মতুয়াদের নাগরিকত্ব সুরক্ষার আর্জি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি অধীরের

বাংলায় এসআইআর (SIR) আবহে মতুয়াদের নাগরিকত্ব(Matua Citizenship) নিয়ে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। গত ৫ নভেম্বর থেকে এসআইআর (SIR)-এর বিরোধিতা করে মতুয়াদের নিঃশর্ত নাগরিকত্বের দাবিতে ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে আমরণ অনশনে বসেছেন তৃণমূল সাংসদ মমতা ঠাকুরের (Mamata Thakur) নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের (All India Matua Mahasongha) সাধু-গোঁসাইরা। গত বৃহস্পতিবার সেই অনশন মঞ্চে হাজির হয়ে মতুয়াদের আন্দোলনকে দিল্লিতে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সর্বভারতীয় কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। সেইমতো শনিবার মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্ব ইস্যুতে কেন্দ্রের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রীকে পাঠালেন তিনি। তাঁর দাবি, এসআইআর (SIR)-এর কঠোর নথিপত্রের বিধান থেকে এই বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অব্যাহতি দিয়ে তাঁদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য নাগরিকত্ব স্বীকৃতি প্রদান করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। গত বৃহস্পতিবার অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের আমন্ত্রণে অধীর চৌধুরী ঠাকুরনগরের অনশন মঞ্চে উপস্থিত হয়ে অনশনরত মানুষজনের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করেন তাঁদের গভীর অনিশ্চয়তা, আতঙ্ক এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ। তিনি আশ্বাস দেন—এই সংগ্রামে তিনি সর্বশক্তি দিয়ে তাঁদের পাশে থাকবেন। সেই কথা রাখতেই এবার কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে অডিন্যান্স জারি করার আর্জি জানালেন তিনি। চিঠিতে অধীর চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, পূর্ব পাকিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতন, দুঃখ-কষ্ট নিয়ে বহু দশক আগে যে মতুয়া সম্প্রদায় ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল, তারা আজও দেশের সামাজিক ও গণতান্ত্রিক পরিসরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে আজ অযথা প্রশ্ন তোলা হচ্ছে এবং তাঁদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইনের আওতায় প্রতিবেশী দেশের ‘ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার’ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব নির্ধারণের কাট-অফ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ থেকে বাড়িয়ে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ করেছে। তার ভিত্তিতেই মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্যও একইরকম ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন কংগ্রেসের এক সময়ের এই বিরোধী দলনেতা। তাঁর যুক্তি—যারা কয়েক দশক আগে বাধ্য হয়ে এ দেশে এসেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব রক্ষায় আসন্ন শীতকালীন অধিবেশন শুরুর আগে একটি অর্ডিন্যান্স জারি করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, বহু বছর ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে বিধানসভা ও সংসদ—উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিনিধি নির্বাচিত করা এই জনগোষ্ঠী আজ ২৫ বছরের পুরনো নথি দেখাতে না পারায় ভোটাধিকার হারানোর ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন। যা অত্যন্ত অমানবিক, অবজ্ঞাসূচক এবং সামাজিকভাবে সংবেদনহীন বলেই অধীর চৌধুরী তাঁর চিঠিতে অভিহিত করেছেন। অধীর চৌধুরী তাঁর এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মতুয়া সহ অন্যান্য পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের সম্মান, নিরাপত্তা এবং পূর্ণ নাগরিকাধিকারের প্রশ্নে তাঁর অটল অবস্থান আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন বলেই মনে করছেন পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস সমর্থকরা।
