নীতা এফএ-কে হারিয়ে শীর্ষে ইস্টবেঙ্গল, উচ্ছ্বসিত অ্যান্থনি

আইডব্লুএলে(IWL) ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) এখন অশ্বমেধের ঘোড়া। দুর্বার গতিতে ছুটছে অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুসের(Anthonny Andrews) মেয়েরা। গত ম্যাচে ৯ গোলের পর এবার ফাইভস্টার পারফরম্যান্স ফাজিলাদের। নীতা এফএ-কে ৫-০ গোলে উড়িয়ে গ্রুপ পর্বে শীর্ষস্থানে উঠে এল লাল-হলুদ মহিলা ব্রিগেড। এই ম্যাচের আগে অনেকেই নীতা এফএ-কে ইস্টবেঙ্গলের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে ভাবলেও, সৌম্যা, সুলঞ্জনাদের দাপটে ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারল না নীতা। এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই প্রবল আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ইস্টবেঙ্গলের মহিলা দল। সেখানে ম্যচ শুরুর ৬ মিনিটের মধ্যে সুলঞ্জনার(Sulanjana) গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। প্রথমার্থ শেষ হওয়ার ঠিক তিন মিনিট আগে ইস্টবেঙ্গলের দ্বিতীয় গোল সৌম্যা গুগুলথের(Soumya Gugulth)। গত ম্যাচে এই সৌম্যার পা থেকেই এসেছিল হ্যাটট্রিক। এই ম্যাচেও সেই ধারা অব্যহত। বিরতির পরও ম্যাচের রং বদলাতে পারেনি নীতা এফ এ। বরং ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) প্রবল আক্রমণে তারা ঘর সামাল দিতেই নাকানি চোবানি খাচ্ছিল। এই পর্বে লাল-হলুদের হয়ে প্রথম গোলটা করেন রেস্টি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফের ব্যবধান বাড়িয়ে ফেলে ইস্টবেঙ্গল। এবার গোলদাতা ফাজিলা(Fazila)। আর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে প্রিয়াঙ্কার গোল। দলের এমন একটা পারফরম্যান্স আপ্লুত কোচ অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজ। ফুটবলাদের থেকে যেটা চেয়েছিলেন সেটাই এদিন পেয়েছেন তিনি। ম্যাচ শেষে সেই জন্যই তো যাবতীয় কৃতিত্ব সুলঞ্জনা, ফাজিলাদেরই দিলেন অ্যান্থনি।
সৌম্যা, ফাজিলাদের দাপটে সেসা-র বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের গোলের বন্যা

সৌম্যা গুগুলোথের(Soumya) হ্যাটট্রিক ও ফাজিলার(Fazila) চার গোল। আইডব্লুএলে(IWL) বছরের শেষ ম্যাচে গোলের বন্যা ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) মহিলা দলের। সেসা এফসিকে এদিন মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনও সুযোগই দিল না অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজের মেয়েরা। কল্যাণী স্টেডিয়ামে ৯-০ গোলে সেসা এফসিকে উড়িয়ে দিল লাল-হলুদ মহিলা(Eastbengal) ব্রিগেড। দলের ফুটবলারদের এমন পারফরম্যান্সে আপ্লুত কোচ অ্যান্থনি। একইসঙ্গে আইডব্লুএলে তাঁর ৫০ তম ম্যাচে এটাই যে তাঁর দলের তরফে তাঁকে সেরা উপহার তাও বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে আক্রমণের ঝড় তুলেছিল ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) মহিলা ব্রিগেড। শুরু থেকেই প্রতিক্ষের রক্ষণকে তছনছ করে দিয়েছিলেন ফাজিলা(Fazila), সুলঞ্জনা-রা। ম্যাচের প্রথমার্ধের ফলাফল দেখলেই সেটা অবশ্য বোঝা যায়। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৬ গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। বিরতির পরও আক্রমণের ধার এতটুকু কমেনি ইস্টবেঙ্গলের মহিলাদের। কার্যত সৌম্যা(Soumya) এবং ফাজিলারা(Fazila) এদিন অপ্রতিরোধ্য মেজাজে ছিলেন। সেখানেই দ্বিতীয়ার্ধেই তিন গোল দেয় ইস্টবেঙ্গল। শেষপর্যন্ত ম্যাচ শেষ হয় ৯-০ গোলে। বছর শেষে কার্যত শেষটা বেশ ভালোভাবেই করল লাল-হলুদের মহিলা বাহিনী। আর এই পারফরম্যান্সটাই যে পরবর্তী পর্বে ইস্টবেঙ্গলের মহিলা বাহিনীর আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
সেতু এফসির কাছে আটকে গেল শ্রীভূমি

