বাংলাদেশের কোর্টেই বল ঠেলল ভারত

ভারত সরকার স্বাগত জানিয়েছে। এখন বল বাংলাদেশের কোর্টে। অর্থাৎ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার জন্য প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশকেও ভারত স্বাগত জানিয়েছে। অর্থাৎ এবার যদি বাংলাদেশ খেলতে না আসে সেক্ষেত্রে তাদের পয়েন্টই যে কাটা যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কয়েকদিন আগেই ভারতের মাটিতে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার কথাই বলেছিল বাংলাদেশ। সেখানেই এবার তাদের কোর্টেই যে ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত বল ঠেলে দিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মুস্তাফ্জুর রহমানকে কেকেআর ছেড়ে দেওয়ার পরই একের পর এক হুঙ্কার দিতে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। সেখানেই ভারতের মাটিতে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার কথা বলতে শুরু করেছিল বিসিবি কর্তারা। এবার খানিকটা নিজেরাই বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। শোনাযাচ্ছে প্রতিটি দেশকেই ভারত চিরাচরিত নিয়ম মেনেই বিশ্বকাপের জন্য স্বাগত জানিয়েছে। অর্থাৎ এবার যে বিশ্বকাপে আসাটা একেবারেই বাংলাদেশের নিজের ওপর নির্ভর হয়ে পড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেখানেই শেষপর্যন্ত কী হয় সেটাই এখন দেখার।
পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে উঠল পাক সেনা বিরোধী শ্লোগান

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি ভিডিও রীতিমত ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে পাকিস্তান সেনা বিরোধী শ্লোগান দিতে দেখা যাচ্ছে কয়েকজনকে। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি প্যারালাল নিউজ। সেই ভিডিওতে তাদের বলতে শোনা গেছে— ‘আমেরিকার পালতু কুকুর, ইউনিফর্ম পরিহিতরা’। পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের দিন পাক সেনাবাহিনী সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য সত্যিই তাৎপর্যপূর্ণ। মনে করা হচ্ছে, পাকিস্তানের অন্দরেই পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেননা মুনির ঘন ঘন আমেরিকা সফর করছেন। এমনকী ট্রাম্পের সঙ্গেও নাকি মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছিলেন। পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের কোথাও মনে হয়েছে পাক সেনাপ্রধান আমেরিকার গোলামি করছে, তাই তারা এটাকে ভালো চোখে দেখছেন না। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে সেই ক্ষোভেরই হয়তো বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। সম্প্রতি আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতকে একের পর এক হুমকি দিয়েছেন পাক সেনা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। অথচ ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন এই পাক সেনাপ্রধানই সবার আগে বাঙ্কারে গিয়ে লুকিয়েছিলেন। অথচ এখন আমেরিকার মদতে নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর হিসেবে দাবি করে ভারতকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। যদিও ভারত সরকারের তরফ থেকেও কড়া ভাষায় এর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। এমনকী আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে মুনির এ ধরনের মন্তব্য করায় আমেরিকার প্রতিও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দিল্লি। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আবহে আমেরিকা তরফ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছিল যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতাতেই নাকি দুই দেশ যুদ্ধ বিরতিতে গেছে। এমনকী তারা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধের প্রবণতাকে রুখে দিয়েছে বলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল। যদিও ভারত সরকার বিবৃতি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছিল কারও মধ্যস্থতাতে নয়, পাকিস্তান যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল বলেই তারা সেটা গ্রহণ করেছিল। এই আবহে পাকিস্তান সেনা প্রধানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এমনকী ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেয় পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির। এইসমস্ত বিষয় যে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ ভালভাবে নেয়নি এই ভাইরাল ভিডিও তারই প্রমাণ।
বন্ধু দেশ ভারতের উপর অতিরিক্ত বাণিজ্য শুল্ক চাপালো ডোনাল্ড ট্রাম্প

