কোচবিহারে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, দলের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক পঞ্চায়েত প্রধান

দীর্ঘদিন ধরেই অন্তর্দলীয় কোন্দলে জেরবার তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। ২৬শে বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ম করেই নিজের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। সেই বৈঠকে নির্বাচনের রণকৌশল সাজানোর পাশাপাশি জোর দেওয়া হচ্ছে দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়ে। কিন্তু তার পরেও গোষ্ঠীকোন্দল মিটছে কই! ফের একবার দলের বিরুদ্ধেই সরব হলেন মাস দুই আগে খুন হওয়া তৃণমূল নেতা অমর রায়ের মা। তাঁর অভিযোগ, দলের প্রভাবশালী কিছু রাঘববোয়ালদের কারণেই তাঁর ছেলের প্রকৃত খুনিকে আড়াল করা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের গ্রাম পঞ্চায়েতের একজন প্রধান হয়েও তিনি তাঁর ছেলের ন্যায় বিচার পাচ্ছেন না। তাই প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিলেন নিহত অমর রায়ের মা, তথা কোচবিহারের দাওয়াগুড়ি অঞ্চলের গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কুন্তলা রায়। উত্তরবঙ্গের বিপর্যয় মোকাবিলায় এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ঠিক সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁর ছেলের খুনের বিষয়ে যাবতীয় অভিযোগ জানানোর আর্জি করলেন কুন্তলা দেবী। প্রয়োজনে তিনি যে পদত্যাগ করতেও রাজি, সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাও স্পষ্ট করে দিলেন দাওয়াগুড়ি অঞ্চলে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের এই নেত্রী তথা পঞ্চায়েত প্রধান। কুন্তলা দেবীর অভিযোগ, “আজ দুই মাস পেরিয়ে গেছে কয়েকজন চুনোপুঁটি ছাড়া পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করেনি।” তাঁর আরও অভিযোগ, প্রভাবশালী খুনিরা তাঁর চোখের সামনেই ঘুরে বেড়াচ্ছে, উল্টে নাকি তাঁকেই ভয় দেখানো হচ্ছে। সোমবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে যেভাবে তাঁর ছেলের খুনিদের আড়ালের প্রসঙ্গ টেনে এনে তির্যক মন্তব্য করেছেন তৃণমূলের এই নেত্রী, তাতে কোচবিহার জেলার বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। দীর্ঘদিন ধরেই অন্তর্দলীয় কোন্দলে জেরবার তৃণমূলের অন্দরে একের পর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন জেলা থেকেই। সেখানে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের বর্তমান প্রধানের আজকের এই বিস্ফোরক বক্তব্য তৃণমূলকে রীতিমত অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে ফের প্রকাশ্যে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে মতুয়া কার্ড ও ধর্মীয় সার্টিফিকেট দেওয়া নিয়ে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আবারও প্রকাশ্যে। দ্বন্দ্ব বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর ভাই তথা বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরের মধ্যে। পারিবারিক বিবাদে ঠাকুর বাড়ির দুই ছেলে বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর এবং গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই দূরত্ব বাড়ছিল। ঠাকুরবাড়ির অন্দরে এই গুনজন চলছিল অনেক আগে থেকেই। এবার সিএএ(CAA)-এর জন্য মতুয়া কার্ড ও ধর্মীয় সার্টিফিকেট দেওয়াকে কেন্দ্র করে শান্তনু ঠাকুর ও সুব্রত ঠাকুরের সেই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য এল। কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর ঠাকুরবাড়ির নাঠ মন্দিরে মতুয়াদের সিএএ ফর্ম পূরণের জন্য ক্যাম্প করছিলেন। কিন্তু তাঁর দাদা সুব্রত ঠাকুরের অভিযোগ শান্তনু ইচ্ছে করে গায়ের জোরে এবং মন্ত্রীত্বের গরম দেখিয়ে ঠাকুর বাড়িতে কর্তৃত্ব ফলাতে চাইছে। সে বিষয়ে তাঁর মা ছোট ছেলে শান্তনুর সঙ্গে কথা বলতে গেলে মাকে নাকি গালিগালাজ করে শান্তনু। অন্যদিকে, সুব্রত ঠাকুর ও শান্তনু ঠাকুরের মা ছবিরানী ঠাকুরের অভিযোগ, শান্তনু ঠাকুর মতুয়া মহাসংঘে একচ্ছত্র আধিপত্য চালাচ্ছে। মতুয়া কার্ড ও ধর্মীয় কার্ড দেওয়ার জন্য শান্তনু ঠাকুর সাম্প্রতিক নাট মন্দিরে ক্যাম্প করেছে। সুব্রত ঠাকুর এই ক্যাম্পের প্রতিবাদ করেছে। তাই নিয়েই শুরু হয়েছে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব। এমনকী