ফেডারেশনের ডেডলাইন, আগামী সপ্তাহেই সূচি ঘোষণা

ক্লাবদের সময় ডেডলাইন বেঁধে দিল ফেডারেশন(AIFF)। আগামী সোমবারের মধ্যেই এই মরসুমের আইএসএলে ক্লাবগুলো(ISL Clubs) অংশগ্রহন করবে কী করবে না তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে সময়সীমা বেঁধে দিল ফেডারেশন। শনিবারই প্রতিটি ক্লাবকে সেই চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ফেডারেশনের(AIFF) তরফে। ছটি ক্লাবের অংশগ্রহন করা নিয়েই খানিকটা সংশয় দেখা গিয়েছিল। সেই কারণেই সকলকে ফের একবার চিঠি দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জেনে নিতে চেয়েছে ফেডারেশন। সেখানে যে যে ক্লাব(ISL Clubs) অংশগ্রহন করার কথা জানিয়ে দেবে, তাদের নিয়েই আগামী সপ্তাহে আইএসএলের(ISL) সূচী ঘোষণা করে দেবে ফেডারেশন। সেইসঙ্গে এএফসিতেও আবেদন করবে তারা। কয়েকদিন আগেই অংশগ্রহন করার ব্যপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সোমবার পর্যন্ত সময় চেয়ে নিয়েছিল ওড়িশা এফসি। সেই মতোই প্রতিটা ক্লাবকেও সোমবার সন্ধে পর্যন্তই সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কীভাবে এই মরসুমের আইএসএল হবে তা ফেডারেশনের তরফ থেকে স্পষ্ট ভাবেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার সেটা মেনেই খেলায় অংশগ্রহন কারা কারা করবে তা সোমবারই চূড়ান্তভাবে জেনে, আগামী সূচী ঘোষণা হয়ে যাবে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি আইএসএল শুরু হওয়ার কথা ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। খোদ কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী সেই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন কোন ক্লাব খেলবে তা নিয়ে চূড়ান্ত হতে পারছে না ফেডারেশন। কারটা হল বিশেষ করে রেলিগেশন থাকবে কী থাকবে না। এছাড়াও আরও কয়েকটি শর্তও রয়েছে। যদিও ফেডারেশন আইএসএল করতে প্রস্তুত। সেই কারণেই তো শেষ একবার ক্লাবদের চিঠি দিয়ে সেই কথা জেনে নিতে চাইল ফেডারেশন। আদামী সপ্তাহেই এই মরসুমের আইএসএলের সূচী ঘোষণা।
কাটল জট, ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু আইএসএল

অবশেষে দীর্ঘ জল্পনার অবসান। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরি হচ্ছে এই মরসুমের আইএসএল(ISL)। মঙ্গলবার দুপুর তিনটের সময় কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর উপস্থিতিতে ক্লাব গুলোর সঙ্গে শেষ বৈঠকে বসেছিল ফেডারেশনAIFF)। সেখানেই শেষপর্যন্ত ফেডারেশনের(AIFF) মডেল অনুযায়ী আইএসএল(ISL) খেলতে রাজী হয়ে গিয়েছে আইএসএলের ক্লাব গুলেো। এরপই কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আইএসএল শুরু হওয়ার কথা ঘোষণা করে দেন। অবশেষে ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ লিগে বল গড়াতে চলেছে। কয়েকদিন আগে ফেডারেশনের তৈরি করা তিন সদস্যের কমিটি তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরই ফেডারেশন(AIFF) ক্লাব গুলোর(ISL Clubs) সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল। সেখানেই