এতদিন আমেরিকার বন্ধু দেশ হিসেবেই পরিচিত ছিল ভারত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বন্ধুত্ব নিয়েও নানা মহলে নানা চর্চা হয়েছে। এবার সেই বন্ধু দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক ও অতিরিক্ত শাস্তিমূলক পেনাল্টি আরোপের কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভারত রাশিয়াকে সমর্থন করায় আমেরিকার সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা হলেও শিথিল হয় বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। এমনকী অতি সম্প্রতি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও পাকিস্তানকে প্রচ্ছন্ন মদত দিতে দেখা গেছে আমেরিকাকে। সেসময় হোয়াইট হাউসের অনেক দাবিকেই নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছিল ভারত সরকারের তরফ থেকে। তারই ফলশ্রুতি এই শুল্ক বৃদ্ধি বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। ভারতের উপর শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে। এরই সঙ্গে তিনি ব্রিকস সম্পর্কে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, ডলারের উপর আক্রমণ করছে ব্রিকস। হোয়াইট হাউসে এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্পকে ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, ট্রাম্প বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে এখনও কথা বলছি। তবে এর মধ্যে অবশ্যই রয়েছে ব্রিকস। ব্রিকস আসলে এমন দেশগুলির একটি গ্রুপ যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এবং ভারতও এর সদস্য। এটি ডলারের উপর আক্রমণ করছে এবং আমরা কাউকে ডলারের উপর আক্রমণ করতে দেব না।” ট্রাম্পের মতে ভারত তাঁর বন্ধু। তা সত্ত্বেও মার্কিন পণ্যের ওপর বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপ করে ভারতই। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশও করেন। ট্রাম্প বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের ব্যাপক বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী আমার বন্ধু, কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে খুব বেশি বাণিজ্য করেন না। তারা আমাদের দেশে অনেক পণ্য বিক্রি করে, কিন্তু আমরা বিক্রি করতে পারি না। কেন? কারণ তাদের ট্যারিফ অনেক বেশি। এখন তারা এটি অনেকাংশে হ্রাস করতে ইচ্ছুক, তবে দেখা যাক এর পরে কী হয়।” এমনকী ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার জন্য সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, “এই সপ্তাহের শেষের দিকে, আপনারা জানতে পারবেন যে আমরা ভারতের সঙ্গে কোনও চুক্তি করেছি কি না বা তাদের কোনও ফি দিতে হবে কি না।” অন্যদিকে আমেরিকার এই ঘোষণার পর ভারত সরকারের তরফ থেকেও বিবৃতি দিয়ে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে তাতে বলা হয়েছে, “ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পারস্পরিক উপকারী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি হওয়া উচিত। এর জন্য গত কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছে। ভারত এই লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” অতীতেও আমেরিকা অনেক দেশের উপরই এ ধরনের বাণিজ্য শুল্ক চাপিয়েছে। তবে ভারতের উপর এ ধরনের বাণিজ্য শুল্ক চাপানোয় দু দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হতে পারে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
ইন্ডিয়া জোট নিয়ে মমতা নাটক করছে : অধীর

রাজপথে নেমে ফের ইন্ডিয়া জোট নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করলেও সেটিকে কার্যত ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দিলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরী। বুধবার ডোরিনা ক্রসিংয়ের সভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের পক্ষে ব্যাট ধরতে দেখা গিয়েছিল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই জোটের আর এক শরিক সিপিআইএমকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেও কংগ্রেস নিয়ে কার্যত নীরব ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে ইতিমধ্যে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের রাশ যে এখনও তারই হাতে বুধবারের প্রতিবাদ সভা থেকে তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিতে চাইলেন মমতা। পাশাপাশি কংগ্রেসের সাথে সম্পর্ক তিনি যে খুব একটা খারাপ করতে চাইছেন না, তাও বুঝিয়ে দেন তৃণমূল নেত্রী। যদিও গোটা বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ অধীর। পাল্টা ইন্ডিয়া জোটের পক্ষে বার্তা দিয়ে কংগ্রেস নিয়ে চুপ থাকাকে আসলে মমতার ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেন অধীর। বলেন, “মমতার এই নাটক সারা ভারতবর্ষ জানে, দিল্লির নেতারাও জানে। এই ইন্ডিয়া জোটে কখনও সে থাকে, আবার কখনও থাকে না। নিজের প্রয়োজনে ইন্ডিয়া জোট, ইন্ডিয়া জোট বলে চিৎকার করে। আবার প্রয়োজন মিটে গেলে এই জোটের বিরোধিতা করে। আসলে এই জোটকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে।” এমনকী বুধবার সিপিআইএম-কে আক্রমণ করলেও কংগ্রেস নিয়ে কোনও মন্তব্য না করার বিষয়টিকে ‘কংগ্রেস-তৃণমূল নৈকট্য’ বলে মানতে নারাজ প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তার বক্তব্য, “উনি এর আগে একাধিকবার রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেছেন, সোনিয়া গান্ধীকে আক্রমণ করেছেন। এমনকি এক সময় কংগ্রেস করতেন বলে ওনার লজ্জা করে এই মন্তব্যও করেছেন। পুরোটাই নাটক।” এর পাশাপাশি এই রাজ্যের বাঙালিদের আখেরে ক্ষতি করে এখন ভোটের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বাঙালি বাঙালি’ করছেন বলেও অভিযোগ অধীর চৌধুরীর। তিনি বলেন,” বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের উপর নির্যাতন হচ্ছে এই ইস্যু নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক খেলা শুরু করেছেন। যে যে রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের নির্যাতিত হয়ে চলে আসতে হয়েছে কেন সেখানকার মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সেখানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করছেন না। যারা চাকরি হারিয়েছে সেই সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের এই রাজ্যে কেন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছেন না?” এখানেই শেষ নয়, অধীর আরও বলেন, “যে সারদার টাকায় উনি দল চালাতেন, যে সারদার টাকায় উনি নির্বাচনে লড়েছেন সেই সারদা চিটফান্ড যাদের টাকা লুট করেছে তারা কি বাঙালি নন? কই তাদের নিয়ে তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাস্তায় মিছিল করতে দেখিনি? উল্টে যারা সারদার তদন্ত রুখে দিল, যারা সারদায় জড়িত তাদের বাঁচাতে মিছিল করেছেন। এই যে ৩২ হাজার চাকরিপ্রার্থী রাস্তায় দিনের পর দিন বসে আছে। যে ২৬ হাজারের চাকরি চলে গেল তারা বাঙালি নয়? আসলে সামনে ভোট তাই আর কোনও ইস্যু না পেয়ে এখন এই ইস্যুকে সামনে ধরে মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন।”