আম আদমি পার্টি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ সভাপতি সহ নেতৃত্বদের

ইন্ডি জোটে তারা সরিক। কিন্তু বংলায় সেই আম আদমি পার্টিরই(Aam Admi Party) ঘর ভাঙছে কংগ্রেস। এবার সেই ঘটনা ঘটল মুর্শিদাবাদে(Murshidabad)। মুর্শিদাবাদ জেলা আম আদমি পার্টির(Aam Admi Party) জেলা সভাপতি থেকে নেতৃত্বরা সোমবার যোগদান দিল কংগ্রেসে(Congress)। আর তাতেই যে রাজনৈতিক মহলে যে বেশ শোরগোর পড়ে গিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সোমবাপ দুপুরে অধীর চৌধুরীর(Adhir Chowdhury) হাত ধরেই কংগ্রেসে যোগ দিল আম আদমি পার্টির জেলা সভপতি সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা। তৃণমূলের(TMC) বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেই আম আদমি পার্টির(Aam Admi Party) সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল মুর্শিদাবাদ জেলা আম আদমি পার্টির সভাপতি সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা। একটাই অভিযোগ যে তৃণমূলের(TMC) দূর্ণীতির বিরুদ্ধে বিরোধিতা করার অনুমতি নাকি আম আদমি পার্টির তরফ থেকে পাওয়া যেত না। আর সেই কারণেই নাকি শেষপর্যন্ত আম আদমি পার্টি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদানের সিদ্ধান্ত। আম আদমি পার্টির জেলা সম্পাদক রাজ্যের মুখপাত্র সোহেল রানা(Sohail Rana) সহ মুর্শিদাবাদ জেলা সংগঠনের সমস্ত নেতাকর্মীরা সোমবার দুপুরে অধীর চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসের যোগদান করেন। সোমবার দুপুরে বহরমপুরে জেলা কংগ্রেস ভবনে এই যোগদান সভার আয়োজন করা হয়।। কংগ্রেসের যোগদানকারী সোহেল রানা বলেন আম আদমি পার্টি(Aam Admi Party) করতাম দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য, সেখানে আমাদের সংগঠন তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার অনুমতি দিত না।। তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য স্বচ্ছ মুর্শিদাবাদ তৈরির জন্য আজ আম আদমি পার্টি ছেড়ে কংগ্রেসের যোগদান করলাম।
ভোট অঙ্কে কংগ্রেসের অস্ত্রও এবার মতুয়া! ঠাকুরনগরে সত্যাগ্রহের ডাক কংগ্রেসের

বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় কংগ্রেস পার্টি(Congress) অফিসে সাংবাদিক সম্মেলন করেন উত্তর ২৪ পরগনা গ্রামীন জেলা কংগ্রেসের সভাপতি ইন্দ্রানী দত্ত চ্যাটার্জি। সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি জানান, ভোটের আগে নাগরিকত্ব ইস্যুতে মতুয়াদের(Motua) বিপদে ফেলা হচ্ছে। ঠাকুর বাড়িতে ঘন্টার পর ঘন্টা তারা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি নিজে ঠাকুরবাড়িতে এসেছিলেন মতুয়ারা তার কাছে বিভিন্ন অভিযোগের কথা বলেছিলেন। মতুয়াদের(Motua) নাগরিকত্ব সুনিশ্চিত করতে মতুয়াদেত সার্বিক উন্নয়ন এবং জাতি গণনার দাবীতে ঠাকুরনগর স্টেশন সংলগ্ন ইন্দিরা গান্ধীর মূর্তির পাদদেশে সত্যাগ্রহ করবেন তারা। ইন্দ্রানির দাবি, কেন্দ্র সরকার যত তাড়াতাড়ি জাতি গণনা শুরু করবে তত তাড়াতাড়ি মতুয়ারা স্বীকৃতি পাবে। কংগ্রেসের এই কর্মসূচিকে কটাক্ষ করেছে শান্তনু ঠাকুর পন্থী অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক সুখেন গাইন। তিনি বলেন, মতুয়া উদ্বাস্তু মানুষেরা হয়রানি হয়েছে কংগ্রেসের কারণে। পূর্ব বাংলার মানুষেরা উদ্বাস্তু হওয়ার পেছনেই কংগ্রেস। আজকের মতুয়া দরদী হয়েছেন সামনে