‘ইন্দিরা গান্ধীর মতো অবস্থা হবে তাঁরও’— রাহুল গান্ধীকে প্রাণনাশের হুমকি

সম্প্রতি সংসদে নানা ইস্যুতে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। যাঁর নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বয়ং রাহুল গান্ধী। এসআইআর নিয়েও গত সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দপ্তর ঘেরাও করেন রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলগুলির সাংসদরা। এরই মধ্যে এবার প্রাণনাশের হুমকি পেলেন এই কংগ্রেস নেতা। ২০২২ সালে ‘ভারত জোড়ো’ যাত্রায় সাভারকর সম্পর্কে রাহুলের বক্তব্যের জন্যই বিজেপির দুই সাংসদ তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। তাঁরা নাকি বলেছেন রাহুলের অবস্থাও তাঁর ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধীর মতো হবে। এর আগেও সাভারকর নিয়ে মন্তব্যের জেরে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে নাকিকের একটি আদালতে মানহানির মামলা করা হয়। যদিও এই মামলায় গত ২৪ জুলাই আদালত তাঁকে জামিন দেয়। এর মধ্যে আবারও সাভারকর নিয়ে মন্তব্যের জেরে প্রাণনাশের হুমকি পেলেন রাহুল। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই কংগ্রেস দলের তরফ থেকে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাহুল গান্ধীর আইনজীবী মিলিন্দ পাওয়ার। আদালত এই আবেদন গ্রহণ করেছে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর এই মামলার শুনানি হবে বলে আদালতের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। রাহুল গান্ধীর আইনজীবী মিলিন্দ পাওয়ার আরও জানিয়েছেন, সংসদের বাদল অধিবেশনে ‘হিন্দুত্ব’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে রাহুল গান্ধীর বাদানুবাদ হয়। এই সময়ই বিজেপির দুই সাংসদ রাহুলকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এমনকী রাহুলকে বড় সন্ত্রাসবাদী বলেও আখ্যায়িত করেন। এমনকী এই দুই বিজেপি নেতা সাভারকর অনুরাগী বলেও জানিয়েছেন রাহুল গান্ধীর আইনজীবী। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধী যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন সেই কারণেই তাঁর ক্ষতি করার চেষ্টা হচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কেননা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে গত ১৫ দিন ধরে সংসদের বাইরে এবং ভিতরে কোণঠাসা সরকার। সে কারণেই এ ধরনের হুমকি বলে অভিমত রাহুল গান্ধীর আইনজীবীর। যদিও পুরো বিষয়টিই এখন আদালতে বিচারাধীন।
প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইন্দিরা গান্ধীকে টপকে গেলেন নরেন্দ্র মোদী

দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী থাকার নিরিখে এবার ইন্দিরা গান্ধীকেও পিছনে ফেলে দিলেন নরেন্দ্র মোদী। ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। আর আজ অর্থাৎ শুক্রবার টানা ৪০৭৮ দিন ক্ষমতায় থাকার নজির গড়ে নরেন্দ্র মোদী ভেঙে দিলেন ইন্দিরা গান্ধীর সেই রেকর্ড। ভারতের দ্বিতীয় দীর্ঘতম প্রধানমন্ত্রীর তকমা পেলেন তিনি। ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং গত বছর অর্থাৎ ২০২৪-এর জুনে টানা তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। ভারতীয় জনতা পার্টির ৭৪ বছর বয়সী এই নেতা প্রথম অ-কংগ্রেসী কোনও দলের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই পদে থাকার নজির গড়েছেন। এমনকী স্বাধীন ভারতে জন্মগ্রহণকারী প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসাবেও সবচেয়ে বেশি সময় শীর্ষপদে বসে আছেন তিনি। ১৯৬৬ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৭ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত টানা ৪০৭৭ দিন ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতায় ছিলেন। অন্যদিকে টানা তিন দফায় ২০২৫-এর ২৫ জুলাই পর্যন্ত মোদী ক্ষমতায় আছেন ৪০৭৮ দিন। নরেন্দ্র মোদীর আগে এখন শুধু ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় আছেন জওহরলাল নেহেরু। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট থেকে ১৯৬৪ সালের ২৭ মে পর্যন্ত ১৬ বছর ২৮৬ দিন এই পদে ছিলেন তিনি। নেহরু ছাড়া নরেন্দ্র মোদীই একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যিনি পরপর তিনটি নির্বাচনে দলের নেতা হিসেবে জয়ী হয়েছেন। এমনকী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে, মোদী গুজরাটের সবচেয়ে দীর্ঘকালীন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। নরেন্দ্র মোদীই প্রথম এবং একমাত্র অ-কংগ্রেসি নেতা যিনি লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন।