সুকান্তর সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন বিজেপিরই একদল সমর্থকদের

ডায়মন্ডহারবারের সরিষায় আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের দেখতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বিজেপির(BJP) প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার(Sukanta Majumdar)। সুকান্তর(Sukanta Majumdar) সামনেই উঠল এবার দিলীপ ঘোষের নামে স্লোগান। বিক্ষোভে ফেটে পড়ল বিজেপিরই একদল সমর্থক। বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এই চিত্র যে খানিকটা হলেও বিজেপির বিরম্বনা বাড়াল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সরিষায় কয়েকদিন আগে আক্রান্ত বিজেপি(BJP) কর্মীদের দেখতে গিয়েছিলেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার(Sukanta Majumdar)। সেখানেই তাঁর গাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপিরই একদল সমর্থক। বিজেপির এই গোষ্ঠী কোন্দল সামনে আসতেই কটাক্ষ করতে শুরু করেছে তৃণমূল নেতৃত্বও। তাদের সাফ বক্তব্য বাংলাকে যেভাবে কেন্দ্রের বিজেপি(BJP) সরকার অসম্মান করছে, বাংলার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে, দলের একাংশ তা কোনওভাবেই মানতে পারছে না। তাই এই বিক্ষোভ। যদিও বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্ব এই বিক্ষোভকে একেবারেই বাড়তি আমল দিতে নারাজ। তাদের আবার বক্তব্য যে যারা এই বিক্ষোভ দেখিয়েছিল তারা নাকি কেউই বিজেপির সমর্থক নয়। একইসঙ্গে আবার প্রশ্ন উঠছে যে হঠাৎ করে সুকান্তর সামনে দিলীপ ঘোষের নামেই বা কেন বিক্ষোভ দেখিয়ে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। তবে কী বিজেপির অন্দরেও গোষ্ঠী কোন্দল চলছে জোরকদমে। যদিও বিজেপির বক্তব্য অনুযায়ী যারা এই বিক্ষোভ দেখাচ্ছে তারা নাকি কেউই বিজেপির সমর্থক নয়। যদিও রাজনৈতিক মহলের কাছে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই কোন্দলের দৃশ্য নাকি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
মোদীর বঙ্গ সফরের দিনই বাংলা ছাড়লেন দিলীপ ঘোষ

আজ তিনটি নয়া রুটে মেট্রোর উদ্বোধন করতে বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সরকারি এই প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি ২৬শে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য বিজেপিকে চাঙ্গা করতে দমদমে রাজনৈতিক সভাও করবেন মোদী। সেই সভায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ বিজেপির একাধিক রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু এই সভাতে যে আমন্ত্রণ পাননি বিজেপির এক সময়ের দাপুটে নেতা দিলীপ ঘোষ তা কয়েকদিন আগেই সাংবাদিকদের সামনে নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। আজ বঙ্গ সফরে মোদী আসার দিনই দিলীপ ঘোষকে সকালে বিমানবন্দরে দেখা গেল। এর আগেও আসানসোলের প্রধানমন্ত্রীর সভার দিন সকালেই দিল্লির উদ্দেশ্য রওনা হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। সেখানেই কেন্দীয় বিজেপির পর্যবেক্ষক জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠক ঘিরেও নানা গুঞ্জন সামনে এসেছিল। এও শোনা গিয়েছিল যে, দিলীপ ঘোষকে রীতিমত ওয়ার্নিং দিয়েছিলেন নাড্ডা। কেননা সংবাদমাধ্যমের সামনে দিলীপ ঘোষ যেভাবে বিজেপির রাজ্য নেতাদের নামে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন তা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে ভালো ভাবে নিচ্ছে না, তাও নাকি দিলীপ ঘোষকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন নাড্ডা। এমনকী তাঁকে চুপ করে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। যদিও এরপর রাজ্য বিজেপির নেতাদের নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে দিলীপকে খুব একটা সরব হতে দেখা যায়। আজ প্রধানমন্ত্রীর দমদমে সভার দিনই বেঙ্গালুরু উড়ে গেলেন দিলীপ ঘোষ। কিন্তু কী কারণে তিনি বেঙ্গালুরু যাচ্ছেন তা সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট করেননি। তবে এদিন একরাশ অভিমান ঝরে পড়ল তাঁর গলায়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, “মোদী কী বলছেন তা শুনতে সভায় থাকার তো দরকার নেই। মোবাইলেও শোনা যায়।” পাশাপাশি দল যে ঠিক সময়ে তাঁকে কাজে লাগাবে, সে বিষয়েও তিনি আশাবাদী। দল ছাড়ার প্রসঙ্গ উঠতেই তাই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “আমি দলের সঙ্গে ছিলাম, আছি, ভবিষ্যতেও থাকব। দল ঠিক সময়ে আমাকে কাজে লাগাবে।” সুকান্ত মজুমদার রাজ্য বিজেপির সভাপতি হওয়ার পর থেকেই দলে কোণঠাসা হতে শুরু করেন দিলীপ ঘোষ। সে নিয়ে একাধিক বার প্রকাশ্যেই নিজের ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপির এই দাবাং নেতা। কিন্তু শমীক ভট্টাচার্য বিজেপির নতুন সভাপতি হওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন এবার হয়ত দলে গুরুত্ব বাড়বে দিলীপ ঘোষের। এমনকী শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের একান্ত বৈঠকের পর যেভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে দুজনেই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দলের হয়ে কাজ করার বার্তা দিয়েছিলেন তাতে করে অনেকেই সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত পেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে যে আদৌ সে ছবি বদলায়নি, তা দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দিলীপ ঘোষকে আমন্ত্রণ না জানানো থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়।
মোদীর দমদমের সভাতেও ডাক পেলেন না দিলীপ ঘোষ

আগামী ২২ আগস্ট বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওইদিন নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত নতুন মেট্রো রেলের উদ্বোধন করবেন তিনি। এমনকী ওই দিন দমদমে সভা করার কথাও মোদীর। ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু নবান্ন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর না যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে এবারও প্রধানমন্ত্রীর সভায় আমন্ত্রণ পেলেন না বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা বিজেপির দাপুটে নেতা দিলীপ ঘোষ। এর আগেও দুর্গাপুরে মোদীর সভায় ডাক পাননি তিনি। বরং সে সময় তাঁকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। একনকী সেই বৈঠকে মিডিয়ার সামনে মুখ খোলা নিয়ে নাকি দিলীপ ঘোষকে রীতিমত ভর্ৎসনা করেছিলেন নাড্ডা। সুকান্ত মজুমদার বঙ্গ বিজেপির সভাপতি থাকাকালীন দলে একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। একনকী একাধিকবার সংবাদমাধ্যমের সামনে সে নিয়ে ক্ষোভও উগরে দেন তিনি। তবে শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য বিজেপির সভাপতি হওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন ছবিটা হয়তো বদলাবে। দিলীপ ঘোষকে হয়তো আবারও স্বমহিমায় দেখা যাবে। এমনকী রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের একান্ত বৈঠক অত্যন্ত সেই বার্তাই দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে ছবিটা যে বদলায়নি, তা মোদীর দমদমের সভায় দিলীপ ঘোষের আমন্ত্রণ না পাওয়ায় আরও স্পষ্ট হল। দমদমে প্রধানমন্ত্রীর সভায় দিলীপ ঘোষ উপস্থিত থাকবেন কিনা তা নিয়ে বেশ চর্চা হচ্ছিল বঙ্গ রাজনীতিতে। অবশেষে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে নিজেই স্পষ্ট করে দিলেন সবটা। এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সভায় আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাই ওইদিন আমি যেতেও পারি, আবার নাও যেতে পারি। আমি কোথায় যাব সেটা আমিই ঠিক করি, তাই আমিই ঠিক করব আমি ওইদিন যাব কী না।” যদিও পাশাপাশি তিনি এও জানান যে, তিনি দলের একজন অনুগত সৈনিক। দল যেমন নির্দেশ তাঁকে দেবেন, তিনি সেই মতো তা পালন করবেন। সব মিলিয়ে দিলীপ ঘোষ যে দলের অন্দরে এখনও কোণঠাসা তা তিনি মুখে না বললেও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
ভাইরাল ভিডিও নিয়ে এবার পুলিশের দারস্থ দিলীপ ঘোষ

