা, একবার সুযোগ দিন, বাংলার উন্নয়নে কোনওরকম বাধা থাকবে না। মোদির বৈঠকের কিছুক্ষণের মধ্যেই পাল্টা খোঁচা তৃণমূলেরও। তাদের মতে তৃণমূল নয়, বাংলাকে বঞ্চিত করছে কেন্দ্রের বিজেপি শাসিত সরকার। শনিবার তাহেরপুরে নরেন্দ্র মোদির(Narendra Modi) বৈঠক করার কথা ছিল। সেই মতো তিনি এলেও খারাপ আবহাওয়ার জন্য শেষপর্যন্ত তাঁর হেলিকপ্টার নামতে পারেননি। এরপরই দমদম বিমান বন্দরে ফিরে আসেন মোদী। সেই জায়গা থেকেই সকলকে অডিও বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই নরেন্দ্র মোদি বলেন, “তৃণমূল মোদির বিরোধ করতে চাইলে, করুক। বিজেপির বিরোধ করতে চাইলে করুক। কিন্তু রাজ্যের উন্নয়ন কেন আটকাছে। একবার সুযোগ দিন, বাংলার উন্নয়নে অর্থ বাধা হবে না। দ্রুত উন্নয়ন হবে।” কিছুক্ষণের মধ্যেই এই মন্তব্যের পাল্টা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও(TMC)। টিএমসির মুখপাত্র কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh) বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আপনি খালি হাতে এসেছেন। বাংলার টাকার আটকে রেখেছে কেন্দ্র। তৃণমূলের বিরোধিতা করুন, কিন্তু বাংলার বিরোধিতা করবেন না। বাংলার মানুষকে ভাতে মারছেন। মোদি মূল সমস্যাগুলি এড়িয়ে গিয়েছেন।” এদিন তাহেরপুরের বৈঠকে গিয়ে মতুয়াদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তাও দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি(Narendra Modi)। জানিয়েছেন, সিএএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের জোরেই মতুয়ারা এ দেশের নাগরিক। বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে মতুয়া ও নমশুদ্র সম্প্রদায়ের জন্য আরও অনেক কাজ হবে।
“এটা বিহারের সমীরকণ, বাংলার সঙ্গে কোনওরকম যোগ নেই”: সাফ বার্তা কুণালের

বিহারে(Bihar Election) গেরুয়া ঝড়। যে এসআইআর নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্য জুড়ে এত বিতর্ক, সেই এসআইএর(SIR) পরবর্তী প্রথম নির্বাচন বিহারে। সেখানেই কার্যত ইতিহাস তৈরি করেছে এনডিএ জোট। ২০০-এর ওপর আসন পেয়ে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপির(BJP) এনডিএ(NDA) জোট। তারপর থেকেই স্বাভাবিকভাবে বঙ্গ বিজেপি নেতারাও সুর চড়াতে শুরু করে দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতেই এবার আসরে তৃণমূল(TMC) নেতৃত্বও। বিহারের ফলাফল যে বাংলার ওপর কোনও প্রভাব ফেলবে না স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh)। এসআইএর পরবর্তী বিহারের ফলাফল নিয়ে বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্বরা নানান কথাবার্তা বললেও, বাংলায় এমনটা হওয়ার কোনওরকম সম্ভাবনাই দেখছেন না তৃণমূলের(TMC) নেতৃত্বরা। বিজেপির নেতারা যখন বলছেন অঙ্গ, কলিঙ্গ হয়ে গিয়েছে এবার বঙ্গের পালা। সেই সময় পাল্টা দিতে পিছিয়ে নেই তৃণমূল নেতারাও। কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh) স্পষ্ট বার্তা, “এটা বিহারের সমীরকণ। বাংলার সঙ্গে কোনওরকম যোগ নেই। বাংলায় কোনওরকম প্রভাব পড়বে না। বাংলায় ঐক্য, উন্নয়ন, সম্প্রীতি, অধিকার, আত্মসম্মান ফ্যাক্টর। ২৫০+ ভোট নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় আবার মুখ্যমন্ত্রী”। তিনি আরও জানিয়েছেন, “বিহার দেখিয়ে বাংলাকে হুমকি দিয়ে বিজেপির যে নেতারা বিবৃতি দিচ্ছেন, হুমকি দিচ্ছেন, তারা অকারণ সময় নষ্ট করছেন। বাংলার মানুষের অধিকার, আত্মসম্মানকে আঘাত করে শুধু অন্য রাজ্য দেখিয়ে মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায় না। এখানে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা মতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ভরসা। বিহার সহ বহু রাজ্যও তাঁর উন্নয়নের মডেলও ফলো করছে। বাংলার মানুষ সার্বিক স্বার্থেই তৃণমূলকে সমর্থণ করেন এবং করবেন”। গত ৪ নভেম্বর থেকে বাংলাতে শুরু হয়েছে এসআইআর। এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বিজেপি নেতারা সুর চড়াচ্ছেন। অনেকেই