সক্রিয় হয়েই স্বমেজাজে দিলীপ ঘোষ

অমিত শাহের বার্তা। তারপরই বঙ্গ বিজেপিতে(BJP) সক্রিয় দিলীপ ঘোষ(Dilip Ghosh)। আর আসরে নেমেই ফের পুরনো মেজাজে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ(Dilip Ghosh)। তাঁর সাফ বক্তব্য গোটা মাঠ জুড়ে এবার খেলব। দিলীপের(Dilip Ghosh) সক্রিয় হওয়া যে বঙ্গ বিজেপিকে বিধানসভার আগে অনেকটাই চাঙ্গা করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর সাংবাদিক বৈঠকে বসেই যেন পুরনো দাবাং মেজাজে বিজেপির দাবাং নেতা। সাংবাদিক সম্মেলনে দিলীপ ঘোষ বলেন, “অমিত শাহ মাঠে নামতে বলেছিলেন, আমি নেমে পড়েছি।” প্রায় আট মাস পর বৃহস্পতিবার দুপুরে সল্টলেকে বিজেপির কার্যালয়ে যান দিলীপ। দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে। এরপরই কার্যালয় থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। দলের মধ্যেই কোণঠাসা থেকে ফের সক্রিয়তা, সব প্রশ্নের জবাবে রীতিমতো ছক্কা হাঁকান দিলীপ। দিলীপ ঘোষ জানান, “আমি সব সময় আছি। মাঠ জুড়ে খেলব। আমি ৬ বছর রাজ্য সভাপতি ছিলাম। পরে অন্য দায়িত্ব সামলেছি। আজ শমীকদার সঙ্গে কথা হয়েছে। দলের যেভাবে আমাকে প্রয়োজন আমি আছি, লড়ব।”
আবারও ২০০ আসনের লক্ষ্য বেঁধে দিলেন অমিত শাহ

সামনেই বিধানসভা নির্বাচন(Assembly Election)। তার আগেই দলীয় কর্মীদের বেঁধে দিলেন আসন সংখ্যা। আবারও অমিত শাহের(Amit Shah) মুখে ২০০ আসনের লক্ষ্যের কথা। এদিন কলকাতা জোনের বৈঠকে বসেছিলেন অমিত শাহ(Amit Shah)। সায়েন্স সিটির অডিটোরিয়ামে ছিল সেই বৈঠক। সেখানেই তিনি ফের একবার বেঁধে দিলেন আসন্ন নির্বাচনের আসন সংখ্যা। সেইসঙ্গে সমস্ত স্তরের দলীয় কর্মীদেরকেও উদ্বুদ্ধ করতে হবে বলেই জানিয়ে দিয়েছেন অমিত শাহ। একইসঙ্গে শোনাযাচ্ছে ভবানীপুর কেন্দ্রেও নাকি বাড়তি নজর দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। অমিত শাহের মুখে(Amit Shah) গতবারের আসন সংখ্যারই উদাহরন। তিনি নাকি বলেছেন যে যদি বিজেপি(BJP) একসময় তিন থেকে ৭৭ আসনে উঠে আসতে পারে। তবে ৭৭ থেকে ২০০-তে পৌঁছনোটাও তাদের কাছে একেবারেই অসম্ভব নয়। নির্বাচনের আগে যে এখন থেকেই বিজেপি(BJP) কোমড় বেঁধে নেমে পড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অমিত শাহ সেই বৈঠকে জানিয়েছেন, “আমরা যদি ৩ আসন থেকে ৭৭ আসনে পৌঁছতে পারি, তাহলে ৭৭ থেকে ২০০ আসনে পৌঁছনো অসম্ভব কেন হবে?” এদিন কর্মী সম্মেলনে মহানগরের চারটি সাংগঠনিক জেলা উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা, যাদবপুর এবং কলকাতা উত্তর শহরতলীর কর্মী সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই তাদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ(Amit Shah)। এই চারটি জেলা মিলিয়ে রয়েছে মোট ২৮টি বিধানসভা কেন্দ্র। সেখান থেকে অন্তত ২০টি আসনে জেতারই লক্ষ্য মাত্রা বেঁধে দিয়েছেন অমিত শাহ। তিন দিনের সফরে রাজ্য বিজেপি কর্মীদের নির্বাচন নিয়ে নানান বার্তা দিয়েছেন অমিত শাহ। নির্বাচনের লড়াইয়ে বিজেপি যে কোমড় বেঁধে নেমে পড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
মোদির মুখে “বঙ্কিমদা”, নাম না করেই প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ মমতার

