আশার আলো দেখছে ফেডারেশন, নতুন ইনভেস্টরও পাচ্ছে!

২৯ ডিসেম্বরই আইএসএল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারবে। এমনটাই প্রত্যাশা ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের(AIFF)। ফেডারেশন সূত্রে খবর তাদের দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি ফর্ম্যাট ক্লাবজোটের(Isl Clubs) পছন্দ হয়েছে এহং তারা নাকি প্রায় রাজিও হয়ে গিয়েছে। আগামী ২৯ ডিসেম্বর ফের ক্লাব জোটের সঙ্গে বৈঠকে বসবে ফেডারেশন(AIFF)। সেখানেই নাকি এই মরসুমের আইএসএল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যেতে পারে। তবে শেষপর্যন্ত কী হয় সেটা তো সময়ই বলবে। একইসঙ্গে উঠে আসছে আরও একটা তথ্য। শোনাযাচ্ছে এফএসডিএলকে(FSDL) সরানোর কাজটাও নাকি অনেকটাই পাকা হয়ে গিয়েছে। অন্তত ফেডারেশন এমনটাই দাবী করছে। ইতিমধ্যে নাকি তিনটি মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানির সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে। আর তারা নাকি আগামী দিনে আইএসএলে(ISL) ইনভেস্ট করার কথাও বলেছেন। আর যে কোম্পানিদের সঙ্গে কথা হয়েছে তাদের এই মুহূর্তে মার্কেট ভ্যালু নাকি ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তবে সেই তিনটি কোম্পানি কারা তাদের নাম নিয়ে আপাতত মুখে কুলুপ এঁটেছে ফেডারেশন(AIFF)। এমনকি ফেডারেশন(AIFF) নাকি যে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাব ক্লাবজোটের সামনে রেখেছিল, সেটাও নাকি এই তিন কোম্পানির সঙ্গে কথাবার্তার পরই রূপপেখা তৈরি হয়েছিল। এমনকি ফুটবলের কমার্শিয়াল টেন্ডার প্রক্রিয়ার জন্য যে টেন্ডার ফেডারেশনের তরফে ডাকা হবে সেটাও নাকি এই তিন কো্ম্পানির মধ্যেই কোনও একটি কোম্পানি পাবে। আর এই খবরটা যে ভারতীয় ফুটবলের আশার আলো অনেকটাই জোরালো করছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি ২০ বছরের যে নতুন চুক্তি হবে সেখানে ফেডারেশনকে সাড়ে সাঁইত্রিশ কোটি টাকার দেওয়ার ব্যপারেও নাকি তারা রাজি হয়ে গিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনকিছুই অবশ্য চূড়ান্ত নয়। সবটাই নির্ভর করছে ২৯ ডিসেম্বরের বৈঠকের ওপর। তবে ফেডারেশন আশাবাদী ২৯ তারিখই নাকি সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে। অন্যদিকে ক্লাবজোট সবকিছু মেনে নিলে এবং আইএসএলের হওয়ার গ্রীন সংকেত পাওয়ার পরই ফের একবার কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের কাছে আবেদন করতে চলেছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। এঅ মরসুমে দুটো ভেন্যুতেই হবে আইএসএল। অর্থাৎ গোয়া এবং কলকাতায়। সেখানেই খরচের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের কাছে তারা আবেদন করে যাতে ক্রীড়ামন্ত্রক রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং আয়োজনে ক্লাবদেরকে সাহায্য করে।
বুধবারের বৈঠকে এফএসডিএল-কে বোঝানোটাই প্রধান চ্যালেঞ্জ

বুধবার কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী(Central Sports Minstry) বসছেন অচলায়তনে পৌঁছে যাওয়া ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে! তার সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা আইএসএল ক্লাবগুলোর, আই লিগ ক্লাবগুলোর, কয়েকটি টেলিভিশন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে, আইএসএল(ISL) ও আই লিগের(I League) স্বত্ব কিনতে আগ্রহী কয়েকটি বাণিজ্যিক সংস্থার সঙ্গে এবং এফএসডিএলের(FSDL) সঙ্গে। মনে করা হছে এফএসডিএলের(FSDL) সঙ্গে বৈঠকটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এআইএফএফের(AIFF) বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে এফএসডিএল(FSDL) মাস্টার্স রাইট এগ্রিমেন্টের(MRA) পুর্নবীকরণ নিয়ে আর আলোচনায় বসতে চায় না। সেই অনীহার কথা তারা জানিয়েও দিয়েছে। এই অবস্থায় ফেডারেশনের(AIFF) ভরসা কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী। তার উদ্যোগে শেষপর্যন্ত এফএসডিএল(FSDL) যদি রাজি হয় এই মরশুমের আইএসএল আয়োজন করতে। এমনকী, নিজেদের দেওয়া অধিকাংশ শর্ত মেনেও যদি তারা রাজি হয় তাহলে জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে আইএসএল(ISL) হতে পারে। কিন্তু ক্রীড়ামন্ত্রীও যদি তাদের রাজি না করাতে পারেন? এবং অন্য বিডারও যদি না এগিয়ে আসে শেষপর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ লিগে বিনিয়োগ করতে? ফেডারেশন(AIFF) সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার নিজে উদ্যোগ নিতে পারে আইএসএল আয়োজনে। কিন্তু পেছন থেকে। কারণ, তাদের উদ্যোগের কথা সরকারিভাবে জানা গেলে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে ফিফা(FIFA) আবার তৃতীয় পার্টির হস্তক্ষেপে বির্বাসিত করতে পারে। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের উদ্যোগে দুরদর্শন রাজি হতে পারে আইএসএল এবং আই লিগ সম্প্রচার করতে। এরকমও শোনা গিয়েছে, যে রাজ্যগুলোতে আইএসএলে খেলা দল আছে সেই সরকারগুলোকে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক অনুরোধ করতে পারে আইএসএল আয়োজনে আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা করতে। আই লিগ আয়োজনেও জটিলতা একইরকম। গত মরশুমে আই লিগের অবনমন এখনো সরকারিভাবে ঘোষণা করেনি ফেডারেশন। এরই মধ্যে পুরোনো আপিল কমিটির বদল হচ্ছে। ১৩ ডিসেম্বর নতুন আপিল কমিটি এই বিষয়ে প্রথম মিটিং ডেকেছে। সবমিলিয়ে ভারতীয় ফুটবলের অচলাতয়ন কাটবে কি না তার আভাষ পাওয়া যেতে পারে বুধবারের বৈঠকে।