কয়েকটি পয়েন্ট নিয়ে আপত্তি তুলেছিল আইএসএলের ক্লাবগুলো। তাদের একটাই বক্তব্য ছিল যে এই মরসুমে এক কোটি টাকা পার্টিসিপেশন ফি তারা দেবে না। এমনকি ব্রডকাস্টও যে ফেডারেশনকে ঠিক করতে হবে সেই কথাও বলা হয়েছিল। এই নিয়েই একটা টালবাহানা শুরু হয়েছিল। এরপর থেকেই যেন খানিকটা কড়া মনোভাব দেখাতে শুরু করেছিল ফেডারেশন(AIFF)। বিশেষ করে মঙ্গলবার ফেডারেশনের নতুন মডেল অনুযায়ী আইএসএল আয়োজনের পরিকল্পনা কার্যকরী কমিটির বৈঠকে সবুজ-সংকেত পেতেই তারা কার্যত প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল। এরপরই ক্রীড়ামন্ত্রীর উপস্থিতিতে ক্লাবগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল ফেডারেশন। সেখানেই নাকি শোনাযাচ্ছে বেশ হুঁশিয়ারের সুরেই কথা বলেছে ফেডারেশন কর্তারা। কার্যত ক্লাবগুলো আইএসএল খেলবে কী খেলবে না সেই কথাই নাকি জানতে চাওয়া হয়েছিল। শেষপর্যন্ত প্রতিটি ক্লাবই খেলার কথা জানিয়ে দিয়েছে। এরপরই আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আইএসএল শরু হওয়ার কথা ঘোষণা করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী। তবে একটা প্রশ্ন এখনও রয়েই যাচ্ছে যে এএফসি স্লটটা কী হবে। কারণ আইএসএল ক্লাবগুলোর সেই স্লট নিয়েও একটা দাবী ছিল। সেটা অবশ্য ফেডারেশনের ওপরই রয়েছে দায়িত্ব। তবে ১ কোটি টাকার পার্টিসিপেশন ফি দিতে হবে কী হবে না, তা নিয়ে এখনই কোনএও সিদ্ধান্ত হয়নি। শোনাযাচ্ছে পরবর্তীতে একটা বৈঠক হবে সেখানেই নাকি এই বিষয়টাও সমাধান হয়ে যেতে পারে।
ক্লাবগুলোর উত্তর জানতে চিঠি দিয়ে সময়সীমা বেঁধে দিল ফেডারেশন

আইএসএল ক্লাব(ISL Clubs) গুলোর কাছে চিঠি দিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন এবং ফর্ম্যাট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে চাইল ফেডারেশন(AIFF)। আগামী ১ জানুয়ারির মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হল ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের(AIFF) তরফ থেকে। কারণ ক্লাবগুলোর তরফ থেকে ক্ল্যারিটি পেলে তবেই যে তারা এএফসির কাছে যেতে পারবে সেই কথাই বলা হয়েছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের(AIFF) তরফে। বেশ কয়েকদিন ধরেই নানান বৈঠক হলেও এখনও পর্যন্ত আইএসএল হওয়া নিয়ে চূড়ান্ত সমাধানসূত্র বেড়িয়ে আসেনি। ফেডারেশনের তৈরি করা কমিটি তাদের প্রস্তাব ক্লাবজোট এবং ফেডারেশনের সামনে রেখেছে। সেখানে কাজ খানিকটা এগোলেও, এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি কোনওকিছুই। বরং আইএসএলের(ISL) বাজট নিয়েই চলছে এখনও পর্যন্ত দর কষাকষি। সেখানেই এবার ফেডারেশনের চিঠি ক্লাব গুলোকে। গত ৩০ ডিসেম্বর একটা বৈঠক হয়েছে। সেখানেই শেষ কথাবার্তা হয়েছে। আগামী পয়লা জানুয়ারিতেই ক্লাবগুলোকে(ISL Clubs) অংশগ্রহন করা নিয়ে পরিস্কার ধারণা দিতে বলে দিয়েছে ফেডারেশন। প্রথমত তাদের এএফসির সঙ্গে কথাবার্তা বলতে হবে এই একবারের জন্য খানিকটা এএফসি স্লটের নিয়মে ভারতের ক্লাবেদের জন্য শীথিলতা আনতে। অন্যদিকে আগামী ২ জানুয়ারির মধ্যে