সম্প্রতি একটি আপত্তিকর গোপন মুহূর্তের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। গতকাল থেকে সোস্যাল মিডিয়ায় রীতিমত ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই ভিডিও। আর সেই ভিডিও ঘিরেই আবারও শিরোনামে উঠে এসেছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নাম। গত কয়েক সপ্তাহ জুড়ে তাঁর দলবদলের জল্পনা নিয়ে নানা মহলে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু শেষ সব জল্পনায় জল ঢেলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন বিজেপির এই দাপুটে নেতা। বরং ২১শে জুলাই খড়্গপুরের সভা থেকে কারও নাম না করেই দলের অনেক নেতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন, একসময় বিজেপিতে একঘরে হয়ে যাওয়া দিলীপ ঘোষ। এবার তাঁর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল। (যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি প্যারালাল নিউজ)। সেই ভাইরাল ভিডিও নিয়ে এবার পুলিশের দারস্থ হলেন তিনি। নিয়ে এবার লালবাজারের সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ জানালেন তিনি। তাঁর সুস্পষ্ট অভিযোগ, এভাবে সম্মানহানি করে কেউ বা কারা তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ করার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে এটা একটা গভীর ষড়যন্ত্র। এর পিছনে কারা রয়েছে, পুলিশকে তা তদন্ত করে দেখার আর্জি জানান দিলীপ ঘোষ। সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগে দিলীপ লিখেছেন, “তাঁর সম্মানহানি করতে এবং রাজনৈতিকভাবে কালিমালিপ্ত করতে সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাঁর বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের পিছনে যারা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।” যদিও চিঠিতে কারও নাম নেননি দিলীপ, বরং পুলিশকেই তদন্ত করে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে বলেছেন। ক্রাইম ব্রাঞ্চের জয়েন্ট কমিশনারকে চিঠি দিয়ে তিনি তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন।
বাংলায় বাড়ির কুকুর-ছাগলদেরও আধার কার্ড হয় : দিলীপ ঘোষ

এসআইআরের ফলে বিহারে বাদ পড়েছেন রাজ্যের ৫৭ লক্ষ ভোটার। নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে বলেছে আধার নাগরিকত্বের কোনও প্রমাণ নয়। এ নিয়ে এবার মুখ খুললেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ।বৃহস্পতিবার দিলীপ ঘোষ আধার নিয়ে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাজ সুস্থ নির্বাচন করানো। এসব আধার কার্ড এখন পয়সা দিলেই পাওয়া যায়। বাড়ির কুকুরেরও আধার কার্ড করা সম্ভব। এসব পরিচয়পত্র হিসেবে ধরা হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গে রাস্তায় বস্তা বস্তা ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড পাওয়া গিয়েছে।” রাজ্যে রাজ্যে বিশেষ করে বিজেপি পরিচালিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা নিয়ে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন তা নিয়েও মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। বলেন, “মুর্শিদাবাদের নাম করে যারা যাচ্ছে তারা বেশিরভাগ বাংলাদেশি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশি আর বাঙালি বা বাংলাভাষী গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা ডিমান্ড করব বিহারে যেভাবে ভোটার লিস্ট সংশোধন হচ্ছে, বাংলাতেও নির্বাচনের আগে সেটাই করা উচিত। না হলে পশ্চিমবঙ্গে ফেয়ার ইলেকশন হবে না।” বর্তমান ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর নতুন রাজনৈতিক দল খুলে ২০২৬-এর বিধানসভায় ৫০ আসনে প্রার্থী দেবে বলে ঘোষণা করেছেন, এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “ওনাকে কেউ কোনোদিন ধরে রাখতে পারেনি। পশ্চিমবঙ্গে যত দল সব করা হয়ে গিয়েছে। তাই নতুন দল করার দরকার। এটা শুধু উনার ইচ্ছা নয়, তৃণমূলও চাইত। পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি যা হচ্ছে, ২৬-এর নির্বাচনে যদি কোনও মুসলিম উপমুখ্যমন্ত্রী হয় তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। নতুন কোনও দলের যে কথা উঠছে ১০০টা মুসলিম সিট জেতার মতো পরিস্থিতি আছে। নতুন দল হবে মুসলিমদের। তারা দাবি করবে উপমুখ্যমন্ত্রী চাই তাদের। পরের বার বলবে যে মুখ্যমন্ত্রী করবে মুসলিমকে, তাকে আমরা সাপোর্ট করব। মুখ্যমন্ত্রী সব জানেন।”
ফের কি খড়গপুরে প্রার্থী হচ্ছেন দিলীপ ঘোষ?

