ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতেই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ড্র

আগামী শুক্রবারই ফিফা বিশ্বকাপের(Fifa World Cup) চূড়ান্ত ড্র। সেখানেই সেন্টার অব অ্যাট্রাকশন হতে চলেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প(Donald Trump)। মঙ্গলবারই হোয়াইট হাউসের তরফে সেই কথা সরকারীভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এবার মার্কিন যু্ক্তরাষ্ট্রের(USA) পাশাপাশি মেক্সিকো(Mexico) এবং কানাডেতেও(Canada) হবে বিশ্বকাপের ম্যাচ। তারই চূড়ান্ত ড্র আগামী শুক্রবার কেনডি ভবনে হতে চলেছে। সেখানেই প্রধান অতিথি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প(Donald Trump)। কয়েকদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাতে ফিফা বিশ্বকাপের(Fifa World Cup) ট্রফি তুলে দিয়েছিলেন খোদ ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইফান্তিনো(Gianni Imfantino)। এবারের বিশ্বকাপটা যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের(Donald Trump) কাছেও অন্যতম একটা গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বকাপ হতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই বিশ্বকাপকে সামনে রেখেই আমেরিকার ২৫০ তম প্রতিষ্ঠা দিবসও পালন করতে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেশ কয়েকদিন ধরেই একটা জল্পনা শুরু হয়েছিল। শোনাযাচ্ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প(Donald Trump) নাকি উপস্থিত থাকতে পারেন ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ড্র ঘোষণায়। সেই নিয়েই এবার চলে এল হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে একেবারে সরকারী শিলমোহর। হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার কেনেডি ভবনে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ড্র-য়ে উপস্থিত থাকবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেশ কয়েকদিন আগেই ট্রাম্পের একটি মন্তব্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। আমেরিকার কয়েকটি শহর থেকে বিশ্বকাপের ম্যাচ সরানোর কথা বলেছিলেন তিনি। কারণ উল্লেখ করেছিলেন সেই সমস্ত জায়গায় বেআইনি অনুপ্রবেশের সমস্যা। একইসঙ্গে বিস্ফোরণের কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ভারতীয় বস্ত্র শিল্পে

বুধবার থেকেই কার্যকর হল ভারতের উপর চাপানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক। আর এর জেরেই বাণিজ্য শুল্ক পৌঁছাল ৫০ শতাংশে। এর ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতে বস্ত্র শিল্পে। ইতিমধ্যেই ভারতে অনেক জায়গাতেই বস্ত্র উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। আজ থেকে ভারতীয় বস্ত্র পণ্যের উপর ৫৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে হোয়াইট হাউস। গতবছর সব মিলিয়ে ৫.৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমেরিকায় রফতানি করেছিল ভারত। সেখানে এবার অতিরিক্ত শুল্কের কারণে উৎপাদনই বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের সভাপতি এস সি রালহান জানিয়েছেন, “ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতার কারণে বস্ত্র উৎপাদকরা তিরুপুর, নয়ডা এবং সুরাটে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশে কম খরচে তৈরি হচ্ছে পোশাক। তাদের তুলনায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছি আমরা।” তাঁর মতে চিন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ফিলিপিন্স এবং দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির তুলনায় ভারতীয় পণ্য প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে রয়েছে। কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে তৈরি পোশাকের ওপর ৬০.৩ থেকে ৬৩.৯ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। যার ফলে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে ভারতের বস্ত্র ব্যবসা। শুধুমাত্র বস্ত্র নয়, কার্পেটে শুল্ক হার বেড়ে হয়েছে ৫২.৯ শতাংশ। গতবছর ১.২ বিলিয়ন ডলারের কার্পেট আমেরিকায় পাঠিয়েছিল ভারত। এখন এই বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেয় সেদিকেই তাকিয়ে আছে বস্ত্র কারখানাগুলি। কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রাকেশ মেহরা বলেছেন, “সরকার এই মুহূর্তে কীভাবে সহায়তা করতে পারে তা নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলছে। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে দৃঢ় সমর্থন চাই এবং কাঁচামালের ক্ষেত্রে নীতি পর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাই।” সব মিলিয়ে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার শাস্তি হিসাবে ভারতের উপর অতিরিক্ত যে ২৫ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার ফেসারত দিতে হচ্ছে ভারতের বস্ত্র উৎপাদক সংস্থাগুলিকে। এর ফলে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তারা। শুধু বস্ত্র ব্যবসাই নয়, এর জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা সোনা, হীরে সহ সামুদ্রিক মাছ— বিশেষত চিংড়ি রপ্তানিতে বড় ধাক্কা আসতে চলেছে। ভারতের সামুদ্রিক খাদ্যদ্রব্যের প্রায় ৪০ শতাংশই রপ্তানি হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু এই শুল্ক বৃদ্ধির জেরে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি। সেক্ষেত্রে ভারতের অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা লাগবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা কী হয় সেটাই দেখার।
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ যেন ভুলতে পারছেন না ট্রাম্প!