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়(Bankim Ch Chatterjee) ইস্যুতে এবার নাম না করেই নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee)। সংসদে অধিবেশন চলাকালীন সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রকে(Bankim Ch Chatterjee) বঙ্কিম দা বলে সম্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি(Narendra Modi)। লোকসভার ভেতরে তো বটেই, এই নিয়ে বাইরেও প্রতিবাদে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার কোচবিহারের সভা থেকে নাম না করেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কেমনভাবে এমজন মনীষিকে এভাবে সম্বোধন করতে পারেন তিনি সেই নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন খোদ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। এসআইআর আবহে এই মুহূর্তে তৃণমূলের(TMC) অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হল বাংলা ও বাঙালি। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দিকে বাঙালিদের ওপর অত্যাচার নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানেই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়কে(Bankim Ch Chatterjee) নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্য যে বিজেপির অস্বস্তি খানিকটা হলেও বাড়াবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কোচবিহারের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বললেন বঙ্কিমদা। যেন মনে হচ্ছে শ্যামদা, হরিদা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, যিনি জাতীয় গান রচনা করেছিলেন, তাঁকে এইটুকু সম্মান দিলেন না! আপনাদের তো মাথা নিচু করে নাকখত দেওয়া উচিত জনগণের কাছে। তাতেও ক্ষমা হবে না”। বিজেপির এমন নানান মন্তব্য নিয়েই সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকি মঙ্গলবার সংসদের বাইরে তৃণমূলের সাংসদরা রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্রের ছবি হাতে নিয়ে মৌন প্রতিবাদও জানিয়েছেন।
SIR নিয়ে রাজ্য নির্বাচনী কমিশনে স্মারকলিপি প্রদেশ কংগ্রেসের, দুষলেন তৃণূল, বিজেপকে

কয়েক দফা দাবী নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি জমা দিল এবার কংগ্রেস(Pradesh Congress)। কংগ্রেসের এই স্মারকলিপিতে যেমন মতুয়াদের(Motua) পাশে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ আছে, তেমনই এসআইআরের সময়সীমা বাড়ানোর দাবীও জানানো হয়ছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের(Pradesh Congress) তরফে। সেইসঙ্গে বিএলও-দের ওপর যে বাড়তি চাপ পড়েছে সেদিকেই বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণের কতা জানানো হয়েছে রাজ্য কংগ্রেসের তরফে। একইসঙ্গে মতুয়াদের নিয়ে তৃণমূল(TMC) এবং বিজেপির(BJP) দ্বিচারিতার কথাও জানানো হয়েছে। এদিন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের(Pradesh Congress) সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের(Shubhankar Sarkar) নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের এক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে গিয়ে বিশেষ পর্যবেক্ষক ( রোল-রিভিশন) সুব্রত গুপ্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এক স্মারকলিপি প্রদান করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন কংগ্রেস নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী, প্রশান্ত দত্ত, পার্থ ভৌমিক, আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় এবং রোহন মিত্র কয়েকদিন আগেই দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের(TMC) দশ দলের কমিটির সদস্যরা। এবার রাজ্যে সরব হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস(Pradesh Congress)। তাদের জোরালো দাবী মতুয়াদের স্বার্থরক্ষা নিয়েই। এসআইআরের নামে যেন মতুয়াদের কোনওরকম অসুবিধা না হয় সেই কথাই জাদের স্মারকলিপিতে রয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের সাফ বক্তব্য মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে দ্বিচারিতা করছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি। মতুয়াদের কোনওরকম অসুবিধা যে রাজ্য কংগ্রেস মেনে নেবে না সেই