ফের কি স্বমহিমায় ফিরেছেন ‘দাবাং’ দিলীপ? সুকান্ত মজুমদার-শুভেন্দু জামানায় নিষ্ক্রিয় থাকলেও, শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর ফের আগের মুডে দিলীপ ঘোষ। বেশ অনেকটাই ফুরফুরে দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার সকালে খড়গপুরে বসে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে কী তাহলে প্রার্থী হবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ জবাব, ”তোমরা যদি বলো, চেষ্টা করব।” তবে আপাতত কোনও রাজনৈতিক দায়িত্ব দেওয়া হয়নি তাঁকে, তা নিয়ে কি আক্ষেপ আছে? দিলীপের বক্তব্য , ”দল যা বলবে, করব। দলের আমার কাছে কিছু চাওয়ার নেই, আমারও দলের কাছে কিছু চাওয়ার নেই।” উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে খড়গপুর সদর থেকে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হয়ে রীতিমতো ‘জায়ান্ট কিলার’ হয়ে যান। খড়গপুরের আটবারের বর্ষীয়ান বিধায়ক, কংগ্রেসের জ্ঞানসিং সোহন পালকে হারান দিলীপ। এরপর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে লড়াইয়ে তাঁকে নামায় বিজেপি। সেবার জিতে সাংসদ হন। পরে ২০২১ সালের খড়গপুর বিধানসভা কেন্দ্রে দিলীপ ঘোষের বদলে ভোটে জিতে বিধায়ক হন টলি তারকা হিরণ চট্টোপাধ্যায়। পরের লোকসভা ভোটে অর্থাৎ ২০২৪ সালে দিলীপ ঘোষের কেন্দ্র বদলে দেওয়া হয়। সেবার দলের ইচ্ছায় তিনি বর্ধমান-দুর্গাপুর থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন, কিন্তু হেরে যান। তবে ইদানিং সক্রিয়তা বাড়াচ্ছেন জেলায় জেলায়। নিজের গড় খড়গপুরে তাঁকে প্রায়শয়ই দেখা যাচ্ছে। এমনকী নিজের মতো কর্মসূচিও করছেন। তবে কি ফের ভোটযুদ্ধের আগে পায়ের তলার জমি শক্ত করছেন? এই প্রশ্ন উঁকি দেওয়ার মাঝে দিলীপ নিজেই জানালেন, দল এবং অনুগামীরা চাইলে তিনি খড়গপুরের প্রার্থী হতেই পারেন।
আবারও বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ। নাম না করে শুভেন্দুকে খোঁচা

আবারও বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ। ২১শে জুলাই নিজের খাস তালুক খড়গপুর শহীদ শ্রদ্ধাঞ্জলি দিবস পালনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রীতিমত বোমা ফাটালেন বিজেপির প্রাক্তন এই রাজ্য সভাপতি। বেশ কিছু বছর ধরে দলে কোণঠাসা তিনি। বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে তাঁর জন্যও চেয়ারও বরাদ্দ থাকে না বলে