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বিরতি যে তাঁর মধ্যস্থতাতেই হয়েছে তা নিয়ে এর আগেও একাধিক বার সরব হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ভারত সরকারের তরফ থেকে রীতিমত বিবৃতি দিয়ে সেই দাবিকে নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছিল পাকিস্তানের তরফ থেকে যুদ্ধ বিরতি চেয়ে ভারতের কাছে আবেদন জানানো হয়, তারই পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সংঘর্ষ বিরতিতে যায়। ভারত অন্য কারও চাপে পড়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়নি। যদিও ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বিরতির পরেই শান্তি পুরস্কারের জন্য পাকিস্তানের তরফ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম সুপারিশ করা হয়। এবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকেও উঠে আসলো ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রসঙ্গ। গত সপ্তাহেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলাস্কায় একান্ত বৈঠক সারেন ট্রাম্প। সেই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে বলে উভয় তরফ থেকেই দাবি করা হয়েছিল। সেই আবহে এবার জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বৈঠক খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এই বৈঠক শেষেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানান, “রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামবে। এটা কখন থামবে তা আমি বলতে পারব না। তবে জেলেনস্কি এবং ভ্লাদিমির পুতিন এই যুদ্ধ থামাতে চান। আমি ভেবেছিলাম, এই যুদ্ধ থামানো সবচেয়ে সহজ হবে। তবে এটাই সবচেয়ে কঠিন। এর অনেকগুলি কারণ আছে। এটা নিয়ে দীর্ঘদিন কথা হবে। যেমন ভারত-পাক নিয়ে কথা হবে। আমরা এখানে বড় বড় জায়গা নিয়ে কথা বলছি।” এমনকী তিনি যে শান্তির দূত হিসাবে এখনও পর্যন্ত ৬টি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ থামিয়েছেন তার পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, “আফ্রিকাতেও আমরা যুদ্ধ থামিয়েছি। রাওয়ান্ডা এবং কঙ্গোর যুদ্ধ দেখুন। ৩১ বছর ধরে সেই যুদ্ধ চলে আসছিল। আমরা এখনও পর্যন্ত ৬টি যুদ্ধ থামিয়েছি। আমরা ইরানের পরমাণু বোমা বানানোর ক্ষমতা নষ্ট করে দিয়েছি। আর আমার মনে হয় এই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও আমরা থামিয়ে দেব। আমি এই যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।” এভাবেই এদিন বৈঠক শেষে নিজেই নিজের পিঠ চাপড়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও ভারতের উপর সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্য শুল্ক ৫০ শতাংশ করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু তার পরেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংসদে দাঁড়িয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনও চাপের কাছেই ভারত মাথা নত করবে না। এখন পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় সেটা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হবে।
ভারত-পাকিস্তানের উপর নজরদারি চালাচ্ছে আমেরিকা, দাবি মার্কিন বিদেশ সচিবের

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই বেশ তৎপর হয়ে উঠতে দেখা গিয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। এমনকী এই আবহে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলাস্কায় একান্ত বৈঠকও সারেন ট্রাম্প। সেই বৈঠকের পর এবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আপাতত গোটা বিশ্ব সেদিকেই তাকিয়ে আছে। এরই মধ্যে ভারত-পাকিস্তান নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন সদ্য নিযুক্ত হওয়া মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। ভারত-পাকিস্তানের উপর ট্রাম্প সরকার নজরদারি চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন সচিব বক্তব্য রাখতে গিয়ে যুদ্ধবিরতির পরের জটিলতাগুলি তুলে ধরেন। আর সেই প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই তিনি টেনে আনেন ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কথা। মার্কো রুবিও বলেছেন, “আমি মনে করি আমরা খুবই ভাগ্যবান এবং ধন্য। আমাদের এমন একজন রাষ্ট্রপতি পেয়ে কৃতজ্ঞ থাকা উচিত, যিনি শান্তি এবং শান্তি