প্রান্তিক মানুষের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে নয়া চ্যালেঞ্জ মমতার, ১১০টি মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিটের সূচনা

রাজ্যের প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকায় অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা (Medical services) পৌঁছে দিতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টেয় স্বাস্থ্য ভবন ১১০টি নতুন মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট (Mobile Medical Unit)-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজ্যের প্রান্তিক মানুষরাও যাতে অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সে কারণেই রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিনের অনুষ্ঠানে জানান, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদদের উন্নয়নের তহবিল বাবদ পাওয়া ৮৪ কোটি টাকা খরচ করে এরকম ২১০টি মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট তৈরির কথা ভেবেছে রাজ্য সরকার। তার মধ্যে ১১০টিপর উদ্বোধন হল আজ। প্রতিটি মেডিকেল ইউনিটে থাকবে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে এই মোবাইল ইউনিটগুলো সাধারণ মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসা স্বাস্থ্য পরিষেবা দেবে। গত ১২ই আগস্ট রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যজুড়ে ২১০ টি মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল৷ এর মধ্যে বেশ কিছু মোবাইল ইউনিটে উন্নত পরিষেবা যেমন, এক্স-রে এবং আলট্রাসাউন্ডের মতো সুবিধাও থাকবে। ডাক্তার ও নার্সের পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিটে বিশেষ অ্যাটেনডেন্ট থাকবে। এর আগেও সাংসদ তহবিল থেকে ৩০০টি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালু করেছিল রাজ্য সরকার, সে কথাও এদিনের অনুষ্ঠানে স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এর ফলে গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবার মান যে আরও উন্নত হবে, তাও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা করা হয় এই ইউনিটগুলি। উদ্বোধনের পর ভ্যানগুলির একটি বড় বহরকে রওনা দিতেও দেখা গেল স্বাস্থ্য ভবন চত্বরে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, এই প্রকল্প চালু হলে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে চিকিৎসা পরিষেবা (দুয়ারে হাসপাতাল), বিশেষত দূরবর্তী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দারা আরও সহজে চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ পাবেন।
দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, উদ্বেগ মোদীর, শোকপ্রকাশ মমতার

সোমবার সন্ধ্যায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল রাজধানী শহর দিল্লি। দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার (Delhi Red Fort) কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে (explosion) মৃত্যু হল অন্ততপক্ষে ১০ জনের। আহতদের সংখ্যা ৩০ জনেরও বেশি। ঘটনাটি ঘটেছে লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছে পার্ক করা একটি গাড়িতে। বিস্ফোরণের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে আশপাশের দোকানগুলির দরজা-জানালা ভেঙে যায়, মুহূর্তে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিট নাগাদ ওই গাড়ির ভেতরেই বিস্ফোরণ (explosion) ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরও তিনটি গাড়িতে। দমকল বিভাগের অন্তত ১০টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে এলএনজেপি (LNJP) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ৩০ জন। ইতিমধ্যেই দিল্লি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করেছে। দিল্লি পুলিশ কমিশনার জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এনআইএ (NIA) ও এনএসজি (NSG)-এর টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, গাড়িটির ভেতরে বিস্ফোরক পদার্থ রাখা ছিল। এই বিস্ফোরণের পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা অফিসাররা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ হঠাৎ প্রবল শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “আমরা রাস্তার ধারে একটি গাড়িতে বসেছিলাম, হঠাৎ প্রবল আওয়াজে চারপাশ কেঁপে ওঠে। আমাদের পিছনের গাড়িটিতে মুহূর্তে আগুন জ্বলে যায়।” বিস্ফোরণের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দিল্লি পুলিশ ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী টিম। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। এই ঘটনার পর গোটা দিল্লি জুড়ে জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতেও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। ভারত-নেপাল সীমান্তেও জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট। এই ঘটনা সম্পর্কে ইতিমধ্যেই খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে কথা বলে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনেছেন। অমিত শাহ নিজেও দিল্লি পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের জেরে রাজধানীর নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও এই ঘটনার পেছনে কোনও সন্ত্রাসবাদী যোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে। অন্যদিকে দিল্লির এই বিস্ফোরণে মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি এক্স-হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে লিখেছেন, “দিল্লিতে মর্মান্তিক বিস্ফোরণের খবর শুনে আমি গভীরভাবে শোকাহত। যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি রইল আন্তরিক সমবেদনা। আহত সকলের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”
মহাকরণের সামনেই সেনার ট্রাক আটকে দিল কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ

গতকালই মেয়ো রোডে তৃণমূলের ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ খুলে দিয়েছিল সেনা বাহিনী। তার চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই মহাকরণের সামনেই আটকানো হল সেনার ট্রাক। গতির কারণেই নাকি কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের তরফে এই ট্রাক আটকানো হয়েছে বলেই শোনা যাচ্ছে। ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণেই ট্রাকটিকে আটক করে হেয়ার স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে গাড়িটিকে ফোর্ট উইলিয়ামে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেনার তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, সিগনাল খোলা থাকায় নাকি ট্রাকটি টার্ন নিয়েছিল। যদিও এই ট্রাকটির পিছনেই নাকি ছিল পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা গাড়ি। তাই তাঁর নিরাপত্তার কথা ভেবেই সেনা ট্রাকটিকে আটক করে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ। এরপরই ঘটনাস্থলে যায় হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। ট্রাকটিকে আটক করা হয়। পরে দুই সেনা আধিকারিক হেয়ার স্ট্রিট থানায় গিয়ে ওসির সাথে কথা বলেন। মঙ্গলবার বেলা ১০টা নাগাদ সেনা বাহিনীর একটি ট্রাক ফোর্ট উইলিয়াম থেকে ডালহৌসির পাসপোর্ট অফিসের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে লালবাজারে যাচ্ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। পুলিশ সূত্রে খবর, ট্রাকটি বিপজ্জনক ভাবে চালানো হচ্ছিল। ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে ট্রাক টার্ন নেয়। যে কোনও সময়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। মোটর ভেহিক্যাল অ্যাক্টে মামলা রুজু করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের তরফে এই ঘটনার সময়ের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে আরও একবার সেনা-পুলিশ সংঘাত চরমে। এমনিতেই গতকাল কলকাতা পুলিশকে না জানিয়ে মেয়ো রোডের তৃণমূলের মঞ্চ খোলায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী এই ঘটনার জন্য বিজেপির দিকেই সরাসরি অভিযোগের আঙুল তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সেনাকে ব্যবহার করে বিজেপিই এ ধরনের কাজে মদত দিয়েছে। তারই পাল্টা আজ কলকাতা পুলিশের ট্রাক আটকানো নিয়েও ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে সেনা-পুলিশ দ্বন্দ্ব যে আরও তীব্র মাত্রা পেল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
