রড লেভার এরিনায় ফিরলেন ফেডেরার

অস্ট্রেলিয়া ওপেনের আগেই কোর্টে ফিরলেন রজার ফেডেরার(Roger Federer)! না অবসর ভেঙে ফের কোর্টে ফিরছেন না। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন(Australian Open) শুরু হওয়ার আগে একটি প্র্যাকটিস সেশনেই ফিরলেন বিশ্বের প্রাক্তন এক নম্বর টেনিস তারকা। আর তাঁকে দেখতেই রড লেভার এরিনাতে(Rod Laver Arena) এদিন উপচে পড়েছিল। ২০২২ সালের পর এই প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের(Australian Open) কোর্টে নামলেন রজার ফেডেরার(Roger Federer)। ফের একবার দেখা গেল তাঁর বাঁহাতের ঝলক। আগামী শনিবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শুরু হওয়ার আগে একটি প্রদর্শনী ম্যাচে নামার কথা রয়েছে রজার ফেডেরারের(Roger Federer)। সেখানেই তাঁর সঙ্গে খেলবেন আন্দ্রে আগাসীদের(Andre মতো প্রাক্তন টেনিস তারকারা। সেই ম্যাচ দেখার জন্য নাকি ইতিমধ্যে সব টিকিটও বিক্রি হয়ে গিয়েছে। কার্যত ফেডেরার ফের একবার কোর্টে নামার কথা সামনে আসতেই নাকি উত্তাপের পারদ চড়তে শুরু করেছে। নোভাক জকোভিচের আগে টেনিস কোর্টের সবচেয়ে বেশী গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের রেকর্ড ছিল ফেডেরারের দখলেই। শুধুমাত্র তাই নয় ফেড-এক্সকেই তো গ্রাস কোর্টের সম্রাটের আখ্যাও দেওয়া হয়েছে। সেই ফেডারারই অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শুরু হওয়ার আগেই মাতিয়ে দিলেন সেই গ্র্যান্ডস্লাম। তিনবারের গ্র্যান্ডস্লাম ফাইনালিস্ট ক্যাসপার রুডের বিরুদ্ধে একটি টাইব্রেকার ম্যাচে নেমেছিলেন রডার ফেডেরার। সেখানেই ফের একবার দেখা গেল ফেড-এক্সের সেই স্পিন থেকে ব্যাকহ্যান্ডের ঝলক। যতবারই তিনি ব্যাক হ্যান্ডে শট নিলেন উপচে পড়ল স্টেডিয়াম। ফেডেরার ফেডেরার চিৎকার উঠে এল বারবার গ্যালারী থেকে। ২০২২ সালে টেনিসকে বিদায় জানিয়েছিলেন গ্রাস কোর্টের সম্রাট। তারপর এই প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোর্টে নামলেন তিনি। এখনও যে ফেডেরারের জনপ্রিয়তা এতটুকু কমেনি সেটা যেন ফের একবার প্রমাণ করে দিলেন তিনি।
ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে লিও মেসির বোন

লিওনেল মেসির(Lionel Messi) পরিবারে বিরাট অঘটন। গাড়ী দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত লিওনেল মেসির বোন মারিয়া সল মেসি(Maria Sol Messi)। আগামী মাসেই দীর্ঘদিনের প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল মেসির বোনের। কিন্তু এই একটী দূর্ঘটনাই আপাতত বদলে দিয়েছে সমস্ত হিসাব। রোজারিও-তে এই ঘটনা হওয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়েছে। শোনাযাচ্ছে এখন নাক বিপদমুক্ত রয়েছেন মেসির(Lionel Messi) বোন। শোনাযাচ্ছে গাড়ি চালাতে চালাতে হঠাৎই নিয়ন্ত্রন হারান মেসির(Lionel Messi) বোন মারিয়া(Maria Sol Messi)। এরপরই একটি দেওয়ালে আঘাত করে তাঁর গাড়িটি। সেখানেই বেশ বড়সড় চোট পান এলএম টেনের বোন। শোনাযাচ্ছে পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি এখন স্পাইনাল কডেও নাকি ফ্র্যাকচার হয়েছে তাঁর। যদিও এই দূর্ঘটনা ঘটার কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে চিকিৎসা। মেসির পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে আপাতত নাকি তিনি বিপদের বাইরেই রয়েছেন। আগামী ৩ জানুয়ারি ইন্টার মিয়ামিরই কোচিং স্টাফের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল লিওনেল মেসির বোন মারিয়া সল মেসির। যদিও সেই বিয়ে আপাতত পিছিয়ে গিয়েছে। সেই বিয়েতে লিওনেল মেসি সহ গোটা পরিবারেরই নাকি যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বোনের এমন দূর্ঘটনায় যে লিও মেসিও বেশ উদ্বিগ্ন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মেসির মা-ই অবশ্য মারিয়ার শারীরিক উন্নতির কথা জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন গুরুতর আহত হলেও, এখন তিনি বিপদের বাইরে রয়েছেন। তবে পুরোপুরি সেরে উঠতে এখন বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে। এই মুহূর্তে পরিবারের সকলেই তাঁর পাশে রয়েছেন। আর্জেন্তিনার জনপ্রিয় সাংবাদিক অ্যাঞ্জেলকে মেসির বাড়ের তরফে জানানো হয়েছে যে তাঁর হাত এবং কব্জি ভেঙে গিয়েছে। তবে বিপদ সীমার বাইরে রয়েছে। গাড়ির নিয়ন্ত্রন হারানোর কথা শোনা গেলেও, আরও নানান কথাও শোনাযাচ্ছে। তবে মেসির বোন যে সুস্থ রয়েছে সেই কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁরই মা।
ধ্বংসযজ্ঞ বাংলাদেশে, পুড়ল রবীন্দ্রনাথের ছবি থেকে বই

বাংলাদেশে(Bangldesh) চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা। রক্ষা পেলনা রবীন্দ্রনাথে(Ravindranath Tagore) ছবি থেকে বই। এক লহমায় ঐতিহ্যের ছায়ানট(Chayanat) যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কট্টরপন্থীদের(Extremist) তাণ্ডবে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ(Bangladesh)। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হয়েছে ধ্বংসযজ্ঞ। তারই বলি এবার ছায়ানট। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের(Ravindranath Tagore) ছবি থেকে বই পুড়িয়ে দেয় কট্টরপন্থীরা। সেইসঙ্গেই ভাঙচুর চালানো হয় ছায়ানটে। অসংখ্য বাদ্যযন্ত্র সহ নানান জিনিসও ভেঙে ফেলা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বাংলাদেশে(Bangladesh) শুরু হয়েছে কট্টরপন্থীদের তাণ্ডব। ভারত-বিদ্বেষের পালে হাওয়া দিতে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছায়ানটে(Chayanat) রাতভর চলল ধ্বংসযজ্ঞ। বাংলাদেশের(Bangladesh) একাধিক সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাতে ছায়ানটে হাংলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। শুধুমাত্র ভাঙচুর করেই থেমে থাকেনি তারা। এররপর সেখানে অগ্নি সংযোগও করা হয়। শুধুমাত্র তাই নয় বাংলাদেশের(Bangladesh) দুই বহুল প্রচলিত সংবাদ মাধ্যমের অফিসেও চালানো হয়েছে ভাঙচুর। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে সেখানে। এক যুবককে পিটিয়ে তারপর গাছে ঝুলিয়ে জীবন্ত অবস্থায় আগুনও লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। কার্যত গোটা বাংলাদেশ জুড়ে সব জায়গাতেই এখন শুধুই বিশৃঙ্খলার ছবি। কট্টরপন্থীদের তাণ্ডবে গোটা দেশটাই যেন পরিণত হতে চলেছে এক ধ্বংসস্তূপে। ছায়ানটে পুড়িয়ে দেওয়া হয় রবি ঠাকুরের বই এবং ছবি। ছেঁড়া হয় লালন ফকিরের ছবিও। শুধু তাই নয়, বহু বাদ্যযন্ত্রও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। ছায়ানটের একাধিক ছবি এবং ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
“বন্দেমাতরম” দিয়ে মেসিকে স্বাগত অনীকের