অর্জনকে তার প্রশাসনের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন। আমরা কম্বোডিয়া এবং থাইল্যান্ডের ক্ষেত্রে এটি দেখেছি। আমরা ভারত-পাকিস্তানে এটি দেখেছি।” পাশাপাশি তিনি আরও বলেছেন, “শুধু সংঘর্ষ বিরতিতে গেলেই হল না। সেটাকে ঠিকঠাক ভাবে ধরে রাখাটাও কঠিন ব্যাপার। আমরা তাই প্রতিদিন পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে কী ঘটছে, কম্বোডিয়া এবং থাইল্যান্ডের মধ্যে কী ঘটছে তার উপর নজর রাখি।” সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি স্থাপন নিয়ে ট্রাম্প স্তূতির সুরই ধরা পড়ল মার্কিন বিদেশ সচিবের গলায়। যদিও ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ বিরতি বিষয়ে ভারত সরকারের তরফ থেকে আগেই স্পষ্ট বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছিল যে, কারও মধ্যস্থতাতে নয়, বরং পাকিস্তান ভারতের কাছে যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছিল বলেই ভারত তা গ্রহণ করেছে। এমনকী সংসদে দাঁড়িয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাফ জানিয়েছেন,”বিশ্বের কোনও নেতাই ‘অপারেশন সিঁদুর’ বন্ধ করতে বলেননি।” তার পরেও মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর এই ধরনের মন্তব্যে ভারত কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটাই দেখার।
আমেরিকার কাছে মাথা নত করবে না ভারত, স্পষ্ট বার্তা মোদীর

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার শাস্তি স্বরূপ ভারতের ওপর শুল্ক আরও বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাতকে কাজে লাগিয়ে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে আমেরিকা। বর্তমানে ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে সেটা কার্যকর হবে ৩ সপ্তাহ পর থেকে। যদিও ইতিমধ্যেই ভারত ট্রাম্পের শুল্ক বাড়ানো নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ভারতের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার তেল তো চিন সহ আরও অনেক দেশই কেনে, তাহলে শুধু ভারতের উপর কেন এই শুল্ক চাপানো হচ্ছে? এমনকী ভারত তার বিবৃতিতে এও উল্লেখ করেছে যে, আমেরিকা নিজেরাই রাশিয়ার থেকে ইউরেনিয়াম সহ বিভিন্ন খনিজ পদার্থ কেনে। তাই অহেতুক ভারতকে নিশানা করা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়। আর এর জবাবে ট্রাম্প আরও সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা ভারতের উপর চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি থমকে আছে। আমেরিকা ভারতে তাদের কৃষিপণ্য এবং দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি করতে চাইছে। তবে সেই পণ্য ভারতে বিক্রি করতে দিতে নারাজ মোদী সরকার। ভারতের প্রতি আমেরিকার এই চাপ সৃষ্টি নিয়ে এমএস স্বামীনাথন শতবার্ষিকী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “আমাদের কাছে দেশের কৃষকদের স্বার্থই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। ভারত কখনও কৃষক, জেলে এবং দুগ্ধ চাষীদের স্বার্থের সাথে আপস করবে না। আমি জানি এর জন্য আমাদের অনেক মূল্য দিতে হবে এবং আমি এর জন্য প্রস্তুত। ভারত এর জন্য প্রস্তুত…।” ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির জেরে আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যের দাম বাড়বে। এর জেরে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা দ্রুত কমতে পারে। এরই মাঝে অবশ্য ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনা জারি রয়েছে। অন্যদিকে যে ৫০ শতাংশ শুল্ক ভারতীয় পণ্যের ওপর ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তা কার্যকর হবে ২৭ অগস্ট থেকে। তার আগে ২৫ অগস্ট দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনার টেবিলে বসবেন। এখনও পর্যন্ত দুই দেশের পাঁচ দফা বৈঠক হয়েছে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে। সর্বশেষ দফা আলোচনা ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হলেও তা অমীমাংসিত রয়ে গেছে। আগামী ২৫ অগস্ট থেকে ভারতে ষষ্ঠ দফার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেক্ষেত্রে দু দেশেই বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে এই বৈঠক নিঃসন্দেহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির কাছে কি নতিস্বীকার ভারতের?