টানা দু ম্যাচ জয়ের পর থেমে গেল শ্রীভূমির(Sreebhumi) দৌড়। সেতু এফসির কাছে ২-৪ গোলে হেরে গেল শ্রীভূমি। মাঝমাঠের দুর্বলতা এবং প্রথমার্ধের সুযোগ নষ্ট গুলোই যে শ্রীভূমির হারের প্রধান কারণ মেনে নিতে দ্বিধা করছেন না শ্রীভূমির কোচ সুজাতা কর। তাঁর সাফ বক্তব্য যে শ্রীভূমি(Sreebhumi) নাকি প্রথম সেশনে সেভাবে নিজেদের ছাপ ফেলতেই পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে তারা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও মাঝমাঠের দুর্বলতাটাই যেন শ্রীভূমিকে লড়াইয়ে ফিরতে দেয়নি। পরপর দুই ম্যাচ জিতে সেতু এফসির বিরুদ্ধে নেমেছিল শ্রীভূমি(Sreebhumi)। কিন্তু এদিন শুরু থেকেই দুরন্ত ফর্মে ছিল সেতু এফসি(Sethu Fc)। শ্রীভূমির(Sreebhumi) বিরুদ্ধে প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় সেতু এফসি(Sethu Fc)। সেখানেই আবার তাদের হয়ে হ্যাটট্রিক করেন লিন্ডা কম এবং একিট গোল করেন আবিগালি আন্তউই। বিরতির পর ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছিল শ্রীভূমি। সেখানে শ্রীভূমির হয়ে করিশ্মা পুরুষোত্তম জোড়া গোল করলেও, ততক্ষণে ম্যাচ কার্যত তাদের হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল। তিনি গোল করেন ৫০ ও ৮৭ মিনিটে। শেষপর্যন্ত কল্যাণীতে হেরেই মাঠ ছাড়তে হয় শ্রীভূমিকে। হারের হতাশা থাকলেও কোথায় কোথায় তাদের দুর্বলতা রয়েছে সেই জায়গা গুলো ভালোভাবেই দেখে নিয়েছেন শ্রীভূমির কোচ। এই হার থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার দলকে ঘুরে দাঁড় করানোর চ্যালেঞ্জ তাঁর কাছে।
অসুস্থতা, ধকলের প্রতিবন্ধকতা দূরে সরিয়ে জয় দিয়ে শুরু ইস্টবেঙ্গলের

সেতু এফসির বিরুদ্ধে শুধু ১-০ গোলে জয় নয়। ইস্টবেঙ্গল(এয়াস্তবেঙ্গাল) এদিন জয় করল ধকলের ক্লান্তি, অসুস্থতাও। দলের খেলায় কোচের মুখি পুরোপুরি স্যাটিসফাই হওয়ার কথা শোনা গেলেও, তাঁর দল যে এই পরিস্থিতিতে জিততে পেরেছে, সেটাই যেন অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজের(Anthony Andrews) কাছে যথেষ্ট। সেতু এফসির(Sethu Fc) বিরুদ্ধে এদিন গোলের ব্যবধান বাড়াতেই পারত ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। যদি প্রথমার্ধের সুযোগ গুলো কাজে লাগাতে পারত। কিন্তু তা পারেনি। সেইসঙ্গে অসুস্থতার জন্য কয়েকজন ফুটবলারকে নামাতেও পারেনি ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) মহিলা দল। তবে বিরতির পর সাফল্য আসে। সৌম্যা গুগলথের গোলে ইন্ডিয়ান ওমেন্স লিগে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করে লাল-হলুদ মহিলা বাহিনী। বেশ কিছু জায়গায় মেরামতির দরকার যেমন কোচ মেনে নিচ্ছেন, তেমনই এতটা ধকল সামলে ফুটবলারদের চেষ্টা এবং জয়ে খুশি কোচ অ্যান্থনি। একই কথা শোনা গেল আশালতী দেবীর মুখেও। অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজ জানান, “আমি যে পুরোপুরি সন্তুষ্ট তা নই। বেশ কিছু জায়গায় আমাদের মেরামতি করতে হবে। তবে সেইসঙ্গে এই কথাটাও মাথায় রাখতে হবে যে আমরা সময় খুব কম পেয়েছি। সেইসঙ্গে আবহাওয়ার এত ঘন ঘন বদলের জন্য আমাদের ফুটবলাররা বেশিরভাগই অসুস্থ। অনেককেই হাসপাতালে পর্যন্ত যেতে হয়েছিল। সেইসঙ্গে অত্যাধিক ধকল তো রয়েছই। তবে এই ফলাফলের জন্য আমি খুশি।” অন্যদিকে গোকুলামকে ৪-০ গোলে হারাল শ্রীভূমি(Sribhumi)। তাদের হয়ে গোল জোড়া গোল গ্রেসের। বাকি দুটো গোল করেন রিম্পা এবং অঞ্জু।