মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার অস্বস্তি আরও বাড়ল

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত ৬ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন চন্দ্রনাথ সিনহা (Chandranath Sinha)। তারপর আদালত থেকে অন্তর্বর্তী জামিনে ছাড়া পান তিনি। আজ অর্থাৎ শনিবার ফের নিয়োগ দুর্নীতি মামলার শুনানিতে আদালতে হাজিরা দিতে হবে তাঁকে। অন্যদিকে মন্ত্রীকে নিজেদের হেফাজতে পেতে মরিয়া কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি(ED)। সেকারণেই আজ আদালতে ইডির (ED) তরফ থেকে জোর সওয়াল করা হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। এমনকী মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গত শুক্রবার ইডি (ED) আধিকারিকরা তাঁর গ্রামের বাড়ি বীরভূমের মুরারইয়ের একটি কিষাণমাণ্ডিতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে ইডি (ED) আধিকারিকরা বেশ কিছু নথিপত্র উদ্ধার করে বলেই সূত্রের খবর। ফলে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাকে (Chandranath Sinha) যে গ্রেফতার করতে জাল গুটাচ্ছে ইডি (ED) আধিকারিকরা তা একপ্রকার স্পষ্ট। তৃণমূলের বহিষ্কৃত যুবনেতা কুন্তল ঘোষের জবানবন্দি থেকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় উঠে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার নাম। এরপরই ইডি আধিকারিকরা মন্ত্রীর ব্যাঙ্কিং নথিপত্রের উপর নজরদারি চালাতে শুরু করেন। ইডি আধিকারিকদের মতে প্রায় ১৫৯ জন চাকরিপ্রার্থীর থেকে গড়ে ৮ লক্ষ টাকা করে নিয়েছিলেন মন্ত্রী, যার মোট অর্থমূল্য ১২.৭২ কোটি টাকার মতো। সেই বিপুল পরিমাণ টাকার হদিস পেতেই মারিয়া ইডি আধিকারিকরা। সেইসব নথিপত্র জোগাড় করতেই গত শুক্রবার বীরভূমের মুরারইয়ে এক কৃষকমাণ্ডিতে হানা দেয় ইডির অফিসাররা। সেখানে দীর্ঘ তল্লাশিতে ইডির হাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এসেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তার ভিত্তিতেই আজ আদালতে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার দাবি জানাতে পারে ইডির তরফের আইনজীবীরা। তবে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার বিষয়ে নতুন কী নথিপত্র আজ আদালতে পেশ করেন ইডি আধিকারিকরা সেটাই দেখার।
অবশেষে গ্রেফতার বিজেপি নেতা রাকেশ সিং

গত সপ্তাহেই প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতর বিধান ভবনে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি ভাঙচুরও চালায় একদল বিজেপি সমর্থক। এমনকী রাহুল গান্ধীর ছবিতে লেপে দেওয়া হয় কালি। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রাকেশ সিং ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে এন্টালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে কংগ্রেস। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এর আগে বিজেপির ৩ জন কর্মী ও রাকেশ সিংয়ের এক অনুগামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এমনকী সোমবার সকালে গ্রেফতার করা হয় রাকেশ সিংয়ের ছেলে শিবম সিংকে। কিন্তু রাকেশের সন্ধান পাচ্ছিল না কলকাতা পুলিশ। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিও পোস্ট করতে দেখা যায় এই বিজেপি নেতাকে। সেই সূত্র ধরেই মঙ্গলবার গভীর রাতে ট্যাংরার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাত ২টা নাগাদ ট্যাংরার ওই ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে রাকেশকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একনকী পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে গাড়িতে তোলার সময়ও তাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামে শ্লোগান তুলতে দেখা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায়সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বিজেপি নেতা রাকেশ সিং সোস্যাল মিডিয়াতে রীতিমত সক্রিয়। সম্প্রতি তাঁকে সোস্যাল মিডিয়ায় রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করে ভিডিও বানাতেও দেখা গেছে। কেননা গত সপ্তাহে বিহারে ভোটার অধিকার যাত্রা থেকে রাহুল গান্ধী নাকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রয়াত মাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন। তারই পাল্টা প্রতিবাদে রাকেশ সিংয়ের নেতৃত্বে বিজেপি সমর্থকরা গত সপ্তাহে বিধান ভবনে প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতর ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। এমনকী সে সময় তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় দফতর ভাঙচুর এবং রাহুল গান্ধীর ছবিতে কালি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বিজেপি নেতা রাকেশ সিংকে অবশেষে গ্রেফতার করল পুলিশ।
ভারতে অনুপ্রবেশের সময় বিএসএফের হাতে ধরা পড়ল শেখ হাসিনা সরকারের সেনা সচিব