গত কয়েক দিন আগেই ভারতের বাণিজ্য পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকী রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তিকে যে তিনি ভালো চোখে দেখছেন না, তাও হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমনকী রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য নির্ভরতা বাড়ালে ভারতে অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হবে বলেও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ভারতকে চাপে রাখতে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির পরেই ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে এই বিষয়টি নিয়ে যে ভারত চিন্তাভাবনা শুরু করেছে তা জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছিল। এবার আমেরিকার এই প্রচ্ছন্ন হুমকির সামনে ভারতকে কিছুটা পিছু হটতেই দেখা গেল। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত। ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ৩৫ শতাংশ আসে রাশিয়া থেকে। এবার ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর নীরবে নিজের অবস্থান বদলালো ভারত। বিশ্ব জ্বালানি বাজারে রাশিয়ার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানি অনেকটাই বৃদ্ধি করল ভারত। সরকারি রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম ৬ মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের খনিজ তেল আমদানি বেড়েছে প্রায় ৫১ শতাংশ। তার ফলে খরচও বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। কেবল অশোধিত তেল নয়, এলপিজি এবং এলএনজির মতো গ্যাসও আগের থেকে অনেক বেশি পরিমাণে কেনা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে।২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন, এই ক’মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারত দৈনিক আমদানি করত ১.৮ লক্ষ ব্যারেল। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেছেন ২০ জানুয়ারি। তারপর থেকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দিনে ২.৭১ লক্ষ ব্যারেলে। অর্থাৎ আমদানির গতি বেড়েছে নজরে পড়ার মতো। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, শুধুমাত্র এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসেই মার্কিন তেল আমদানি বেড়েছে ১১৪ শতাংশ। ফলে সামগ্রিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন ভারতের মোট তেল আমদানির ৮ শতাংশ জোগাচ্ছে। আগে যা ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। আর এই পরিমাণ তেলের জন্য ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে যেখানে খরচ হয়েছিল ১৭৩ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা), ২০২৫ সালে সেটাই গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭০ কোটি ডলারে (৩২ হাজার কোটি টাকা)।আপাতত মার্কিন তেল আমদানি কমার কোনও সম্ভাবনা নেই, বরং আগামীতে তা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল রাশিয়ার প্রসঙ্গ সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়ে দাবি করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নানান ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে এগিয়েছে ঠিকই। তবে প্রতিরক্ষার প্রশ্নে দু দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে। এমনকী তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভারত যে বাজারদর, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং ভারতের চাহিদা এই বিষয়গুলিকেই প্রাধান্য দেয় তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সম্প্রতি তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট বলেছেন, “ভারত পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হতে চলেছে। তাই নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়ে ভারত অবশ্যই সজাগ থাকবে।”
রাশিয়াকে দুটি পারমাণবিক সাবমেরিন দিয়ে ঘিরে রাখার হুমকি ট্রাম্পের

রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কের কারণে ভারতীয় আমদানির ওপর আগেই ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং জরিমানা আরোপের কথা ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এইভাবে পরোক্ষে রাশিয়ার উপর চাপ সৃষ্টি করছিল হোয়াইট হাউস। এবার সরাসরি রাশিয়ার দিয়ে পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিন তাক করে রাখার নির্দেশ দিলেন শান্তির দূত ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ বিরতিতে নিজের কৃতিত্বের কথা ফলাও করে জাহির করেছিলেন। যদিও ভারতের তরফ থেকে সেই দাবি কার্যত খারিজ করে দেওয়া হয়। এর পরেই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার ব্যাপারে সুপারিশ করা হয়। এমনকী ট্রাম্প নিজেও যে শান্তি নোবেল পেতে আগ্রহী তা তার আচরণে প্রকাশ পেতে থাকে। যেকোনও দেশের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে ট্রাম্প নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে দাবি করতে থাকেন, সে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধই হোক, কিংবা ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষ। স্বাভাবিক ভাবেই ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার তেল চুক্তিকে ভালোভাবে নেয়নি হোয়াইট হাউস। কয়েকদিন আগে ভারতের উপর বাণিজ্য শুল্ক ২৫ শতাংশ করার পর তিনি সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে লিখেছিলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে ভারত কী করল তাতে আমার কিছু যায় আসে না। তারা একসঙ্গে তাদের মৃত অর্থনীতি ধ্বংস করতে পারে। আমরা ভারতের সঙ্গে খুব কম ব্যবসা করি, তাদের শুল্ক অনেক বেশি, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। একইভাবে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রও একসঙ্গে প্রায় কোনও ব্যবসা করে না। আমরা বিষয়টিকে সেভাবেই রাখব। রাশিয়ার ব্যর্থ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভকে বলি, তিনি কী বলছেন, সেদিকে যেন তিনি নজর দেন। ও খুব বিপজ্জনক এলাকায় ঢুকে পড়ছে! তিনি মনে করেন যে তিনি এখনও রুশ রাষ্ট্রপতি।” এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার রাশিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ তাঁর এক্স-হ্যান্ডেলে লিখেছিলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার সঙ্গে “আল্টিমেটাম গেম’ খেলছেন এবং এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে আকার নিতে পারে।” এর পরেই ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ৫০ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন। এর মধ্যে শান্তিচুক্তি না করলে রাশিয়ার পরিণতিও যে ভয়ঙ্কর হবে, সেকথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প তাঁর অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট করে লিখেছেন, “রাশিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের অত্যন্ত উস্কানিমূলক বক্তব্যের ভিত্তিতে আমি ঠিক জায়গা মতো দুটো পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছি, যাতে এই বোকা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য আর না বাড়ে। শব্দ খুব গুরুত্বপূর্ণ, এবং প্রায়শই এর থেকে অনিচ্ছাকৃত পরিণতি হতে পারে। আশা করি এখানে এমনটা হবে না। এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!” ট্রাম্পের এই প্রচ্ছন্ন হুমকিকে রাশিয়া এখন কীভাবে নেয়, সেটাই দেখার।
বন্ধু দেশ ভারতের উপর অতিরিক্ত বাণিজ্য শুল্ক চাপালো ডোনাল্ড ট্রাম্প

এতদিন আমেরিকার বন্ধু দেশ হিসেবেই পরিচিত ছিল ভারত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বন্ধুত্ব নিয়েও নানা মহলে নানা চর্চা হয়েছে। এবার সেই বন্ধু দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক ও অতিরিক্ত শাস্তিমূলক পেনাল্টি আরোপের কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভারত রাশিয়াকে সমর্থন করায় আমেরিকার সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা হলেও শিথিল হয় বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। এমনকী অতি সম্প্রতি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও পাকিস্তানকে প্রচ্ছন্ন মদত দিতে দেখা গেছে