তৃণমূলের ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ খোলা নিয়ে বিজেপিকে তোপ মমতার

বিজেপি শাসিত ভিন রাজ্যে বাংলা ও বাঙালি অত্যাচারের প্রতিবাদে তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের শহিদ মঞ্চ থেকে ভাষা আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মতো কলকাতার মেয়ো রোডে প্রতিবাদ মঞ্চ গড়ে প্রতি শনি ও রবিবার করে চলছিল প্রতিবাদ কর্মসূচি। সোমবার দুপুরে, কাউকে কিছু না জানিয়ে তৃণমূলের সেই ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ ভেঙে দেন সেনা আধিকারিকরা। আর তাই নিয়েই বেজায় ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ছুটে যান মেয়ো রোডে প্রতিবাদ সভার কাছে। সেখান থেকেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সেনা বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি এই জঘন্য কাজ করেছে। তিনি বলেন, “আমি সেনাকে সম্মান করি, কিন্তু এই কাজ সেনাকে দিয়ে বিজেপিই করিয়েছে।” তাঁর আরও অভিযোগ, “আর্মিই শুধু বাকি ছিল। আর্মিকেও যদি মিস ইউজ করে, তাহলে সিকিউরিটি কোথায় থাকবে? একটা এজেন্সির নাম বলুন যারা নিরপেক্ষ? এরা সবাই বিজেপি পক্ষ।” যদিও এই ঘটনায় সেনা বাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তৃণমূল যে সময়সীমার জন্য এই মঞ্চের অনুমতি নিয়েছিল তা ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। তাছাড়া সোম থেকে শুক্র সপ্তাহে এই কর্মব্যস্ত পাঁচদিন অহেতুক রাস্তা আটকে এভাবে মঞ্চ থাকা নিয়েও আপত্তি রয়েছে সেনার। যদিও এর পাল্টা সেনা বাহিনীকেও নিশানা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, “ভারতীয় সেনা বাহিনীর নিরপেক্ষ থাকা উচিত। আমাকে জানালেন না কেন? আমাকে একটা ফোন করলেই তো বলে দিতাম।” যদিও ইতিমধ্যেই মেয়ো রোড থেকে সভা সরিয়ে রানী রাসমণি রোডে করার কথাও ঘোষণা করেছেন তৃণমূল নেত্রী। এমনকী তাঁর অভিযোগ, তিনি বিনা অনুমতিতে কোথাও সভা করেন না। এই সভার জন্যও ২০ হাজার টাকা জমা করেছিলেন। এই সময়ের মধ্যে ওখানে আর কোনও কর্মসূচি না থাকায় তিনি মঞ্চ খোলেননি। কিন্তু এভাবে সেনা বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে মঞ্চ ভাঙার জন্য বিজেপি নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপির অনুমতি নিয়ে আমি কোনও কর্মসূচি করব না। আমার অনেক জায়গা আছে।”
রাজ্যের SC-ST তালিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর, মুখ্যসচিবকে তদন্তের নির্দেশ

রাজ্যের তফসিলি জাতি (SC) ও উপজাতি (ST) তালিকায় বহু অযোগ্যদের নাম ঢুকে পড়ায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নবান্নে জনজাতি উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠক থেকেই তিনি রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে অভিযোগ খতিয়ে দেখে এই বিষয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। নবান্নে এ দিনের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং প্রাক্তন সাংসদ দশরথ তিরকেকে। কিন্তু তাঁরা কেউই বৈঠকে যোগ দেননি। যদিও খগেন মুর্মু পরে সাংবাদিকদের সামনে বলেন, চিঠিতে কোনও এজেন্ডার উল্লেখ ছিল না। এজেন্ডা ছাড়া বৈঠকে গিয়ে আলোচনা করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়, তাই তিনি যাননি। এসসি-এসটি সম্প্রদায়ের শংসাপত্র সহ নানা বিষয়েই এই বৈঠকে আলোচনা হয়। এদিনের বৈঠকের জনজাতি সম্প্রদায়ের এক মন্ত্রীও অভিযোগ করেন যে, বহু অযোগ্য মানুষ এই তালিকায় ঢুকে পড়ায় প্রকৃত এসসি-এসটিরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। এতেই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ পুরো বিষয়টিই তদন্ত করে দেখার জন্য মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বনাঞ্চলের অধিকার এবং অন্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প থেকে যাতে প্রকৃত জনজাতি মানুষ বঞ্চিত না হন সেদিকে সচেতন ভাবে নজর রাখতে বলেন প্রশাসনিক আধিকারিকদের। এমনকী তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের সক্রিয় ভূমিকার উপরও গুরুত্ব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় সরকারি প্রকল্পকে ঠিক পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও উদ্যোগী হতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী এই বৈঠকে এসসি-এসটি সংশাপত্র হাতে পেতে উপভোক্তাদের যে সময় লাগছে, সেই বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি ঝাড়গ্রামের এক স্কুলের প্রশ্নপত্রে অলচিকি হরফ না থাকা নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, সরকার স্বীকৃতি দেওয়ার পরেও কেন এই রকম অবহেলা হবে? মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা যোগ্যরা যেন বঞ্চিত না হন। এমনকী অনেক সরকারি প্রকল্প যে শুধুমাত্র প্রচারের অভাবেই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না, সে অভিযোগও করেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে সোমবার নবান্নে জনজাতি উন্নয়ন পর্ষদের এই বৈঠক যত না প্রশাসনিক, তার চেয়েও বেশি ২৬শে বিধানসভা নির্বাচনের আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।কেননা ২০১৯ লোকসভা ভোটে জঙ্গলমহলে বড় ধাক্কা খেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১-এ সেই জমি কিছুটা উদ্ধার হলেও বিজেপির প্রভাব রয়ে গিয়েছে অনেক জায়গাতেই। তবে শেষ লোকসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর, বাঁকুড়ার মতো জনজাতি অধ্যুষিত জেলায় ঘাসফুল ফোটাতে সক্ষম হয়েছে তৃণমূল। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে সেই ধারাকে অব্যাহত রাখতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। সেই নির্বাচনের আগে আদিবাসি জনজাতিদের মন জয় করে নিজেদের ভোট-ব্যাংক বাড়াতে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
প্রধানমন্ত্রী মেট্রো প্রকল্প উদ্বোধনের আগেই নিজের কৃতিত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

শুক্রবার বঙ্গ সফরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনটি নতুন মেট্রো রুটের উদ্বোধন করবেন তিনি। পাশাপাশি এদিন দমদমে রাজনৈতিক সভা করার কথা মোদীর। এই অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ বিজেপির একাধিক রাজ্য নেতারা। এই অনুষ্ঠানে যোগদানের আমন্ত্রণ আগেই পেয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়ে প্রথম থেকেই ধোঁয়াশা ছিল। এই আবহে প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় পা রাখার আগেই এই মেট্রো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাঁর কৃতিত্ব তুলে ধরে এক্স-হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের প্ল্যানিং থেকে শুরু করে জমি দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর উল্লেখ করে লেখেন, “ভারতের রেলমন্ত্রী থাকাকালীন আমি কলকাতায় একাধিক মেট্রো রেলওয়ে করিডোরের পরিকল্পনা এবং অনুমোদনের ব্যবস্থা করেছিলাম। এই প্রকল্পগুলির ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে তহবিলের ব্যবস্থা করেছি, কাজ শুরু করেছি এবং নিশ্চিত করেছি যে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত (জোকা, গড়িয়া, বিমানবন্দর, সেক্টর ফাইভ ইত্যাদি) একটি ইন্ট্রা-সিটি মেট্রো গ্রিডের মাধ্যমে যুক্ত করা হবে।” ১৯৯৯ সালে কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের শরিক থাকাকালীন রেলমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মেট্রো রুটের পরিকল্পনা যে তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত সেকথার উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “রাজ্য সরকারের তরফে জমি, পাকা রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গৃহহীনদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আমাদের সরকারের সচিবরা ধারাবাহিকভাবে মেট্রো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করেছেন।” সামনেই ২৬শে বিধানসভা নির্বাচন। এই আবহে রাজ্যে বিজেপিকে যে এক ইঞ্চিও জায়গা ছেড়ে দিতে রাজি নন তিনি, তা সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান থেকেই স্পষ্ট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুব ভালো ভাবেই জানেন, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই মেট্রো রেলের কৃতিত্ব দেখিয়ে রাজ্য বিজেপি তাদের পালে হাওয়া তুলতে চাইবে। তাই আগে থেকেই রাজ্যবাসীর কাছে বার্তা পাঠিয়ে রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাতে করে এই প্রকল্পগুলিতে ২৬শে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি না হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে পারে। সব মিলিয়ে জনমত গঠনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কূটনৈতিক চালকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার নব রূপকার আখ্যা মন্ত্রী মলয় ঘটকের

