এসআইআর নিয়ে হুঁশিয়ারি তৃণমূলের

এসআইআরের(SIR) কথা ঘোষণার পর থেকেই আন্দোলনে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস(TMC)। পুজোর পর থেকে ফের এসআইআর(SIR) নিয়ে রাজ্য রাজনীতি সরগরম। এসআইআরের বিরোধিতা করে পের একবার সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস(TMC)। শনিবার পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামের বিজয়া সম্মিলনীতে গিয়ে ফের একবার এসআইআর নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের(TMC) মুখপাত্র কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh)। তাঁর সাফ বার্তা, একজনও প্রকৃত ভোটারের নামও যদি বাদ যায় তবে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের(Election Comission Of India) অফিস ঘেরাও হবে। কয়েকদিন আগেই এসআইআর নিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর(Shantanu Thakur)। তিনি বলেছিলেন রাজ্যে নাকি এসআইআরে(SIR) বাদ যাবে ১ কোটি ২০ লক্যের মতো মানুষের নাম। সেই সময়ই প্রতিবাদে সরব হয়েছিল তৃণমূল। এবার এসআইআরের বিরোধিতা করে কার্যত হুঙ্কার দিলেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh)। বিজয়া সম্মিলনীতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, “আগে বলেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করাতে হবে। কিন্তু তা করে হেরেছিল ওরা। এবার ভোটার তালিকায় কারচুপি করতে চাইছে। তাই নির্বাচন কমিশনকে এসব কাজে লাগিয়েছে। যেভাবে দিল্ল, মহারাষ্ট্রে করেছিল, সেভাবেই এবার অন্য রাজ্যের ভোটারদের নাম তালিকায় ঢোকাতে চাইছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেটা ধরে ফেলেছেন”। কুণাল(Kunal Ghosh) আরও বলেন, “এসআইআর নিয়ে এককাট্টা থাকুন। মাথার ওপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন। একজনও আসল ভোটারের নাম যদি তালিকা থেকে বাদ যায়, তবে দিল্লিতে এক লক্ষ লোক নিয়ে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের অফিস ঘেরাও করা হবে”। এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় এই এসআইআর ইস্যু নিয়ে। পুজোর পরই এসআইআর করার কথা কার্যত পরিস্কার করে দিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর তারই বিরোধিতায় সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। লড়াই যে ক্রমশই জমে উঠছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে আধারকে মান্যতা দিল কমিশন

সম্প্রতি বিহারে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর (SIR)-এর কাজ শেষ হয়ে। সেখানে এসআইআর (SIR)-এর ফলে বাদ গেছে প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম। বিহারে এসআইআর (SIR)-এর ক্ষেত্রে যে গুরুত্বপূর্ণ ১১টি নথিকে মান্যতা দিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন, তার মধ্যে আধারের উল্লেখ না থাকায় শুরু হয় রাজনৈতিক টানাপোড়েন। তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও হয়। সেই মামলায় অবশেষে শীর্ষ আদালতের রায়কে মেনে নিয়ে আধার কার্ডকে মান্যতা দিল কমিশন। ফলে এসআইআর (SIR)-এর জন্য গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র হিসাবে ১২ নম্বর যুক্ত হল আধার কার্ড। গত সোমবার বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ আধার সংযুক্তিকরণের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি আদালত তার রায়ে এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, শুধুমাত্র পরিচয় যাচাইয়ের নথি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তবে নির্বাচন কমিশনকে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, এসআইআর (SIR)-এর ক্ষেত্রে আধার কার্ড গ্রহণযোগ্য করার বিষয়ে নির্দেশনা জারি করতে হবে। তবে সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা চাইলে ভোটারদের জমা দেওয়া আধার কার্ডের সত্যতা যাচাই করতে পারবেন। পাশাপাশি এসআইআর (SIR)-এর ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টে