আমেরিকাকে। সেসময় হোয়াইট হাউসের অনেক দাবিকেই নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছিল ভারত সরকারের তরফ থেকে। তারই ফলশ্রুতি এই শুল্ক বৃদ্ধি বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। ভারতের উপর শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে। এরই সঙ্গে তিনি ব্রিকস সম্পর্কে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, ডলারের উপর আক্রমণ করছে ব্রিকস। হোয়াইট হাউসে এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্পকে ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, ট্রাম্প বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে এখনও কথা বলছি। তবে এর মধ্যে অবশ্যই রয়েছে ব্রিকস। ব্রিকস আসলে এমন দেশগুলির একটি গ্রুপ যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এবং ভারতও এর সদস্য। এটি ডলারের উপর আক্রমণ করছে এবং আমরা কাউকে ডলারের উপর আক্রমণ করতে দেব না।” ট্রাম্পের মতে ভারত তাঁর বন্ধু। তা সত্ত্বেও মার্কিন পণ্যের ওপর বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপ করে ভারতই। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশও করেন। ট্রাম্প বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের ব্যাপক বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী আমার বন্ধু, কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে খুব বেশি বাণিজ্য করেন না। তারা আমাদের দেশে অনেক পণ্য বিক্রি করে, কিন্তু আমরা বিক্রি করতে পারি না। কেন? কারণ তাদের ট্যারিফ অনেক বেশি। এখন তারা এটি অনেকাংশে হ্রাস করতে ইচ্ছুক, তবে দেখা যাক এর পরে কী হয়।” এমনকী ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার জন্য সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, “এই সপ্তাহের শেষের দিকে, আপনারা জানতে পারবেন যে আমরা ভারতের সঙ্গে কোনও চুক্তি করেছি কি না বা তাদের কোনও ফি দিতে হবে কি না।” অন্যদিকে আমেরিকার এই ঘোষণার পর ভারত সরকারের তরফ থেকেও বিবৃতি দিয়ে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে তাতে বলা হয়েছে, “ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পারস্পরিক উপকারী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি হওয়া উচিত। এর জন্য গত কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছে। ভারত এই লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” অতীতেও আমেরিকা অনেক দেশের উপরই এ ধরনের বাণিজ্য শুল্ক চাপিয়েছে। তবে ভারতের উপর এ ধরনের বাণিজ্য শুল্ক চাপানোয় দু দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হতে পারে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
নিজেকে কি ‘শান্তির দূত’ ভাবতে শুরু করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?

সারা বিশ্বে যেখানেই সংঘর্ষ বাঁধছে, সেখানেই মাথা গলিয়ে দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছড়িয়ে দিচ্ছেন শান্তির বার্তা। প্রাচীন কালে রাজাদের মধ্যে যুদ্ধের পর যেমন শান্তির বার্তা হিসাবে সাদা পায়রা ওড়ানো হত, অনেকটা যেন সেরকমই। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যেখানে যুদ্ধ বেঁধেছে, সেখানেই শান্তির দূত হিসাবে সংঘর্ষ বিরতির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আর তাঁর কথা অমান্য করলে বাজিণ্য বন্ধের সেই মোক্ষম দাওয়াই শোনানো হয়েছে। এর আগে ‘অপারেশন সিঁদুরে’ ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ বিরতির সময়ই তিনি একাধিকবার দাবি করেছিলেন যে, তাঁর মধ্যস্থতাতেই নাকি থেমেছিল দুই দেশের যুদ্ধ। যদিও ভারতের তরফ থেকে সেই দাবি খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তৃতীয় কোনও পক্ষের হস্তক্ষেপে নয়, বরং ১০ মে পাকিস্তানে ভারত চূড়ান্ত আঘাত হানার পর ডিজিএমও পর্যায়ে লড়াই থামানোর আর্জি জানিয়েছিল পাকিস্তান। সে কারণেই ভারত যুদ্ধ বিরতিতে গেছে। আমেরিকার দাবি ছিল, ট্রাম্প নাকি বাণিজ্যকে হাতিয়ার করে ভারত ও পাকিস্তানের সংঘাত থামিয়েছেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় এই যে ভারতের