ক্রীড়ামন্ত্রককে জানাতে তাদের। এছাড়াও আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে যাবে সুপ্রিম কোর্টের শুনানি। সেই সময় সিদ্ধান্ত না হওয়ার বিষয়টা যে কোনওরকম অপশন হবে না তা ভালোভাবেই বোঝাযাচ্ছে। সেই কারণেই আইএসএলের ক্লাবগুলোর কাছে চিঠি দিয়ে আগামী পয়লা জানুয়ারির মধ্যে সমস্তটা জানতে চাওয়া হয়েছে ফেডারেশনের তরফে। নতুন বছরে ভারতীয় ফুটবলের জট খোলে কিনা সেটাই এখন দেখার।
এএফসির স্লট পেলেই আইএসএল! অপেক্ষায় ক্লাবজোট

আইএসএল(ISL) কী হবে। হলে কবে থেকে শুরু হবে। এই নিয়েই এখনও যেন সমাধান বেড়িয়ও বেড়োচ্ছে না। জামশেদপুর এফসি(Jamshedpur Fc) বাদে এখনও পর্যন্ত কোনও ক্লাবই খেলার ব্যপারে তাদের নিজেদের মত পেশ করেনি। কারণ তাদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এবারের এএফসিতে-তে(AFC) তারা স্লট পাবে কিনা। আর সেটাই ফেডারেশনকে তাদের জানাতে হবে। ইতিমধ্যেই ক্লাবগুলো(ISL Clubs) ফের একবার মঙ্গলবার নিজেদের মধ্য়ে বৈঠকে বসতে চলেছে। সেখানেই আবার খেলা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা। কারণ এখন আইএসএল(ISL) শুরু সেখানে তারা ২৪টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে না। আর সেটাই ক্লাবগুলোকে চিন্তায় ফেলেছে। একেতো নিজেদের টাকা খরচ করতে হবে। সেইসঙ্গে যদি এএফসি স্লট না পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে পুরোটাই তাদের লোকসান হিসাবে দেখা হচ্ছে। সেই কারণেই আপাতত ফেডারেশনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। কারণ সেখানেই এএফসিকে এবারের বিষয়ের কথা বলে খানিকটা ছাড় দেওয়ারই আবেদন করা হবে। সেখানে গ্রীন সিগন্যাল পেয়ে গেলেই আইএসএল শুরু হতে কোনও সমস্যা নেই। একইসঙ্গে এবার আবার এবারের আইএসএলের কমার্শিয়াল রাইটস কারা পাবে তা নিয়েও ক্লাবগুলো জানতে চাইছে। সেইসঙ্গে নজর রয়েছে বাজেটের দিকে। মঙ্গলবার ক্লাবগুলো আবার নিজেদের মধ্যে সেইসব নিয়েই একটা বৈঠকে বসতে চলেছে। মনে করা হচ্ছে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই ক্লাবগুলো নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে।
ফেডারেশনের কমিটির দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তাব পেশ, ক্লাবজোটের জবাব ২৮ ডিসেম্বর

কবে হবে এই মরসুমের আইএসএল(ISL)। এতদিন ধরে ঘোর অনিশ্চয়তা চললেও, এবার বোধহয় একটা হাল্কা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। ফেডারেশনের(AIFF) দেওয়া শর্ট টার্মের পাশাপাশি লং টার্মের চুক্তি মেনে নিলেই এবারের মতো ফের বল পায়ে আইএসএলের(ISL) মঞ্চে দেখা যাবে ফুটবলারদের। তবে সবটাই নির্ভর করছে আগামী ২৯ ডিসেম্বরের বৈঠকের ওপর। সেদিনি কার্যত সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে। শুক্রবারই ক্লাবগুলোর(ISL Clubs) সঙ্গে বৈঠকে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার প্রস্তাবটা দিল ফেডারেশনের(AIFF) তৈরি করে দেওয়া তিন সদস্যের কমিটি। কয়েকদিন আগেই ফেডারেশনের(AIFF) তৈরি করে দেওয়া তিন সদস্যের কমিটি ক্লাবজোটকে(ISL