ভোট আসছে তাই মতো। মতুয়াদের ভোট দরকার? মতুয়াদের জন্য কি করেছেন? অন্যদিকে মমতা ঠাকুর পন্থী অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক সুকেশ চৌধুরী বলেন, দেশ ভাগের পরে ওপার বাংলা থেকে আসা মতুয়া উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব সুনিশ্চিত করার জন্য কংগ্রেস কখনো ভাবেনি। কংগ্রেস এই পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে মতুয়া এবং উদ্বাস্তু মানুষেরা বিজেপির পাতা ফাঁদে পা দিতে হয়েছে । হয়রানি হচ্ছে। এই হয়রানির দায় কংগ্রেসও এড়াতে পারে না। এখন যদি তারা রাজনীতি করতে না এসে সত্যি সত্যি মতুয়াদের অসুবিধা নিয়ে পাশে দাঁড়াতে চায় তাহলে তাদের স্বাগতম। এই বিষয়ে বিজেপি নেতা দেবদাস মন্ডল বলেন, এভাবে রাজনীতিতে ভেসে থাকা যায় না। কংগ্রেসের কথা কেউ শোনেনা। মতুয়ার নাগরিকত্বের জন্য ঠাকুরবাড়িতে যাচ্ছে এবং তারা নাগরিকত্ব পাচ্ছে।
ঠাকুরবাড়িতে এসে সুব্রত ঠাকুরের রোষের মুখে পড়লেন কংগ্রেস নেত্রী

ঠাকুরবাড়ির মন্দির যেন রাজনীতি মুক্ত থাকে, শুক্রবার ঠাকুরবাড়িতে এসে এমনই বার্তা দিলেন কংগ্রেস নেত্রী ইন্দ্রাণী দত্ত মুখার্জি। প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন আগে ঠাকুরবাড়ির অন্দরের কলহ প্রকাশ্যে চলে আসে। বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর দাদা তথা গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরের দ্বন্দ্ব নিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে বঙ্গ রাজনীতি। দুজনেই দুজনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করতে থাকেন। এই আবহে শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগণার ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে আসেন প্রদেশ কংগ্রেসের নতুন জেলা সভানেত্রী ইন্দ্রাণী দত্ত চ্যাটার্জি। এদিন প্রথমে তিনি ঠাকুরবাড়ির মন্দিরে পুজো দেন। পরে ঠাকুরবাড়িতে শান্তনু এবং সুব্রত ঠাকুরের তত্ত্বাবধানে যে ধর্মীয় সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্যাম্প চলছে, সেখানে যান এবং সাধারণ মতুয়াদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের বোঝান, কেন এখন তাদের সার্টিফিকেট দিয়ে হিন্দুত্বের প্রমাণ করতে হবে। তাদের কোন ভয় নেই। যাদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড আছে—যারা ভোট দেয় তারা এখানকার নাগরিক। সুব্রত ঠাকুরের বাড়ির সামনের ক্যাম্পে গিয়ে যখন তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন হঠাৎ করে সুব্রত ঠাকুর এসে সেখান থেকে তাঁকে চলে যেতে বলেন। তখন ইন্দ্রাণী দত্ত মুখার্জি সুব্রত ঠাকুরকে বলেন, তিনি কি পুজো দিতে আসতে পারেন না? উত্তরে সুব্রত ঠাকুরকে বলতে শোনা যায়, তাহলে মন্দিরের কাছে চলুন। এখানে কাজ চলছে, কেন মানুষের জমায়েত করছেন? পরে ইন্দ্রাণী দেবী দাবি করেন, তাঁরা এসেছিলেন একটা বার্তা দিতে, যাতে ঠাকুরবাড়ির এই মন্দির প্রাঙ্গণ রাজনীতি মুক্ত থাকে। কিন্তু সুব্রত ঠাকুর তাঁকে বের করে দিয়েছেন। পাশাপাশি এনআরসি(NRC) এবং এসআইআর(SIR) নিয়েও কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করেন তিনি। যদিও এই বিষয়ে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের আইটি সেলের সদস্য এবং মতুয়া ধর্ম প্রচারক রাজদীপ রায় বলেন, “উনি যদি পুজো দিতে আসেন তাহলে ওঁনাকে হাজারবার স্বাগত জানাবো। কিন্তু রাজনীতির আগুনে রুটি সেঁকতে আসলে ফল হিতেবিপরীত হতে পারে। ধর্মীয় সার্টিফিকেট দেওয়ার নিয়ম নিয়ে কিছু বলার থাকলে আলোচনায় বসতে পারতেন।” একই সঙ্গে রাজদীপ বলেন, “উনি কি জানেন বাংলাদেশ থেকে কত মুসলিম এখানে এসে হিন্দু সেজে আছে। ধরা পড়েছে। নাগরিকত্বের আন্দোলন পিআর ঠাকুরের থেকে শুরু হয়েছিল। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড থাকলে যদি কেউ নাগরিক হয় তাহলে পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনে কেন ৭১ সালের দলিল চাইছে। কেনই বা এত আবেদন খারিজ করছে তার উত্তর দিক। ঠাকুরবাড়ি রাজনৈতিক রুটি সেঁকার জায়গা নয়।” সুব্রত ঠাকুরের প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, “সুব্রত ঠাকুর যা করেছে ঠিক করেছে। পুজো দিতে এসে উনি ক্যাম্পে গেছেন কী করতে।” যদিও এই বিষয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর বলেন, “যদি কেউ ঠাকুরবাড়িতে পুজো দিতে আসেন, তাহলে তাঁকে স্বাগত। কিন্তু রাজনীতি করতে আসলে আমরা তা মানবো না। ঠাকুবাড়িতে রাজনীতি আগেও ছিল, এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”
‘ইন্দিরা গান্ধীর মতো অবস্থা হবে তাঁরও’— রাহুল গান্ধীকে প্রাণনাশের হুমকি

সম্প্রতি সংসদে নানা ইস্যুতে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। যাঁর নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বয়ং রাহুল গান্ধী। এসআইআর নিয়েও গত সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দপ্তর ঘেরাও করেন রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলগুলির সাংসদরা। এরই মধ্যে এবার প্রাণনাশের হুমকি পেলেন এই কংগ্রেস নেতা। ২০২২ সালে ‘ভারত জোড়ো’ যাত্রায় সাভারকর সম্পর্কে রাহুলের বক্তব্যের জন্যই বিজেপির দুই সাংসদ তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। তাঁরা নাকি বলেছেন রাহুলের অবস্থাও তাঁর ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধীর মতো হবে। এর আগেও সাভারকর নিয়ে মন্তব্যের জেরে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে নাকিকের একটি আদালতে মানহানির মামলা করা হয়। যদিও এই মামলায় গত ২৪ জুলাই আদালত তাঁকে জামিন দেয়। এর মধ্যে আবারও সাভারকর নিয়ে মন্তব্যের জেরে প্রাণনাশের হুমকি পেলেন রাহুল। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই কংগ্রেস দলের তরফ থেকে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাহুল গান্ধীর আইনজীবী মিলিন্দ পাওয়ার। আদালত এই আবেদন গ্রহণ করেছে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর এই মামলার শুনানি হবে বলে আদালতের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। রাহুল গান্ধীর আইনজীবী মিলিন্দ পাওয়ার আরও জানিয়েছেন, সংসদের বাদল অধিবেশনে ‘হিন্দুত্ব’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে রাহুল গান্ধীর বাদানুবাদ হয়। এই সময়ই বিজেপির দুই সাংসদ রাহুলকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এমনকী রাহুলকে বড় সন্ত্রাসবাদী বলেও আখ্যায়িত করেন। এমনকী এই দুই বিজেপি নেতা সাভারকর অনুরাগী বলেও জানিয়েছেন রাহুল গান্ধীর আইনজীবী। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধী যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন সেই কারণেই তাঁর ক্ষতি করার চেষ্টা হচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কেননা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে গত ১৫ দিন ধরে সংসদের বাইরে এবং ভিতরে কোণঠাসা সরকার। সে কারণেই এ ধরনের হুমকি বলে অভিমত রাহুল গান্ধীর আইনজীবীর। যদিও পুরো বিষয়টিই এখন আদালতে বিচারাধীন।
তৃণমূলের ডেপুটেশন কর্মসূচি ঘিরে আবারও রণক্ষেত্র মালদা

