আইসিকে কটুক্তি করেছিলেন অনুব্রত, সেই লিটনই বদলি জলপাইগুড়িতে

কয়েকমাস আগেই যে আইসিকে কটুক্তি করার অডিও অনুব্রত মণ্ডলের(Anubrata Mondal) ভাইরাল হয়েছিল, সেই আইসিকেই(IC) এবার সরানো হল বোলপুর(Bolpur) থেকে। তবে শুধুমাত্র তাঁকে নয়, রাজ্যে পুলিশের পদে বড়সড় রদবদল ঘটানো হল এবার। ১৬৮ জন পুলিশ কর্তাকে বদল করা হয়েছে। সেই তালিকাতেই নাম রয়েছে বোলপুর থানার আইসি লিটন দাসের(Liton Das)। বোলপুর থেকে জলপাইগুড়িতে বদল করা হয়েছে তাঁকে। বেশ কয়েকমাস আগেই হঠাৎ করে খবরের শিরোনামে চলে এসেছিলেন অনুব্রুত মণ্ডল(Anubrata Mondal)। তাঁর গালি গালাজ দেওয়া একটি অডিও ভাইরাল হয়েছিল। সেখানেই শোনা গিয়েছিল যে বোলপুর থানার আইসি লিটন দাসকে(Liton Das) উদ্দেশ্য করে নানা খারাপ মন্তব্য করছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। সেই ঘটনা বঙ্গ রাজনীতি মহলে বেশ হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল। এবার সেই লিটন দাসই(Liton Das) বদলি হয়ে গেল। তবে তাঁর জায়গায় বোলপুরের নতুন আইসি হয়ে কে আসছেন তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। বুধবার রাতে রাজ্য পুলিশের তরফ থেকে এক তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানেই ঝাড়গ্রাম থেকে বোলপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ কর্তাদের বদলি করা হয়েছে। সেই তালিকাতে একসময় চর্চায় থাকা লিটন দাসের নামও রয়েছে। এটা দেখার পর থেকেই যে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
SIR নিয়ে বীরভূমে প্রকাশ্য সভায় বিতর্কিত মন্তব্য অনুব্রতর

রাজ্যে SIR চলাকালীনই তৃণমূলের প্রকাশ্য সভায় দাঁড়িয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে বিতর্ক বাড়ালেন তৃণমূলের বীরভূম জেলার সাংগঠনিক সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। বৃহস্পতিবার বীরভূমের বোলপুরে ভোট সুরক্ষা সভা ঘিরে ফের বিতর্কে অনুব্রত মণ্ডল। সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “SIR নিয়ে ভয়ের কিছু নেই, আমাদের লোকেরা আছে ঠিক ভোটার লিস্টে নাম ঢুকিয়ে দেবে।” তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। কারণ বর্তমানে দেশের ১২টি রাজ্যে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (National Election Commission) তত্ত্বাবধানে চলছে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া— যেখানে দলীয় প্রভাবের কোনও সুযোগ নেই বলেই দাবি কমিশনের। সেখানে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতার এই বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। অনুব্রত এদিন আরও বলেন, এনআরসি নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, কারণ “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, কাউকে জেলে যেতে হবে না।” তিনি এও উল্লেখ করেন, আসামে এনআরসি(NRC)-র সময় অধিকাংশ বাদ পড়া মানুষ হিন্দু, তাই বিভ্রান্তিতে না পড়ার বার্তাও দেন ভোটারদের। অনুব্রতর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল প্রশ্ন তোলেন— “কিভাবে কোনও দলের লোক ভোটার লিস্টে নাম তুলতে পারে? এটিই প্রমাণ করছে বিএলও(BLO)-দের প্রভাবিত করার অভিযোগ সত্য।” রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে ১৩ লক্ষ ২৫ হাজার ভুয়ো ভোটারের তালিকা জমা দিয়েছেন। এই পটভূমিতেই অনুব্রত মণ্ডলের এই মন্তব্য যে রাজ্য রাজনীতিতে আরও বিতর্ক বাড়াবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
পুজোয় খোশমেজাজে অনুব্রত মণ্ডল, তুললেন মেয়ের সঙ্গে সেলফিও

