২১শে জুলাই ধর্মতলায় তৃণমূলের সভা, ভিড় এড়াতে কোন রাস্তায় যাবেন

আজ ২১শে জুলাই ধর্মতলায় তৃণমূলের শহীদ সমাবেশ। ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের এই মেগা ইভেন্ট ঘিরে যে কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক জমায়েত হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মীরা আসতে শুরু করে দিয়েছেন। যদিও এই সমাবেশ ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টের তরফ থেকে একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষের এই ভিড়ে নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কলকাতা পুলিশের কাছে। কলকাতা পুলিশের তরফ থেকেও যা ব্যবস্থা নেওয়ার ইতিপূর্বেই তা নেওয়া। জারি হয়েছে একাধিক বিধিনিষেধ। কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মার নেতৃত্বে সকাল থেকেই সক্রিয় পুলিশ। অন্যদিকে আজকে সপ্তাহের প্রথম দিন হওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হতে পারে সাধারণ মানুষ। অফিসযাত্রী থেকে স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা তাই স্বাভাবিক ভাবেই ধন্দে আছেন কোথায় জ্যামের কবলে পড়তে হয় এটা ভেবে। যদিও এই হেভিওয়েট সভা ঘিরে বিপুল মানুষের সমাবেশে ভিড় এড়ানোটা সত্যি চাপের। তবু জেনে নেওয়া ভালো কোন কোন রাস্তায় আজ ভুলে পা দেবেন না। আজ শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট সাতটি বড় মিছিল রওনা দেবে ধর্মতলার উদ্দেশে। শ্যামবাজার মোড়, হাজরা পার্ক, হেদুয়া পার্ক, পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট, হাওড়া, শিয়ালদহ ও কলকাতা স্টেশন থেকে একে একে শুরু হবে মিছিল। শ্যামবাজার মোড় থেকে শুরু হওয়া মিছিল এগোবে বিধান সরণি, কলেজ স্ট্রিট, এনসি স্ট্রিট, জিসি অ্যাভিনিউ, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ হয়ে ধর্মতলায় পৌঁছবে। হাজরা পার্কের মিছিল যাবে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড, এক্সাইড মোড়, জেএন রোড ধরে ধর্মতলায়। অন্যদিকে পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট থেকে মিছিল এগোবে পার্ক স্ট্রিট, মল্লিকবাজার, এজেসি বোস রোড, মৌলালি মোড়, এসএন ব্যানার্জি রোড হয়ে সভাস্থলের দিকে। এই রাস্তাগুলি ছাড়া শহরের বাকি রাস্তায় তেমন যানজটের আশঙ্কা নেই। দিনের বেশ কিছুটা সময় ট্রাক ও ভারী যান চলবে না শহরে। ফলে মিছিল ধর্মতলায় পৌঁছে গেলে, মোটের উপর রাস্তা ফাঁকাই থাকবে।
আবারও বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ। নাম না করে শুভেন্দুকে খোঁচা

আবারও বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ। ২১শে জুলাই নিজের খাস তালুক খড়গপুর শহীদ শ্রদ্ধাঞ্জলি দিবস পালনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রীতিমত বোমা ফাটালেন বিজেপির প্রাক্তন এই রাজ্য সভাপতি। বেশ কিছু বছর ধরে দলে কোণঠাসা তিনি। বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে তাঁর জন্যও চেয়ারও বরাদ্দ থাকে না বলে কয়েকদিন আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছিলেন তিনি। এমনকী বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের শুভেচ্ছাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ডাক পাননি দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাতেও। এরপরই দিলীপ ঘোষের তৃণমূলের ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে যোগদান নিয়ে রহস্য ক্রমশ দানা বাঁধে বিজেপির অন্দর এবং বাইরে। দিলীপ ঘোষ নিজেও কিছুটা সাসপেন্স রেখে বলেছিলেন তিনি ২১শে জুলাই কোনও না কোনও সভায় থাকবেন। এরপরেই জল্পনা আরও বাড়ে। আজ খড়গপুরে বিজেপির শহীদ শ্রদ্ধাঞ্জলি সভায় যোগ দিয়ে, নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীকে একহাত নিলেন দিলীপ ঘোষ। গেরুয়া শিবিরের এই প্রাক্তন সাংসদ কড়া ভাষায় জানিয়ে দিলেন, “আমি কি ঘেয়ো কুকুর নাকি যে সকাল-সন্ধ্যা এ বাড়ি, ওই বাড়ি ঘুরে বেড়াব? যারা নিজেরা