সুকান্ত মজুমদারকে ঘিরে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান তৃণমূল কর্মীদের

বাংলা ও বাঙালি আবেগকে যে ২৬শে বিধানসভায় পাখির চোখ করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস, তা একপ্রকার স্পষ্ট। বিজেপি শাসিত ভিনরাজ্যে বাঙালি নির্যাতনের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই রাস্তায় নেমেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী ২১শের মঞ্চ থেকেও বাঙালি অস্মিতায় বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়ে জেলায় জেলায় ভাষা আন্দোলনের ডাক দেন তিনি। ওই মঞ্চ থেকেই বিজেপি নেতাদের দিয়ে ‘জয় বাংলা’ বলানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এবার শিয়ালদহ থেকে রানাঘাট পর্যন্ত এসি লোকাল উদ্বোধনে এসে রবিবার দমদম স্টেশনে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। এ দিন, শিয়ালদহ থেকে রানাঘাট পর্যন্ত এসি লোকাল ট্রেনের উদ্বোধন করেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক সুকান্ত মজুমদার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরও। এসি লোকালটি শিয়ালদহ থেকে তাঁদের নিয়ে দমদমে আসে। সেসময় হঠাৎ করে INTTUC-র একদল সদস্য স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাঁরা বলতে থাকেন বিজেপি বাংলা বিরোধী। ওঠে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানও। এরপরই দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। রীতিমত তুলকালাম পরিস্থিতি। এই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় গোটা স্টেশন চত্বরে। এই ঘটনায় রীতিমত ক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, “রেলমন্ত্রীকে পুরো বিষয়টাই জানাব। যা যা ঘটেছে তার ভিডিও করতে বলেছি। ভাল করে ভিডিও করে আরপিএফ-কে দিয়ে রেলমন্ত্রীকে পাঠাব। এরা সকলে তৃণমূলের পতাকা নিয়ে এসেছিল। INTTUC-র লোক নাকি কে জানে, কিন্তু সবাই শ্রমিক সেজে এসেছিল। পরিকল্পিত ভাবেই এটা ঘটানো হয়েছে।”
সিএএ এবং এসআইআর নিয়ে ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে প্রশিক্ষণ শিবির শান্তনু ঠাকুরের

সিএএ(CAA) এবং এসআইআর (SIR) নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজ্যে শাসক-বিরোধী তরজা তুঙ্গে। এই তরজায় স্বাভাবিক ভাবেই দ্বিধায় সাধারণ মানুষ। এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ইতিমধ্যেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সিএএ এবং এসআইআর নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করলেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের ‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ’। ঠাকুরবাড়ি সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন মূলত বিভিন্ন জেলা এবং ব্লকের সদস্যদের নিয়ে এই প্রশিক্ষণ শিবির শুরু করা হয়েছে। যেখানে তাদের শেখানো হবে কিভাবে সিএএ-তে ফর্ম ফিলাপ করতে হবে। সেখানে কী কী ধরনের কাগজপত্র তথ্যপ্রমাণ হিসাবে দাখিল করতে হবে এবং কেনই বা সিএএ-তে আবেদন করতে হবে। পাশাপাশি এসআইআর নিয়েও চালু করা হয়েছে প্রশিক্ষণ শিবির। এই শিবির সম্পর্কে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা ‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ’-এর সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর বলেন, “এখান থেকে যাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, আগামীতে তারা নিজের এলাকায় সিএএ-এর জন্য ক্যাম্প করবে। সিএএ এবং এসআইআর নিয়ে মতুয়াদের মধ্যে যাতে কোনও আতঙ্ক তৈরি না হয় এবং অযথা তারা যাতে দ্বিধার মধ্যে না পড়েন সে কারণেই এই ক্যাম্পের আয়োজন। আশাকরি এই ক্যাম্পের ফলে তাদের মনের সব সংশয় কেটে যাবে। এই ক্যাম্পের পাশাপাশি এদিন এমপিএস-টু(MPS-2) রোগে আক্রান্ত আরুষ বণিকের পরিবারের হাতে ১০ লক্ষ টাকা তুলে দিলেন মতুয়া মাতৃসেনা। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা থানার ঠাকুরনগর শিমুলপুরের দুই বছর বয়সী আরুষ বণিক MPS-2 রোগে আক্রান্ত। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকা। বিভিন্ন জায়গা থেকে অনুদান তুলে সেই টাকা যোগাড় করছে তার পরিবার। ঠাকুর বাড়িতেও সাহাযের জন্য আবেদন করেছিল আরুষের পরিবার। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে এদিন আরুষের পরিবারের হাতে ১০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন মতুয়া মাতৃসেনার সভানেত্রী সোমা ঠাকুর।
তীর্থযাত্রীদের ‘জলকর’? শ্রাবণী মেলায় ‘জিজিয়া’ তুল্য ফি নিয়ে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ সুকান্তর