কয়েকদিন আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছিলেন তিনি। এমনকী বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের শুভেচ্ছাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ডাক পাননি দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাতেও। এরপরই দিলীপ ঘোষের তৃণমূলের ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে যোগদান নিয়ে রহস্য ক্রমশ দানা বাঁধে বিজেপির অন্দর এবং বাইরে। দিলীপ ঘোষ নিজেও কিছুটা সাসপেন্স রেখে বলেছিলেন তিনি ২১শে জুলাই কোনও না কোনও সভায় থাকবেন। এরপরেই জল্পনা আরও বাড়ে। আজ খড়গপুরে বিজেপির শহীদ শ্রদ্ধাঞ্জলি সভায় যোগ দিয়ে, নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীকে একহাত নিলেন দিলীপ ঘোষ। গেরুয়া শিবিরের এই প্রাক্তন সাংসদ কড়া ভাষায় জানিয়ে দিলেন, “আমি কি ঘেয়ো কুকুর নাকি যে সকাল-সন্ধ্যা এ বাড়ি, ওই বাড়ি ঘুরে বেড়াব? যারা নিজেরা এই দল, ওই দল ঘুরে বেড়ায়, তারা এই ধরনের প্রচার করে। বিজেপি কর্মীরা বিক্রি হন না। মারলে রাজ্য ছাড়া হতে পারে, কিন্তু ঝান্ডা ছাড়া নয়।” ধর্মতলায় তৃণমূলের ২১শে জুলাইয়ের শহীদ দিবসের পাল্টা হিসাবে ‘শহীদ শ্রদ্ধাঞ্জলি’র ডাক দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক বছরে তৃণমূলের রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছে বিজেপির কয়েকশো কর্মী-সমর্থক। প্রয়াত সেইসব বিজেপি কর্মীদের স্মরণে আজ জেলায় জেলায় কর্মসূচি পালন করছে গেরুয়া শিবির। আজ খড়গপুরের সভা থেকে তৃণমূলকে পাল্টা কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি দিলীপ ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট দাবি, “বিজেপি ২১শে জুলাই ‘শহীদ শ্রদ্ধাঞ্জলি’ সভা করছে এটা কি কোনও চমক নয়? তৃণমূল তো এতদিন এই দিনটাকে নিজেদের একটা বাৎসরিক অনুষ্ঠানে পরিণত করে ফেলেছে। পিকনিকের আবহে ডিম-ভাতের প্রোগ্রাম চলে। কিন্তু আমরা মনে করি, শহীদ তো আমাদের কর্মী-সমর্থকরা হয়েছে। যে শহীদদের নিয়ে তৃণমূলের এত নাটক, তারা তো কংগ্রেসের। তৃণমূলের সঙ্গে ওদের কী সম্পর্ক? বিজেপির বহু কর্মী এই বাংলায় রাজনৈতিক লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন। তাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতেই আজকের সভা। তবে আমার মনে হয় তৃণমূল এবার নিজেরাই শহীদ হয়ে যাবে।”
২১শে জুলাই কোন সভায় দিলীপ ঘোষ?

