লালকেল্লা থেকে নাম না করে আবারও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

গত কয়েক সপ্তাহ জুড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেমন ভারতের উপর বাণিজ্য শুল্ক বাড়িয়ে চলেছে। তেমনি আমেরিকার মদতে পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনির থেকে শুরু করে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ভারতকে কার্যত একের পর এক হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। এই আবহে দেশবাসী অপেক্ষা করেছিলেন দেশের ৭৯ তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে কী বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে কারও নাম না করেই পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতকে পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দিয়েছিলেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির। তিনি বলেছিলেন, “আমরা পরমাণু শক্তিধর দেশ। আমরা যদি ডুবি, অর্ধেক বিশ্বকে নিয়ে ডুবব।” পাশাপাশি মুনিরের মুখে গুজরাটের জামনগরে আম্বানিদের তেল শোধনাগারে হামলার হুঁশিয়ারিও শোনা গিয়েছিল। স্বাধীনতা দিবসের সকালে লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে মুনিরের নাম মুখে উচ্চারণ না করেও এর স্পষ্ট জবাব দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “পরমাণু হামলার হুমকি আমরা বরদাস্ত করব না। দীর্ঘদিন ধরে নিউক্লিয়ার ব্ল্যাকমেল সহ্য করছি। কিন্তু আর নয়। এই ধরনের চেষ্টা হলে আমাদের সেনা তার উপযুক্ত জবাব দেবে।” পাশাপাশি এদিন সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল নিয়েও সরব হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল করে ভরত। সেই নিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গত কয়েকদিন আগে ভারতকে নিশানা করে। শাহবাজ জানান, সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল করার ফল ভারতকে ভুগতে হবে। শুক্রবার লালকেল্লা থেকে তারও জবাব দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। মোদী বলেন, “নিজেদের তৃষ্ণার্ত রেখে শত্রুদের জল দেওয়া হচ্ছিল। তা আর হবে না। সিন্ধুর জলে ভারত এবং ভারতের কৃষকদেরই অধিকার থাকবে। জল আর রক্ত একসঙ্গে বইতে পারে না।” ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ যে পাকিস্তান রীতিমত ভয় পেয়েছে, সেকথাও জানান তিনি। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর গলায় আবারও শোনা গেল আত্মনির্ভরতার কথা। জ্বালানি ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হওয়ার প্রক্রিয়া যে ভারত ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে শুক্রবার সে কথাও ঘোষণা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এদিন বলেন, “সেমিকন্ডাক্টর খাতে মিশন মোডে কাজ চলছে। চলতি বছরের শেষেই মেড ইন ইন্ডিয়া চিপ বাজারে আসবে।” সব মিলিয়ে ভারত যেকোনও প্রশ্নেই যে কারও কাছে মাথা নত করবে না, তা প্রধানমন্ত্রীর কথাতেই স্পষ্ট।