ভোটার তালিকা থেকে বাদ লালু পুত্র!

স্পেশাল ইন্টেন্সিভ ইন রিসিভিশন বা এস আই আর নিয়ে ইতিমধ্যেই সংসদের ঘরে বাইরে প্রায় নিয়ম করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা, পাশাপাশি আগামী বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন দফতর ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছে ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলো। এরই মধ্যে বিহারে প্রকাশিত হয়েছে সংশোধিত ভোটার তালিকা। আর সেখানে রীতিমতো চমকে দেওয়ার মত বিষয় ঘটেছে। কি সেটা? সংশোধিত ভোটার তালিকায় নাম নেই বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী ও লালু প্রসাদ যাদবের পুত্র বর্তমান বিধায়ক তেজস্বী যাদবের নাম! আর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই বিস্ফোরক দাবি বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রীর। বিতর্কের মধ্যেও শুক্রবারই সংশোধিত ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করে কমিশন। আর তেজস্বীর অভিযোগ, এই সংশোধিত খসড়া তালিকায় নাকি তাঁর নামই নেই। আর কয়েক মাস পর বিহারের বিধানসভা নির্বাচন। এই প্রকাশিত সংশোধিত ভোটার খসড়া তালিকাতে নাম না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে গেল তেজস্বী যাদবের। লালুপুত্রর প্রশ্ন, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে তিনি নির্বাচনে লড়বেন কী করে? তেজস্বী জানান, তাঁর নামও সংশোধিত ভোটার তালিকার খসড়া থেকে বাদ পড়েছে। অথচ যথাযথ নথিপত্র জমা দিয়ে বিএলওর কাছে গিয়ে ফর্ম ভরেছিলেন তিনি। কিন্তু ইলেকটোরাল রোলে এপিক নম্বরে তাঁর নাম দেখা যাচ্ছে না নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে। তেজস্বী বলেন, “ভোটার তালিকায় আমার নাম না থাকলে কী করে ভোটে লড়ব?”
নির্বাচন কমিশনকে কড়া হুঁশিয়ারি সুপ্রিম কোর্টের

বিহারে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর(SIR)-এর বাদ পড়েছে প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম। যা নিয়ে রীতিমত উত্তাল দিল্লির রাজনীতি। সংসদ এবং সংসদের বাইরেও এই নিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিরোধীরা। এমনকী এসআইআর-এর নাম করে কেন্দ্রীয় সরকার এনআরসি(NRC) চালু করতে চাইছে বলে অভিযোগ তাদের। নির্বাচন কমিশনের গত ২৪ জুনের এসআইআর সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস’ সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগও জানিয়েছিল। তাদের দাবি, কমিশনের এই পদক্ষেপ সংবিধানের ১৪, ১৯, ২১, ৩২৫ এবং ৩২৬ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী এবং ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং ১৯৬০ সালের ভোটার রেজিস্ট্রেশন রুলসের অধীনে নির্ধারিত পদ্ধতি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের পক্ষে উপস্থিত সিনিয়র অ্যাডভোকেট কপিল সিব্বল এবং আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেন যে, ভোটার-আধার ও রেশন কার্ডের মতো জরুরি বিষয়কে এই সমীক্ষার অঙ্গ হিসাবে ধার্য্য করা হচ্ছে না। যদিও সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনকে এই বিষয়ে বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেছিল। কিন্তু শীর্ষ আদালত কোনও ভাবেই তাদের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াতে চায়নি। কিন্তু বিহারে অন্তত ১৫ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে মৃত বলে বাদ দেওয়া হলেও তাঁরা এখনও বেঁচে আছেন, এই অভিযোগ সামনে আসতেই নির্বাচন কমিশনকে কড়া হুঁশিয়ার দিয়ে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম বা ত্রুটি পাওয়া গেলে তারা হস্তক্ষেপ করতে দ্বিধা করবে না। এর আগে নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল যে বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের(SIR) পরে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে এবং তার প্রতিলিপি সমস্ত রাজনৈতিক দলকে দেওয়া হয়েছে। এমনকী তাদের ওয়েবসাইটেও আপলোড করা হয়েছে। কিন্তু এদিন আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আবারও অভিযোগ জানিয়েছেন, যে ১ অগস্ট নির্বাচন কমিশন যে খসড়া তালিকা প্রকাশ করবে তা থেকে মানুষকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারাচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, যে নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা এবং তাদের আইন অনুযায়ী কাজ করতে হবে এবং যদি কোনও অন্যায় ঘটে থাকে তবে আবেদনকারীরা এটি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন। ডিভিশন বেঞ্চের পক্ষ থেকে অভিযোগকারীদের স্পষ্ট জানানো হয়েছে, “যে ১৫ জনকে ওরা মৃত বলে দাবি করেছে, কিন্তু তারা বেঁচে আছে, তাদের আপনারা সামনে নিয়ে আসুন, আমরা ব্যবস্থা নেব।” সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আবেদনকারীদের এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়ার জন্য নোডাল অফিসার নিয়োগ করেছে। নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা পিটিশন বিবেচনার জন্য আগামী ১২ ও ১৩ অগস্ট সময়সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট। আবেদনকারীদের আগামী ৮ অগস্টের মধ্যে লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিন শীর্ষ আদালতে শুনানি শেষে আবেদনকারীদের পক্ষে উপস্থিত সিনিয়র অ্যাডভোকেট কপিল সিব্বল এবং আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ জানান, “কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়ায় যেভাবে বিহারে প্রায় ৬৫ লক্ষ মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে, তা গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন। আমরা এই বিষয়টাতে মহামান্য শীর্ষ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছি।”
এবার বিহারের বাসিন্দা হলেন সারমেয়

বিহারে এবার সরকারি ভাবে স্থায়ী বাসিন্দা হল এক সারমেয়। অবাক হলেন তো? না এটা রসিকতা নয়, এই মারাত্মক অভিযোগ তুললেন খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই স্থায়ী বসবাসকারীর শংসাপত্র যিনি পেলেন, তাঁর নাম ‘ডগ বাবু’। আর তাঁর পিতা ও মাতার যথাক্রমে ‘কুত্তা বাবু’ এবং মা ‘কুতিয়া দেবী’। আর এই ‘ডগ বাবু’ পাটনার কৌলিচকের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ওই সার্টিফিকেটে ছবি দেওয়া একটি কুকুরের। সম্প্রতি সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সেই শংসাপত্র। এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনকে তোপ তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।সোমবার সংসদের বাদল অধিবেশনে যোগ দিতে দিল্লি যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের নাম বাদ দিয়ে কুকুরের নামে রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। এই রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট এসআইআরের(SIR) ক্ষেত্রে কমিশন গ্রহণ করছে। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিয়ে কুকুরের নামে ফেক ভোটার আইডি কার্ড করেছে যাতে ভোটলুট করে বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া যায়। এই ঘটনা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।” নির্বাচন কমিশন ‘বিজেপির তল্পিবাহক’-এর মতো কাজ করছে বলেই কটাক্ষ করেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। ‘ডগ বাবু’র রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট নিয়ে বিহারেও চলছে জোর কাটাছেঁড়া।