ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির কাছে কি নতিস্বীকার ভারতের?

গত কয়েক দিন আগেই ভারতের বাণিজ্য পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকী রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তিকে যে তিনি ভালো চোখে দেখছেন না, তাও হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমনকী রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য নির্ভরতা বাড়ালে ভারতে অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হবে বলেও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ভারতকে চাপে রাখতে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির পরেই ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে এই বিষয়টি নিয়ে যে ভারত চিন্তাভাবনা শুরু করেছে তা জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছিল। এবার আমেরিকার এই প্রচ্ছন্ন হুমকির সামনে ভারতকে কিছুটা পিছু হটতেই দেখা গেল। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত। ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ৩৫ শতাংশ আসে রাশিয়া থেকে। এবার ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর নীরবে নিজের অবস্থান বদলালো ভারত। বিশ্ব জ্বালানি বাজারে রাশিয়ার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানি অনেকটাই বৃদ্ধি করল ভারত। সরকারি রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম ৬ মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের খনিজ তেল আমদানি বেড়েছে প্রায় ৫১ শতাংশ। তার ফলে খরচও বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। কেবল অশোধিত তেল নয়, এলপিজি এবং এলএনজির মতো গ্যাসও আগের থেকে অনেক বেশি পরিমাণে কেনা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে।২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন, এই ক’মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারত দৈনিক আমদানি করত ১.৮ লক্ষ ব্যারেল। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেছেন ২০ জানুয়ারি। তারপর থেকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দিনে ২.৭১ লক্ষ ব্যারেলে। অর্থাৎ আমদানির গতি বেড়েছে নজরে পড়ার মতো। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, শুধুমাত্র এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসেই মার্কিন তেল আমদানি বেড়েছে ১১৪ শতাংশ। ফলে সামগ্রিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন ভারতের মোট তেল আমদানির ৮ শতাংশ জোগাচ্ছে। আগে যা ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। আর এই পরিমাণ তেলের জন্য ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে যেখানে খরচ হয়েছিল ১৭৩ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা), ২০২৫ সালে সেটাই গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭০ কোটি ডলারে (৩২ হাজার কোটি টাকা)।আপাতত মার্কিন তেল আমদানি কমার কোনও সম্ভাবনা নেই, বরং আগামীতে তা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল রাশিয়ার প্রসঙ্গ সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়ে দাবি করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নানান ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে এগিয়েছে ঠিকই। তবে প্রতিরক্ষার প্রশ্নে দু দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে। এমনকী তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভারত যে বাজারদর, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং ভারতের চাহিদা এই বিষয়গুলিকেই প্রাধান্য দেয় তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সম্প্রতি তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট বলেছেন, “ভারত পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হতে চলেছে। তাই নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়ে ভারত অবশ্যই সজাগ থাকবে।”