সৌভিক মহন্ত “দেখো আয়া আয়া মেসি আয়া” – এই গানেই লিওনেল মেসির(Lionel Messi) সামনে মঞ্চ মাতাতে চলেছেন অনীক ধর। মেসির শহরে আগমনের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। সেখানেই যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসিকে(Lionel Messi) গান গেয়ে স্বাগত জানাবেন অনীক ধর(Aneek Dhar)। সেখানেই তাঁর গলায় শোনাযাবে বন্দেমাতরমের(VandeMaataram) সুর। মেসির সঙ্গে দেখা শুধু নয়, তাঁর সামনে গান। অনীকের(Aneek Dhar) কাছে এটা যেন এখনও স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। অনুষ্ঠানের সময় পেয়েছেন পাঁচ মিনিট। সেখানে নিজের বানানো মেসি অ্যান্থেম যেমন গাইবেন, তেমনই গাইবেন বন্দেমাতরমও। মেসিকে সামনে পেয়ে কী বলবেন, সেটা যেন ভেবেই পাচ্ছেন না এই গায়ক। তবে হ্যাঁ, মেসির(Lionel Messi) জন্য কিন্তু স্প্যানিশ শেখার চেষ্টা করছেন তিনি। শতদ্রু দত্ত তাঁকে এই সুযোগ করে দেওয়ায় আপ্লুত অনিক। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকার সামনে যেদিন থেকে শুনেছেন গান গাইবেন, উচ্ছ্বাসের মাত্রা বেড়েছে। এখন শুধুই মেসিকে দেখার অপেক্ষায় তিনি। যে লিও মেসির(Lionel Messi) নানান স্কীল থেকে বিশ্বকাপ জয় এতদিন সকলে টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছেন, সেই মেসির সামনে এক মঞ্চে থাকতে পারাটাই যেন উচ্ছ্বসিত করছে অনীককে(Aneek Dhar)। এ যেন সত্যিই এক ফ্যানবয় মোমেন্ট। যাঁকে দেখে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা, সেই মেসি যে এবার সামনে আসছেন। অপেক্ষার প্রহর গুনছেন বাংলার এই গায়ক। অনীকের(Aneek Dhar) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “এটা আমার কাছে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট। আমি কী বলব সত্যিই ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। এমন একজন কিংবদন্তী, যিনি ফুটবলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। যাকে দেখে ফুটবলকে ভালোবাসি। আমাদের কাছে তিনি তো অনুপ্রেরণা। সেই মেসি আসছেন কলকাতায়, সেটা আমাদের কাছে একটা বিশাল পাওয়া। শতদ্রু দা এমন একটা উদ্যোগ নিয়েছেন সেই জন্য আমার বুকভরা ভালোবাসা জানাতে চাই। আমি এমন একটা অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সঙ্গীত গাইছি যেখানে মঞ্চে থাকবেন লিওনেল মেসি, কিং খান, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বপ্ন যেন সত্যি হচ্ছে”। অনীক আরও বলেন, “আমি মেসির জন্য একটা গান তৈরি করেছি। মেসি আয়া-রে এই গানটা গাইব। একইসঙ্গে মেসির সামনে আমার দেশ, শহরের জন্য বন্দেমাতরমও গাইব। আমি এখন ভাবছি কখন সেই মুহূর্তটা আসবে, আমি তাঁর সামনে গিয়ে পারফর্ম করব”। ফুটবলের ভগবানকে সামনে পাওয়া। সেই মুহূর্তে মেসিকে(Lionel Messi) কী বলবেন সেটাই যেন ভেবে পাচ্ছেন না অনীক ধর। তিনি তো বলেই দিলেন, “জানি না আমি কী বলব। আমি তো বোধহয় পাগল হয়ে যাব”। মেসির সঙ্গে কোন ভাষায় কথা বলবেন অনীক। সেই ইঙ্গিতও কিন্তু খানিকটা দিয়েই রাখলেন তিনি। তিনি বলেন, “স্প্যানিশে হাই হ্যালো বলতে পারি। তবে ভালো বলেছেন, দেখি কিছু যদি স্প্যানিশ শিখে যাওয়া যায়”। শনিবার সকালেই যুবভারতীতে ফের একবার পা দিতে চলেছেন এলএম টেন। শহর জুড়ে উত্তাপের পারদ যে এখন তুঙ্গে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
মৌলবাদীদের খুনে মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ, শাস্তি ঘোষণা হতেই বিস্ফোরক শেখ হাসিনা

ফাঁসির সাজা ঘোষণা হওয়ার পরই মুখ খুললেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা(Sheikh Hasina)। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে খুনে সরকার বলেই তোপ দেগেছেন তিনি। একইসঙ্গে এই সরকারের এমন কোনও রায় দেওয়ার এক্তিয়ারই নেই বলে সাফ নিজের বিবৃতিতে জানিয়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনা(Sheikh Hasina)। অন্যদিকে শোনা যাচ্ছে এই রায় ঘোষণার পরই নাকি হাসিনাকে চেয়ে ভারতকে চিঠি দিতে পারে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। বাংলাদেসের(Bangladesh) খুনে সরকারের নির্দেশেই নাকি চলছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রাইম ট্রাইবুনাল। তাঁর মৃত্যু দন্ডের শাস্তি ঘোষণা হতেই এবার সরব হয়েছেন খোদ শেখ হাসিনা। সেইসঙ্গে ভারত আদৌ তাঁকে ছাড়ে কিনা সেদিকেই কিন্তু সকলের নজর রয়েছে। শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, “জনমত ছাড়াই গঠিত হওয়া সরকার এই ট্রাইবুনাল গঠন করেছে। তাই এই আদালতের কোনও বৈধতা নেই। যেভাবে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছে, সেটা আসলে ইউনুস সরকারের মৌলবাদীদের খুনে মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। আসলে তাদের উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামি লিগকে বলির পাঁঠা করে বাংলাদেশের বর্তমান সমস্যাগুলো থেকে নজর ঘুরিয়ে দেওয়া। এই রায় পক্ষপাতমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”।
মৃত্যু দন্ডের নির্দেশ শেখ হাসিনাকে

আশঙ্কাটাই সত্যি হল। শেখ হাসিনাকে(Sheikh Hasina) মৃত্যুদন্ড দিল ডাকার আন্তর্জাতিক ক্রাইম টার্বুনাল। তাঁর বিরুদ্ধে মনুষ্যত্বের বিরোধী কাজ এবং গণ হত্যার অভিযোগ এনেই শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়ার শাস্তি ঘোষণা করা হল। এই শাস্তি ঘোষণার পর থেকেই হৈচৈ পড়ে গিয়েছে। দীর্ঘ তিন মাস ধরে মামলা চলার পর শেষপর্যন্ত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শাস্তি ঘোষণার সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের জেরে শেষপর্যন্ত দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন শেখ হাসিনা(Sheikh Hasina)। এই মুহূর্তে মোহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সেখানে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ চালাচ্ছে। সেখানেই শেখ হাসিনা(Sheikh Hasina) সহ সেই সময়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সহ পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছিল। মুজিব কন্যার সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধেও মৃত্যু দন্ডের শাস্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা দেশে ফেরে কিনা সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন সকলে। হাসিনার(Sheikh Hasina) বিরুদ্ধ গণ হত্যা এবং মানবতা বিরোধী কাজের অভিযোগ আনা হয়েছে। বাংলদেশে যে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তাদেরকে রাজাকার হিসাবে সেই সময় চিহ্নিত করেছিলেন তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আর তাতেই আরও ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বাংলাদশের ছাত্র সমাজ। এরপরই শুরু হয়েছি জোদার আন্দোলন। এমন পরিস্থিতিতে হাসিনার বিরুদ্ধে তাদের সঙ্গে কথাবার্তার বদলে দমন পীড়নের পথ বেছে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেইসঙ্গে ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশের অভিযোগও উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নাকি ছাত্রদের মারতে দ্রোন এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছিল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। তিনি দেশ ছাড়লেও তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকার আন্তর্জাতিক ক্রাইম ট্রাইবুনালে নাকি শুরু হয়েছিল মামলা। দীর্ঘ তিন মাসের শুনানির পর এবার তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যু দন্ডের শাস্তিই দেওয়ার নির্দেষ আদালতের।