দাবি করা হয়েছিল যে, অভিযোগ জানানোর সময়সীমা বাড়ানো হোক। সেক্ষেত্রেও শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, যদি কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যায়, সেক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন কমিশন সেই অভিযোগ শুনতে বাধ্য থাকবে। এই মামলায় আরজেডির পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনিই সর্ব প্রথম এসআইআর (SIR)-এর ক্ষেত্রে আধার কার্ডের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শীর্ষ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। তাঁর মতে আধার কার্ডের মতো সহজলভ্য নথিকে যদি গ্রহণ না করা হয়, তাহলে বিপদে পড়বেন সাধারণ দরিদ্র মানুষজন। তারপরেই সব দিক বিবেচনা বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (CEO) জানানো হয়েছে, এবার থেকে এসআইআর (SIR)-এর ক্ষেত্রে আধার কার্ডকেও সংযুক্ত করা হবে। যদিও কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আধারকে শুধুমাত্র পরিচয় যাচাইয়ের নথি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। নাগরিকত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে এর কোনও বৈধতা নেই।
বর্ধমানের সভা থেকে নির্বাচন কমিশনকে কড়া হুঁশিয়ারি মমতার

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্যের সংঘাত চরমে পৌঁছাচ্ছে। সম্প্রতি চার অফিসারের সাসপেনশন নিয়ে দুজনের মধ্যে দড়ি টানাটানি চলছে। এই আবহে বর্ধমানের সভা থেকে নাম না করেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কার্যত তোপ দাগলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি, ‘বিজেপির খেলার পুতুল হবেন না’। এসআইআর (SIR) নিয়ে এমনিতেই নানা টানাপোড়েন চলছে। বিহারে এসআইআর-এ ইতিমধ্যেই বাদ পড়েছে ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম। তা নিয়ে সংসদের বাইরে ও ভিতরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলগুলির সাংসদরা। এমনকী কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটে কারচুপি নিয়ে সরব হয়ে কমিশনের তোপের মুখে পড়েছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্বয়ং সাংবাদিক সম্মেলন করে রাহুল গান্ধীকে নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে হলফনামা জমা দিতে বলেছেন। এবার বর্ধমানের সভা থেকে রাহুলের পাশে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করলেন তৃণমূল নেত্রী। এমনিতেই রাজ্যের চার অফিসারের সাসপেনশন নিয়ে কমিশনের উপর বেজায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। তিনি থাকতে কারো গায়ে আঁচ লাগতে দেবেন না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু শেষপর্যন্ত কমিশনের চাপে বারুইপুর ও ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের দুই ইআরও(ERO) এবং দুই সহকারী ইআরও-কে সাসপেন্ড করতে বাধ্য হন তিনি। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। কমিশনের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ওই অফিসারদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করতে হবে। যদিও সে বিষয়ে কমিশনের কাছে সময় চেয়েছে রাজ্য সরকার। কমিশনের সঙ্গে রাজ্যের এই সংঘাতের আবহেই জেলা সফরে গিয়ে, বর্ধমানের মঞ্চ থেকে কার্যত ঘুরিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির দালাল বলেই বার্তা দিলেন তিনি। এদিন মমতা বলেন—”আপনাকে অনেক প্রণাম। কিন্তু আপনারা যদি বিজেপির ললিপপ হন, তাহলে দেশের মানুষ ক্ষমা করবে না। বাংলাকে ওরা দোষ দিচ্ছে।” রাজ্য-কমিশনের মধ্যে সংঘাতের আবহে তৃণমূল সুপ্রিমোর এই হুঁশিয়ারিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও নির্বাচনের আগে এই সংঘাত যে আরও বাড়বে, তারও আঁচ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলার সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে লাফিয়ে বাড়ছে নতুন ভোটারের সংখ্যা