মহাষষ্ঠীতে গ্রামের প্রাচীন পুজোয় অনুব্রত মণ্ডল, কন্যার সঙ্গে সেলফি তোলায় মাতোয়ারা গ্রামবাসী। মহাষষ্ঠীর দিন নিজের গ্রামের শতাব্দী প্রাচীন দুর্গাপুজোর তদারকিতে হাজির হলেন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সঙ্গে ছিলেন মেয়ে সুকন্যা মণ্ডল। প্রতিমার গয়না পরানোর কাজ দেখেন তিনি, আর সেই মুহূর্তে মেয়ের সঙ্গে সেলফি তুলে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন। নানুরের হাটসেরান্দি গ্রামের এই পুজো প্রায় ১৪০–১৫০ বছরের পুরনো। মণ্ডল বাড়ির এই ঐতিহ্যবাহী পুজো বহু দশক ধরে ‘অনুব্রত মণ্ডলের গ্রামের পুজো’ নামেই পরিচিত। স্থানীয়দের কাছে তিনি এখনও পরিচিত ‘কেষ্ট মোড়ল’ নামে। এদিন পুজোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনুব্রত বলেন, “ছোটবেলায় এখানে এলে রাস্তাঘাট কাদামাটি ছিল। পুজোর দিনে বৃষ্টিতে পড়ে যেতাম, জামাকাপড় ভিজত, আর কাঁদতাম। কিন্তু তখন এক আলাদা আনন্দ ছিল। দাদুরা পাঁচ ভাই ছিলেন, এই পুজো তাঁদের থেকেই শুরু।” গ্রামজুড়ে নানা ধরনের পুজো থাকলেও মণ্ডল বাড়ির আয়োজন আলাদা আকর্ষণ। মহাষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত চলে ভুরিভোজ, জমজমাট আয়োজন, রাজনৈতিক নেতা–মন্ত্রীদের আগমন ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। এবছরও সেই আয়োজন চোখে পড়েছে। গরু পাচার মামলা ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় দুই বছর কারাবন্দি থাকার পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জামিনে মুক্তি পান অনুব্রত মণ্ডল। ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সান্নিধ্যে তিনি জেলা কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন। তার পর থেকেই গ্রামের পুজোয় ফিরেছে পুরনো জৌলুস। এবছর তাই গ্রামবাসীদের কাছে অনুব্রতের উপস্থিতি যেন এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁকে ঘিরে তাই গ্রামবাসীদের উচ্ছ্বাসও তুঙ্গে।
আবারও স্বমহিমায় ফিরলেন বীরভূমের কেষ্ট, দিলেন ধিক্কার মিছিলের ডাক