সঙ্গে সেই বাণিজ্য চুক্তি এখনও করে উঠতে পারেনি আমেরিকা। সে কথাও সে সময় স্পষ্ট করে জানিয়েছিল ভারত। এর আগে ইরান ও ইজরালের মধ্যে সংঘর্ষেও জড়িয়েছিল আমেরিকা। ইরানে বোমা ফেলে সংঘর্ষ বিরতির কৃতিত্ব নিজেই নিয়েছিল ট্রাম্প। এবার থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়াকে লড়াই থামাতে বললেন ট্রাম্প। এক্ষেত্রেও তাঁর দাওয়াই সেই একই, যুদ্ধ না থামালে বাণিজ্য করবেন না তিনি। পাশাপাশি এই আবহে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বিরতির প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন তিনি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীদের ফোন করে বলেছেন, সংঘাত না থামালে তিনি কোনও দেশের সঙ্গেই বাণিজ্য করবেন না। তবে কি পাকিস্তান যে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তি নোবেল দেওয়ার দাবি তুলেছিল তা অমূলক নয়। তবে কী ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও চাইছেন শান্তি নোবেল পেতে? কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার মধ্যে যুদ্ধ থামা তো দূরের কথা, দু দেশের মধ্যে পারস্পরিক উত্তাপ আরও বেড়েছে বলেই খবর। কম্বোডিয়ার সেনারা থাইল্যান্ডের সুরিন প্রদেশের ‘তা কোয়াই’ মন্দিরের কাছে থাই বাহিনীর উপর গুলি চালিয়েছে। পাল্টা প্রত্যাঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে থাইল্যান্ডও। তবে কি ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি নোবেল এ যাত্রায় ফস্কে গেল? উঠছে প্রশ্ন।
ট্রাম্পকে নিয়ে পাকিস্তানি মিডিয়ার ভুয়ো খবর, স্পষ্ট জবাব হোয়াইট হাউসের

গত কয়েক দিন আগে পাকিস্তানের দুটি নিউজ মিডিয়া চ্যানেল দাবি করেছিল, আগামী সেপ্টেম্বরে নাকি পাকিস্তানে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারা আরও দাবি করেছিল, যে ইসলামাবাদে নামার পরই তিনি নাকি ভারতে আসবেন। এরপরেই নড়েচড়ে বসে হোয়াইট হাউস। এই ভুয়ো খবরের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাবও দেয় তারা। হোয়াইট হাউসের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তানে যাচ্ছেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই খবরের পরই বিশ্বের কাছে আরও একবার মুখ পুড়ল পাকিস্তানের। পাকিস্তান নিউজ মিডিয়ার ‘দ্য ডন’ জানিয়েছে, যে তাদের দেশের দুটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল যে সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানে যাবেন ট্রাম্প, যদিও তারা পরে সেই রিপোর্ট সরিয়ে নেয়। অন্যদিকে, ট্রাম্পের সফর সম্পর্কে বলতে গিয়ে মার্কিন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বৃহস্পতিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি ২৫ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই স্কটল্যান্ড সফর করবেন। সেই সফরে তাঁর সঙ্গে ইউকের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সফরের পর তিনি ফের ১৭ সেপ্টেম্বর ইউকে যাবেন। প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে শেষবার কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট গিয়েছিলেন পাকিস্তানে। সেবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ সফর করেছিলেন পাকিস্তানে। অতএব, বুশের সফরের পর প্রথম কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন— এই মর্মে গত কয়েকদিন ধরে পাকিস্তানের দুই নিউজ চ্যানেল খবর করতে থাকেন। সেই খবরের তথ্যনথি তুলে ধরে রয়টার্সের তরফে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্রের তরফে জানানো হয়, ট্রাম্পের সফর সম্পর্কে তিনি কিছু সেভাবে জানেন না। ফলে তখনই এই পাক-চ্যানেল দুটির খবরের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। হোয়াইট হাউসের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয়বার ইউকে(UK) সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প। তিনি ও মেলানিয়া থাকবেন উইন্ডসর ক্যাসেলে। তাঁরা ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় চার্লস ও তাঁর স্ত্রী ক্যােলিয়া পার্কারের আথিথেয়তায় থাকবেন। ইউকের এই শিডিউল সদ্য গ্রহণ করেছেন ট্রাম্প।