তীর্থযাত্রীদের ‘জলকর’? শ্রাবণী মেলায় ‘জিজিয়া’ তুল্য ফি নিয়ে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ সুকান্তর। তারকেশ্বরের বাবার মাথায় জল ঢালতে যাওয়া পুর্ণার্থীদের জল তোলার আগে গঙ্গায় চান করলেই দিতে হচ্ছে জিজিয়া কর। এমনই অভিযোগ করেছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি। হুগলির তারকেশ্বরে শ্রাবণ মাসে শুরু হয়েছে এক মাসব্যাপী শ্রাবণী মেলা। শিবভক্তদের বাঁকে করে গঙ্গাজল নিয়ে বহু কিলোমিটার হেঁটে তারকেশ্বর মন্দিরে জল ঢালার সেই বহুযুগের প্রথা নিয়ে এবার রাজনৈতিক বিতর্ক। শনিবার রাজ্যের প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেছেন, “পুণ্যার্থীদের কাছ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার জনপ্রতি ১০ টাকা করে ‘ফি’ আদায় করছে। গঙ্গাস্নানের জন্য ফি নেওয়া হচ্ছে। এ যেন ‘জিজিয়া কর’! হিন্দুদের ধর্মাচরণে কর চাপাচ্ছে তৃণমূল সরকার।” টুইট করে সুকান্তর প্রশ্ন, “এটা কি নিছক রাজস্ব আদায়, না কি বাঙালি হিন্দুদের উদ্দেশ্যে এক নিঃশব্দ বার্তা যে ধর্মাচরণও এখন করযোগ্য?” তাঁর অভিযোগ, “বৈদ্যবাটীর নিমাই তীর্থ ঘাট থেকে গঙ্গাজল সংগ্রহের সময় এই অর্থ নেওয়া হচ্ছে। শুধু এতেই থেমে থাকছে না, তোলাবাজি শুরু হয়ে গিয়েছে। সাধারণ ভক্তরাও রেহাই পাচ্ছেন না। এটা প্রশাসনের নামে একপ্রকার চাঁদাবাজি,” বলেও দাবি তাঁর। প্রশাসন সূত্রে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, রাজ্য সরকার কোনও বাধ্যতামূলক ফি চাপায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মিলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, পানীয় জল, স্বাস্থ্যপরিষেবা, থাকার ব্যবস্থা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব নিয়েছে। ভিড় সামলাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন হয়েছে, চলছে সিসিটিভি-র মাধ্যমে নজরদারি। হুগলি জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে বৈঠক করেছেন, যাতে ভক্তদের কোনও অসুবিধা না হয়। বহু সংগঠন বিনামূল্যে খাওয়া, চিকিৎসা ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করেছে। তাঁদের দাবি, কোনও বাধ্যতামূলক ‘জলকর’ নেই। কিছু ঘাটে সাফাই ও পরিষেবার খরচ মেটাতে ভক্তদের থেকে স্বেচ্ছায় সামান্য অনুদান নেওয়া হয়ে থাকে, যা বহু বছর ধরেই প্রচলিত। তবে, বিজেপি এই ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে ‘হিন্দু-বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে প্রচার শুরু করেছে। তৃণমূল এখনও পর্যন্ত সুকান্তর অভিযোগের সরাসরি উত্তর দেয়নি। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে যখন তৃণমূল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে, তখন পাল্টা ধর্মীয় ইস্যু তুলে বিজেপি রাজ্য সরকারকে চাপে রাখার কৌশল নিচ্ছে। ২০২৬-এর ভোটের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।