এসআইআর (SIR) নিয়ে ক্রমশ আশঙ্কা বাড়ছে রাজ্যবাসীর মনে। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপও। স্বাভাবিক ভাবেই বাংলায় এসআইআর চালু হওয়া নিয়ে যথেষ্ট আতঙ্কেই আছেন সাধারণ মানুষ। গত মাস থেকে ভোটার এবং আধার কার্ড সংশোধনের জন্য যে পরিমাণ আবেদন পত্র জমা পড়েছে তাতে করে ছবিটা পরিষ্কার। এই আবহে সামনে আসছে আরও একটি তথ্য। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, গত তিন মাসে রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলি থেকে সবচেয়ে বেশি আবেদন পত্র জমা পড়েছে নতুন ভোটার নিবন্ধনীকরণের জন্য। যে সীমান্তবর্তী এলাকার ভুয়ো ভোটার বা বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে রাজ্য বিজেপির তরফ থেকে বারবার অভিযোগ করা হয়। এমনকী এই প্রশ্নে রাজ্যের শাসক দলের দিকেই ওঠে অভিযোগের আঙুল। শাসক দল তৃণমূল নাকি এই ভুয়ো ভোটারদের নিজেদের ভোট-ব্যাংক বাড়াতে কাজে লাগায়। এই আবহে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নতুন ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়া নিঃসন্দেহেই তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন দফতরের এক আধিকারিকের মতে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলি যেমন— উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং কোচবিহার জেলায় নতুন ভোটার তালিকাভুক্তির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। গত তিন মাসে ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে নতুন ভোটার রেজিস্ট্রেশন ৯ গুণ বেড়েছে। আগে যেখানে বিধানসভা কেন্দ্র পিছু গড়ে ১০০টি আবেদন জমা পড়ত, এখন সেখানে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি মাসে প্রায় ৯০০। পাশাপাশি ২০২৬-শের নির্বাচনকে মাথায় রেখে নির্বাচন কমিশন এক অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছে। গত দিল্লি বিধানসভার মডেলেই কলকাতা এবং পাশ্ববর্তী শহরাঞ্চলের বহুতল আবাসন ভবনের নিচের নীচে পোলিং বুথ তৈরি করার পরিকল্পনা নিচ্ছে। তবে সেখানে অবশ্য কমপক্ষে ৬০০ মানুষের জনবসতি থাকতে হবে। শহরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভোট সচেতনতা বাড়াতেই কমিশনের এই উদ্যোগ বলে জানা যাচ্ছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেন, “ভারতীয় নির্বাচন কমিশন আমাদের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে। গত দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে এটি চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তাতে সেখানে ভোটদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এবার তা বাংলাতেও চালু করা হবে।” বাংলায় বিগত নির্বাচনগুলিতেও গ্রামের তুলনায় শহরাঞ্চলের প্রাপ্ত ভোট শতাংশ অনেকটাই কম ছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের এই নতুন প্রকল্পের ফলে শহরাঞ্চলে ভোটদানের হার আদৌ বাড়ে কিনা, সেটাই দেখার।
মুখ্যসচিবকে তবল করে রাজ্য সরকারকে কড়া বার্তা কমিশনের, বেঁধে দেওয়া হল সময়সীমা

রাজ্য সরকার এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মধ্যে আবারও ঠান্ডা লড়াই অব্যাহত। ২৬শে বিধানসভা ভোটের আগে যে এই সংঘাত আরও চরমে উঠবে তার আঁচ পাওয়া গেল গত বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে দিল্লিতে তলবের পরেই। সেখানে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে ভোটার তালিকায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চার অফিসারকে সাসপেন্ড করার এবং এফআইআর দায়েরের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হল। আগামী ২১ আগস্টের মধ্যে এই নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে। যা নিয়ে আবারও কমিশনের সঙ্গে রাজ্যের সংঘাতের আঁচ করছেন রাজনৈতিক মহল। প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগের জেরে গত সপ্তাহে চার সরকারি অফিসারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়ে মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠায় কমিশন। তার মধ্যে দু’জন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) এবং দু’জন সহকারী ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে (AERO) সাসপেন্ড করে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দু’জন ডব্লুবিসিএস অফিসারও ছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্নের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, একজন এইআরও এবং একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে তারা নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেবে। পাশাপাশি বাকি অফিসারদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার নিজে তদন্ত করবে। সেখানে দোষী প্রমাণিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে রাজ্য সরকার, নচেৎ নয়। যা একপ্রকার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশকে অমান্য করার সামিল। আর এর পরেই নড়েচড়ে বসে কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিবকে তড়িঘড়ি দিল্লিতে তলব করা হয়। সেখানে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে নির্দেশ অমান্য করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট জানান, তিনি নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। পাশাপাশি তিনি এও জানান অভিযুক্ত অফিসারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের এক্তিয়ার তাঁর নেই, পুরো বিষয়টিই নির্ভর করছে রাজ্য সরকারের উপর। মুখ্যসচিব সচিব নাকি এও জানিয়েছেন কমিশনের নির্দেশ মতো ওই চার অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কিনা, তা একান্তই মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের উপরে নির্ভর করছে। তিনি বড়জোর মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ম জানিয়ে দিতে পারেন, কিন্তু তার বেশি কিছু করার এক্তিয়ার তাঁর নেই। এর পরেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে ওই চার অফিসারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আরও সাতদিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার কমিশনের এই কঠোর নির্দেশের পর রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কী ভূমিকা পালন করা হয়। তবে কমিশন ও রাজ্য সরকারের এই ঠান্ডা লড়াই যে আরও দীর্ঘায়িত হবে, সেই সম্ভবনাই দেখছে বিশিষ্ট মহল।
বাংলায় এসআইআর হবেই! রাজ্যের আইনজীবীর কথায় বাড়ল জল্পনা

বিহারে এসআইআর-এর ফলে ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ৫৬ লক্ষ ভোটারের নাম। তার পরেই বাংলায় এসআইআর হওয়া নিয়ে তৈরি হয় জল্পনা। আর তারই পাল্টা আক্রমণে বিজেপিকে নিশানা করে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন। তৃণমূল সুপ্রিমোর দাবি, নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার করে নিজেদের ভোট-ব্যাংক বাড়াতে চাইছে মোদী সরকার। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলেন তিনি। বঙ্গ রাজনীতির এই টানাপোড়েনের ফলে দ্বিধায় পড়ে যান সাধারণ মানুষ। রাজ্যে এসআইআর হবে কিনা, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন তারা। অবশেষে সেই জল্পনাতেই শীলমোহর দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিহারের পর বাংলাতেও হবে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন। এই মর্মে গত ৮ আগস্ট! রাজ্যকে চিঠি পাঠায় জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে বিহারের এসআইআর নিয়ে শুনানি চলছে। সেখানে বুধবারের শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষের আইনজীবী গোপাল শঙ্কর নারায়ণ প্রশ্ন তোলেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই কমিশন কীভাবে একক সিদ্ধান্তে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে? মামলার শুনানিতে বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে তো এখনও এসআইআর শুরু হয়নি।” এরপর রাজ্যের