রবি ঠাকুরকে বুকে ধরে প্রতিবাদে তৃণমূল সাংসদরা

সুমন গাঙ্গুলী: এ যেন দ্বিতীয় ভাষার লড়াই। ২১ জুলাই মঞ্চ থেকে যে ডাক তৃণমূল সুপ্রিমো দিয়েছিলেন তারপর থেকে ঘরে – বাইরে নিজের ভাষা আর সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে বাংলার রাজপথ থেকে দিল্লী পর্যন্ত এই ভাষার লড়াই। ইতিমধ্যে বোলপুর আর ঝাড়গ্রামে এই ভাষা রক্ষার লড়াই তে নেতৃত্ব দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাতে রবীন্দ্র নাথ, নজরুল, বিদ্যাসাগর, আর গলায় বাংলা গান – না এ লড়াইয়ে কোনো অস্ত্র নেই, নেই গোলা বারুদ, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বাঙালীর এ লড়াইয়ের বুলেট এক ও একমাত্র – “আ মরি বাংলা ভাষা।” বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতির উপর গোটা দেশজুড়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে যেভাবে আঘাত আসছে তার প্রতিবাদে রবি ঠাকুরের গানকে সম্বল করে ঠিক এভাবেই বিরোধীতা তৃণমূল সাংসদদের। যে বাংলার উপর বারবার আঘাত আসছে বলে অভিযোগ ডান বাম সমস্ত রাজনৈতিক দলের দিল্লির বুকে দাঁড়িয়ে সেই বাংলার গান জয় বাংলা স্লোগান দিয়েই বাংলার অপমানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুর চড়ালেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত তৃণমূলে বাঙালি সাংসদরা। না জমি ছাড়া নয়, বরং রবি ঠাকুর আর নজরুলের গানে ছিনিয়ে আনা হোক বাংলার অধিকার বাংলার সম্মান।
বাংলার অপমান নিয়ে জোড়া ফুলের পাশে হাত শিবির

বাংলা ও বাঙালির উপর অত্যাচার ও অপমান ইস্যুতে এবার কংগ্রেসকে পাশে পেল জোড়াফুল শিবির। ইতিমধ্যে এই নিয়ে সংসদে শুরু থেকেই প্রতিবাদ করে আসছে তৃণমূল। আর তৃণমূল নয়, এই ইস্যুতে লোকসভা এবং রাজ্যসভা দুই কক্ষেই মুলতুবি প্রস্তাব জমা দিল রাহুল গান্ধীর দল। মঙ্গলবারই বৈঠকের পর তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ মতো তৃণমূলের লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদরা সংসদ চত্বরে মকরদ্বারের সামনে তুমুল প্রতিবাদ জানান।বৃহস্পতিবারও সংসদে এই ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে শুধু তৃণমূল নয়, এবার এই ইস্যুতে তৃণমূলের পাশে দাঁড়াচ্ছে কংগ্রেসও। তার প্রথম ধাপ হিসেবে দুই কক্ষে মুলতুবির নোটিস দিয়েছে কংগ্রেস। সূত্রের খবর, এই ইস্যুতে তৃণমূলের পাশাপাশি বিজেপিকে নিশানা করতে চাইছে কংগ্রেসও। এই ইস্যুতে তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে চাইছে হাত শিবির।বৃহস্পতিবার রাতেই রাহুল গান্ধীর ডাকা নৈশভোজে উপস্থিত থাকবেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে বাংলা ভাষা আন্দোলনের ডাক প্রসেনজিতের

কয়েকদিন আগে তাঁকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। একটি হিন্দি সিনেমার প্রিমিয়ারে সাংবাদিক সম্মেলনে একটি বাংলা দৈনিকের সাংবাদিক বাংলায় প্রশ্ন করায় রীতিমত সেই সাংবাদিককে “কেন বাংলায় প্রশ্ন করছেন?” তা নিয়ে প্রশ্ন করেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। যা নিয়ে তোলপাড় হয় নেটপাড়া। ট্রোলড হতে হয় টলিউডের সুপারস্টারকে। এবার ভিন রাজ্যে বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালিদের উপর নির্যাতনের মত ঘটনায় নতুন করে ভাষা আন্দোলনে নামার কথা বললেন প্রসেনজিৎ। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ভাষা আন্দোলনের বার্তা দিয়েছিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী বীরভূমের মাটি থেকে বিশাল মিছিল করে এই আন্দোলনের ভিত্তিপ্রস্থও গড়ে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সোমবার বাংলা ভাষা রক্ষার দাবিতে তিনি বলেন, “বাংলা ভাষা ছিল, আছে, থাকবে। মুখ্যমন্ত্রীর পাশে আছি। লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।” এর আগে বাংলায় কথা বললেই নির্যাতনের ঘটনায় সরব হয়েছিলেন রূপম ইসলাম। রবিবার এই নিয়ে এক বিস্ফোরক পোস্ট করেন তিনিও। এবার এই আন্দোলনের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।