নবান্ন অভিযানের বিরোধিতা করে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা

৯ আগস্ট নবান্ন অভিযানের বিরোধিতা করে আদালতে গেলেন এক ব্যক্তি। হাওড়ার বাসিন্দা এই ব্যক্তি ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করেছেন। বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেন হাওড়ার ওই ব্যক্তি। ইতিমধ্যেই সেই মামলার অনুমতিও মিলেছে। সম্ভবত আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি। ৯ আগস্ট অভয়ার বাবা-মা ও পরিবার অরাজনৈতিকভাবে এই নবান্ন অভিযানের ডাক দেন। উল্লেখ্য ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ করে খুন করা হয় চিকিৎসক অভয়াকে। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় সঞ্জয় রাই নামে একজন সিভিক ভলেন্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও এই তদন্তে এখনও ন্যায় বিচার আসেনি বলে মনে করছেন অভয়ার বাবা-মা ও তার পরিবার। আর সেই দাবিতেই ৯ আগস্ট নবান্ন অভিযানের ডাক দেন তাঁরা। যদিও নবান্ন অভিযানে জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠন যোগ দেবে না বলে গতকালই সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছিল। তবে পতাকা ছাড়া ইতিমধ্যেই বিজেপির কর্মীদেরকে এই অভিযানে যোগদানের জন্য নির্দেশ দিয়েছে পদ্ম শিবির। এমনকি এই অভিযানের জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুত রাজ্য সরকারও। তারই মধ্যে নবান্ন অভিযানের বিরোধিতা করে মামলা হল হাইকোর্টে।
‘মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনেই চলছে বেআইনি কাজ’—দেবাশীষ ভট্টাচার্য

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযের বাড়ি সামনেই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলছে ট্রাম লাইনে পিচ ফেলার কাজ। শুক্রবার কলকাতা পুরসভার সামনে এই মর্মে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন ক্যালকাটা ট্রাম ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, হাই কোর্টের পরিষ্কার নির্দেশ ছিল যে শহরে কোথাও কোনও জায়গায় ট্রাম লাইনে পিচ ফেলা যাবে না। তার পরেও আদালত অবমাননা করা হচ্ছে খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে থাকা ট্রাম লাইনের উপরে। আবার এই পিচ ফেলার দায় না নিচ্ছে কলকাতা পুরসভা, না কলকাতা পুলিশ। পুরসভার তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে তারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না। অন্যদিকে পুলিশের কাছে জানতে চাওয়া হলে, তারাও বলতে পারছে না যে কোন সংস্থা এবং কার নির্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বাড়ির সামনে ট্রাম লাইনে পিচ ফেলা হল। অথচ রাস্তার কাজ কলকাতা পুরসভার সড়ক বিভাগ ছাড়া কেউ করতে পারে না। যেকোনও রাস্তার কাজের বরাত তারাই দিয়ে থাকে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি সামনেই আইনের তোয়াক্কা না করেই চলছে এই বেআইনি কাজ— বলে অভিযোগ করলেন ক্যালকাটা ট্রাম ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেবাশীষ ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই যাতে কলকাতার রাস্তায় আর ট্রাম না চলে, তার জন্যই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু ট্রামের মতো কলকাতার ঐতিহ্যবাহী একটা গণ-পরিবহনকে ধ্বংব করে ফেলার চক্রান্ত হচ্ছে। এর ফলে কলকাতা শহরের বয়স্ক মানুষজন সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়বে। তারা বাধ্য হবে অটো-রিক্সাতে উঠতে। আর যাদের টাকা আছে তারা ট্যাক্সি বা ওলা-উবের ধরবে। সেই দিকেই নিয়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।” তাঁর আরও অভিযোগ, “একই ঘটনা চিতপুরেও ঘটেছে। সেখানেও ট্রাম লাইনের উপরে পিচ ফেলা হয়েছে। তার জন্য চিৎপুর থানায় অভিযোগ জানালে প্রথম টালবাহানা করার পর এফআইআর না নিয়ে শুধু অভিযোগ জমা নেওয়া হয়েছে।” ক্যালকাটা ট্রাম ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ আসলে ট্রাম ডিপো জমি মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে। অথচ প্রবীণ নাগরিক থেকে শিশু-মহিলাদের জন্য ট্রামের চেয়ে সস্তা এবং আরামদায়ক যাত্রা আরও কোনও কিছুতে পাওয়া যায় না। তার পরেও ট্রাম তুলে দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন, যেমন– অটো, উবের এবং ওলাদের মত বড় সংস্থাগুলিকে ইনকামের জায়গায় করে দেওয়া হচ্ছে। অথচ ঐতিহ্যবাহী ট্রামকে তুলে দেওয়ার সমস্ত চক্রান্ত চলছে বলে জানান সংগঠনের সদস্যরা। এদিন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের কাছে ডেপুটেশন জমা দিতে এসে কলকাতা পুরসভার সামনে বিক্ষোভ অবস্থান করেন ক্যালকাটা ট্রাম ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশন।
কেন মামলা ছাড়লেন বিচারপতি ?

বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুনের মামলায় তবে কী আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়ালে বিরক্ত হয়েই মামলা থেকে অব্যাহতি নিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ? উঠছে প্রশ্ন। এর ফলে ওই ইন্সপেক্টর এবং হোমগার্ড আদৌ জামিন পাবে কিনা, তা নিয়েও তৈরি হল ধোঁয়াশা। এখন নিয়ম অনুযায়ী এই মামলা চলে যাবে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে। পরবর্তী শুনানি কার বেঞ্চে হবে, তা ঠিক করে দেবেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় এক পুলিশকর্মী এবং এক হোমগার্ডের গ্রেফতারির ঘটনায় সিবিআইয়ের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবারের মধ্যে সিবিআইকে ওই রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ।কাঁকুড়গাছির বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুনের মামলায় সম্প্রতি একটি অতিরিক্ত চার্জশিট জমা করেছে সিবিআই। গ্রেফতার হয়েছেন পুলিশকর্মী রত্না সরকার এবং হোম গার্ড দীপঙ্কর দেবনাথ। তাঁরা দু’জনেই এখন জেলবন্দি রয়েছেন। গত মঙ্গলবার হাইকোর্টে তাঁদের জামিনের আবেদনের শুনানি হয়। সেখানে সিবিআইয়ের আইনজীবী রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় চান। তখন রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি তাঁর সওয়াল জবাবে বলেন, “হঠাৎ করে চার বছর পরে অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। পুলিশকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন হেফাজতে রাখতে সময় চাওয়া হচ্ছে।” দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জানায়, চার দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে সিবিআইকে। নারকেলডাঙা থানার পুলিশ ওই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছিল। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। সম্প্রতি ওই মামলায় ইনস্পেক্টর রত্না এবং হোমগার্ড দীপঙ্করের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে সিবিআই। গত ১৮ জুলাই থেকে তাঁরা জেল হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে নিম্ন আদালত মন্তব্য করেছিল, ‘‘রক্ষকই ভক্ষক হয়ে গেলে সমাজের কী হবে?’’ পরে গত সোমবার তাঁদের জামিনের আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। আর শুক্রবার মামলাই ছেড়ে দিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ।
নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় বিজেপি কর্মী হত্যার অভিযোগে তিন পুলিশকর্মী সহ তৃণমূল কর্মীকে জেলে পাঠাল আদালত

২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় কাঁকুড়গাছির বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে করা ব্যবস্থা নিল আদালত। শুক্রবার সিবিআই-এর বিশেষ আদালত ৩ পুলিশ কর্মী এবং একজন তৃণমূল কর্মী সহ মোট ৪ জনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। ৪ অভিযুক্ত – নারকেলডাঙ্গা থানার প্রাক্তন অফিসার-ইন-চার্জ শুভজিৎ সেন, তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর রত্না সরকার, হোমগার্ড দীপঙ্কর দেবনাথ এবং তৃণমূল কর্মী সুজাতা দে – কে ৩১ জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে শুভজিৎ সেন ইতিমধ্যেই অবসর গ্রহণ করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের মে মাসে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী যে হিংসা হয়, প্রথম থেকেই সেই মামলার তদন্ত করছে সিবিআই। বিজেপি’ র সক্রিয় সদস্য অভিজিৎ সরকারকে নির্বাচনের ফলাফলের দিনই খুন করা হয়। অভিযোগ উঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এই মামলার সাথে যুক্ত থাকা ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে সিবিআই চার্জশিট দাখিল করে। কয়েকদিন পরই এই গ্রেফতারের নির্দেশ দিলো বিশেষ সিবিআই আদালত। প্রথমে ৩ জন পুলিশ কর্মীর নাম প্রথমে চার্জশিটে না থাকলেও । তবে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হয়ে তাঁরা আত্মসমর্পণ করেন। সিবিআই বিশেষ আদালতের বিচারপতি রোহন সিনহার পর্যবেক্ষণ ” রক্ষক যদি ভক্ষক হয় তাহলে সমাজের কি হবে? ” পাশাপাশি এদিন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্তা শুভজিৎ সেনের আইনজীবীকে বিচারপতি গ্রোহন সিনহা জানতে চান,” আপনার মক্কেল ঘটনার উনিশ দিন পর কিভাবে আইসি থেকে এসিপি হলেন? ” অর্থাৎ পুলিশের বিরুদ্ধে এই ঘটনার যে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ বারবারই মৃতের পরিবার তুলছিল তাতে কার্যত শিলমোহর দেন বিচারপতি সিনহা। তবে এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন খুন হওয়া অভিজিৎ সরকারের ভাই বিশ্বজিৎ সরকার। তিনি বলেন, ” অভিযোগে নাম থাকা সত্ত্বেও, দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারকে কখনও হেফাজতে নেওয়া হয়নি বা কলকাতা পুলিশ তদন্ত করেনি, বরং তাকে পদোন্নতি দিয়েছে,” এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এই রায় থেকে সেইসব পুলিশ কর্মীদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। কারণ তারা এখন সংবিধান পরিবর্তে তৃণমূলের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে।” ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট পরবর্তী হিংসায় রাজনৈতিক খুনের তদন্ত শুরু হয়, গোটা ঘটনার পেছনে তৃণমূলকে দায়ী করে বিজেপি। যদিও প্রথম দিন থেকে এই অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেস অস্বীকার করে এসেছে। এই ঘটনায় মানিকতলার বিধায়ক পরেশ পাল, মেয়র পরিষদ স্বপন সমাদ্দার ও স্থানীয় কাউন্সিলর পাপিয়া ঘোষ কেউ হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। তবে হাইকোর্টে আগাম জামিনের মামলা চলায় এই তিনজনের কেউই এদিন আদালতে হাজিরা দেননি।