ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার ঝাড়খন্ডের তিন প্রতারক

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার ঝাড়খন্ডের তিন প্রতারক। মৃতদের নাম সালাউদ্দিন আনসারী কালাম উদ্দিন আনসারী ও নিয়াজ আনসারী। সকলেই ঝাড়খণ্ডের দেওঘর এলাকার বাসিন্দা। ধৃতদের গতকাল রাতে ডোমকল থেকে গ্রেফতার করে। এর আগে এক ব্যাংক একাউন্ট সরবরাহকারীকে গ্রেপ্তারের পর এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মুর্শিদাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশ থানা। পুলিশ জানিয়েছে এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া মুলকেশ হোসেন এর সহযোগিতায় বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের পাশ বই নিয়ে সেই সব একাউন্টে জালিয়াতি টাকা ঢুকিয়ে গ্রাহকের কাছে ওটিপি নিয়ে টাকা তুলে নিতে। অর্থের লোভ ও বিভিন্ন সহযোগিতার অছিলায় বিভিন্নভাবে অ্যাকাউন্ট হাতিয়ে নিত মুলকেস হোসেন। এর আগে ২০২০ সালে এই মুলকেস হোসেন একটি অ্যাকাউন্ট বই নিয়ে জালিয়াতি করেছিল। সেই সময় এয়ারপোর্ট থানা থেকে ওই উপভোক্তা কাছে নোটিশ আছে। সেই বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানায় সমাধান হলেও মুলকেশ বিভিন্নভাবে ওই উপভোক্তাকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেয়। এরপর ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এরকম একাধিক অভিযোগ আসে মুর্শিদাবাদে সাইবার ক্রাইম থানায়।। সেই ঘটনার তদন্ত নেমে তিনজন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা কে ডোমকল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ আজ ধৃতদের আদালতে তোলা হবে।।
অভিনব কায়দায় অনলাইন জালিয়াতির ছক, লক্ষাধিক টাকার গহনা লুঠ

নকল ফোন পে ব্যবহার করে ট্রানজাকশনের স্ক্রিনশট দেখিয়ে প্রায় চার লক্ষ টাকার সোনার গয়না ডেলিভারি নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার এক প্রতারক। অভিযুক্ত রুধীন্দ্রনাথ মান্না নামে মাঝবয়সি ব্যক্তিকে বুধবার রাতে তার বাগুইহাটির বাড়ি থেকে গ্রেফতার করল হাবড়া থানার পুলিশ। গোটা বারাসত জুড়ে অনলাইন জালিয়াতির ফাঁদ পেয়েছিল এই ব্যক্তি। মূলত তাঁর প্রধান টার্গেটই ছিল সোনার দোকান থেকে মোটা টাকার গয়না লুঠ। সেইমতো চলতি মাসের ১১ তারিখ হাবরার একটি সোনার দোকান থেকে অনলাইনে প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকার সোনার একটি হার বুকিং করে ওই ব্যক্তি। দোকানের তরফে পাঠানো কিউআর(QR) কোডে তিনি যে সাকসেসফুল পেমেন্ট করেছে তার প্রমাণ হিসাবে এমন একটি স্ক্রিনশটও ওই দোকানের হোয়াটঅ্যাপ নম্বরে পাঠায়। সেইমতো দোকানদার পেমেন্ট পেয়েছি ধরে নিয়ে অভিযুক্তর ঠিকানায় তার বুকিং করা সোনার নেকলেস ডেলিভারি দিয়ে দেন। কিন্তু কয়েকদিনের মাথায় ফের ওই একই ব্যক্তি ৮ লক্ষ টাকার সোনার গয়না একই দোকানে অর্ডার দেন। এমনকী ওই একই পদ্ধতিতে অনলাইনে সেই টাকা পাঠিয়েছে বলে দাবি করে প্রতারক। যেহেতু অনেক বড় অঙ্কের ট্রানজাকশন, তাই দোকান মালিক অ্যাকাউন্ট চেক করে। কিন্তু তখনই তিনি জানতে পারেন এখনকার ৮ লক্ষ টাকার পাশাপাশি আগের ডেলিভারি দেওয়া সোনার নেকলেসের টাকাও তিনি পাননি। তখনই তিনি বুঝতে পারেন জালিয়াতির শিকার হয়েছেন তিনি। এরপরেই হাবরা থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দোকান কর্তৃপক্ষ। তদন্তে নেমে পুলিশ বুধবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতেই পুলিশের চক্ষু চড়কগাছ। তারা বুঝতে পারেন, শুধুমাত্র ওই একটা দোকান নয়, একাধিক দোকানে একই কায়দায় জালিয়াতির ফাঁদ পেতেছিল সে। বৃহস্পতিবার তাকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন করে বারাসত আদালতে তোলা হয়। ধৃতের কাছ থেকে হাবরার সোনার দোকান থেকে প্রতারণা হওয়া গয়নার পাশাপাশি আরও একটি সোনার গহনা উদ্ধার হয়েছে। যেটি অশোকনগরে একটি সোনার দোকান থেকে একইভাবে প্রতারণা করে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে হাবরা থানায় সাংবাদিক বৈঠক করেন বারাসত জেলার অ্যাডিশনাল এসপি স্পর্শ নীলাঙ্গী। তিনি বলেন— “এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে একটি নকল ফোন পে অ্যাপস ব্যবহার করে এই প্রতারণা চালাচ্ছিল। যে অ্যাপসের মাধ্যমে হুবহু নকল পেমেন্ট স্ক্রিনশট বানানো সম্ভব।” পাশাপাশি সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে সাধারণ দোকানিদের সতর্ক করে এসপি বলেন, “আপনার অনলাইন পেমেন্ট নেওয়ার সময় সব সময়ই সতর্ক থাকবেন। যাতে করে এই ধরনের জালিয়াতির শিকার না হতে হয়।” এমনকী এই ঘটনার সঙ্গে আরও বড় কোনও মাথা যুক্ত আছে কিনা তা খুঁজে বের করারও আশ্বাস দেন অ্যাডিশনাল এসপি।