রাত পোহালেই ধর্মতলায় তৃণমূলের ২১শে জুলাইয়ের শহীদ সমাবেশ। এই সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রী ছাড়াও বিভিন্ন জেলার অগণিত কর্মী-সমর্থকরা। যাকে ঘিরে সকাল থেকেই সাজো সাজো রব। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলা থেকে ভিড় জমাতে শুরু করেছে তৃণমূলের জেলা স্তরের কর্মী-সমর্থকরা। অন্যদিকে, রবিবার সন্ধ্যেবেলা ধর্মতলায় ২১ শে জুলাইয়ের মঞ্চ পরিদর্শনে যান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী তারও আগে সভাস্থল ঘুরে দেখেন বোলপুরের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করতে এদিন লালবাজারের একাধিক পুলিশ আধিকারিক সকাল থেকে দফায় দফায় ভিজিট করেন ধর্মতলায়। সব মিলিয়ে গোটা বাংলার চোখ যে আগামীকালের সমাবেশের দিকে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কেননা ২০২৬শে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে স্বাভাবিকভাবেই বঙ্গ রাজনীতিতে শাসক দলের এই সভা তৃণমূলের কাছে সাধারণ মানুষের জনসমর্থন আদায়ের অন্যতম হাতিয়ার বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে, ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের এই সভা ঘিরে নানা রহস্যও দানা বাঁধছিল বঙ্গ বিজেপির অন্দরে। তার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কেননা নিজের দলে দিলীপ ঘোষ কোণঠাসা হওয়ার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে দীঘাতে জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করে। এমনকী বঙ্গ বিজেপি যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনায় ব্যস্ত তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে প্রশংসার সুরও শোনা গেছে দিলীপ ঘোষের গলায়। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, তাহলে কি দিলীপ ঘোষ তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন? ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি নিয়েও ক্রমশ রহস্য বাড়ছিল। আর সেই রহস্যকে নিজেই আরও দীর্ঘায়িত করতে চাইছিলেন দিলীপ ঘোষ নিজে সাংবাদিকদের সামনে বারবারই, “২১শে জুলাই কোনও না কোনও মঞ্চে তাকে দেখা” বলায়। অন্যদিকে ২১শে জুলাই তৃণমূলের পাল্টা বিজেপিরও কর্মসূচি রয়েছে। শিলিগুড়িতে উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক দিয়েছে বিজেপি যুব মোর্চা, সেখানে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে থাকবেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সেখানে যে দিলীপ ঘোষ থাকবেন না তা একপ্রকার পরিষ্কার। তবে ২১শে জুলাই দিলীপ ঘোষ কোথায় থাকবেন? রবিবারও সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, “২১শে জুলাইয়ের দিনই বোঝা যাবে আমি কোথায় কোন মঞ্চে থাকব”। অন্যদিকে, ২১শে জুলাই খড়্গপুরেও রয়েছে ‘শহিদ শ্রদ্ধাঞ্জলী সভা’। তৃণমূলের হাতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রায় আড়াইশোর বেশি কর্মী-সমর্থক খুন হয়েছেন। সেই প্রয়াত শহিদদের স্মরণেই সোমবার খড়গপুরের ওই সভার আয়োজন। সম্ভবত আগামীকাল সেখানেই হাজির থাকবেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
তাহলে কি গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছেন দিলীপ? লাগাম দেওয়া হল তার মুখে