“বিধানচন্দ্র রায় যদি বাংলার রূপকার হন, তাহলে বাংলার নবরূপকারের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়”—গাইঘাটায় তৃণমূল কংগ্রেসের ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন মন্ত্রী মলয় ঘটক। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার শিমুলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল উত্তর শিমূলপুর এফ পি স্কুলে। সেই শিবিরে এসেছিলেন রাজ্যের আইন ও শ্রম দপ্তরের মন্ত্রী মলয় ঘটক। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধানচন্দ্র রায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় যা উন্নয়ন করেছেন, এর আগে বিধানচন্দ্র রায় ছাড়া কেউ করেনি।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “বিধানচন্দ্র রায় যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন তাঁর ঘাড়ে কোনও দেনা ছিল না, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন মুখ্যমন্ত্রী হন তাঁর ঘাড়ে বামফ্রন্ট সরকার ২ লক্ষ ৩ হাজার কোটি টাকার দেনা চাপিয়ে গেছে। প্রতিবছর প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা সুদ দিতে হয় রাজ্য সরকারকে। সেই সুদ দেওয়ার পরেও যে উন্নয়ন, যে কাজ তিনি করেছেন তা এক কথায় অকল্পনীয়। ডঃ বিধান চন্দ্র রায় যদি বাংলার রূপকার হন, তাহলে বাংলার নবরূপকারের নাম নিঃসন্দেহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বাংলাকে নতুন করে রূপ দিয়েছেন, নতুন করে গড়েছেন, বাংলার মানুষকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন।” মন্ত্রী মলয় ঘটকের এই বক্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। এ বিষয়ে বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার বলেন, “মলয় ঘটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন পাওয়ার জন্য এসব আজগুবি কথাবার্তা বলেছেন। উনি নিজেও প্রকৃত সত্যটা জানেন। উনি জানেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কত বড় দুর্নীতিবাজ।”
রেলের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক মঞ্চে থাকছেন না মুখ্যমন্ত্রী

আগামী ২২ আগস্ট দমদম মেট্রো প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে রেল মন্ত্রকের তরফ থেকে। কিন্তু সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, মেট্রো প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্ভবত উপস্থিত থাকবেন না মুখ্যমন্ত্রী। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। তবে মনে করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময় বিজেপি শাসিত ভিন রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর যেভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে তা বাংলা ও বাঙালির অসম্মান। এমনকী এই ইস্যুতে রাস্তায় নেমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সহ বাংলা ভাষার উপর আক্রমণের প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে ভাষা আন্দোলনেরও ডাক দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। প্রতিটি জেলায় বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা সরব হয়ে এই কর্মসূচি পালন করছেন। বিধানসভা ভোটের আগে একেবারে তৃণমূল স্তরে বিজেপির বাংলা বিরোধী ইমেজকে তুলে ধরতে তৎপর রাজ্যের শাসক দল। এই আবহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক মঞ্চে পাশাপাশি বসলে সেই আন্দোলন অনেকটাই গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। তাছাড়া দমদম মেট্রো প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছিলেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন। সে সময় কেন্দ্রীয় সরকার অহেতুক এই প্রকল্প রূপায়নে