মালদায় পৌঁছেই তৃণমূলকে নিশানা শুভেন্দুর

মালদায়(Maldaha) দলীয় কর্মসূচীতে যোগ দিতে গিয়েই বিস্ফোরক রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারি(Suvendu Adhikari)। আসন্ন নির্বাচনে নাকি আগামী দিনে তৃণমূলকে(TMC) শূন্য করে দেওয়ার হুঙ্কার শুভেন্দু অধিকারির(Suvendu Adhikari)। সেইসঙ্গে সিএএ নিয়েও সুর চড়ালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তাঁর সাফ জবাব বাংলাদেশ থেকে আসা সিএএ-র(CAA) নিয়ম মেনে নাগরিকত্ব দেবে বিজেপি সরকার। ইতিমধ্যেই এসআইআরের দামাম বেজে গিয়েছে। সেখানেই শুভেন্দুও সুর চড়াতে শুরু করেছে। গত শুক্রবারই হাই কোর্টের নির্দেশে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারি(Suvendu Adhikari)। একইসঙ্গে অবশ্য ১৫ টি মামলা থেকে অব্যহতিও পেয়েছেন তিনি। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে চাপান উতোর। শুভেন্দুকে যেমন আক্রমণ করছেন তৃণমূল নেতৃত্ব, তেমনই পাল্টা দিচ্ছে বিজেপিও। এরই মাঝে মালদায় গিয়ে শুভেন্দু অধিকারির বিরাট হুঙ্কার। শনিবার দুপুরে স্পেশাল ট্রেনে করে ওল্ড মালদা স্টেশনে নামেন ,দক্ষিণ দিনাজপুরের দলীয় কর্মসূচিতে যোগদান করার উদ্দেশ্যে তিনি এই স্টেশনে নামেন। শুভেন্দু অধিকারীর স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই মালদা জেলার বিজেপি নেতৃত্ব এবং দলীয় কর্মীরা দলীয় পতাকা নিয়ে নেতাকে অভিনন্দন জানান এবং এবং ফুলের তোড়া এবং উত্তরীয় পরিয়ে নেতা কে বরণ করেন। ওল্ড মালদা স্টেশনে নেমেই বিজেপির বিরোধী দলনেতা। সেখানে পৌঁছেই শুভেন্দু অধিকারির মুখে সিএএ নিয়ে কথা। শুভেন্দু অধিকারী জানান, যারা পূর্ববঙ্গ থেকে অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে এসেছেন তাদের কোন ভয়ের কারণ নেই শুধু তাদের সিএএ তে আবেদন করতে হবে, নাগরিকত্ব দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের ,অন্যদিকে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি মালদায় ছটি আসন দিয়ে শুরু করবে বিজেপি আসন বাড়তে পারে এবং তৃণমূল শূন্য হয়ে যেতে পারে এমনটাই দাবি করেন।
সিএএ-তে আবেদন করে পেলেন নাগরিকত্ব, স্বচ্ছতার প্রশ্ন তৃণমূলের

সিএএ-তে(CAA) আবেদন করে নাগরিকত্ব পেতেই মতুয়াদের উদ্দেশ্যে বার্তা প্রমথ রঞ্জন বিশ্বাসের(Pramatha Ranjan Biswas)। ২০০৯ সালে ভারতে এসেছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন ডাক কর্মী প্রমথ রঞ্জন(Pramatha Ranjan Biswas)। বাগদার হেলেঞ্চা বৈঁচিডাঙাতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন তিনি। গতবছরই সিএএ-র কথা পাকাপাকি ভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল কেন্দ্র সরকারের তরফে। এরপরই ভারতীয় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছিল নানান জল্পনা, গুঞ্জন। সিএএ-কে(CAA) হাতিয়ার করে বিরোধীরা আন্দোলনেও সরব হয়েছিলেন। সিএএ-র(CAA) পদ্ধতি নিয়ে উঠছিল প্রশ্নও। বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অভিসন্ধির কথাই শোনা গিয়েছিল তৃণমূল থেকে কংগ্রেস(TMC) সহ সমস্ত বিরোধী দলগুলোর মুখে। সেই পরিস্থিতিতেই প্রমথ রঞ্জনের নাগরিকত্ব পাওয়াটা রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিকে(BJP) বাড়তি অক্সিজেন যোগাচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই মুহূর্তে মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে বাংলার রাজনীতি বেশ সরগরম। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ চলছে। সেই পরিস্থিতিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রমথ রঞ্জনের সিএএ(CAA) আবেদনে নাগরিকত্ব পাওয়াটা বিজেপির হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। যদিও এই তৃণমূল কিন্তু এতে অন্য গন্ধই পাচ্ছে। তৃণমূলের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, বেছে বেছে সিএএ-র আবেদনে নাগরিকত্ব দেওয়ার। গিমিকের কথাও শোনা যাচ্ছে তাদের মুখে। যদিও সদ্য নাগরিকত্ব পাওয়া প্রমথ রঞ্জন বিশ্বাস কিন্তু অত্যন্ত খুশি নাগরিকত্ব পেয়ে। ভয় থেকে মুক্ত হয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে সমগ্র মতুয়া সম্প্রদায়কেও বার্তা দিচ্ছেন প্রমথ রঞ্জন। তিনি জানিয়েছেন, “মতুয়াদের ভুল বোঝানো হচ্ছে সিএএ নিয়ে। আমি কারোর কথায় কান না দিয়ে সিএএ তে আবেদন করে কোন রকম হয়রানি ছাড়া সার্টিফিকেট পেয়েছি। আমার কোনও ভাতা বা সরকারি পরিষেবা বন্ধ হয়নি।” একই সঙ্গে তিনি সকল মতুয়াদের বার্তা দিয়ে বলেন, “কারো কোন কথায় কান না দিয়ে সিএএতে আবেদন করুন।” তবে তৃণমূল কিন্তু এই ঘটনাকে একেবারে সোজা চোখে দেখছে না। বরং এই পিছনে কোনওরকম গিমিক থাকার কথা একেবারেই উড়িয়ে দিতে পারছে না তারা। বাগদা পশ্চিম ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অঘোর চন্দ্র হালদার বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম নিঃশর্ত নাগরিকত্ব। কেন্দ্র সরকার কিভাবে নাগরিকত্ব দিয়েছেন সেটা তারাই বলতে পারবেন।” একই সঙ্গে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, “অনেকেই তো সিএএ তে আবেদন করছে, তাহলে দেখে শুনে দু একজনকে কেন দেওয়া হচ্ছে? এটা কোনও গিমিক নয় তো?” অন্যদিকে পিছিয়ে থাকতে নারাজ বিজেপিও। তৃণমূলের বক্তব্যের পাল্টা বলতে শুরু করেছেন তারাও। তাদের মতে এই ঘটনাই নাকি তৃণমূলের ভুল বোঝানোর সমস্ত জবাব। বিজেপি নেতা বিধানচন্দ্র হাওলাদার বলেন, “তৃণমূল মানুষকে সিএএ নিয়ে ভুল বোঝাচ্ছে। প্রমথ রঞ্জন বাবু আবেদন করে নাগরিকত্ব পেয়েছেন। সামনে বিধানসভা নির্বাচনে সিএএ এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেলে মতুয়ারা আর তৃণমূলে ভোট দেবে না। সেই কারণে তারা মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন।” সিএএ-তে আবেদন করে প্রমথ রঞ্জন নাগরুকত্ব পেয়েছেন ঠিকই। কিন্তু সাধারণ মানুষের মন থেকে কি সিএএ নিয়ে ধন্দ এখনও কাটল। প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়।
সিএএ এবং এসআইআর নিয়ে ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে প্রশিক্ষণ শিবির শান্তনু ঠাকুরের

সিএএ(CAA) এবং এসআইআর (SIR) নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজ্যে শাসক-বিরোধী তরজা তুঙ্গে। এই তরজায় স্বাভাবিক ভাবেই দ্বিধায় সাধারণ মানুষ। এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ইতিমধ্যেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সিএএ এবং এসআইআর নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করলেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের ‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ’। ঠাকুরবাড়ি সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন মূলত বিভিন্ন জেলা এবং ব্লকের সদস্যদের নিয়ে এই প্রশিক্ষণ শিবির শুরু করা হয়েছে। যেখানে তাদের শেখানো হবে কিভাবে সিএএ-তে ফর্ম ফিলাপ করতে হবে। সেখানে কী কী ধরনের কাগজপত্র তথ্যপ্রমাণ হিসাবে