কথাও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেসের(Pradesh Congress) স্মারকলিপিতে। মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে যে দ্বিচারিতা করছে বিজেপি(BJP) ও তৃণমূল(TMC) তা উল্লেখ করে কংগ্রেস প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয় যে, মতুয়ারা এদেশেরই নাগরিক, তাঁদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে কোনো নেতিবাচক পদক্ষেপ কংগ্রেস বরদাস্ত করবেনা। মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার ক্ষুন্ন করার যেকোনো অপচেষ্টা কংগ্রেস রুখবে বলেও এদিন দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এদিন স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয় দেশভাগের আগে যাঁরা বিভিন্ন কারণে উদ্বাস্তু হয়ে এদেশের মাটিতে এসেছেন তাঁরা এদেশেরই নাগরিক। সুতরাং ভোটার তালিকা থেকে মতুয়াদের নাম বাদ দেওয়া হলে তা হবে একটা বেআইনি ও অনৈতিক কাজ।
সুকান্তর সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন বিজেপিরই একদল সমর্থকদের

ডায়মন্ডহারবারের সরিষায় আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের দেখতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বিজেপির(BJP) প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার(Sukanta Majumdar)। সুকান্তর(Sukanta Majumdar) সামনেই উঠল এবার দিলীপ ঘোষের নামে স্লোগান। বিক্ষোভে ফেটে পড়ল বিজেপিরই একদল সমর্থক। বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এই চিত্র যে খানিকটা হলেও বিজেপির বিরম্বনা বাড়াল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সরিষায় কয়েকদিন আগে আক্রান্ত বিজেপি(BJP) কর্মীদের দেখতে গিয়েছিলেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার(Sukanta Majumdar)। সেখানেই তাঁর গাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপিরই একদল সমর্থক। বিজেপির এই গোষ্ঠী কোন্দল সামনে আসতেই কটাক্ষ করতে শুরু করেছে তৃণমূল নেতৃত্বও। তাদের সাফ বক্তব্য বাংলাকে যেভাবে কেন্দ্রের বিজেপি(BJP) সরকার অসম্মান করছে, বাংলার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে, দলের একাংশ তা কোনওভাবেই মানতে পারছে না। তাই এই বিক্ষোভ। যদিও বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্ব এই বিক্ষোভকে একেবারেই বাড়তি আমল দিতে নারাজ। তাদের আবার বক্তব্য যে যারা এই বিক্ষোভ দেখিয়েছিল তারা নাকি কেউই বিজেপির সমর্থক নয়। একইসঙ্গে আবার প্রশ্ন উঠছে যে হঠাৎ করে সুকান্তর সামনে দিলীপ ঘোষের নামেই বা কেন বিক্ষোভ দেখিয়ে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। তবে কী বিজেপির অন্দরেও গোষ্ঠী কোন্দল চলছে জোরকদমে। যদিও বিজেপির বক্তব্য অনুযায়ী যারা এই বিক্ষোভ দেখাচ্ছে তারা নাকি কেউই বিজেপির সমর্থক নয়। যদিও রাজনৈতিক মহলের কাছে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই কোন্দলের দৃশ্য নাকি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
রেকর্ড গড়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দশ নম্বর বার শপথ নিচ্ছেন নীতিশ

বিহারের(Bihar) রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন নীতিশ কুমার(Nitish Kumar)। শুধুমাত্র বিহারেই নয়, গোটা ভারতের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশিবার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন নীতিশ কুমার(Nitish Kumar)। বুধবারই তাঁকে সর্ব সম্মতিক্রমে এনডিএ-র(NDA) নেতা হিসাবে বেছে নেওয়া হল। আগামী বৃহস্পতিবারই ঐতিহাসিক গান্ধী ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিতে চলেছেন নীতিশ কুমার। বুধবার রাজ্যপালের কাছে নিজের পদত্যাগ পত্র জমা দিলেন নীতিশ(Nitish Kumar)। এসআইআর(SIR) পরবর্তী