শেখ হাসিনা মামলার রায়দান আজ, গোটা বাংলাদেশ থমথমে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) আইনে আজ, সোমবার বাংলাদেশ (Bangladesh)-এর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-র বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হতে চলেছে। দোষী সাব্যস্ত হলে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক ভাবেই বাংলাদেশে উত্তেজনার পারদ চরমে। রায় ঘোষণার আগেই গোটা বাংলাদেশ জুড়ে তৈরি হয়েছে চরম অস্থিরতা। এই রায়দানের প্রতিবাদে শেখ হাসিনা(Sheikh Hasina)-র দল আওয়ামী লীগ (Awami League) দেশব্যাপী বন্ধের ডাক দিয়েছে। যদিও মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যেই ওই বনধকে নিষিদ্ধ করেছে। ফলে পুরো দেশজুড়ে জারি করা রয়েছে হাই-অ্যালার্ট। এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে শেখ হাসিনা(Sheikh Hasina)-র একটি অডিও বার্তা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে তিনি সমর্থকদের রাস্তায় নেমে আরও জোরালো প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই এই পরিস্থিতিতে গোটা বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ মহাম্মদ সাজ্জাদ আলি নির্দেশ জারি করেছেন, “কেউ যদি পুলিশের ওপর হামলা চালায় বা হিংসায় উস্কানি দেয়, তবে তাদের দেখামাত্রই যেন গুলি চালানো হয়।” শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মূলত যে ৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো হল— প্রথম অভিযোগ— অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা এবং নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে যে হাসিনা পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের কর্মীদের সাধারণ নাগরিকদের উপর আক্রমণ করতে উস্কানি দিয়ে হিংসাকে উৎসাহিত করেছিলেন এবং পরিস্থিতির সামাল দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিলেন। দ্বিতীয় অভিযোগ– ছাত্র বিক্ষোভকারীদের দমাতে হাসিনা প্রাণঘাতী অস্ত্র, হেলিকপ্টার এবং ড্রোন ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তৃতীয় অভিযোগ— ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডে হাসিনার প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে, হাসিনা এবং তাঁর সহযোগীরা তাকে হত্যার নির্দেশ ও ষড়যন্ত্রে সক্রিয় ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। চতুর্থ অভিযোগ— গত বছরের ৫ আগস্ট ঢাকার চাঁনখারপুলে ৬ জন নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীকে হত্যা করা হয়। এতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে এই হত্যাকাণ্ডগুলি সরাসরি হাসিনার নির্দেশে ঘটে। পঞ্চম অভিযোগ— পাঁচজন বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি ওই পাঁচজনের মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা এবং একজন বিক্ষোভকারীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আদালত ৪৫৩ পৃষ্ঠার একটি রায় লিখেছে, যা ছয়টি ভাগে বিভক্ত। আদালত বাংলাদেশের সরকারি আইনজীবী তাজুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং তার কাজের প্রশংসা করেছে। আদালত আসামিপক্ষের আইনজীবীদেরও ধন্যবাদ ও প্রশংসা করেছে। আদালত রায়ে প্রমাণ হিসেবে শেখ হাসিনার টেলিফোনিক কথোপকথন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদন এবং ভুক্তভোগীদের উপর সংঘটিত নৃশংসতার সমস্ত তথ্যও এই রায়ে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বরিশালে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, সরকার অবিলম্বে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। তিনি আরো জানান, দোষীদের কোনভাবেই রেহাত করা হবে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলা এই মামলাকে “বিচারের নামে প্রহসন” এবং ন্যায়বিচারের নামে “রাজনৈতিক প্রতিহিংসার” বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেছে। তাদের মতে, বিচার ব্যবস্থা সত্য উদ্ঘাটনের পরিবর্তে রাজনৈতিক চাপের কাছে মাথানত করেছে। তাই হাসিনা সমর্থক থেকে শুরু করে বহু সাধারণ মানুষের কাছে এটি শুধুমাত্র একটি আইনি লড়াই নয়; বরং বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং সাংবিধানিক অধিকারের বড় পরীক্ষা বলেই অভিমত আওয়ামী লীগ সমর্থকদের। এখন দেখার, রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কিনা, কিংবা আওয়ামী লীগ সমর্থকরা এই ঘটনায় কী প্রতিক্রিয়া দেখায়।
আমেরিকায় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু ভারতীয় প্রযুক্তিবিদের

রাতারাতি বাণিজ্য শুল্ক বাড়ানো নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের(United States) সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক এমনিতেই বেশ খানিকটা শিথিল হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবার খোদ মার্কিন(United States) মুলুকে পুলিশের গুলি মারা গেলেন ভারতীয় যুবক। তেলাঙ্গানার মহবুবনগর জেলার ৩০ বছর বয়সী মহম্মদ নিজামুদ্দিন পেশায় ছিলেন প্রযুক্তিবিদ। ২০১৬ সালে ফ্লোরিডা কলেজে উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (United States) গিয়েছিলেন তিনি। তারপর সেখান থেকে এমএস ডিগ্রি অর্জনের পর, তিনি সেখানকারই একটি কোম্পানিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ শুরু করেন। পরে পদোন্নতির ফলে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যান। মহম্মদ নিজামুদ্দিনের বাবা মহম্মদ হাসনুদ্দিন সংবাদ মাধ্যমের সামনে দাবি করেছেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর তাঁর ছেলের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটে। সম্ভবত সেদিন রুমমেটের সাথে এসি নিয়ে ঝগড়া হয় নিজামুদ্দিনের। সেই ঝামেলা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ছুরি নিয়ে একে অন্যের দিকে তেড়ে যায়। সেসময় নাকি পুলিশ এসে ঘরে থাকা ব্যক্তিদের হাত দেখাতে বলে। তাতে একজন রাজি হলেও, অন্যজন রাজি হয়নি। এরপরই নাকি পুলিশ চার রাউন্ড গুলি চালায় এবং তখনই গুলিবিদ্ধ হন নিজামুদ্দিন। তবে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নিজামুদ্দিনের বাবারও অজানা। তাঁর ছেলের মৃতদেহ বাড়িতে ফিরিয়ে আনার জন্য সাহায্য চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদনও জানিয়েছেন মহম্মদ হাসনুদ্দিন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে লেখা একটি চিঠিতে মহম্মদ হাসনুদ্দিন বলেছেন, “আজ সকালে, আমি জানতে পারি যে আমার ছেলেকে সান্তা ক্লারা পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে এবং তাঁর মৃতদেহ ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারার কোনও এক হাসপাতালে রয়েছে। পুলিশ তাঁকে কেন গুলি করে হত্যা করেছে তার আসল কারণ আমি জানি না। তাই আপনাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ আপনারা যদি ওয়াশিংটন ডিসির ভারতীয় দূতাবাস এবং সান ফ্রান্সিসকোতে ভারতের কনস্যুলেট জেনারেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমার ছেলের মৃতদেহ মাহাবুবনগরে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেন।” গত বৃহস্পতিবার মজলিদ বাঁচাও তাহরিক (MBT) মুখপাত্র আমজেদ উল্লাহ খান এক্স হ্যান্ডেলে মৃত নিজামুদ্দিনের বাবা হাসনুদ্দিনের তরফে জয়শঙ্করকে লেখা চিঠিটি শেয়ার করেন, যেখানে তিনি বিদেশমন্ত্রীকে এই বিষয়ে ওই পরিবারকে সাহায্য করার অনুরোধও জানান। সব মিলিয়ে মৃতের বাবার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এটা অনেকটাই স্পষ্ট যে, মৃত নিজামুদ্দিনের বিষয়ে তাঁর পরিবারও অনেকটাই ধোঁয়াশায়। এখন দেখার, এ বিষয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