তাহলে কী লাগাম পরানো হচ্ছে দিলীপের পায়ে? একদিকে যখন রাজ্যের প্রায় সমস্ত নেতাই হাজির দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভায়। ঠিক তখনই দিল্লি উড়ে গেলেও দেখা পেলেন না জয় প্রকাশ নাড্ডার। যদিও পরে বিকেলে ফের সর্ব ভারতীয় সভাপতির বাংলোয় যান তিনি। সূত্রের খবর, সেখানেই কার্যত দিলীপের মুখে প্রায় একপ্রকার লাগাম পরানোর বন্দোবস্ত করে ফেলল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলের সঙ্গে বহুদিন ধরেই কিছুটা হলেও দূরত্ব বাড়ছিল প্রাক্তন সভাপতির। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে সস্ত্রীক যাওয়ার পর থেকেই সেই দূরত্ব আরো বৃদ্ধি পায়। বিজেপির অন্দরে কান পাতলেই শোনা যায় রাজ্য বিজেপিতে কার্যত শুভেন্দু-সুকান্ত বিরোধী বলেই পরিচিত দিলীপ। নতুন সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য বিজেপির সভাপতি হবার পর সেই দূরত্ব কিছুটা হলেও ঘুঁচবে বলে মনে করেছিল রাজনৈতিক মহল। তবে দুর্গাপুরের সভায় তার অনুপস্থিতি যেন অনেক বার্তাই দিয়ে গেল। দলের তরফে তাকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে দাবি করলেও তৎক্ষণাৎ তা খারিজ করে দেন দিলীপ। তবে এটাও জানিয়ে দেন মঞ্চে জায়গা না হলে নিচে দলীয় সমর্থকদের সঙ্গে বসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনবেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। দিলীপ ঘোষ সূত্রের খবর, শীর্ষ নেতৃত্ব নাকি তাকে ডেকে পাঠিয়েছে। শুক্রবার সকাল ১২টা ৩০ মিনিটে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার বাংলোই গিয়ে দেখা পাননি। পরে বিকেলে ফের আরো একবার সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রায় এক ঘণ্টা তাদের মধ্যে বৈঠক হয় বলেই সূত্রের খবর। সেই বৈঠকেই দিলীপের মুখে লাগাম টানার কথা বলেন জেপি নাড্ডা। সূত্রের খবর ঘণ্টা খানেকের সেই বৈঠকে দিলীপ ঘোষকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয় যে তিনি যেভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে দলের একাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বেফাঁস মন্তব্য করছেন তা কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বিশেষ করে একুশে জুলাইয়ে তৃণমূলের মঞ্চে তিনি যে যাচ্ছেন না তাও এখনো স্পষ্ট করে সংবাদ মাধ্যমকে জানাননি তিনি, যার ফলে বিজেপির রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় কমিটি যথেষ্টই ক্ষুব্ধ তার উপর। বৈঠকের পর দিলীপ ঘোষের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, “ঘন্টাখানেক কথা হল অনেক গল্প হয়েছে।” তবে এই ঘটনার কষ্ট রয়ে গেল— তিনি একদা বিজেপির দাবাং নেতা থাকলেও, শুভেন্দু-সুকান্তর সময়ে গুরুত্বহীন হয়ে থাকা দিলিপ শমীক ভট্টাচার্যের আমলেও যে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ থাকবেন তেমনটাও তো মনে হয় না। অন্তত আজকের ছবিটা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দিল্লি গেলেন দিলীপ। থাকবেন না দুর্গাপুরে

দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভায় তিনি থাকবেন কি থাকবেন না, এটাই এতদিন ছিল লাখ টাকার প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত জল্পনায় ইতি টানলেন দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার সকাল ৭ টায় কলকাতা বিমানবন্দর থেকে দিল্লি যাওয়ার সময় স্পষ্ট করে দিলেন সব। না থেকেই গেল সেই প্রশ্ন— “যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো?” এক কথায় যেতে যেতেও তিনি গেলেন না। সাথে সাথে এটাও পরিষ্কার করে দিলেন—প্রাক্তন সভাপতির সাথে দূরত্ব অনেকটাই বেড়েছে দলের। বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “কর্মীরা ডেকেছিলেন তাই আমি যাবো বলেছিলাম। কিন্তু দল চায় না আমি সভায় থাকি।” নেতা নয় কর্মী হিসাবে তিনি যে ওখানে যাবেন সেটা আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বিজেপি রাজ্য দফতর থেকে দাবী করা হয়েছিল যে দিলীপ ঘোষকে দলের তরফে আমন্ত্রণ পত্র পাঠানো হয়েছে। যদিও তা আদৌ পাঠানো হয়নি বলে দাবি করেন দিলীপ। তবে তাঁর দিল্লি যাত্রা প্রমাণ করল দুর্গাপুরে থাকবেন না তিনি। দিলীপের বক্তব্য, “আমাকে কর্মীরা ডেকেছিলেন তাই হ্যাঁ বলেছিলাম। পার্টি ডাকেনি। হয়তো পার্টি চায় না আমি যাই। আমি গেলে হয়তো অস্বস্তি বাড়বে। তাই পার্টির কাজে দিল্লি যাচ্ছি।”