বীরভূম থেকে জয়দেব সেতুর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী

আরও কাছাকাছি দুর্গাপুর থেকে বোলপুর। মঙ্গলবার ইলামবাজারে অজয় নদের জয়দেব সেতু উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মোট ১৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পূর্ত দপ্তর এই সেতু নির্মাণ করেছে। এর ফলে দুর্গাপুর থেকে বোলপুর যাওয়া এবার আরও সহজ হবে। বীরভূমের জয়দেব এবং পশ্চিম বর্ধমানের বিদবিহারে অজয় নদের উপর গড়ে উঠল স্থায়ী সেতু, নাম দেওয়া হয়েছে জয়দেব সেতু। এতদিন অজয় নদ পেরনোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রচুর ভোগান্তিতে পড়তে হত। বর্ষার সময় সেই পথ পেরনো আরও দুঃসহ হয়ে যেত সাধারণ মানুষের কাছে। মঙ্গলবার বীরভূমের ইলামবাজারে প্রশাসনিক সভা থেকে এই সেতুর ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, গলসির বিধায়ক নেপাল ঘড়ুই, জেলাশাসক পন্নামবলাম এস, জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউড়ি, আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান কবি দত্ত। এছাড়াও ছিলেন নগর নিগমের প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারপার্সন অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়, দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক সৌরভ চট্টোপাধ্যায়, দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের চেয়ারম্যান সুভাষ মণ্ডল প্রমুখ। উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অজয় নদের উপর যে সেতু গড়ে উঠেছে সেই সেতুর নাম জয়দেব সেতু করা হোক। এই সেতু হওয়ায় উপকৃত হবেন বহু মানুষ। জয়দেবের মেলায় আসতেও মানুষের সুবিধা হবে।” এদিনই এই সেতু দিয়ে চালু হল দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের (এসবিএসটিসি) দুর্গাপুর-সিউড়ি রুটের বাস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “এই সেতু নির্মাণের ফলে উপকৃত হবে দুই জেলার মানুষ। পণ্য পরিবহণে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগসূত্র আরও নিবিড় হবে।”
দিল্লি গেলেন দিলীপ। থাকবেন না দুর্গাপুরে

দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভায় তিনি থাকবেন কি থাকবেন না, এটাই এতদিন ছিল লাখ টাকার প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত জল্পনায় ইতি টানলেন দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার সকাল ৭ টায় কলকাতা বিমানবন্দর থেকে দিল্লি যাওয়ার সময় স্পষ্ট করে দিলেন সব। না থেকেই গেল সেই প্রশ্ন— “যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো?” এক কথায় যেতে যেতেও তিনি গেলেন না। সাথে সাথে এটাও পরিষ্কার করে দিলেন—প্রাক্তন সভাপতির সাথে দূরত্ব অনেকটাই বেড়েছে দলের। বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “কর্মীরা ডেকেছিলেন তাই আমি যাবো বলেছিলাম। কিন্তু দল চায় না আমি সভায় থাকি।” নেতা নয় কর্মী হিসাবে তিনি যে ওখানে যাবেন সেটা আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বিজেপি রাজ্য দফতর থেকে দাবী করা হয়েছিল যে দিলীপ ঘোষকে দলের তরফে আমন্ত্রণ পত্র পাঠানো হয়েছে। যদিও তা আদৌ পাঠানো হয়নি বলে দাবি করেন দিলীপ। তবে তাঁর দিল্লি যাত্রা প্রমাণ করল দুর্গাপুরে থাকবেন না তিনি। দিলীপের বক্তব্য, “আমাকে কর্মীরা ডেকেছিলেন তাই হ্যাঁ বলেছিলাম। পার্টি ডাকেনি। হয়তো পার্টি চায় না আমি যাই। আমি গেলে হয়তো অস্বস্তি বাড়বে। তাই পার্টির কাজে দিল্লি যাচ্ছি।”
আজ ইস্পাত নগরীতে প্রধানমন্ত্রী, তার আগে এক্স-পোস্টে তৃণমূলকে নিশানা

গত ১৬ জুলাই বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের নিগৃহীত করার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন ডোরিনা ক্রসিংয়ের সভা থেকে বিজেপি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তৃণমূল নেত্রী হুংকার দিয়েছিলেন, “সাহস থাকে তো আমাকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠান। আমাকে গ্রেফতার করুন।” এমনকী ওই সভামঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি সুর চড়িয়ে ‘ইন্ডিয়া'(INDIA) জোটের হয়েও সুপারিশ করতে দেখা গেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তারই পাল্টা হিসাবে আজ পশ্চিমবঙ্গে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার দুপুরে দুর্গাপুরে জনসভা করবেন তিনি। তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই বঙ্গ বিজেপির নেতা ও সমর্থকদের মধ্যে সাজো সাজো রব। সকাল থেকেই ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সব মিলিয়ে সরগরম ইস্পাতনগরী। এই সভা থেকে যে ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের রণকৌশল সাজাবেন নরেন্দ্র মোদী । আর তাই তাঁর আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য যে হবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা বলাই বাহুল্য। এমনকী বঙ্গে পা রাখার আগেই নিজের এক্স-হ্যান্ডেলে যেন সেই বার্তাই দিলেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার দুপুরেই দুর্গাপুরে প্রকাশ্য জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নরেন্দ্র মোদীর এই জনসভা ঘিরে রীতিমতো চনমনে গেরুয়া শিবির। দুর্গাপুরের সভার আগেই নিজের সোস্যাল সাইটে তৃণমূলকে কার্যত তুলোধনা করলেন প্রধানমন্ত্রী। শাসকদলকে তুলোধনা করার পাশাপাশি তাঁর সভায় যোগদানেরও আহ্বান জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূলের অপশাসনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষ অনেক আশা নিয়ে বিজেপি-র দিকে তাকিয়ে আছেন এবং তাঁরা নিশ্চিত যে একমাত্র বিজেপি-ই পারবে উন্নয়ন করতে। ১৮ জুলাই, দুর্গাপুরে একটি জনসভায় ভাষণ দেব। যোগদান করুন!” এর থেকেই আন্দাজ করা যায়, শুক্রবার কার্যত তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে কতটা সুর চড়াবেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।