তৃণমূলের ডেপুটেশন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আবারও রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হল মালদায়। রাজ্যের বিরোধী জোট তথা বিজেপি ও কংগ্রেসের দখলে থাকা পঞ্চায়েতে কার্যত গুন্ডামি চালালো তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। গেট ভেঙে পঞ্চায়েতে ঢুকে মারধরের চেষ্টা, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং ইট ছুঁড়ে মারার চেষ্টা চলল ওই পঞ্চায়েতের শাসক পক্ষের প্রতিনিধিদের। এই ঘটনায় কাঠগড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও পাল্টা বিরোধী জোটের বিরুদ্ধে পঞ্চায়েতের ভিতর আগ্নেয়াস্ত্র মজুত রাখার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। মালদহের গাজোল ব্লকের আলাল গ্রাম পঞ্চায়েতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়। বর্তমানে এই পঞ্চায়েতে ক্ষমতায় রয়েছে বিরোধীদের মহাজোট। প্রধান রয়েছেন বিজেপির উমা মণ্ডল। উপপ্রধান রয়েছে কংগ্রেসের শফিকুল ইসলাম। তৃণমূল কংগ্রেস এখানে বিরোধীর আসনে। টেন্ডারে দুর্নীতি ও বেনিয়ম সহ মোট নয় দফা দাবি নিয়ে এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের এই পঞ্চায়েতে একটি ডেপুটেশন কর্মসূচি ছিল। সেখানে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিরোধী দলনেতা ফারুক হোসেন জোর করে পঞ্চায়েতের মূল ফটকে ধাক্কা দিয়ে পঞ্চায়েত চত্বরে ঢুকে পড়ে। পুলিশ কার্যত দাঁড়িয়ে দেখছিল গোটা ঘটনাটি। তারপর আরেকটি দরজা ভেঙে উপরে ওঠার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটকায়। নিচ থেকেই চলতে থাকে গালিগালাজ। ছোড়া হয় ইট-পাথর। পঞ্চায়েতের বাইরে এক ঠিকাদারকেও বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যদিও তৃণমূলের দাবি, বিজেপি এবং কংগ্রেস পঞ্চায়েতে বহিরাগত গুন্ডা এবং আগ্নেয়াস্ত্র মজুত রেখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছে। পরিস্থিতি এতটাই নাগালের বাইরে চলে যায় যে, তা সামাল দিতে কার্যত হিমশিম খেতে হয় গাজোল থানার পুলিশকে। এখনও থমথমে রয়েছে পঞ্চায়েতের আশেপাশের এলাকা।
বাংলার অপমান নিয়ে জোড়া ফুলের পাশে হাত শিবির

বাংলা ও বাঙালির উপর অত্যাচার ও অপমান ইস্যুতে এবার কংগ্রেসকে পাশে পেল জোড়াফুল শিবির। ইতিমধ্যে এই নিয়ে সংসদে শুরু থেকেই প্রতিবাদ করে আসছে তৃণমূল। আর তৃণমূল নয়, এই ইস্যুতে লোকসভা এবং রাজ্যসভা দুই কক্ষেই মুলতুবি প্রস্তাব জমা দিল রাহুল গান্ধীর দল। মঙ্গলবারই বৈঠকের পর তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ মতো তৃণমূলের লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদরা সংসদ চত্বরে মকরদ্বারের সামনে তুমুল প্রতিবাদ জানান।বৃহস্পতিবারও সংসদে এই ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে শুধু তৃণমূল নয়, এবার এই ইস্যুতে তৃণমূলের পাশে দাঁড়াচ্ছে কংগ্রেসও। তার প্রথম ধাপ হিসেবে দুই কক্ষে মুলতুবির নোটিস দিয়েছে কংগ্রেস। সূত্রের খবর, এই ইস্যুতে তৃণমূলের পাশাপাশি বিজেপিকে নিশানা করতে চাইছে কংগ্রেসও। এই ইস্যুতে তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে চাইছে হাত শিবির।বৃহস্পতিবার রাতেই রাহুল গান্ধীর ডাকা নৈশভোজে উপস্থিত থাকবেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভিন রাজ্যে বাঙালি নিগ্রহের প্রতিবাদে একই দিনে পথে নামল বাম-কংগ্রেস

বিজেপি শাসিত ভিন রাজ্যে বাংলা ও বাঙালিদের হেনস্থার প্রতিবাদের যখন বিজেপির বিরুদ্ধে সরব রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তখন এই ইস্যুতে প্রদেশ কংগ্রেস এবং সিপিআইএম নেতৃত্ব কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে। এই ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে কার্যত আন্দোলনের ব্যাটন নিজের হাতে নিতে মরিয়া। সেখানে এই রাজ্যে বাম এবং কংগ্রেস নেতৃত্বকে সেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখা যায়নি। তবে শেষপর্যন্ত ভিন রাজ্যে বাঙালিদের উপর আক্রমণের প্রতিবাদে একই দিনে পথে নামল বাম-কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে উৎকল ভবন ঘেরাও অভিযানের ডাক দেওয়া হয়। ওড়িশায় বাংলাভাষীদের