এই দল, ওই দল ঘুরে বেড়ায়, তারা এই ধরনের প্রচার করে। বিজেপি কর্মীরা বিক্রি হন না। মারলে রাজ্য ছাড়া হতে পারে, কিন্তু ঝান্ডা ছাড়া নয়।” ধর্মতলায় তৃণমূলের ২১শে জুলাইয়ের শহীদ দিবসের পাল্টা হিসাবে ‘শহীদ শ্রদ্ধাঞ্জলি’র ডাক দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক বছরে তৃণমূলের রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছে বিজেপির কয়েকশো কর্মী-সমর্থক। প্রয়াত সেইসব বিজেপি কর্মীদের স্মরণে আজ জেলায় জেলায় কর্মসূচি পালন করছে গেরুয়া শিবির। আজ খড়গপুরের সভা থেকে তৃণমূলকে পাল্টা কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি দিলীপ ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট দাবি, “বিজেপি ২১শে জুলাই ‘শহীদ শ্রদ্ধাঞ্জলি’ সভা করছে এটা কি কোনও চমক নয়? তৃণমূল তো এতদিন এই দিনটাকে নিজেদের একটা বাৎসরিক অনুষ্ঠানে পরিণত করে ফেলেছে। পিকনিকের আবহে ডিম-ভাতের প্রোগ্রাম চলে। কিন্তু আমরা মনে করি, শহীদ তো আমাদের কর্মী-সমর্থকরা হয়েছে। যে শহীদদের নিয়ে তৃণমূলের এত নাটক, তারা তো কংগ্রেসের। তৃণমূলের সঙ্গে ওদের কী সম্পর্ক? বিজেপির বহু কর্মী এই বাংলায় রাজনৈতিক লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন। তাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতেই আজকের সভা। তবে আমার মনে হয় তৃণমূল এবার নিজেরাই শহীদ হয়ে যাবে।”
২১শে জুলাই কোন সভায় দিলীপ ঘোষ?

রাত পোহালেই ধর্মতলায় তৃণমূলের ২১শে জুলাইয়ের শহীদ সমাবেশ। এই সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রী ছাড়াও বিভিন্ন জেলার অগণিত কর্মী-সমর্থকরা। যাকে ঘিরে সকাল থেকেই সাজো সাজো রব। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলা থেকে ভিড় জমাতে শুরু করেছে তৃণমূলের জেলা স্তরের কর্মী-সমর্থকরা। অন্যদিকে, রবিবার সন্ধ্যেবেলা ধর্মতলায় ২১ শে জুলাইয়ের মঞ্চ পরিদর্শনে যান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী তারও আগে সভাস্থল ঘুরে দেখেন বোলপুরের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করতে এদিন লালবাজারের একাধিক পুলিশ আধিকারিক সকাল থেকে দফায় দফায় ভিজিট করেন ধর্মতলায়। সব মিলিয়ে গোটা বাংলার চোখ যে আগামীকালের সমাবেশের দিকে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কেননা ২০২৬শে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে স্বাভাবিকভাবেই বঙ্গ রাজনীতিতে শাসক দলের এই সভা তৃণমূলের কাছে সাধারণ মানুষের জনসমর্থন আদায়ের অন্যতম হাতিয়ার বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে, ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের এই সভা ঘিরে নানা রহস্যও দানা বাঁধছিল বঙ্গ বিজেপির অন্দরে। তার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কেননা নিজের দলে দিলীপ ঘোষ কোণঠাসা হওয়ার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে দীঘাতে জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করে। এমনকী বঙ্গ বিজেপি যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনায় ব্যস্ত তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে প্রশংসার সুরও শোনা গেছে দিলীপ ঘোষের গলায়। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, তাহলে কি দিলীপ ঘোষ তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন? ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি নিয়েও ক্রমশ রহস্য বাড়ছিল। আর সেই রহস্যকে নিজেই আরও দীর্ঘায়িত করতে চাইছিলেন দিলীপ ঘোষ নিজে সাংবাদিকদের সামনে বারবারই, “২১শে জুলাই কোনও না কোনও মঞ্চে তাকে দেখা” বলায়। অন্যদিকে ২১শে জুলাই তৃণমূলের পাল্টা বিজেপিরও কর্মসূচি রয়েছে। শিলিগুড়িতে উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক দিয়েছে বিজেপি যুব মোর্চা, সেখানে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে থাকবেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সেখানে যে