দাখিল করতে হবে এবং কেনই বা সিএএ-তে আবেদন করতে হবে। পাশাপাশি এসআইআর নিয়েও চালু করা হয়েছে প্রশিক্ষণ শিবির। এই শিবির সম্পর্কে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা ‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ’-এর সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর বলেন, “এখান থেকে যাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, আগামীতে তারা নিজের এলাকায় সিএএ-এর জন্য ক্যাম্প করবে। সিএএ এবং এসআইআর নিয়ে মতুয়াদের মধ্যে যাতে কোনও আতঙ্ক তৈরি না হয় এবং অযথা তারা যাতে দ্বিধার মধ্যে না পড়েন সে কারণেই এই ক্যাম্পের আয়োজন। আশাকরি এই ক্যাম্পের ফলে তাদের মনের সব সংশয় কেটে যাবে। এই ক্যাম্পের পাশাপাশি এদিন এমপিএস-টু(MPS-2) রোগে আক্রান্ত আরুষ বণিকের পরিবারের হাতে ১০ লক্ষ টাকা তুলে দিলেন মতুয়া মাতৃসেনা। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা থানার ঠাকুরনগর শিমুলপুরের দুই বছর বয়সী আরুষ বণিক MPS-2 রোগে আক্রান্ত। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকা। বিভিন্ন জায়গা থেকে অনুদান তুলে সেই টাকা যোগাড় করছে তার পরিবার। ঠাকুর বাড়িতেও সাহাযের জন্য আবেদন করেছিল আরুষের পরিবার। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে এদিন আরুষের পরিবারের হাতে ১০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন মতুয়া মাতৃসেনার সভানেত্রী সোমা ঠাকুর।
ভাষা-সন্ত্রাস বন্ধ হবে, কি হবে না? প্রশ্ন মমতার

ফের ভিন রাজ্যে, বিশেষ করে সেই বিজেপি শাসিত রাজ্যে। আর এবার হরিয়ানায়। বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ বলে ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখা ও অত্যাচারের অভিযোগ উঠল। তবে এবার এই বাঙালি নির্যাতনের প্রমাণ এল কাগজে-কলমে। হরিয়ানা থেকে শ্রমিকের পরিচয় জানতে চেয়ে এবার রাজ্য পুলিশের কাছে চিঠি আসার খবর পেয়েই ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নিজের সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি প্রশ্ন করেন, “ভাষা-সন্ত্রাস বন্ধ হবে, কি হবে না?” সেইসঙ্গে তার স্পষ্ট হুশিয়ারি, “মনে রাখবেন এই অত্যাচার বাংলা সহ্য করবে না।” তাঁর আরো অভিযোগ, বৈধ নথি দেখানো সত্ত্বেও গুরগাঁওয়ে কাজ করতে যাওয়া কোচবিহারের শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটকে রাখা হয়েছে, পাঠানো হয়েছে ডিটেনশন ক্যাম্পে। এখানেই শেষ নয়, এই শ্রমিকের উপর অত্যাচার যে করা হয়েছে, সেই ভিডিও ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। কোচবিহারে তৃণমূলের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় সেই ভিডিও শেয়ার করেছেন। আর সেটা দেখেই এদিন গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “এ ধরনের ঘটনা বিভিন্ন রাজ্যে বেড়েই চলেছে। রাজস্থানেও অবৈধ সন্দেহে বাংলার বাসিন্দাদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হচ্ছে। যদিও সকলের কাছেই যথাযথ নথি রয়েছে। আমাদের আধিকারিকরা সেসব নথি পাঠিয়েছেন। দরিদ্র শ্রমিকরাই এমন অত্যাচারের স্বীকার।’ মুখ্যমন্ত্রীর এদিন আরও বলেন, “ডবল ইঞ্জিন সরকার অর্থাৎ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেই এমন ঘটনা বেশি ঘটছে, তাতে আমি নিজেই আতঙ্কিত। আপনারা কী প্রমাণ করতে চাইছেন? এসব ভয়ংকর সন্ত্রাস। আমরা কিন্তু সহ্য করব না। এই ভাষা-সন্ত্রাস বন্ধ করুন। ভাষা-সন্ত্রাস বন্ধ হবে, কি হবে না?”