বলছেন ভোটার তালিকা থেকে নাকি প্রায় দেড় কোটির মতো ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ যাবে। তবে পাল্টা প্রতিবাদে পথে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেসও। আগামী ২০২৬ সালে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বিহার নির্বাচনের ফলাফলকে সামনে রেখে বিজেপি যেমন ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছেন। তেমনই পাল্টা ছক প্রস্তুত করতে শুরু করে দিয়েছে তৃণমূলও। রাজনৈতিক চাপান উতোর যে বাড়তে শুরু করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এসআইআর নিয়ে হুঁশিয়ারি তৃণমূলের

এসআইআরের(SIR) কথা ঘোষণার পর থেকেই আন্দোলনে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস(TMC)। পুজোর পর থেকে ফের এসআইআর(SIR) নিয়ে রাজ্য রাজনীতি সরগরম। এসআইআরের বিরোধিতা করে পের একবার সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস(TMC)। শনিবার পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামের বিজয়া সম্মিলনীতে গিয়ে ফের একবার এসআইআর নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের(TMC) মুখপাত্র কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh)। তাঁর সাফ বার্তা, একজনও প্রকৃত ভোটারের নামও যদি বাদ যায় তবে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের(Election Comission Of India) অফিস ঘেরাও হবে। কয়েকদিন আগেই এসআইআর নিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর(Shantanu Thakur)। তিনি বলেছিলেন রাজ্যে নাকি এসআইআরে(SIR) বাদ যাবে ১ কোটি ২০ লক্যের মতো মানুষের নাম। সেই সময়ই প্রতিবাদে সরব হয়েছিল তৃণমূল। এবার এসআইআরের বিরোধিতা করে কার্যত হুঙ্কার দিলেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh)। বিজয়া সম্মিলনীতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, “আগে বলেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করাতে হবে। কিন্তু তা করে হেরেছিল ওরা। এবার ভোটার তালিকায় কারচুপি করতে চাইছে। তাই নির্বাচন কমিশনকে এসব কাজে লাগিয়েছে। যেভাবে দিল্ল, মহারাষ্ট্রে করেছিল, সেভাবেই এবার অন্য রাজ্যের ভোটারদের নাম তালিকায় ঢোকাতে চাইছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেটা ধরে ফেলেছেন”। কুণাল(Kunal Ghosh) আরও বলেন, “এসআইআর নিয়ে এককাট্টা থাকুন। মাথার ওপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন। একজনও আসল ভোটারের নাম যদি তালিকা থেকে বাদ যায়, তবে দিল্লিতে এক লক্ষ লোক নিয়ে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের অফিস ঘেরাও করা হবে”। এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় এই এসআইআর ইস্যু নিয়ে। পুজোর পরই এসআইআর করার কথা কার্যত পরিস্কার করে দিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর তারই বিরোধিতায় সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। লড়াই যে ক্রমশই জমে উঠছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গ সফরে কুণাল ঘোষের পাঁচ প্রশ্নবাণ

শুক্রবার রাজ্যে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন দমদম বিমানবন্দর থেকে প্রথমে নবনির্মিত যশোর রোড মেট্রো স্টেশনে পৌঁছন তিনি। ইয়েলো লাইনের (নোয়াপাড়া-বারাসত) নোয়াপাড়া থেকে জয়হিন্দ বিমানবন্দর পর্যন্ত রুটে মেট্রো চলাচলের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তিনি। এখান থেকেই ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে অরেঞ্জ লাইনের (নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর) হেমন্ত মুখোপাধ্যায় স্টেশন (রুবি) থেকে বেলেঘাটা স্টেশন এবং গ্রিন লাইনের (সেক্টর ফাইভ-হাওড়া ময়দান) এসপ্ল্যানেড স্টেশন থেকে শিয়ালদা স্টেশন মেট্রো চলাচলের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মোদি। তারপর যশোর রোড মেট্রো স্টেশন থেকে দমদম সেন্ট্রাল জেলের মাঠে সভাস্থলের দিকে রওনা