আবারও মেট্রো বিভ্রাট, ভোগান্তিতে নিত্যযাত্রীরা

মেট্রো বিপর্যয়ে নাকাল শহরবাসী। একের পর এক বিভ্রাটের ঘটনায় মেট্রো পরিষেবা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সোমবারের কর্মব্যস্ত সকালেও নোয়াপাড়া মেট্রো স্টেশনে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে দীর্ঘ ৪০ মিনিট বন্ধ ছিল শহিদ ক্ষুদিরামগামী মেট্রো। শেষপর্যন্ত দমদম স্টেশন থেকে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে প্রথম মেট্রো ছেড়ে শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনের দিকে রওনা দেয়। যেখানে দক্ষিণেশ্বর থেকে প্রতিদিন প্রথম মেট্রো ছাড়ে সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে। এর ফলে স্বাভাবিক ভাবেই চরম ভোগান্তির শিকার স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে অফিস যাত্রীরা। সপ্তাহের প্রথম দিনেই ধরনের ঘটনা ঘটায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাধারণ নিত্যযাত্রীরা। তাদের অনেকের অভিযোগ, প্রযুক্তিগত সমস্যার খবর আগাম না জানিয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের অসুবিধা আরও বাড়িয়েছে। কলকাতা মেট্রোর জনসংযোগ আধিকারিক রূপায়ণ মিত্র বলেছেন, “থার্ড লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকার কারণে দক্ষিণেশ্বর থেকে প্রথম মেট্রো ছাড়েনি। প্রথম মেট্রো দমদম স্টেশন থেকে ছাড়ে ৭টা ৩০ মিনিটে। পরে পরিষেবা স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে।” কিন্তু তারপরেও মেট্রো পরিষেবা যে দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে, সেই অভিযোগ তুলে মেট্রো কর্তৃপক্ষকেই দুষছেন সাধারণ নিত্যযাত্রীরা।
মেট্রোর সম্প্রসারণে কেন্দ্র-রাজ্য তরজা, মালা বনাম শমীক পার্লামেন্টেও উত্তাপ

নিউগড়িয়ায় মেট্রোর পিলার ঘিরে বিতর্ক এখনও থামেনি। এর মধ্যেই কলকাতার মেট্রোর সম্প্রসারণ নিয়ে শুরু হয়েছে বিজেপি বনাম তৃণমূলের নতুন দড়ি টানাটানি। পার্লামেন্টে সেই উত্তাপ গড়িয়েছে প্রশ্নোত্তর পর্বেও। তৃণমূল সাংসদ মালা রায় অভিযোগ করেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে মেট্রো সম্প্রসারণ নিয়ে বিজেপি সরকারের কোনও সদিচ্ছা নেই।” এমনকি তিনি আরও বলেন, “মেট্রো ইনফ্রাস্ট্রাকচারে কোনও উদ্যোগই নিচ্ছে না কেন্দ্রীয় সরকার।” এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “মালা রায়ের অভিযোগ সত্যের ধারেকাছেও নেই। সংসদে প্রশ্নোত্তরেই তার প্রমাণ মিলেছে।” রেল মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য উদ্ধৃত করে বিজেপির দাবি, ১৯৭২ থেকে ২০১৪— এই ৪২ বছরে পশ্চিমবঙ্গে মেট্রো প্রকল্পে বরাদ্দ হয়েছিল ৫৯৮১ কোটি টাকা, আর তাতে নির্মিত হয়েছিল মাত্র ২৮ কিমি রেলপথ। কিন্তু ২০১৪ থেকে ২০২৫— মাত্র ১১ বছরে ২৫৫৯৩ কোটি টাকা ব্যয় করে ৪১ কিমি নতুন মেট্রো রেলপথ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কলকাতায় মোট ৫৬ কিলোমিটার মেট্রো রেলপথ নির্মাণের কাজ চলছে। যার মধ্যে ২০ কিমি কাজ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন অসহযোগিতার কারণে থমকে আছে। এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতাদের কটাক্ষ, “রাজ্যের তরফে জমি দেওয়া, সীমানা সংক্রান্ত ছাড়পত্র কিংবা পরিবেশ সম্মতি— সব ক্ষেত্রেই রাজ্যের গড়িমসির কারণে প্রকল্পে দেরি হচ্ছে।” পাল্টা তৃণমূলের যুক্তি, “কেন্দ্র চাইলে প্রকল্পে গতি আনা যায়, সব দায় রাজ্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দায়মুক্তি পাওয়া যায় না।” মেট্রোর পিলার বিতর্ক থেকে শুরু করে সম্প্রসারণ— মাঠের লড়াই এখন পৌঁছে গেছে সংসদের মঞ্চে। লোকসভা ভোটের মুখে এই পর্বে রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়বে, তা নিয়ে সংশয় নেই রাজনৈতিক মহলের।
আবারও মেট্রো বিভ্রাট, নাকাল নিত্যযাত্রীরা

আবারও মেট্রো বিভ্রাট। নাকাল নিত্যযাত্রীরা। এমনিতেই কবি সুভাষ প্লাটফর্মের পিলার ও দেয়ালে ফাটল ধরা পড়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে স্টেশন। তারই মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে মেট্রোয় আগুনের ফুলকি দেখায় সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় পরিষেবা। সকাল আটটা নাগাদ সেন্ট্রাল স্টেশন থেকে দমদমগামী একটি ট্রেনের নীচ থেকে ধোঁয়া বেরতে দেখা যায়। সাথে সাথে খালি করে দেওয়া হয় কামরা। পরে সেটিকে কারশেডে পাঠানো হয়। এর জন্য প্রায় ২০ মিনিট বন্ধ ছিল মেট্রো পরিষেবা। সকাল বেলায় এ ধরনের ঘটনা ঘটায় স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষুব্ধ অফিসযাত্রীরা। এই ঘটনায় যাত্রী সুরক্ষা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তারা। এভাবে দিন দিন মেট্রো পরিষেবার যে ক্রমাগত অবনতি ঘটছে এবং মেট্রো কর্তৃপক্ষ তার পরেও কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করছেন অনেক যাত্রী। যদিও এ বিষয়ে মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনও কিছু জানানো হয়নি।