অনেক দেরি করেছে। এখন ভোটের আগেই এই প্রকল্পের উদ্বোধন করে বিজেপি যে নির্বাচনে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে তা একপ্রকার স্পষ্ট। আর সেকারণেই রাজ্যে বিজেপির সেই সুযোগ করে দিতে চান না তৃণমূল নেত্রী। তাই খুব সচেতন ভাবেই এই অনুষ্ঠানকে এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি আরও একটি যুক্তিও সামনে আসছে, এর আগে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের রাজনৈতিক শ্লোগানের মুখে পড়েছিলেন। যা মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে চূড়ান্ত অসম্মানজনক। সেই ঘটনাকে স্মরণে রেখে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসাবেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক মঞ্চে হয়তো নাও থাকতে পারেন তৃণমূল নেত্রী। তবে সবমিলিয়ে ২০২৬ শের আগে যে রাজ্যে বিজেপিকে এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দেবেন না তৃণমূল নেত্রী তা একপ্রকার স্পষ্ট। সব মিলিয়ে ভোটের বাজারে সময় যত গড়াবে তত রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে।
রবীন্দ্রনাথকে হাতিয়ার করে মমতার বিজেপি বিরোধিতা

নাম না করে বিজেপিকে আক্রমণে হাতিয়ার রবীন্দ্রনাথ। কবিগুরুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী লিখলেন, “বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসে আমাদের প্রাণের ঠাকুরকে জানাই আমার অন্তরের শ্রদ্ধা ও প্রণাম। বছরের প্রতিটি দিনে, প্রতিটি মূহূর্তে তিনি আমাদের ঘিরে রয়েছেন। বিশেষত, আজ শুধু বাংলা ভাষা বলার জন্য বাঙালির উপর যখন সন্ত্রাস নেমে আসছে, তখন তিনিই আমাদের লড়াই করার প্রেরণা।’’ মূলত: রবি ঠাকুরকে আঁকড়ে ধরেই যে ভাষার আন্দোলন শুরু করেছেন তা মনে করিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘‘রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষার সর্বকালীন শ্রেষ্ঠ প্রতিভা। আজ যখন তাঁর ভাষার ওপর আক্রমণ নেমেছে, তখন আমরা দুঃখিত, ব্যথিত, মর্মাহত। চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির, সেই ভারতের নির্মাণে রবীন্দ্রনাথ-ই আমাদের ধ্রুবতারা। রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন থেকে তাঁকে প্রণাম জানিয়ে, আমরা ভাষা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছি। যতদিন এই বাংলা-বিদ্বেষ চলবে – আমরা লড়াই চালিয়ে যাবো। আর এই লড়াইয়ের পথে রবীন্দ্রনাথই আমাদের পথনির্দেশক।আজ আমাদের নতুন করে শপথ নেবার দিন – বাংলার উপর ভাষা সন্ত্রাস মানব না ৷’’ শুক্রবার ফের নাম না করে বিজেপিকে তোপ দেগেছেন। তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চরণে আমার প্রণতি জানাই। প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ তিনি আমাদের অন্তরে থাকেন। তিনি আমাদের প্রাণের কবি – আজ, শুক্রবার তাঁকে বিশেষভাবে অন্তরে আহ্বান করি। তিনি আমাদের অভিভাবক, তিনি আমাদের ধ্রুবতারা। ঝাড়গ্রামে আমাদের সরকারি কর্মসূচি ছিল। সেখানে সর্বসমক্ষে অনেক মনীষীকে একত্র শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ ছিল। বিশ্বকবিকে সেই অবকাশে প্রণাম জানাই। সেই অনুষ্ঠানের আগে প্রকাশ্যে সমাজমাধ্যমেও তাঁকে শ্রদ্ধার্ঘ্য দিই। রবীন্দ্রনাথ আমাদের প্রতি মুহূর্তের সঙ্গী। তাঁর স্মরণে প্রতিদিন-ই পুণ্যদিন। কবিকে স্মরণ করি ও তাঁকে উদযাপন করি বছরভর এবং দিবারাত্র। জাগরিত হোক সেই দেশ, যেখানে রবীন্দ্রনাথের ভাষা, বাংলা ভাষা, সম্মান পায়, মর্যাদা পায় ও সকল দেশবাসীর ভালবাসা পায়। বিকশিত হোক সেই দেশ, যে দেশে ভাষা-সন্ত্রাস থাকবে না।’’
২৬শে বিজেপির হিন্দুত্বের পাল্টা ইস্যু যে বাঙালি অস্মিতা, বুঝিয়ে দিলেন মমতা