Clubs) শর্ট টার্ম ফর্ম্যাটের প্রস্তাবটা পেশ করেছিল। যদিও সই সময় ক্লাবজোটের(ISL Clubs) সদস্যরা দীর্ঘমেয়াদী ফর্ম্যাটের ভাবনা এই কমিটির কাছে জানতে চেয়েছিল। সেই দাবী মতোই শুক্রবারের বৈঠকে ক্লাবজোটকে দীর্ঘমেয়াদী ফর্ম্যাটের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ফেডারেশনের তৈরি করে দেওয়া তিন সদস্যের কমিটির তরফে। সেখানেই জানানো হয়েছে আগামী ২০ বছরের জন্য ৭০ কোটি টাকা করে খরচ হবে। সেইসঙ্গে পার্টিসিপেশন ফি হিসাবে ক্লাব গুলোকে দিতে হবে ১ কোটি টাকা করে। এছাড়াও যে যেমনভাবে টাকা দেবে, তেমনই লভ্যাংশ পাবে। আবার লোকসান হলে সেটাও সকলে সমানই পাবে। এদিন অবশ্য ক্লাবজোট কোনওরকম উত্তর দেয়নি। আগামী ২৮ ডিসেম্বর ফেডারেশনের কমিটিকে নিজেদের জবাব জানিয়ে দেবে ক্লাবজোট। এরপরই ২৯ ডিসেম্বরের বৈঠক। আপাতত তারা কয়েকদিন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নেবে। আগামী ২৯ ডিসেম্বর ফের ফেডারেশনের তৈরি করে দেওয়া এই কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসবে ক্লাবজোট। সেখানে যদি এই প্রস্তাব মেনে তারা সায় দিয়ে দেয়, তবে ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু হয়ে যেতে পারে আইএসএল। তবে দুই পক্ষের মধ্যে যদি সামাধান সূত্র শেষপর্যন্ত না বেড়িয়ে আসে তবে আইএসএল নিয়ে আশার আলো দেখা যাচ্ছে না।
খসরা চূড়ান্ত হলেই ক্লাবেদের সঙ্গে বৈঠকে অনির্বান দত্তদের কমিটি

ফেডারেশন(AIFF) এবং ক্লাব জোট(ISL Clubs), দুই তরফের স্বার্থরক্ষা করেই এগোতে চাইছে নতুন তিন সদস্যের কমিটি। আইএসএল(ISL) কীভাবে করা যায় তারই খসরা তৈরির দায়িত্ব পড়েছে এবার তিন সদস্যের এক নতুন কমিটির ওপর। সেখানেই রয়েছেন আইএফএ সচিব অনির্বান দত্ত(Anirban Dutta) সহ কেরালা এবং গোয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিও। ইতিমধ্যে নিজেদের মধ্যে কয়েকটি প্রস্তাবও তারা করে ফেলেছে। সেখান থেকেই বাছাইয়ের কাজ চলছে। কমিটিতে সদস্যরা ইতিমধ্যেই একটা করে প্রস্তাব পেশ করে দিয়েছে। সেখান থেকেই চলবে ঝাড়াই বাছাইয়ের কাজ। কার্যত আইএসএলটা(ISL) কেমন ভাবে করা সম্ভব সেটা নিয়েই চ্যালেঞ্জটা ক্রমশ বাড়ছে। কারণ ২০২৬ সালের জুন মাস থেকেই শুরু হয়ে যাবে আবার নতুন মরসুম। সেই কারণে শর্ট টার্ম থেকে লং টার্ম দুটো পদ্ধতিতেই আইএসএল(ISL) করা নিয়ে ভাবনা রয়েছে তাদের। একইসঙ্গে আবার যাতে এএফসির প্রতিযোগিতায় খেলার দড়জা খোলা থাকে ক্লাব গুলোর সেটাও ভাবতে হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে অনির্বান দত্ত(Anirban Dutta) জানাচ্ছেন, “মঙ্গলবার রাতে একটা বৈঠক রয়েছে আমাদের। সেখানে যদি সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যায় তবে শীঘ্রই ক্লাবদের সঙ্গে বৈঠকে বসব। আমাদের দুভাবে দেখতে হবে এই ব্যপারটা। একটা শর্ট টার্ম এবং আরেকটা লং টার্ম। ক্লাবদের পাশাপাশি ফুটবলার, সাপোর্ট স্টাফদের দিকটা ভেবে আইএসএল করাটা একেবারেই প্রয়োজনীয়”। ইতিমধ্যেই কিছু ক্লাবেদের সঙ্গে নাকি কথবার্তাও হয়েছে এই কমিটির। ক্লাবেরা একটা স্থায়িত্ব