গত বছরের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের ফলে ভারতে পালিয়ে আসেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর বাংলাদেশের শাসনভার গ্রহণ করেন মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ইউনূস আসার পর থেকেই বাংলাদেশে আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার সব রকম তৎপরতা চালায়। একনকী হাসিনার পাশাপাশি জনরোষের হাত থেকে বাঁচতে আওয়ামী লিগের অনেক উচ্চপদস্থ নেতারাও লুকিয়ে আশ্রয় নেন ভারতে। এবার শেখ হাসিনা সরকারের সেনা আধিকারিকের ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা। গত শনিবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে তিনি ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করার সময় বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের সেনাবাহিনীর এক সময়ের সচিব আফরুজ্জামান এসিপি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের দায়িত্বে ছিলেন। ইউনূস সরকার আসার পরে সাতক্ষীরা জেলায় আত্মগোপন করে ছিলেন শেখ হাসিনা সরকারের এই উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিক। বেশ কয়েকদিন ধরেই বাংলার আকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা। রাজ্যজুড়ে নাগাড়ে বৃষ্টি চলছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে আফরুজ্জামান গত শনিবার রাতে বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থানার ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তের হাকিমপুর চেকপোস্ট দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করেন। আফরুজ্জামান ভারতে প্রবেশের সময়ই ১৪৩ নম্বর ব্যাটেলিয়নের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা আটক করে তাঁকে। তারপর তাঁকে স্বরূপনগর থানার পুলিশ হাতে তুলে দেওয়া হয়। আফরুজ্জামানের কাছ থেকে বেশকিছু নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে। সেই সমস্ত নথিপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে ভারতের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের হাতে। বিএসএফ ও পুলিশের তরফ থেকে যৌথভাবে রাজ্যের উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের পুরো ঘটনাটি লিখিতভাবে জানানো হয়। এমনকী ভারতের হাই কমিশনারের পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টিই জানানো হয়েছে বাংলাদেশ হাই কমিশনারকে। বাংলাদেশের সচিবকে আপাতত রাখা হয়েছে স্বরূপনগর থানায়। রবিবার তাঁকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। এনআই সূত্রে জানা যাচ্ছে, ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের হাইকমিশনারের মধ্য তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ইউনূস সরকারের হাতে তাঁর জীবন সুরক্ষিত নয়, সেই কারণেই বাংলাদেশে দীর্ঘ কয়েক মাস সীমান্তবর্তী এলাকায় আত্মগোপন করে ছিলেন আফরুজ্জামান। শনিবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে ঢোকার সময়ই বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন তিনি।
পাকিস্তানের গুপ্তচর সন্দেহে গ্রেফতার DRDO গেস্ট হাউসের ম্যানেজার

আবারও রাজস্থানের সিআইডি গোয়েন্দা সংস্থা গ্রেফতার পাকিস্তানী গুপ্তচর। মঙ্গলবার জয়সলমীরের চন্দন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জের কাছে অবস্থিত ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (DRDO) গেস্ট হাউস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই গেস্ট হাউসেরই চুক্তিভিত্তিক ম্যানেজার ছিল মহেন্দ্র প্রসাদ নামে বছর ৩২-এর ওই যুবক। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মহেন্দ্র প্রসাদ সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে ভারত সম্পর্কে গোপনীয় তথ্য পাচার করত বলেই অভিযোগ। তার বাড়ি উত্তরাখণ্ডের আলমোড়ার পালিয়ুঁতে। উল্লেখ্য, গত জুনেও পাক গুপ্তচর সন্দেহে বিশাল যাদব নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল রাজস্থান সিআইডি। দিল্লিতে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলেন তাকে। তার বিরুদ্ধেও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগ ছিল। এমনকী অপারেশন সিঁদুরের সময়েও সে পাকিস্তানে তথ্য পাচার করেছিল। রাজস্থানের সিআইডি-র সূত্রে জানানো হয়েছে, বেশ কিছু দিন ধরেই ওই ম্যানেজারের গতিবিধির উপর নজর রাখছিল তারা। সিআইডি-র কাছে খবর ছিল, ভারতে আবারও নাশকতার ছক কষছে জঙ্গিরা। সে বিষয়ে নজরদারির সময়ই মহেন্দ্রর গতিবিধি সন্দেহজনক ঠেকে পুলিশের কাছে। তখনই ট্র্যাক করা শুরু হয় তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট। সেখান থেকে সিআইডি জানতে পারে পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ওই ব্যক্তি। রাজস্থান পুলিশের সিআইডি-র আইজি বিষ্ণুকান্ত জানান, “স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের আগে সর্বত্র কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। রাজস্থান সিআইডি ইন্টেলিজেন্স দেশবিরোধী এবং নাশকতামূলক কার্যকলাপ নিয়ে সতর্ক গোয়েন্দারাও। তা রুখতে চারিদিকে চলছে কড়া নজরদারি। সেই সময়েই, ডিআরডিও গেস্ট হাউসের ওই চুক্তিভিত্তিক কর্মী মহেন্দ্র প্রসাদের সম্পর্কে সন্দেহজনক তথ্য মেলে। তদন্তের পরই গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।” মহেন্দ্রর বিরুদ্ধে DRDO-র বিজ্ঞানী ও সেনাবাহিনীর কর্তারা কখন কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে কী কথা বলছেন সেই সব তথ্য পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের জানিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক জেরায় মহেন্দ্রর থেকে আরও অনেক তথ্যই জানতে পেরেছেন রাজস্থান সিআইডি-র অফিসাররা।