এই দ্বন্দ্ব মেটাতে তৃণমূল সাংসদ মমতা ঠাকুরের দ্বারস্থ হয়েছেন শান্তনু ও সুব্রত ঠাকুরের মা ছবিরানী ঠাকুর। নাট মন্দিরে সুব্রত ঠাকুর মমতা ঠাকুরের সঙ্গে কথা বলেন। সুব্রত জানান, “জেঠিমার কাছে গিয়েছিলাম। এর মধ্যে কোনও রাজনীতি নেই। আমি আমার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। ঠাকুরবাড়ির নাট মন্দির ভক্ত-সেবায়েতদের জন্য সংরক্ষিত। সেখানে ঠাকুরের নাম-গান হয়। সেসব বন্ধ করে শান্তনু মন্ত্রীত্বের জোরে সেখানে সিএএ ক্যাম্প করছে। আমি তার প্রতিবাদ করেছি। এ লড়াই আমার অধিকারের লড়াই।” পাশাপাশি মতুয়া ভক্তদের কাছে সুব্রত ঠাকুর আবেদন করেছেন, যাতে করে এই অন্যায় কাজের জন্য ভক্তরা তাঁকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে ফেলেন। তাঁর আরও অভিযোগ, শান্তনু নিজের মাকে অপমান করেছেন। এর বিচার চেয়ে তিনি ভক্তদের কাছে শান্তনুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার আবেদন জানিয়েছেন। সুব্রত ঠাকুরের মা ছবিরানী ঠাকুর দাবি করেছেন, “মতুয়া মহা সংঘের অধিকার নিয়ে আমাদের এই লড়াই। আমি আমার বড় জা-এর কাছে গিয়েছিলাম। যেহেতু এটা আমাদের পারিবারিক সমস্যা সেকারণে। এর মধ্যে কোনও রাজনীতি নেই। আমি কোনও রাজনিতি করি না।” তৃণমূল সাংসদ মমতা ঠাকুরের বক্তব্য, “সুব্রত ও ওর মা আমার কাছে এসেছিল। যেহেতু এটা ঠাকুরবাড়ির ব্যাপার সেকারণে। আমি মনে করি এই ঠাকুরবাড়িতে শান্তনুর যতটা অধিকার আছে, সুব্রতরও ততটাই। কিন্তু সুব্রতরও অধিকার বঞ্চিত করে ঠাকুরবাড়িতে শান্তনু একচ্ছত্র অধিকার আদায় করতে চাইছে। এটা অন্যায়।” যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শান্তনু ঠাকুর। তাঁর পাল্টা অভিযোগ সুব্রত তৃণমূলের মন্ত্রী হওয়ার জন্য এসব নাটক করছে। তৃণমূল সাংসদ মমতা ঠাকুরের সঙ্গে বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরের দূরত্ব নাকি অনেকটাই কমেছে। এক সঙ্গে ছবিও দেখা যাচ্ছে। তাই শান্তনু ঠাকুরের পাল্টা মন্তব্য, “এটা বিজেপি জন্য ভালো বার্তা নয়।” শান্তনুর দাবি, “সুব্রত ঠাকুর পাঁচ বছর সবকিছু ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে গিয়েছিল। আমি মন্ত্রী হওয়ার পর এখন উড়ে এসে জুড়ে বসতে চাইছে। আমি মন্ত্রী এটা ও মেনে নিতে পারছে না। বিজেপি বিধায়ক হয়ে তো মন্ত্রী হতে পারবে না। তাই তৃণমূলে যাবে। বিজেপি টিকিট দিলে সেই টিকিটে জিতে তৃণমূলে গিয়ে মন্ত্রী হবে। তাই এসব নাটক করছে। নাটক না করলে তো আবার তৃণমূলে দাম পাবে না। তাই এই নাটক। সব মিলিয়ে ভোটের আগে ঠাকুরবাড়ির অন্দরে আবারও যে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে তা বলাই বাহুল্য।
মোদীর বঙ্গ সফরের দিনই বাংলা ছাড়লেন দিলীপ ঘোষ

আজ তিনটি নয়া রুটে মেট্রোর উদ্বোধন করতে বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সরকারি এই প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি ২৬শে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য বিজেপিকে চাঙ্গা করতে দমদমে রাজনৈতিক সভাও করবেন মোদী। সেই সভায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ বিজেপির একাধিক রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু এই সভাতে যে আমন্ত্রণ পাননি বিজেপির এক সময়ের দাপুটে নেতা দিলীপ ঘোষ তা কয়েকদিন আগেই সাংবাদিকদের সামনে নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। আজ বঙ্গ সফরে মোদী আসার দিনই দিলীপ ঘোষকে সকালে বিমানবন্দরে দেখা গেল। এর আগেও আসানসোলের প্রধানমন্ত্রীর সভার দিন সকালেই দিল্লির উদ্দেশ্য রওনা হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। সেখানেই কেন্দীয় বিজেপির পর্যবেক্ষক জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠক ঘিরেও নানা গুঞ্জন সামনে এসেছিল। এও শোনা গিয়েছিল যে, দিলীপ ঘোষকে রীতিমত ওয়ার্নিং দিয়েছিলেন নাড্ডা। কেননা সংবাদমাধ্যমের সামনে দিলীপ ঘোষ যেভাবে বিজেপির রাজ্য নেতাদের নামে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন তা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে ভালো ভাবে নিচ্ছে না, তাও নাকি দিলীপ ঘোষকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন নাড্ডা। এমনকী তাঁকে চুপ করে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। যদিও এরপর