দেয় প্রধানমন্ত্রীর কনভয়। বঙ্গ সফরে প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে মোদির। দমদম সেন্ট্রাল জেল মাঠের সভাস্থল থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। শিলান্যাস করেন 6 লেনের এলিভেটেড কোনা এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের। তারপর দমদমে দলীয় সমাবেশ করেন মোদী৷ প্রধানমন্ত্রী বাংলায় পা রাখতেই তাঁর উদ্দেশ্যে সরাসরি পাঁচটি তীক্ষ্ণ প্রশ্নবাণ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রূপায়ন করা প্রকল্পের উদ্বোধনে এসেছেন। এতে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা যত না, তার চেয়েও বেশি রয়েছে রাজ্য সরকারের ভূমিকা। পাশাপাশি তিনি ৫টি প্রশ্নও ছুঁড়ে দেন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে। প্রথমত, কোন অধিকারের বলে মোদী সরকার সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে যাচ্ছেন, যেখানে বিজেপির নিজেদের একাধিক নেতা-মন্ত্রী অপরাধমূলক কাজে অভিযুক্ত। তাছাড়া সিবিআই ও ইডিকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে ব্যবহার করে মোদী সরকার বিরোধীদের উপর দমনপীড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কুণাল ঘোষ। দ্বিতীয়ত, এসআইআর(SIR)-এর নাম করে সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে যেভাবে বাদ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার, তাতে কুণালে পাল্টা প্রশ্ন— তাহলে তো সবার আগে মোদীর উচিত নিজেদের ইস্তফা দিয়ে সংসদ ভেঙে দেওয়া। কেননা গত বছর তো এই ভুয়ো ভোটারদের ভোটেই প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এসেছেন। তৃতীয়ত, বিজেপি শাসিত রাজ্যে যখন বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে বাঙালিদের উপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে, বাংলাকে অপমান করা হচ্ছে তখন একজন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আপনি কেন তার প্রতিবাদ করেননি। চতুর্থত, প্রধানমন্ত্রী নিজে ভোটের স্বার্থে বাংলায় এসে নিজে বাংলা ভাষায় শ্লোগান দিচ্ছেন, কিন্তু বিজেপি শাসিত রাজ্যে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের, এর দায় কে নেবে? পঞ্চমত, কেন্দ্রের কাছে বাংলার বয়েকা টাকা ১ লক্ষ ৯৬ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছে করেই আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ করেন কুণাল ঘোষ। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন এতসব কিছুর পরেও বাংলায় খালি হাতে আসতে প্রধানমন্ত্রীর লজ্জা করে না। যেখানে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি তাদের বকেয়া সময়মত পাচ্ছে সেখানে শুধুমাত্র বঞ্চনার শিকার হচ্ছে বাংলা। এই পাঁচ প্রশ্নের উত্তর সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জানতে চান কুণাল। অন্যদিকে, বাংলায় পা রেখেই নতুন বাংলা গড়ার ডাক দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। শ্যামাপ্রসাদের কৃতিত্বকে সামনে রেখে নতুন বাংলা গড়তে বঙ্গবাসী বিজেপির হাত শক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের নাম উচ্চারণ না করে সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ হলে অনেক নেতা-মন্ত্রীদের জামানত যে বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে সে হুঁশিয়ারিও দেন প্রধানমন্ত্রী। সব মিলিয়ে বঙ্গ রাজনীতির হাইভোল্টজ এই দিনে রাজনীতির হাওয়া যে যথেষ্ট উত্তপ্ত ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পাশাপাশি নির্বাচন যত এগোবে এই উত্তাপ যে আরও বাড়বে, তা আজকের ছবি থেকে অনেকটাই স্পষ্ট।
অভয়ার বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করলেন কুণাল ঘোষ

আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের খুন ও ধর্ষণ কাণ্ডের একবছর পূর্ণ হলেও, তাঁদের মেয়ে ন্যায় বিচার পায়নি বলে সংবাদ মাধ্যমের সামনে সরব হয়েছিলেন অভয়ার বাবা-মা। তাঁদের অভিযোগ রাজ্য সরকার সব রকম ভাবে চেষ্টা করছে যাতে সিবিআই এই তদন্ত ছেড়ে দিক। এমনকী সম্প্রতি দিল্লিতে গিয়ে তাঁরা সিবিআই ডিরেক্টর প্রবীণ সুদের সঙ্গেও দেখা করেন। তিনিও এই মামলার থেকে সরে যাওয়ার কথাই জানান তাঁদের। এই ইস্যুতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে নবান্ন অভিযানেরও ডাক দেন নির্যাতিতার মা-বাবা। পাশাপাশি সংবাদ মাধ্যমের সামনে কুণাল ঘোষের নাম ধরেই তাঁরা অভিযোগ করেন যে, “সিবিআই-কে টাকা খাইয়েছে রাজ্য সরকার। কুণাল ঘোষ গিয়ে সেটেলমেন্ট করে এসেছেন।” এই অভিযোগের পাল্টা কুণাল ঘোষ নিজের সোস্যাল সাইটে লেখেন, “মিথ্যাচার ও নাটকের সব সীমা পার করেছেন উনি।” অভয়ার বাবা একাধিকবার অভিযোগ করেছেন যে, সিবিআই রাজ্য সরকারের থেকে টাকা খেয়ে এই তদন্ত চেপে রেখেছে। পাশাপাশি তাঁদের অভিযোগের তির ছিল তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের দিকে। তাঁদের বক্তব্য অনুসারে কুণাল ঘোষ সিজিও কমপ্লেক্সে গিয়ে পুরো বিষয়টিই সেটেলমেন্ট করে এসেছেন। এরপর গত ১২ আগস্ট তিলোত্তমার বাবাকে আইনি নোটিস পাঠান কুণাল ঘোষ। সেই নোটিশে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, চার দিনের মধ্যে জবাব না পেলে আদালতে যাবেন তিনি। এবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তিলোত্তমার বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করলেন কুণাল ঘোষ। কুণাল ঘোষের দাবি, একটি রাজনৈতিক দলের প্ররোচনায় তাঁরা এ ধরনের কথাবার্তা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। এমনকী গত ৯ আগস্ট বিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে নবান্ন অভিযান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কুণাল ঘোষ। পাশাপাশি তাঁর দাবি, অভয়ার বাবা-মায়ের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতি দেখিয়েছেন তিনি। কিন্তু সবকিছুরই তো একটা সীমা আছে। তাই লাগাতার তাঁর নাম করে সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খোলায় অভয়ার বাবার বিরুদ্ধে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে মানহানির মামলা করলেন কুণাল ঘোষ।
কুণাল ঘোষের উপস্থিতিতে নাগরিক সভার প্রস্তুতি বৈঠক হল বনগাঁয়

বিজেপির বাংলা এবং বাঙালি বিরোধী মনোভাব ও কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে নাগরিক সভার আয়োজন করতে চলেছে বনগাঁর তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই নাগরিক সভার প্রস্তুতি অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার হাজির ছিলেন কুণাল ঘোষ। অধ্যাপক প্রদীপ্ত মুখার্জি এবং সমাজসেবী অমিতাভ দাসের আহ্বানে এদিন বনগাঁয় এই প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। মূলত বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের ওপর অত্যাচার এবং আক্রমণের প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের উপর যেভাবে আক্রমণ নেমে আসছে, এই আক্রমণের মধ্য দিয়ে বিজেপি তাদের বাঙালি বিদ্বেষী মনোভাব আরও স্পষ্ট করছে, এমনই অভিযোগ এনে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল। বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও বিজেপির বিরুদ্ধে এই ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। আগামীতে বনগাঁয় তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অরাজনৈতিক ব্যানারে নাগরিক সভা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সেই নাগরিক সভায় কী কী পরিকল্পনা হবে, সর্বস্তরের মানুষকে কীভাবে সেই নাগরিক সভায় অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানানো হবে— এসব নিয়েই এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ, কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ দাস, গোপাল শেঠ সহ অন্যান্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এই প্রস্তুতি সভায় আলোচনা করা হয়। বৈঠক শেষে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে এই যে সন্ত্রাস চালাচ্ছে কেন্দ্র এবং বাঙালি শিকড় ধরে টান মারার চেষ্টা করছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সর্বস্তরের নাগরিক একত্রিত হয়ে বনগাঁতে একটি নাগরিক সভা আয়োজিত করতে চলেছে, তারই প্রস্তুতি সভা আজ অনুষ্ঠিত হল।” নাগরিক সভা আয়োজনের জন্য বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ ও বিশ্বজিৎ দাস সহ অন্যান্য নেতৃত্বদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে গোপাল শেঠ জানিয়েছেন, “আমরা আগামীতে যাতে ঠিকমত এই নাগরিক সভা আয়োজন করতে পারি, তারই প্রস্তুতি আজ নেওয়া হল। আশাকরি আজকের বৈঠকে যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে নাগরিক সভা আয়োজনের, তা ঠিকমত বাস্তবায়ন করতে পারব।”
অপরাজিতা বিল ফেরত পাঠানোয় কেন্দ্রকে বিঁধলেন কুণাল ঘোষ

গত বছর অগস্ট মাসে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরে সেপ্টেম্বরে রাজ্য সরকার ‘অপরাজিতা’ বিল পাশ করিয়েছিল। আরজি করের ঘটনায় প্রবল চাপে পড়ে গিয়েছিল রাজ্য সরকার। তাই ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকার যে কড়া অবস্থান নিচ্ছে, তা বোঝাতে বিধানসভায় পাশ করা হয় ‘অপরাজিতা’ বিল। এমনকী এই বিলে ছিল মৃত্যুদণ্ডের সুপারিশও। গত বছর বিধানসভায় ওই বিল পাশ হওয়ার পর তা পাঠানো হয় রাজভবনে। তারপর সেটি ছিল রাষ্ট্রপতির কাছে। সেই বিল আবার ফিরে এল রাজ্য সরকারের কাছে। ‘অপরাজিতা’ বিল ফেরত পাঠালেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। রাজভবনের তরফে দাবি করা হয়েছে, ওই বিল অত্যন্ত কঠোর এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ওই বিল সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু বিধির পরিপন্থী। এমনকী শীর্ষ আদালতের রায়েরও পরিপন্থী বলে কেন্দ্রের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে। অন্যসব বিলে রাজ্যপাল নিজেই সাধারণত সই করেন, কিন্তু এটি স্পর্শকাতর বিষয় সংক্রান্ত হওয়ায় তা কেন্দ্রীয় সরকার ও রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে ফেরত পাঠানো হল বিল। ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩ এর ৬৪ নম্বর ধারা সংশোধনের মাধ্যমে ধর্ষণের শাস্তি বাড়িয়ে ১০ বছরের পরিবর্তে যাবজ্জীবন (আজীবনের জন্য) বা মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে অপরাজিতা বিলে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই সংশোধনীকে অতিরিক্ত কঠোর ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে। বিলটিতে ৬৫ নম্বর ধারা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ১৬ বছরের নীচে ও ১২ বছরের নীচে ধর্ষণের শাস্তির মধ্যে যে পার্থক্য ছিল, তা মুছে ফেলার কথা বলা হয়েছে। বিলের ৬৬ নম্বর ধারায় ধর্ষণের ফলে নির্যাতিতার মৃত্যু হলে মৃত্যুদণ্ডকে বাধ্যতামূলক বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পর্যবেক্ষণ, এতে বিচার ব্যবস্থার বিবেচনার স্বাধীনতা লঙ্ঘণ হবে। আর সেই কারণেই রাজভবন অপরাজিতা বিল রাজ্য সরকারের কাছে ফেরত পাঠিয়েছে বলে রাজভবন সূত্রের খবর। অন্যদিকে ‘অপরাজিতা’ বিল ফেরত পাঠানোয় কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপিকে আবারও নিশানা করলেন রাজ্যের শাসক দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “এতে আবারও প্রমাণ হয়ে গেল যে এই বিজেপি নারী নির্যাতনকারীদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দিতে প্রস্তুত নয়। কারণ এদেরই সাংসদরা শ্লীলতাহানিতে অভিযুক্ত, তাঁদের পাশে নিয়ে বসে থাকে। এদের রাজ্যগুলিতেই পরপর ধর্ষণ-খুনের মতো ঘটনা ঘটে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের স্বার্থে, মা-বোনেদের স্বার্থে ভারতের মধ্যে নজিরবিহীন যে বিল পাশ করিয়েছিলেন, তাতে অনুমোদন না দেওয়ায় বিজেপির দ্বিচারিতার মুখোশ খুলে গেল।” সব মিলিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য চাপানউতোরের ফলে এই বিলের ভবিষ্যৎ যেন অনিশ্চিত হয়ে পড়ল তা বলা যায়।