খুঁজতে। সেখানে মোহনবাগান সভাপতি তো আবার বলেই দিয়েছেন যে দীর্ঘমেয়াদী না হলে, ক্লাবজোট মানবেই না। সেখানে অনির্বাণ দত্তের মুখেও কিন্তু সেই লংটার্মের কথা। আর সেই ব্যপারে ক্লাবেদের সঙ্গে কথা বলারও পরিকল্পনা তৈরি হয়ে গিয়েছে। এখন শুধুই খসরাটা চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সকলে। শেষপর্যন্ত আইএসএল ভোরের আলো দেখে কিনা সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।
ফেডারেশন ব্যর্থতার কথা জানালে তবেই দায়িত্ব নেবে ইস্টবেঙ্গল

প্রথম থেকেই ক্লাব জোটের সঙ্গে ছিল না ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। এবার নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করলে দিল ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। লাল-হলুদের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের(Debabrata Sarkar) সাফ জবাব, ফেডারেশন(AIFF) যদি নিজেদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে নেয়, তবেই নাকি তারা ক্লাব জোটের সঙ্গে থেকে লিগ আয়োজনের বিষয়টা নিয়ে ভাবতে পারে। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আয়োজনের কোনওরকম ভাবনা নেই লাল-হলুদ ম্যানেজমেন্টের। শেষপর্যন্ত কী হয় সেদিকেই তাকিয়ে লাল-হলুদ। কয়েকদিন আগেই ক্রীড়ামন্ত্রক এবং ফেডারেশনের(AIFF) সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠকে বসেছিল ক্লাবগুলো(ISL Clubs)। কিন্তু সেই বৈঠকে ছিল না ইস্টবেঙ্গল। এর আগেও ক্লাব জোটের সঙ্গে বৈঠকে বসে নি। বরং খানিকটা দুরত্ব রেখেই চলছিল লাল-হলুদ ম্যানেজমেন্ট। অবশেষে সেই বিষয় নিয়েই মুখ খুললেন লাল-হলুদের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। তাঁর মতে ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) খেলায় অংশগ্রহন করতে এসেছে। লিগ আয়োজনের দায়িত্ব তো ফেডারেশনের। ফেডারেশন(AIFF) ব্যর্থতার কথা জানালে তবেই নাকি তারা ভাবতে পারে। এই প্রসঙ্গে দেবব্রত সরকার(Debabrata Sarkar) জানান, “লিগ কবে হবে জানি না। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি যে লিগ হবেই। পরিস্কার কথা ফেডারেশনের লিগ, ফেডারেশন লিগ করবে। ফেডারেশন বলুক যে তারা পারবে না, তখন আমরা অবশ্যই ভাবব। আমরা ম্যাচ আয়োজন করতে আসিনি। আমরা এসেছি ম্যাচ খেলতে। আমাদের বোর্ডে সিদ্ধান্ত হয়েছে আমার আয়োজন করব না। এবার যদি ফে়ডারেশন বলে যে আমরা পারছি না। তখন অবশ্যই আমরা করব। আগের থেকেই আমাকে দাও আমাকে দাও বলতে যাব কেন। আমাদের ফেডারেশনের প্রতি সম্মান রয়েছে। কারা তারা তো দীর্ঘদিন ধরে ফুটবলটাকে নিয়ে যাচ্ছে”। দেশের সর্বোচ্চ লিগ কবে হবে তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনওরকম নিশ্চয়তা নেই। একের পর এক বৈঠক হয়ে গেলেও কোনওরকম ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। ইস্টবেঙ্গল অবশ্য ধীরে চলো নীতিই নিয়েছে। শেষপর্যন্ত কী হয় সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে তারা।
শর্ত পূরণ হলে ৪৫ দিনের মধ্যেই শুরু লিগ, খসড়ায় প্রস্তাব ক্লাব গুলোর

