ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দক্ষিণ আমেরিকা, রয়েছে সুনামির সতর্কতাও

আবারও ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দক্ষিণ আমেরিকা। শুক্রবার অর্থাৎ ২২ আগস্ট স্থানীয় সময় বিকেল ৪টে ১৬ মিনিটে দক্ষিণ আমেরিকার কেপ হর্ন এবং অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণ শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে অবস্থিত ড্রেক প্যাসেজে ঘটে এই কম্পন। ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS)-এর দেওয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৫। প্রায় ১১ কিমি গভীরে ছিল এর উৎসস্থল। ড্রেক প্যাসেজ হল একটি গভীর ও প্রশস্ত খাঁড়ি যা দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিক এবং দক্ষিণ-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করে। টেকটোনিক প্লেটের উপর অবস্থিত হওয়ায় এটি ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা। ড্রেক প্যাসেজের ভূমিকম্পের ফলে আগামী তিন ঘণ্টার মধ্যে চিলির কিছু উপকূলে সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রশান্ত মহাসাগরের সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র (PTWC)। তবে চিলিতে সুনামির সতর্কতা জারি থাকলেও হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে কোনও সুনামির সতর্কতা দেয়নি পিটিডাব্লিউসি। তবে ভূমিকম্পের সবচেয়ে নিকটবর্তী শহর হল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া। মাত্র ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই শহরের জনসংখ্যা আনুমানিক ৫৬ হাজার। ভূমিকম্পের এই খবরে স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে সেখানে।
জোড়া ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল হিমাচল

এক ঘণ্টার ব্যবধানে দু’বার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল হিমাচল। বুধবার ভোরে হিমাচল প্রদেশের চাম্বা জেলায় অনুভূত হয় এই কম্পন। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)-র রিপোর্ট জানাচ্ছে, আজ ভোর ৩টা ২৭ মিনিটে প্রথম ভূমিকম্প হয়, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৩.৩। এর ঠিক এক ঘণ্টা পর ভোর ৪টা ৩৯ মিনিটে ৪.০ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয় সেখানে। স্বাভাবিক ভাবেই স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। প্রথম কম্পন ভোরের দিকে হওয়ায় অনেকেই প্রথমটায় বুঝে উঠতে পারেননি। যেহেতু প্রথম কম্পনের তীব্রতা কিছুটা কম ছিল, তাই ঘুমের মধ্যে অনেকেই তা অনুভব করতে পারেননি। কিন্তু প্রথম ভূমিকম্পের অনুভূতি বুঝে ওঠার আগেই, দ্বিতীয়বার কেঁপে ওঠে হিমাচল। দ্বিতীয়বারের কম্পনও প্রথম বারের তুলনায় অনেকটাই বেশি ছিল। স্বাভাবিক ভাবেই ভয় পেয়ে যান স্থানীয় মানুষজন। তাঁরা প্রাণভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। এনসিএস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল চাম্বায়, ৩২.৮৭ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৭৬.০৯ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। যদিও এর ফলে চাম্বায় এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে প্রশাসন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যথেষ্ট সতর্ক রয়েছে। যেকোনও ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে তারা তৎপর হয়ে উঠবে। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার হিমাচল বিপর্যয়ের মুখে পড়ল। সাম্প্রতিক সময়ে কুলুর লাঘাটি এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল হিমাচলে। তবে এক্ষেত্রে চাম্বায় এখনও তেমন ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর মেলেনি। তবে এবছর অতি বৃষ্টির কারণেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে পড়েছে হিমাচল। হিমাচল প্রদেশ রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের একটি রিপোর্ট অনুসারে, এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে সেখানে। এর মধ্যে ধ্বস, বন্যা, মেঘ ভাঙা বৃষ্টি এবং সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী জুন মাস থেকে এখনও পর্যন্ত ২৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষি, উদ্যানপালন এবং পরিকাঠামোগত উন্নতির কাজও। সব মিলিয়ে এবারের বর্ষা হিমাচল প্রদেশের অর্থনীতিতে খুব বড় প্রভাব ফেলেছে।
তুরস্কে ভয়াবহ ভূমিকম্প, একাধিক পর্যটন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত

২০২৩-এর পর আবারও ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তুরস্ক। সে সময় প্রায় পঞ্চাশ হাজারের উপর মানুষ মারা গিয়েছিলেন। গত রবিবার পশ্চিম তুরস্কে ইস্তানবুল সহ একাধিক জায়গায় জোরাল কম্পন অনুভূত হয়েছে। বেশ কিছু বাড়ি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলেই সূত্রের খবর। রবিবার সন্ধে ৭ টা ৫৩ মিনিট নাগাদ, অর্থাৎ ভারতীয় সময় অনুযায়ী বিকেল ৪টে ৫৩ মিনিটে পশ্চিম তুরস্কের সিনদিরগি-তে ভয়াবহ এই ভূমিকম্প ঘটে বলেই তুরস্কের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৬.১। শুধুমাত্র সিনদিরগিতেই নয়, ইস্তানবুল, ইজমির সহ একাধিক পর্যটনকেন্দ্রে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বালিকেসির প্রদেশও। সেখানে একাধিক বড় বড় বিল্ডিং ভেঙে পড়েছে। ভূমিকম্পে দেশের বাকি অংশেও অল্প-বিস্তর ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। এমনকী ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলিতে ইতিমধ্যেই উদ্ধারকাজও শুরু হয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি এবং মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। তবে তুরস্কের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত অনভিপ্রেত কোনও খবর মেলেনি।
রাশিয়ার উপকূলে আছড়ে পড়ল সুনামি, সতর্কতা জারি আমেরিকা এবং জাপানেও

বুধবার রাশিয়ার পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত কামচাটকা শহর কেঁপে উঠল ভয়াবহ ভূমিকম্পে। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৮.৭। আর এর ফলেই সৃষ্টি হয় সুনামির। জলস্তর প্রায় ৪ মিটার পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থার রিপোর্ট অনুসারে, ভূমিকম্পটির উৎস ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৯.৩ কিমি গভীরে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল আভাচা উপসাগরের উপকূল বরাবর পেট্রোপাভলভস্ক-কামচাটস্কির প্রায় ১২৫ কিমি পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে। সোস্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের বেশকিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যাতে দেখা গেছে রাশিয়ায় এই ভূমিকম্পের কী ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। কামচাটকার আঞ্চলিক ডিজাস্টার মন্ত্রী সের্গেই লেবেদেভ দাবি করেছেন, সেখানে বেশ কিছু জায়গায় ৩-৪ মিটার উচ্চতায় জলস্তর বাড়তে দেখা গেছে। এই শহরের জনসংখ্যা প্রায় ১,৬৫,০০০। এই পরিস্থিতিতে উপকূলবর্তী অঞ্চলের লোকজনদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই ভূমিকম্পের জেরে প্রশান্ত মহাসাগরে থাকা আমেরিকার বেশ কয়েকটি দ্বীপ, এমনকী জাপানেও সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই আশঙ্কার ফলে জাপান সরকার সুনামির বিষয়ে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়ে উঠেছে। জাপানের উপকূল অঞ্চলগুলিতে ৩ মিটার পর্যন্ত জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংবাদ সংস্থা এনএইচকের রিপোর্ট অনুযায়ী জাপানের বেশ কিছু অঞ্চল থেকে ইতিমধ্যেই নাকি লোকজন সরানোর কাজও শুরু হয়ে গেছে। অন্যদিকে আমেরিকা হাওয়াইতে সুনামি সতর্কতা জারি হয়েছে। এছাড়া গুয়াম এবং মাইক্রোনেশিয়া দ্বীপের জন্যেও সুনামি আছড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে এই জায়গাগুলো ইতিমধ্যেই খালি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের শহর যেমন ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন, ওরেগন এবং আলাস্কাতেও জারি রয়েছে সতর্কতা। এই শহরগুলি ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে বলেই খবর।
সোমবার রাতে জোড়া ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বঙ্গোপসাগর

আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বঙ্গোপসাগর। তবে একটা নয়, পর পর দুটো ভূমিকম্প। সোমবার গভীর রাতে বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান নিকোবর দীপপুঞ্জের কাছে আঘাত হানে এই ভূমিকম্প। প্রথমটি রাত ১২টা ১১ নাগাদ বঙ্গোপসাগরে আঘাত হানে। আর দ্বিতীয়টি রাত ১টা ৪১ মিনিটে আন্দামান ও নিকোবরের কাছাকাছি। তবে দুটি ভূমিকম্পেরই গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)-র রিপোর্ট অনুযায়ী রিখটার স্কেলে প্রথমটি ছিল ৬.৩ এবং দ্বিতীয়টি ৬.৫। এনসিএস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী প্রথম ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল আন্দামান ও নিকোবরের কাছাকাছি বলা হলেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ (USGS) এবং ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC) নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছে ৬.৫ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করেছে, যার উৎপত্তিস্থল গ্রেট নিকোবারের ক্যাম্পবেল বে থেকে প্রায় ৯৪ কিলোমিটার পশ্চিমে। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান ইনফরমেশন সার্ভিসেস (INCOIS) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের ফলে ভারতে সুনামির কোনও আশঙ্কা নেই। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, পশ্চিমবঙ্গ বা ওড়িশায় কোনও প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবরও এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপগুলোতে ভূমিকম্পের প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে, তবে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।