এক, বাংলার উপর আক্রমণ, দুই, এনআরসি। এই দুই ইস্যুতে এবার কি ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? এতদিন সরকারী একাধিক প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ছিল হাতিয়ার। তবে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আর পরিষেবার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নয়, বরং বাংলার অস্মিতার উপর জোড় দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলা ভাষা, বাংলা সংস্কৃতি আর বাঙালীর উপর আক্রমণ, এই তিন তীরে কি ২৬ এর লক্ষ্যভেদ করতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী? আগামী বছরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। হাতে গোনা আর কয়েকমাস। একদিকে শুভেন্দুর নেতৃত্বে হিন্দুত্বের জিগির, আর তারই পাল্টা হিসাবে এনআরসি, এসআইআর ও বঙ্গ অস্মিতাকে ভোট যুদ্ধের অস্ত্র করতে চাইছেন মমতা। ২৬ এর নির্বাচনের সামনে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং বাঙালি হেনস্তা ইস্যুকে তাই নিয়ম করে বাঙালি ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন তিনি। নতুন ভাষা আন্দোলনের কথা ২১ জুলাই মঞ্চে বলেই চুপ না থেকে বোলপুর থেকে প্রথমে আর ঝাড়গ্রাম থেকে দ্বিতীয় ভাষা আন্দোলন শুরু করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রামের মঞ্চ থেকে তাই বাংলা আর বাঙালীর উপর আক্রমণ শুধু নয়, বরং সামনে নিয়ে এলেন সেই এনআরসি ইস্যুকে। ঝাড়গ্রামের আদিবাসী ভোটারদের সামনেই ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ দেওয়ার আতঙ্কের কথাও তুলে ধরলেন বিশ্ব আদিবাসী দিবসে। আর আচমকাই ন্যায্য ভোটারদের নাম বাদ দিতে যে বিজেপি তৎপর, আড়েভারে তা বুঝিয়েও দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক কথায় একে ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভোটার তালিকায় নাম আছে কিনা, তা আবার দেখতে হবে। কেন্দ্র নাম বাদ দিতে নতুন করে চক্রান্ত করেছে। না জেনে ফর্ম ফিলআপ করবেন না। নতুন ভোটার যাঁরা হচ্ছেন মনে রাখবেন বাবা-মায়ের সার্টিফিকেট লাগবে। এটা ডবল ইঞ্জিনের সরকারের চক্রান্ত। নাম বাদ দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চক্রান্ত।” ধর্মীয় কারণ সহ একাধিক কারণে ওপার বাংলার প্রচুর মানুষ চলে এসেছে এই দেশে যাদের মধ্যে অনেকটাই সনাতনী বা মতুয়া, যে ভোটগুলো সাধারণত বিজেপির টার্গেট। এর আগের একাধিক লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে এই ওপার থেকে আসা ভোটারদের ভোট গিয়েছিল বিজেপির বাক্সে, এই ইস্যুতে বিজেপি নয় বরং তিনি যে পাশে যে তিনিই আছেন তা মনে করিয়ে বিজেপি যে ওপার থেকে যন্ত্রনা নিয়ে আসা মানুষগুলোকে আবার বাস্তুচ্যুত করার চেষ্টা বিজেপি করছে বলে মনে করিয়ে দিলেন মমতা। বলেন, “যাঁরা বাংলাদেশ থেকে আইন মেনে এসেছেন তাঁরা এদেশের নাগরিক। অনুপ্রবেশকারী ইস্যু আমাদের হাতে নেই। কেন বলছেন? চিঠি পাঠাচ্ছে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, মতুয়াদের। আমাদের বাংলার মানুষরা লড়াই করল। সংগ্রাম করল। আর বিদেশি? তোমরা একা স্বদেশি? এই জিনিস আমরা বরদাস্ত করব না। মানব না। রুখে দাঁড়াবেন।” একই সাথে ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্তা নিয়ে আরও একবার তোপ দাগেন মমতা। বলেন, “প্রত্যেক মানুষের একটা ভাষা আছে। ভাষা তাঁর সম্মান, গর্ব। আর বলছে বাংলা ভাষাই নেই। এদের কী বলব বলুন? নীরবে বুকটা ফেটে যায়। ওরা বাজে কথা বলে আমরা বলতে পারি না। আমরা মর্মাহত, শোকাহত। মানুষের উপর অত্যাচার হচ্ছে বাংলার। ২ হাজারের বেশি ফিরিয়ে এনেছি। গুরগাঁও, অসম, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশে অত্যাচার করছে। বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভোটের আগে বলবে টাকা নাও আর ভোট দাও। তুমি টাকা দেওয়ার কে? ওটা মাটির টাকা, তোমার টাকা নয়। সব দেবেন। নিজের ঠিকানা দেবেন না। নিজের ভাষা দেবেন না। নিজের অস্তিত্ব দেবেন না। বাংলা ভাষায় কথা বললেই বলছে রোহিঙ্গা। জাতীয় সঙ্গীত কোন ভাষায় লেখা? বাংলা ভাষা। যখন মানুষ বিপদে পড়ে ভেদাভেদ করে না।” এমনকী বিজেপির হিন্দুত্বের পাল্টা ২৬ শের নির্বাচনে কোন দুটি ইস্যুকে সামনে রেখে ভোট দেবেন সাধারণ মানুষ, তাও বাতলে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট করে বললেন, ” মনে রাখবেন ভোটার লিস্ট আর ভাষার সম্মান কেউ ছাড়বেন না। মতুয়াদের উপর মুম্বইতে অত্যাচার হচ্ছে। মুম্বইতে একজনকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে খুন করে বস্তায় তোলা হয়েছে। নিজের ভাষায় কথা বলাটা অপরাধ?” আসলে ঝাড়গ্রামের সভা থেকে একদিকে বাঙালি অস্মিতা অপরদিকে ভোটার লিস্ট, এই দুই ইস্যুতে যে তিনি ২৬শে ফের সেঞ্চুরী করতে চান, তা বুঝিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।