প্রথম ভোট হয়েছে বিহারে। সমস্ত এক্সিট পোল থেকে হিসাব নিকাশকে ভুল প্রমাণ করে বিহারে(Bihar) ফের একবার ক্যমতায় এসেছে এনডিএ(NDA) জোট। তাও আবার ঐতিহাসিক ফলাফল হয়েছে তাদের। এনডিএ জোট এবার ২০০-এর ওপর আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। সেখানে আবার জোট শরিক হিসাবে এনডিএ-র মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে বিজেপি(BJP)। এরপর থেকে আরেকটা নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। এনডিএ জোট থেকে কী এবার বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছে। এমনই নানান প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সেই নীতিশ কুমারের(Nitish Kumar) ওপরই আস্থা রাখল এনডিএ জোট। বুধবারই সর্ব সম্মতিক্রমে বিহারে এনডিএ-র নেতা হিসাবে নীতিশ কুমারকেই বেছে নেওয়া হল। এই নিয়ে দশবার মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে চলেছেন নীতিশ কুমার। যা এখনও পর্যন্ত ভারতবর্ষের রাজনীতিতে এর আগে কোথাও দেখা যায়নি। সেটাই এবার বিহারে দেখা যেতে চলেছে। ভারতীয় রাজনীতিতে এবার এক নতুন ইসিহাস লিখলেন নীতিশ কুমার। বুধবারই রাজ্যপালের কাছে নিজের পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন নীতিশ। বৃহস্পতিবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহন করবেন নীতিশ কুমার।
“এটা বিহারের সমীরকণ, বাংলার সঙ্গে কোনওরকম যোগ নেই”: সাফ বার্তা কুণালের

বিহারে(Bihar Election) গেরুয়া ঝড়। যে এসআইআর নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্য জুড়ে এত বিতর্ক, সেই এসআইএর(SIR) পরবর্তী প্রথম নির্বাচন বিহারে। সেখানেই কার্যত ইতিহাস তৈরি করেছে এনডিএ জোট। ২০০-এর ওপর আসন পেয়ে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপির(BJP) এনডিএ(NDA) জোট। তারপর থেকেই স্বাভাবিকভাবে বঙ্গ বিজেপি নেতারাও সুর চড়াতে শুরু করে দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতেই এবার আসরে তৃণমূল(TMC) নেতৃত্বও। বিহারের ফলাফল যে বাংলার ওপর কোনও প্রভাব ফেলবে না স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh)। এসআইএর পরবর্তী বিহারের ফলাফল নিয়ে বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্বরা নানান কথাবার্তা বললেও, বাংলায় এমনটা হওয়ার কোনওরকম সম্ভাবনাই দেখছেন না তৃণমূলের(TMC) নেতৃত্বরা। বিজেপির নেতারা যখন বলছেন অঙ্গ, কলিঙ্গ হয়ে গিয়েছে এবার বঙ্গের পালা। সেই সময় পাল্টা দিতে পিছিয়ে নেই তৃণমূল নেতারাও। কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh) স্পষ্ট বার্তা, “এটা বিহারের সমীরকণ। বাংলার সঙ্গে কোনওরকম যোগ নেই। বাংলায় কোনওরকম প্রভাব পড়বে না। বাংলায় ঐক্য, উন্নয়ন, সম্প্রীতি, অধিকার, আত্মসম্মান ফ্যাক্টর। ২৫০+ ভোট নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় আবার মুখ্যমন্ত্রী”। তিনি আরও জানিয়েছেন, “বিহার দেখিয়ে বাংলাকে হুমকি দিয়ে বিজেপির যে নেতারা বিবৃতি দিচ্ছেন, হুমকি দিচ্ছেন, তারা অকারণ সময় নষ্ট করছেন। বাংলার মানুষের অধিকার, আত্মসম্মানকে আঘাত করে শুধু অন্য রাজ্য দেখিয়ে মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায় না। এখানে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা মতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ভরসা। বিহার সহ বহু রাজ্যও তাঁর উন্নয়নের মডেলও ফলো করছে। বাংলার মানুষ সার্বিক স্বার্থেই তৃণমূলকে সমর্থণ করেন এবং করবেন”। গত ৪ নভেম্বর থেকে বাংলাতে শুরু হয়েছে এসআইআর। এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বিজেপি নেতারা সুর চড়াচ্ছেন। অনেকেই বলছেন ভোটার তালিকা থেকে নাকি প্রায় দেড় কোটির মতো ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ যাবে। তবে পাল্টা প্রতিবাদে পথে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেসও। আগামী ২০২৬ সালে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বিহার নির্বাচনের ফলাফলকে সামনে রেখে বিজেপি যেমন ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছেন। তেমনই পাল্টা ছক প্রস্তুত করতে শুরু করে দিয়েছে তৃণমূলও। রাজনৈতিক চাপান উতোর যে বাড়তে শুরু করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিহারে গেরুয়া ঝড়, বাংলায় হুঙ্কার শুভেন্দু – সুকান্তদের

সমস্ত পূর্বাভাস, আশঙ্কাকে মিথ্যা প্রমাণিত করে বিহারে(Bihar Election) ফের গেরুয়া ঝড়। বিপুলভাবে জিতে এবার বিহারে সরকার গড়ার পথে এনডিএ-জোট(NDA)। এসআইআর পরবর্তী বিহার ভোটেই কার্যত বাজিমাত বিজেপি(BJP) এবং নীতিশ কুমারের(Nitish Kumar) জেডিইউ জোটের। এই ফল দেখার পরই হুঙ্কার বঙ্গ বিজেপির দুই প্রধান নেতা শুভেন্দু অধিকারি(Suvendu Adhikari) এবং সুকান্ত মজুমদারের(Sukanta Majundar)। বিহার, উড়িষ্যার পর এবং বাংলাতেও নাকি হতে চলেছে পালা বদল। আর এই নিয়েই ফের একবার উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। এসআইআর(SIR) এবারের নির্বাচনে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার প্রতিটা রাজনৈতিক দল গুলোর। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বঙ্গ রাজনীততে শুরু হয়ে গিয়েছে চাপানউতোর। পশ্চিমবঙ্গের আগেই বিহারে হয়েছিল এসআইআর। সেই নিয়েও কম সুর চড়ায়নি বিজেপি(BJP) বিরোধী দলগুলো। তাই এই বিহার নির্বাচন যে সকলের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এসআইআর পরবর্তী বিহার(Bihar Election) নির্বাচনে কার্যত ইতিহাস গড়তে চলেছে এনডিএ জোট। জেডিইউয়ের থেকে বেশি আসনে জয় পয়েছে বিজেপি। এটা দেখার পরই শুভেন্দু অধিকারির(Suvendu Adhikari) রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করে বিরাট বার্তা। শুভেন্দু অধিকারি বলেছেন, “বিহারের পর এবার বাংলা। এসআইআরের পর স্বচ্ছ ভোটার তালিকায় ভোট হবে। ২০২১ সালে নন্দীগ্রাম যেটা করেছে, ২০২৬ সালে গোটা বাংলায় দেখা যাবে সেই ছবি”। শুধুমাত্র শুভেন্দু অধিকারি নয়, একইরকমভাবে সুর চড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সম্পাদক সুকান্ত মজুমদারও(Sukanta Majumdar)। তাঁর তো স্পষ্ট কথা, অঙ্গ, কলিঙ্গ হয়ে গিয়েছে, এবার পালা বঙ্গ জয়ের। তিনি বলেন, “অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ। অর্থাৎ বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা। কলিঙ্গ মানে উড়িষ্যা জয় হয়ে গিয়েছে। অঙ্গ মানে বিহার জয় হয়ে গেল। এবার পালা বাংলার। বাংলার মানুষ নিশ্চই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। বিহারের মতো বাংলার মানুষও জঙ্গলরাজ থেকে মুক্তি পেতে চান”। এসআইআর পরবর্তী বিহারেই ছিল প্রথম নির্বাচন। সেখান এনডিএ জোট এবং বিজেপির এমন সাফল্য যে বঙ্গ বিজেপিকে বাড়তি অক্সিজেন যোগাচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আগামী ২০২৬ সালে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। সেখানে কী হয় সেটাই দেখার অপেক্ষায় সকলে।
মামলা জয়ী শুভেন্দু, মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজ হাই কোর্টের