রাজ্য বিজেপির নেতাদের নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে দিলীপকে খুব একটা সরব হতে দেখা যায়। আজ প্রধানমন্ত্রীর দমদমে সভার দিনই বেঙ্গালুরু উড়ে গেলেন দিলীপ ঘোষ। কিন্তু কী কারণে তিনি বেঙ্গালুরু যাচ্ছেন তা সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট করেননি। তবে এদিন একরাশ অভিমান ঝরে পড়ল তাঁর গলায়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, “মোদী কী বলছেন তা শুনতে সভায় থাকার তো দরকার নেই। মোবাইলেও শোনা যায়।” পাশাপাশি দল যে ঠিক সময়ে তাঁকে কাজে লাগাবে, সে বিষয়েও তিনি আশাবাদী। দল ছাড়ার প্রসঙ্গ উঠতেই তাই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “আমি দলের সঙ্গে ছিলাম, আছি, ভবিষ্যতেও থাকব। দল ঠিক সময়ে আমাকে কাজে লাগাবে।” সুকান্ত মজুমদার রাজ্য বিজেপির সভাপতি হওয়ার পর থেকেই দলে কোণঠাসা হতে শুরু করেন দিলীপ ঘোষ। সে নিয়ে একাধিক বার প্রকাশ্যেই নিজের ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপির এই দাবাং নেতা। কিন্তু শমীক ভট্টাচার্য বিজেপির নতুন সভাপতি হওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন এবার হয়ত দলে গুরুত্ব বাড়বে দিলীপ ঘোষের। এমনকী শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের একান্ত বৈঠকের পর যেভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে দুজনেই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দলের হয়ে কাজ করার বার্তা দিয়েছিলেন তাতে করে অনেকেই সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত পেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে যে আদৌ সে ছবি বদলায়নি, তা দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দিলীপ ঘোষকে আমন্ত্রণ না জানানো থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়।
মোদীর দমদমের সভাতেও ডাক পেলেন না দিলীপ ঘোষ

আগামী ২২ আগস্ট বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওইদিন নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত নতুন মেট্রো রেলের উদ্বোধন করবেন তিনি। এমনকী ওই দিন দমদমে সভা করার কথাও মোদীর। ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু নবান্ন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর না যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে এবারও প্রধানমন্ত্রীর সভায় আমন্ত্রণ পেলেন না বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা বিজেপির দাপুটে নেতা দিলীপ ঘোষ। এর আগেও দুর্গাপুরে মোদীর সভায় ডাক পাননি তিনি। বরং সে সময় তাঁকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। একনকী সেই বৈঠকে মিডিয়ার সামনে মুখ খোলা নিয়ে নাকি দিলীপ ঘোষকে রীতিমত ভর্ৎসনা করেছিলেন নাড্ডা। সুকান্ত মজুমদার বঙ্গ বিজেপির সভাপতি থাকাকালীন দলে একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। একনকী একাধিকবার সংবাদমাধ্যমের সামনে সে নিয়ে ক্ষোভও উগরে দেন তিনি। তবে শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য বিজেপির সভাপতি হওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন ছবিটা হয়তো বদলাবে। দিলীপ ঘোষকে হয়তো আবারও স্বমহিমায় দেখা যাবে। এমনকী রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের একান্ত বৈঠক অত্যন্ত সেই বার্তাই দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে ছবিটা যে বদলায়নি, তা মোদীর দমদমের সভায় দিলীপ ঘোষের আমন্ত্রণ না পাওয়ায় আরও স্পষ্ট হল। দমদমে প্রধানমন্ত্রীর সভায় দিলীপ ঘোষ উপস্থিত থাকবেন কিনা তা নিয়ে বেশ চর্চা হচ্ছিল বঙ্গ রাজনীতিতে। অবশেষে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে নিজেই স্পষ্ট করে দিলেন সবটা। এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সভায় আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাই ওইদিন আমি যেতেও পারি, আবার নাও যেতে পারি। আমি কোথায় যাব সেটা আমিই ঠিক করি, তাই আমিই ঠিক করব আমি ওইদিন যাব কী না।” যদিও পাশাপাশি তিনি এও জানান যে, তিনি দলের একজন অনুগত সৈনিক। দল যেমন নির্দেশ তাঁকে দেবেন, তিনি সেই মতো তা পালন করবেন। সব মিলিয়ে দিলীপ ঘোষ যে দলের অন্দরে এখনও কোণঠাসা তা তিনি মুখে না বললেও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।