দিলীপ ঘোষ থাকবেন না তা একপ্রকার পরিষ্কার। তবে ২১শে জুলাই দিলীপ ঘোষ কোথায় থাকবেন? রবিবারও সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, “২১শে জুলাইয়ের দিনই বোঝা যাবে আমি কোথায় কোন মঞ্চে থাকব”। অন্যদিকে, ২১শে জুলাই খড়্গপুরেও রয়েছে ‘শহিদ শ্রদ্ধাঞ্জলী সভা’। তৃণমূলের হাতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রায় আড়াইশোর বেশি কর্মী-সমর্থক খুন হয়েছেন। সেই প্রয়াত শহিদদের স্মরণেই সোমবার খড়গপুরের ওই সভার আয়োজন। সম্ভবত আগামীকাল সেখানেই হাজির থাকবেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
২১ শে জুলাই যাওয়ার পথে বাসে উদ্দাম নাচ, জলঙ্গি যুব নেতার লাইভ ঘিরে বিতর্ক

আগামীকাল, অর্থাৎ সোমবার ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২১শে জুলাইয়ের শহীদ সমাবেশ। সেই উপলক্ষে ইতিমধ্যেই ধর্মতলার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে জলঙ্গি দক্ষিণ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন জলঙ্গির তৃণমূল যুব সভাপতি মোশারফ হোসেন ওরফে লিলুয়া। শহীদদের স্মরণে প্রতি বছরই এই দিনটিকে পালন করে তৃণমূল কংগ্রেস। বিভিন্ন জেলা থেকে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা যোগ দেন এই সমাবেশে। তবে জলঙ্গি থেকে সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়া তৃণমূলের এই দলটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। মোশারফ হোসেন ওরফে লিলুয়া নিজের ফেসবুক পেজ থেকে একটি লাইভ করেন, যেখানে দেখা যায়, হিন্দি গানের তালে নাচতে নাচতে, উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ছে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। কলকাতার উদ্দেশ্যে বাসে করে যাওয়ার পথে হাসি-ঠাট্টা, গান-বাজনার মাঝখানে কোথাও যেন অনুপস্থিত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা বা শোকের আবহ। এই ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই জলঙ্গির রাজনীতিতে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য। সাধারণ মানুষের একাংশ যেমন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই ঘটনায়, তেমনিই বিরোধীরাও কটাক্ষের সুরে তুলেছেন পাল্টা প্রশ্ন— একুশে জুলাই কি তবে শোকের নয়, তামাশার দিন হয়ে উঠেছে? গত কয়েকদিন আগে মুর্শিদাবাদের এক সাংবাদিক সম্মেলন থেকে এই প্রশ্নই তুলেছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “২১শে জুলাই তৃণমূলের কাছে এখন আর শোক বা স্মরণ সভা নয়। বরং এটা এখন তৃণমূলের ক্ষমতা প্রদর্শনের মঞ্চ হয়ে উঠেছে। এটা এখন তৃণমূলের পিকনিক পার্টি।” অধীর বাবুর সেই বক্তব্য যে অমূলক নয়, তা প্রমাণ করে দিল এই ঘটনা। অধীর চৌধুরীর সুরে সুর মিলিয়ে সিমিআইএম এবং বিজেপির মতো বিরোধী দলের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, “এভাবে শহীদদের স্মরণ করা কি সম্মানজনক? নাকি দলীয় সংস্কৃতি এখন বিনোদনের অঙ্গনে পরিণত হয়েছে?” যদিও এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ভিডিওটি নিয়ে জলঙ্গি ব্লকের রাজনীতিতে বিতর্ক যে অব্যাহত, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
পেরিয়েছে ৩২ বছর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন বাঁচিয়ে খুইয়েছেন চাকরি, কিন্তু আজও তা ফেরত পাননি

আর ঠিক দুইদিন পর তৃণমূলের ঐতিহাসিক শহীদ সমাবেশ একুশে জুলাই। আর এই দিনটি আসলেই প্রতিবছর নতুন করে আশায় বুক বাঁধেন সিরাজুল হক মণ্ডল। ১৯৯৩-এর ২১শে জুলাই কলকাতা পুলিশের গুলিতে প্রাণ যায় ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মী। না। গোবরডাঙ্গার বাসিন্দা সিরাজুল সেদিন সেই মিছিলে পা-ও মেলাননি। পুলিশের গুলিতে আহত হননি। তাহলে কেন? কেন প্রতিবছর এই দিনটিতে আশায় বুক বাঁধেন সিরাজুল হক মণ্ডল? আসলে সেদিন কলকাতার রাজপথে ঘটে যাওয়া রক্তাক্ত দিনে তার হাতেই বদলে গিয়েছিল একজন মানুষের ভাগ্য। তিনি আর কেউ নন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী তথা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেদিনের সেই ঘটনার জন্য এখনও আফশোস করেন তিনি। তবে সেদিনের স্মৃতি এখনও জ্বলজ্বল করছে সিরাজুলের স্মৃতিতে। এখনও যেন চোখ বুঁজলে দেখতে পান ৩২ বছর আগের সেই ঘটনা। তৎকালীন কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মহাকরণের দিকে মিছিল এগোচ্ছিল। কলকাতা পুলিশের তরুণ কনস্টেবল সিরাজুল তখন হাতে মাস্কেট বন্দুক নিয়ে ডিউটিতে। সেই সময় হঠাৎই পুলিশের কাছে সেই মিছিলে লাঠিচার্জের নির্দেশ আসে। নির্দেশ দেন তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার দীনেশ বাজপেয়ী। তবে ঊর্ধ্বতন অফিসারের সেই নির্দেশ পালন না করে পাল্টা যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাণ বাঁচাতে নিজের সার্ভিস রিভলভার বের করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর দিকে তা তাক করে সিরাজুল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাঁচাতে অফিসারকে বলেন “স্যার! এই অত্যাচার থামান, না হলে আমি পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হব”। তবে রক্তাক্ত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন সিরাজুলের কারণে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন তিনি। বাম আমলে নিজের কর্তব্য অবহেলার কারণে হারাতে হয় পুলিশের চাকরি। বহিষ্কার করা হয় তাঁকে। এরপর গঙ্গা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। ২০১১ সালে সেই বামেদের সরিয়ে ক্ষমতায় আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আশা ছিল এবার হয়তো নিজের চাকরিটা ফেরত পাবেন তিনি। বারংবার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশের পরও এখনও মেলেনি চাকরি, আজও যেন তাই জীবন্ত শহীদ হয়েই দিন কাটাচ্ছেন সিরাজুল। আশায় কখনও কালীঘাটে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে, কখনও নবান্নে ছুটে গিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা হয়েছে বেশ কয়েকবার। পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ফেরত পাননি চাকরি। তবে কেন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশও কার্যকর হল না? এখনও সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজে যাচ্ছেন কলকাতা পুলিশের এই কর্মী। গাইঘাটার ভাঙাচোরা বাড়িতে বসে সিরাজুলের বক্তব্য, “সেদিন নিজের কর্তব্যের থেকেও মানবিকতাকে গুরুত্ব দিয়েছিলাম। তার ফল এখন ভোগ করছি। ২০১৮ সালে ফিরহাদ হাকিম ডেকে চাকরি ফেরত দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। ২০১৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটে ডেকে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলেন। পুলিশ দফতরও তো উনার হাতে। উনি আমার চাকরি ফেরত দেওয়া হবে বলে নির্দেশও দেন। তারপরও কিছুই হয়নি।” আর এখানেই তাঁর প্রশ্ন, “কেমন নির্দেশ দিলেন যে মুখ্যমন্ত্রী বলার পরও আমার চাকরিটা ফেরত পেলাম না?” না ৩২ বছর পর আজও তার সেই চাকরি ফিরে পাওয়ার কোনও নির্দেশই এসে পৌঁছয়নি গাইঘাটা থানার ইছাপুর ১নং পঞ্চায়েতের ভদ্রডাঙার টিনের বাড়িতে। বৃদ্ধা মা ও প্রতিবন্ধী বোনকে নিয়ে দিনমজুরির কাজ করে কোনও রকমে সংসার চলে। তবে আশা এখনও ছাড়েননি তিনি। প্রতিবার ২১ শে জুলাই আসলে আশায় বুক বাঁধেন— ‘যদি ডাক আসে।’ সিরাজুলের আক্ষেপ, “নবান্নে ডেকে আমার সঙ্গে ছবি তুলে উপহার দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই উপহার এখনও পড়ে আছে। উনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সে প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি। তাহলে কেন আমাকে ডেকে এভাবে অপমান করলেন মুখ্যমন্ত্রী? চাকরি যদি ফেরত নাই দিতে পারেন তাহলে কেন আমাকে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিলেন?” এই প্রশ্নের এখন উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, থুড়ি যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন বাঁচানো সিরাজুল হক মণ্ডল।