নির্বাচনের আগেই শুভেন্দু অধিকারির(Suvendu Adhikari) কাছে হার বিধানসভা স্পিকার কথা তৃণমূল নেতা বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Biman Banerjee)। হাই কোর্টের রায়ে জয়ী হলেন শুভেন্দু অধিকারি(Suvendu Adhikari) ও অম্বিকা রায়(Ambika Roy)। নির্বাচনের আগে এই জয় যে শুভেন্দুকে বাড়তি অক্সিজেন যোগাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বৃহস্পতিবারই দল বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বিধায়ক পদ খোয়ালেন মুকুল রায়(Mukul Roy)। ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে এই প্রথমবার কেউ দল বিরোধী কাজের জন্য বিধায়ক পদ খোয়ালেন। মুকুল রায়(Mukul Roy) ২০২১ সালের জুন মাসে বিজেপি(BJP) থেকে তৃণমূলে(TMC) ফিরে গিয়েছিলেন। এরপরই তাঁকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্য হিসাবে নির্বাচিত করেছিলেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর সেই কমিটির চেয়ারম্যানও হয়েছিলেন মুকুল রায়। সেই সময়ই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ছিলেন বিরোধী দল নেতা শুভেন্দু অধিকারি(Suvendu Adhikari) এবং বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়। মুকুল রায়ের(Mukul Roy) বিরুদ্ধে দল বিরোধী কাজের অভিযোগ এনে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজেরই আবেদন করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারি। দীর্ঘদিন ধরেই এই মামলাটির শুনানি হচ্ছিল হাই কোর্টে। বর্তমানে মামলাটি যায় বিচারপতি দেবাংশু বসাক(Debangshu Basak) এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির(MD Shabbar Rashidi) ডিভিশন বেঞ্চে। বৃহস্পতিবার তারাই মুকুল রায়ের বিধায়র পদ খারিজের রায় দিয়েছেন। আর এই ঘটনাকে অনেকেই নির্বাচনের আগে বিজেপির নৈতিক জয় হিসাবেও দেখছেন। শুধুমাত্র তাই নয় শুভেন্দু অধিকারির নেতৃত্বাধীন বিজেপি যে নির্বাচনের আগে নতুন অস্ত্রও পেয়ে গেল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিন মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের পাশাপাশি, তাঁকে যে পিএসি কমিটির চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্তও ত্রুটিযুক্ত, তাও এদিনে খারিজ করে দিয়েছে দেবাংশু বসাক ও শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ।
SIR-এর নামে সুপার ইমার্জেন্সির চেষ্টাঃ কেন্দ্রকে তোপ মমতার

এসআইআর(SIR) নিয়ে এই মুহূর্তে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্য জুড়ে নির্বাচনের আগে থেকেই যেন তেতে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতির আসর। এবার উত্তরবঙ্গ স্টেডিয়াম থেকে ফের একবার বিজেপি(BJP) ও অমিত শাহের(Amit Shah) বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। এসআইআর নিয়ে কেন এত তাড়াহুড়ো তা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন মমতা। এমনকি অমিত শাহের ইস্তফাও দাবী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। গত সপ্তাহের চার নভেম্বর থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজ্যে এসআইআর(SIR)। সেই নিয়েই এখন কার্যত রাজনীতির উত্তাপের মাত্রা ক্রমশই চড়তে শুরু করেছে। যেদিন থেকে এসআইআর(SIR) শুরু হয়েছে, সেদিনই পথে নেমেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee), অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। এই মুহূ্র্তে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন মমতা। সেখানে প্রসাসনিক বৈঠক থেকেও অমিত শাহ সহ বিজেপিকে নিশানা করতে ছাড়লেন তিনি। মমতার সরাসরি অভিযোগ এসআইআরের নাম নিয়ে নাকি রাজ্যে সুপার ইমার্জেন্সি পরিস্থিতি তৈরি করার পরিকল্পনা চলছে। এই মুহূর্তে রাজ্যে জোরকদমে চলছে এসআইআর প্রক্রিয়া। শোনাযাচ্ছে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারিই নাক চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হতে পারে। খুব সম্ভবত তারপরই ঘোষণা হতে পারে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ। আর সেখানেই কেন এত তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে সেটা নিয়েই এবার সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।