হেনস্তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলও করে তারা। রাজা সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে মিছিল করে এদিন উৎকল ভবনের সামনে বিক্ষোভ অবস্থান করে কংগ্রেস। পরে ৫ জনের একটি প্রতিনিধি দল ওড়িশা উৎকল ভবনের ভিতর ডেপুটেশন জমা দেয়। অন্যদিকে ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাংলার সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের শুধুমাত্র বাংলা বলার অপরাধে গ্রেফতার করে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বারাসত জেলাশাসক দপ্তরে ডেপুটেশন জমা দিলেন সিআইটিইউ(CITU) কর্মী-সমর্থকরা। যদিও এদিন জেলাশাসক দফতরে প্রবেশের মুখে ব্যাপক পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয় সিআইটিইউ কর্মী-সমর্থকরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে পুলিশি ব্যারিকেড ধরে চলে সিআইটিইউ কর্মী-সমর্থকদের ধস্তাধস্তি। এমনকী পুলিশের সঙ্গে রীতিমত খণ্ডযুদ্ধও হয়। অবশেষে তাদের ৬ জনের একটি প্রতিনিধি দল পৌঁছায় জেলাশাসক দফতরে। সেখানে জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করে তাঁর হাতে ডেপুটেশনপত্র জমা দেন। এদিন কর্মসূচি শেষে সিআইটিইউ নেতা বরুণ ভট্টাচার্য পুলিশের বিরুদ্ধে কার্যত ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “যথাযথ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও যেভাবে ভিন রাজ্যের আমাদের শ্রমিকরা নিগৃহীত হচ্ছে, তার প্রতিবাদে আমরা আজ শান্তিপূর্ণ ভাবেই জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন জমা দিতে এসেছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের সঙ্গে যেভাবে ব্যবহার করল, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ যেভাবে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় তাতে ওদের মেরুদণ্ড বলে কিছু নেই। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রামকে ওরা ভয় পায়। তাই এভাবে আচরণ করে আজ সেটাই বুঝিয়ে দিল তারা।”
বঙ্গ রাজনীতির হাইভোল্টেজ সোমবার, কোথায় কোন সভা

আজ বঙ্গ রাজনীতির হাইভোল্টেজ সোমবার। একদিকে আজ যেমন কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২১ জুলাইয়ের শহীদ সমাবেশ। একই দিনে আজ শিলিগুড়িতে পথে নামছে ভারতীয় জনতা পার্টি। পশ্চিমবঙ্গে নারী নির্যাতন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি থেকে শুরু করে একাধিক বিষয়ে উত্তরবঙ্গের প্রতি রাজ্য সরকারের বঞ্চনার অভিযোগে গেরুয়া শিবিরের যুব মোর্চার ডাকে ‘উত্তরকন্যা অভিযান’। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এই কর্মসূচি। সেখানে উপস্থিত থাকবেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শিলিগুড়ির চুনাভাটি ফুটবল মাঠে আজ প্রকাশ্য জনসভা বিজেপির। অন্যদিকে আজ খড়্গপুরে শহীদদের শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে পৃথক কর্মসূচি পালন করবেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও। খড়গপুরে বিজেপির এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন দিলীপ ঘোষ। গেরুয়া শিবিরের এক সময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই নেতা দিলীপ ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেছেন, “BJP-র দেড়শোরও বেশি কর্মী-সমর্থক বাংলায় রাজনৈতিক লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন। তাঁদের শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতেই আজকের সভা।” অন্যদিকে, নদিয়ার পলাশিতে আজ কালীগঞ্জে নিহত তামান্না খাতুন এবং আরজি কর হাসপাতালের মৃত ডাক্তার অভয়ার স্মৃতিতে বিশেষ কর্মসূচি পালন করবে যুব কংগ্রেস। সেই কর্মসূচিতে থাকবেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। একই সাথে আজ শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। চলতি অধিবেশনে সংসদের দুই কক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারকে চেপে ফেলতে একাধিক ইস্যু নিয়ে সরব হওয়ার কথা বিরোধীদের। যদিও পরিকল্পনা মাফিক আগেই ইন্ডিয়া জোটের নেতারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক সেরে নিয়েছেন। সেই বৈঠকে ইস্যুভিত্তিক আলোচনা হয়েছে। কীভাবে মোদী সরকারকে চাপে রাখা হবে তার রোডম্যাপও প্রস্তুত। চলতি বাদল অধিবেশনে কোন কোন ইস্যু তুলে ধরে সরকারকে আক্রমণ করা যাবে সে ব্যাপারেও আগাম আলোচনা সেরে নিয়েছেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। তাই আজ বাদল অধিবেশনের শুরুতেই সংসদের দুই পক্ষ উত্তপ্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে শুধু রাজনীতি নয়, জাতীয় স্তরে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটা দিন হতে চলেছে এই ২১শে জুলাই।
তৃণমূলই তৃণমূলকে শেষ করবে, বিস্ফোরক অধীর

১৩ জুলাই, ২০২৫: রাজ্যে গত তিনদিনে পর পর তিন তৃণমূল নেতা খুন। গত বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে নৃশংস ভাবে খুন হন শওকত মোল্লা ঘনিষ্ঠ দাপুটে তৃণমূল নেতা রেজ্জাক খাঁ। স্বাভাবিক ভাবেই এই খুনের পিছনে ISF-এর হাত আছে বলে অভিযোগ করেছিলেন শওকত মোল্লা। কিন্তু ঘটনার তিন কাটতে না পুলিশি তদন্ত যত এগিয়েছে ততই এই খুনে তৃণমূলের যোগই সামনে এসেছে। রেজ্জাক খুনের মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে মোফাজ্জেল মোল্লাকে। যিনি এলাকায় দাপুটে তৃণমূল নেতা বলেই পরিচিত। বৃহস্পতিবার রাতে মালদার ইংরেজবাজার থানার লক্ষ্মীপুর এলাকায় বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে সেখানেই খুন হন তৃণমূল নেতা আবুল কালাম আজাদ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিসাবে গ্রেফতার করা হয় মাইনুল শেখ নামে এক তৃণমূল নেতা। জানা যায় তারা দুজনেই একসাথে জমির ব্যবসা করতেন। জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই এই খুন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। তবে এই দুজনের নামেই বেনামি নানা ব্যবসা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। যদিও জেলা তৃণমূলের তরফে পুরো বিষয়টিকে অস্বীকার করে মহিলা ঘটিত কারণে খুনের তত্ত্বকেই সামনে হাজির করা হয়। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বীরভূমের সাঁইথিয়ায় শনিবার মাঝরাতে বাড়ি থেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে গিয়ে গুলি করে খুন করা হয় লাভপুর বিধানসভা এলাকার শ্রীনিধিপুর তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতিকে। যদিও তার পরিবারের তরফ থেকে দাবি করা হয়, রাজনৈতিক কারণেই তাকে খুন করা হয়েছে। কিন্তু এর পিছনে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, না বিরোধী রাজনৈতিক দলের চক্রান্ত— সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি তার পরিবার। তবে পর পর এই তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনার বিষয়ে রবিবার মুর্শিদাবাদের দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি স্পষ্টতই জানান— “তৃণমূল মানেই গুণ্ডা-মাফিয়াদের রাজত্ব। এরাই দলের সম্পদ। এরাই এখন নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগির অংশীদারি নিয়ে একে অন্যকে খুন করছে। এটা আসলে ভাগ-বাটোয়ারার লড়াই। এভাবেই তৃণমূলের হাতে তৃণমূল খুন হতে হতে একদিন দলটাই শেষ হয়ে যাবে। বিরোধীদের এ রাজ্যে ক্ষমতা আছে যে, তারা তৃণমূল নেতাদের খুন করবে। এটা পরিষ্কার ওদের নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। এরাই তো ভোটে ভয় দেখিয়ে, বুথ দখল করে জিতিয়েছে তৃণমূলকে। এখন ঝেড়ে ফেলতে চাইলেও পারবে না।