আইনজীবী গোপাল শংকর নারায়ণ বলেন, “গত ৮ আগস্ট কমিশনের তরফে নোটিস পাঠানো হয়। রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই এসআইআর শুরু হতে পারে?” রাজ্যের আইনজীবীর আরও দাবি, “কমিশনে গণহারে বিহারে নাম বাদ দিয়েছে। ভোট দেওয়া প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। কমিশন কীভাবে ছেলেখেলা করতে পারে?” এর পালটা বিচারপতি বাগচী বলেন, “এসআইআর প্রথমবার করা হচ্ছে। সে হিসাবে সমস্ত ভোটারকে বাদ দিতে পারে কমিশন। তবে কমিশন তা করেনি।” এরপর রাজ্যের আইনজীবী বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার আর্জি জানান। পশ্চিমবঙ্গেও যে এসআইআর হতে পারে তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জল্পনা বাড়ছিল। এমনকী সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও ২০০২ সালের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা আপলোড করা হয়েছে। বাংলায় বিএলও(BLO)-দেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সেই ইস্যুতে খোদ সিইও বলেছিলেন, তাঁরা নিজেদের মতো প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে বাংলায় এসআইআর হচ্ছেই, এমনটা তিনি বলেননি। এমনকী এই বিষয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরও মুখ খুলতে চায়নি। তবে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের আইনজীবী গোপাল শঙ্কর নারায়ণ-এর কথা সেই জল্পনাই যেন উস্কে দিল।
ভূতেরাও ভোট দিচ্ছে! ভোটার তালিকা হাতে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য

ভূতেরাও দিচ্ছে ভোট! ভোটার তালিকা হাতে পেতেই বুধবার মালদার গাজল বিধানসভা কেন্দ্রের সালাইডাঙ্গা অঞ্চলের ৯৮ নম্বর বুথের সিংহ পাড়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। সেখানে ভোটার তালিকায় জ্বলজ্বল করছে মৃত ব্যক্তিদের নাম। শুধুমাত্র একটি বুথেই ২৫ জন মৃত ভোটারের হদিস মিলল মালদায়। তাদের কেউ চার বছর, কবছবার৫-৬ বছর কিংবা তারও বেশি আগে মারা গিয়েছে। তাও ভোটার তালিকা থেকে কাটা হয়নি তাদের নাম। শুধু কী তাই, সেইসব ভূতুড়ে ভোটারদের হয়ে ভোট পড়ছে বলেও অভিযোগ গ্রামবাসীদের। এই ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় মালদায়। ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তিদের জীবিত রাখা হয়েছে দেখে রীতিমত অবাক হয়ে যান মৃতদের পরিবারও। এই মৃত ভোটারদেরকেই ভোটবাক্সে কাজে লাগানো হয় বলে শুধু মৃতের পরিবারই নয়, অভিযোগ তুলছেন অন্যান্য গ্রামবাসীরাও। ওই এলাকারই বাসিন্দা শ্যামল মুর্মু জানান, তাঁর কাকা সুশান্ত মুর্মু মারা গিয়েছেন ৮ বছর আগে। তাও ভোটার তালিকা থেকে এখনও কাটা হয়নি তাঁর নাম। কী কারণে এতদিন ভোটার তালিকায় তাঁর কাকার নামকে জীবিত রাখা হয়েছে, সেই প্রশ্নই তুলেছেন শ্যামল বাবু। অন্যদিকে আর এক গ্রামবাসী আনন্দ মাহাতোর বাবা মারা যান চার বছর আগে। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে এখনও ভোটার তালিকায় রয়ে গেছে তাঁর নাম। গ্রামবাসীরা অবলম্বে এই সমস্ত মৃত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতরও। উত্তর মালদার বিজেপি নেতা মনোতোষ মণ্ডলের দাবি, “এই ভাবেই মৃত ভোটারদের জীবিত রেখে ভোট চুরি করে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় টিঁকে আছে। মৃত ভোটারদেরকে ভোটার লিস্টে জীবিত রেখেই তারা ভোট করাচ্ছে। এই কারণেই তৃণমূল কংগ্রেস চাইছে না পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর(SIR) হোক। কেননা এসআইআর হলে তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাবে। এ তো শুধুমাত্র একটা বুথের ঘটনা। এ রকম সব বুথেই মৃত ভোটারদের জীবিত করে রেখে ভোটবাক্স ভরায় তৃণমূল।” বিজেপির এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। তৃণমূল পরিচালিত গাজল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন জানান, “এই এলাকায় পঞ্চায়েত থেকে বিধানসভা, লোকসভা সবই তো বিজেপির। তাহলে তারা কেন এই ভোটার তালিকা সংশোধন করলেন না। যদি সত্যিই মৃত ভোটার লিস্টে থেকে থাকে, তাহলে কেন তাদের নাম কাটা গেল না। নির্বাচন কমিশন তো কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে। তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হল না কেন।” পাশাপাশি তিনি এও জানান, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে। মৃত ভোটার থাকলে পঞ্চায়েত সমিতি থেকে তদন্ত করে দেখা হবে।