কথা মতোই আইএসএল(ISL) করতে চেয়ে ক্রীড়ামন্ত্রক-কে(Sports Ministry) নিজেদের পরিকল্পনা মাফিক খসড়া জমা দিল ইস্টবেঙ্গল ছাড়া বাকি সবকটি ক্লাব। তাদের পরিকল্পনা মাফিক এবং শর্ত অনুযায়ী হলে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যেই আইএসএল(ISL) শুরু করার বার্তাই দেওয়া হয়েছে ক্লাবগুলোর(ISL Clubs) তরফে। গত বৃহস্পতিবার ফেডারেশনের কর্তাদের উপস্থিতিতে আইএসএলের ক্লাবগুলো(ISL Clubs) ক্রীড়ামন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল। সেখানেই ক্লাবগুলোর থেকে লিগ আয়োজনের জন্য ২৪ ঘন্টার মধ্যে খসড়া দিতে বসেছিল ক্রীড়ামন্ত্রক। সেই মতো শুক্রবারই সেই খসড়া জমা দিয়েছে ক্লাব গুলো। সেখানেই তাদের আইএসএল(ISL) আয়োজন করতে কী কী প্রয়োজন সমস্ত কিছুই তুলে ধরা হয়েছে। এই খসড়ায় প্রধান দাবী হিসাবে রাখা হয়েছে যে ফেডারেশন কমার্শিয়াল রাইটস থেকে অপারেশন সহ প্রতিটি স্তত্ত্বই যে নতুন লিগ কোম্পানি তৈরি হবে তাদের হাতে হস্তান্তর করতে হবে। শুধুমাত্র তাই নয় সেটা যেন এএফসি(AFC), ফেডারেশন(AIFF) এবং ফিফার(FIFA) আইনি বিধি সম্মতভাবে হয়, সেই কথাও তাদের খসড়ায় স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে। তবে ক্লাব গুলো লিগ আয়োজন করলে ফেডারেশন যে কোনওরকম বড় অঙ্কের টাকা পাবে না তাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তবে ২০২৬-২৭ মরসুমে ফেডারেশনকে ১০ কোটি টাকা দেওয়া হতে পারে ক্লাব গুলোর তরফে। সেক্ষেত্রে কোনও কমার্শিয়াল পার্টনার আসুক বা না আসুক। তবে কোনওরকম বাণিজ্যিক চুক্তি বা পরিচালন গত দায় থেকে মুক্ত থাকতে হবে ফেডারেশনকে। একইসঙ্গে ফেডারেশকে(AIFF) একটি বিশেষ আবেদনও করা হয়েছে ক্লাবগুলোর(ISL Clubs) পক্ষ থেকে। সেখানে বলা হয়েছে ফেডারেশন, মন্ত্রকের একজন এবং ক্লাবগুলো নিয়ে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করার অনুরোধ জানিয়েছে। যে কমিটির প্রধান কাজ হবে এএফসি, ফিফা এবং সুপ্রিম কোর্টের সময়সীমা অনুমোদন সহ আইনি নিয়ন্ত্রন এবং পরিবর্তনশীল বিষয় গুলো সমাধান করার কাজ করবে। কারণ ফেডারেশন ছাড়া অন্য কোনও অংশীদার যদি কোনওরকম চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে তা ফিফার নিয়ম ভঙ্গের মধ্যে পড়তে পারে। সেই কারণেই এমনটা একটা ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরির প্রস্তাব সেই খসড়াতে দেওয়া হয়েছে। তবে লিগ পরিচালনের ক্ষেত্রে যে নতুন লিগ কোম্পানি তৈরি হবে তাদের হাতেই যে সম্পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে সেই কথা কার্যত স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে সেই কোম্পানির বোর্ডে ফেডারেশনের একজন প্রতিনিধি ডিরেক্টর হিসাবে থাকলেও, প্রধান স্টেকহোল্ডার হিসাবে ক্লাবগুলোই থাকবে। আগামী শনিবার ফেডারেশনের বার্ষিক সাধারণ সভা। সেখানে সবার আগে যে এই বিষয় নিয়েই প্রধান আলোচনা হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শেষপর্যন্ত ভারতীয় ফুটবলের অচলাবস্থা কাটে কিনা সেটাই দেখার অপেক্ষায় সকলে।