গত মাসের শেষ সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূম সফরে গিয়ে দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল সহ একাধিক নেতার নাম ধরেই এসআইআর-এ যেন কোনও ভোটারের নাম অনৈতিক ভাবে কাটা না হয় তার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমনকী প্রয়োজনে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার ইঙ্গিত ছিল সেই বার্তায়। দলের সুপ্রিমোর কাছ থেকে সবুজ সংকেত মিলতেই আবারও আসরে বীরভূমের কেষ্ট। তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক পদে বসেই আবারও সেই চেনা ছন্দে ফিরলেন তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল। এমনকী কোর কমিটির বৈঠক থেকেই সোমবার জেলা জুড়ে ধিক্কার মিছিলের ডাক দেন। শনিবার সিউড়িতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিতে কালি লাগানোকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছিল সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এই ঘটনায় সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “আমরা যখন বিরোধী ছিলাম তখন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে কালি লাগানোর মতো ঘটনা ঘটেনি। কারণ এটা তৃণমূলের রাজনৈতিক শিক্ষা নয়। আজ বিজেপির আমলে এমন কাণ্ড ঘটছে। এটা সভ্যতা নয়, রাজনীতি নয়— এটা অপসংস্কৃতি।” কোর কমিটির বৈঠক থেকেই এই ঘটনার বিরুদ্ধে কর্মসূচি রূপায়ণের রূপরেখাও তৈরি করে দেন অনুব্রত। এই ধিক্কার মিছিলে নিজে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি। কোর কমিটির বৈঠকে এদিন হাজির ছিলেন সাংসদ শতাব্দী রায়, জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি কাজল শেখ সহ ৯ সদস্য। দলীয় কাজে ব্যস্ত থাকায় এদিন থাকতে পারেননি মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ। তবে শুধুমাত্র ধিক্কার মিছিলই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনে ‘ভাষা আন্দোলন’ ঘিরে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে ব্লক স্তরে। বীরভূমে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক রাশ আবারও যে নিজের হাতে তুলে নিতে মরিয়া কেষ্ট, রবিবারের বৈঠকে তার সক্রিয় ভূমিকা যেন সেই ইঙ্গিতই দিল।
‘এনআরসি হতে দেব না’— ফের হুংকার মমতার

ইলামবাজার থেকে দলীয় নেতৃত্বকে এসআইআর রুখতে সরেজমিনে নামার নির্দেশ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বীরভূমের ইলামবাজারে সরকারি সভা থেকে অনুব্রত মণ্ডল-কাজল শেখদের ময়দানে নামার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। লক্ষ্য একটাই এই প্রক্রিয়ায় ন্যায্য ভোটারের নাম যেন বাদ না পড়ে। আর স্ব-শরীরে এলাকায় গিয়ে তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বীরভূমের ইলামবাজারে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে এদিন যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। জয়দেব সেতু সহ একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সরকারি অনুষ্ঠানের মাঝে হঠাৎ করেই ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালিদের উপর নির্যাতন এবং কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “অসম, ওড়িশা, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ সহ সমস্ত ডবল ইঞ্জিন সরকার অর্থাৎ বিজেপি শাসিত রাজ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে বাঙালিদের উপর অত্যাচার হচ্ছে। আসলে বাংলায় প্রতিভা, পরিশ্রমের সঙ্গে পেরে উঠছে না বলে এত অত্যাচার। হিংসার তো কোনও ওষুধ নেই। যাঁরা ওই সব রাজ্যে কাজ করেন, তাঁরা দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে সেখানে কাজ করছেন। সব বৈধ নথি রয়েছে। তা সত্ত্বেও ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখা হচ্ছে, থানায় ঘোরানো হচ্ছে। আমি বলছি, তাঁরা সবাই ফিরে আসুক। চাইলে রাজ্য সরকার গাড়িভাড়াও দেবে। তারপরই বোঝা যাবে, কে সত্যি বলছে, কে মিথ্যে।” তিনি থাকতে যে বাংলায় এনআরসি হতে দেবেন না, বলে স্পষ্ট করে দিয়ে মমতার বার্তা, “সবাই নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তুলবেন। আসল লোকের নাম যেন বাদ না যায়। এভাবে এনআরসি চালুর ষড়যন্ত্র চলছে। অসমেও হয়েছে, বাংলাতেও ওরা চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রাণ থাকতে আমরা এনআরসি হতে দেব না, রুখে দেব। কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেলে প্রতিবাদ করবেন, বিএলও-কে বলবেন। বলবেন, এটা আপনার সাংবিধানিক অধিকার, আপনার রক্ষাকবচ। যেসব সংখ্যালঘুরা বাইরে কাজ করেন, তাঁরাও নাম তুলুন।” এরপরই অনুব্রত মণ্ডল, কাজল শেখ, শতাব্দী রায় সহ জেলার সকল নেতাকে নিজের নিজের এলাকায় নজরদারির নির্দেশ দেন মমতা।