‘বাংলায় এসআইআর করতে হলে, লোকসভা ভেঙেই করতে হবে’— অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে আবারও সরব হলেন তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দিল্লি যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে এসআইআর নিয়ে আবারও বিজেপিকে নিশানা করলেন অভিষেক। তাঁর মতে, বিজেপি বা এনডিএ সরকারের লক্ষ্য যদি ভুয়ো ভোটার বাদ দেওয়াই হয়, তা হলে সবার আগে লোকসভা ভেঙে দেওয়া উচিত। তার পরে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, বাংলা, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাব, ঝাড়খণ্ড, কেরালা সর্বত্র এসআইআর হোক। যে সব রাজ্যে বিজেপির সরকার, সেই সব রাজ্য বাদ দিয়ে শুধুমাত্র বাংলায় এসআইআর হলে, তৃণমূল তা কোনও ভাবেই মেনে নেবে না। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, “বিজেপি নেতাদের বলব, আপনারা শুরু করুন। তৃণমূলের যত জনপ্রতিনিধি রয়েছেন বা বিরোধী রাজনৈতিক দল কংগ্রেস, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টির সব সাংসদ পদত্যাগ করবেন। লোকসভা ভেঙে দিন। তারপর আপনারা এসআইআর করুন। লোকসভা ভেঙে দিয়ে সারা দেশে এসআইআর হোক।” পাশাপাশি বিজেপি যে ইচ্ছাকৃত ভাবে এসআইআর-এর নাম করে বাংলায় অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে, সেই দাবি তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি জানান, “আপনি নির্বাচিত হয়েছেন, আপনার ভোটার লিস্টে গরমিল নেই। অথচ আমি নির্বাচিত হয়েছি, আমার ভোটার লিস্টে গরমিল রয়েছে, এটা তো হতে পারে না। এক যাত্রায় পৃথক ফল হতে পারে না। বাংলার একজন যোগ্য ভোটারও যদি বাদ পড়েন, তা হলে এক লক্ষ মানুষ নিয়ে গিয়ে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করা হবে।” এদিন প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারের ভূমিকা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। তিনি বলেন, “তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই যে কমিশন ঠিক বলছে, ভোটার লিস্টে গরমিল আছে, তা হলে তো রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা উচিত। এফআইআর করা উচিত তাঁর বিরুদ্ধে। কারণ তাঁর নজরদারিতেই তো এক বছর আগে লোকসভা ভোট হয়েছিল। অভিষেকের মতে গত বছর যে ভোটার তালিকার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাংসদরা নির্বাচিত হয়েছেন, সেই ভোটার তালিকা নিয়ে যদি নির্বাচন কমিশন প্রশ্ন তোলে, তা হলে গত বছরের লোকসভা ভোটও স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়ে। এই অবস্থায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন করতে হলে, আগে নির্বাচিত সংসদ ভেঙে দিতে হবে। তার পরে নতুন করে ভোট হবে। সদ্য লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার পরেই সংসদে এবং সংসদের বাইরে যেভাবে বিজেপি বিরোধিতায় সরব হয়েছে তৃণমূল সাংসদরা, তাতে করে এটা স্পষ্ট যে, ২৬শে ভোটের আগে বিজেপিকে এই ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দিতে রাজি নয় তৃণমূল কংগ্রেস।
ছবি ও ঠিকানা পাল্টে ভোট কারচুপির অভিযোগ রাজারহাটের এক যুবকের বিরুদ্ধে

ছবি এবং ঠিকানা পরিবর্তন করে ভোট হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রাজারহাটের এক যুবকের বিরুদ্ধে, এই ঘটনায় চরম বিপাকে গাইঘাটার পরিমল দাস। ভোটার কার্ডে নাম, বাবার নাম এবং এপিক নাম্বার এক রেখে শুধুমাত্র ছবি এবং ঠিকানা পরিবর্তন করে ভোটার কার্ড বানানো অভিযোগ উঠল রাজারহাট নিউটাউনের এক যুবকের বিরুদ্ধে। যার ফলে গাইঘার পরিমলের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে বলেই অভিযোগ। সূত্রের খবর, গাইঘাটা থানার সুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তেঘরিয়ার বাসিন্দা পরিমল দাস। ২০০৩ সালে ১৯ বছর বয়সে তিনি ভোটার হন। তার পর থেকে তিনি ভোট দিচ্ছিলেন সমস্ত নির্বাচনে। পরিমল বাবুর আরও অভিযোগ, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারে ভোট তালিকা থেকে তার নাম কাটা গিয়েছে। খোঁজ নিয়ে পরিমল জানতে পারে, তার এপিক নম্বরে রাজারহাট নিউটাউনের এক ব্যক্তি ভোট দিচ্ছে। যেখানে পরিমলের নাম, বাবার নাম এবং এপিক নম্বর এক, শুধুমাত্র ছবি এবং ঠিকানা পরিবর্তন হয়েছে। পরিমলের অনুমান এর পিছনে বড় কোনও চক্র কাছ করেছে। বিভিন্ন নেতাদের জানিয়েও কোনও সুরাহা মেলেনি। ভোটার কার্ড ফিরে পেতে তাই গাইঘাটার বিডিও-র কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে পরিমল দাস। তার অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার নীলাদ্রি সরকার। বিষয়টি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর বলেন, “তৃণমূলের আমলে সব কিছুই সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গে ১ কোটির উপরে ভুয়ো ভোটার আছে। প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ভুয়ো ভোটার, মৃত ভোটার রেখে নির্বাচনে জেতার কৌশলের তৃণমূল কংগ্রেস পারদর্শী হয়ে গেছে। এটা পাহারের চূড়া মাত্র। এর নিচে পুরো পাহাড় রয়েছে।” পাশাপাশি এই প্রসঙ্গে রাজ্যে এসআইআর করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি। অন্যদিকে সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি নরোত্তম বিশ্বাস বলেন, “এটা দেখা তো কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশনের কাজ। এ ধরণের কাজ যদি হয়ে থাকে, তাহলে কি কেন্দ্রীয় এজেন্সি ঘুমাচ্ছে? বিরোধী থাকতে গেলে শাসককে অনেক কিছু বলতে হয় তাই গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক প্রলাপ বকছেন।”
বাংলায় কারোর নাম তালিকা থেকে বাদ করলে নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিলেন অভিষেক

লোকসভার বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পেয়েই ‘হায়ার এন্ড ফায়ার ‘ মুডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় এসআইআরে একজনেরও নাম বাদ পড়লে লক্ষ বাঙালি নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অফিস ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনকে ‘ভোট চোর’ আখ্যা দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রীতিমত প্রমাণ দিয়ে ভোট চুরি ধরিয়েও দেন তিনি। রাতে নৈশ ভোজে ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের পাঠ নেন রাহুল। আর কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ঠোঁস সবুদ’ পেয়ে বাংলায় এস আই আর ইস্যুতে গর্জে উঠলেন অভিষেক। বিহারের মতো পরবর্তীকালে বাংলাতেও এই বিশেষ প্রক্রিয়া চালানো হলে তার ফল যে ভালো হবে না এদিন তা বুঝিয়ে দিয়ে জল্পনা দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরে সাংবাদিকের তিনি বলেন, “যাঁরা ‘হ্যাঁ স্যার’ বলে নির্বাচন কমিশনকে বিক্রি করে দিয়েছে, আমরা তাদের সতর্ক করছি। যদি ভোটার তালিকা থেকে কোনও বাঙালির নাম বাদ যায়, এক লক্ষ বাঙালি নিয়ে নির্বাচন কমিশন অফিস ঘেরাও করব।” অভিষেক আরও জানিয়েছেন, এসআইআর প্রশ্নে এক বন্ধনীতে আসতে রাজি ইন্ডিয়া জোটের বাকি দলগুলি। আগামী ১১ আগস্ট সোমবার বিরোধী সাংসদরা দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।তৃণমূলের লোকসভার দলনেতার দায়িত্ব পাওয়ার পর অভিষেক স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেছেন। ভিন রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের উপর অত্যাচার ও বাঙালির অস্মিতার উপর আঘাতের বিষয়ে সংসদে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই দাবি মানা হয়নি বলেই খবর। যা নিয়ে আগামিদিনে সংসদ উত্তাল হতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।