নেপালের গণ-অভ্যুত্থান নেহাতই কি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যান করার কারণেই? উঠছে প্রশ্ন

চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নেপাল (Nepal)। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যান এবং সরকারের উপরে ক্ষোভ থেকেই পথে নামে যুব সম্প্রদায়। বিক্ষোভ আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি চালায় পুলিশ। এর ফলে মৃত্যু হয় কমপক্ষে ২০ জন আন্দোলনকারীর। এর পরেই নেপাল(Nepal) সেনার তরফে জারি করা হয় কার্ফু। যদিও তারপরও অশান্তির আগুন নেভানো যায়নি। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় সংসদ ভবন। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছেড়ে পালান কেপি শর্মা ওলি ও অন্যান্য মন্ত্রীরা। অর্থমন্ত্রী সহ একাধিক মন্ত্রীর মার খাওয়ার ছবিও সামনে আসে। অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর। পাশের রাষ্ট্র নেপাল(Nepal)-এর এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তিনি তাঁর এক্স-হ্যান্ডেলে লেখেন, “হিমাচল প্রদেশ ও পঞ্জাব থেকে ফিরে নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠকে নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নেপালের হিংসা হৃদয় বিদারক। এত সংখ্যক যুবকের মৃত্যুতে আমি উদ্বিগ্ন। নেপালের শান্তি, স্থিতাবস্থা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি নেপালের ভাই-বোনদের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি আপনারা শান্তিকে সমর্থন করুন।” কিন্তু নেপালের এই গণ-অভ্যুত্থান শুধুই কি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যান করার কারণে— না, বিষয়টা একেবারেই তেমন নয়। শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করে দেওয়ায় রাতারাতি একটা গণ-অভ্যুত্থান ঘটানো সম্ভব নয়। আসলের নেপালে যুব সমাজের অন্দরে আগুনের সলতে পাকানোর কাজটা চলছিল বেশ কিছু বছর ধরেই। সরকার তাতে আমল দেয়নি। দুর্নীতি ও বেকারত্ব নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল যুব সমাজের মনে। এরই মধ্যে গত আগস্ট মাসে নেপালের ললিতপুর জেলার হরিসিদ্ধিতে ঘটে একটি দুর্ঘটনা। ১১ বছরের একটি শিশুকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায় মন্ত্রীর গাড়ি। কিন্তু সাধারণ মানুষ ধরে ফেলেন গাড়িটিকে। নেপালের এক মন্ত্রীর ড্রাইভার চালাচ্ছিলেন গাড়িটি। তাকে আটক করে পুলিশের কাছে দিলে রাতিরাতিই ছাড়া পেয়ে যায় সে। এমনকী নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলি ওই ঘটনাকে ‘সামান্য ঘটনা’ বলে আখ্যা দেন। এরপরই ঘৃতাহুতি হয় আগুনে, ধিকিধিকি যুব সমাজের ভিতর বাড়তে থাকে ক্ষোভ। গুরুতর আহত ওই ১১ বছরের মেয়ের ছবি সমাজ মাধ্যমে ট্রেন্ডিং হতে শুরু করে। অবশেষে গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর নেপাল সরকারের তরফে ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো মোট ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরই বাঁধ ভাঙে যুব সমাজের। হড়পা বানের মতো সাধারণ মানুষের এতদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। যে আগুন এত বছর ধরে ধিকিধিকি জ্বলছিল, তা পূর্ণতা পায় সরকারের একটিমাত্র সিদ্ধান্তে। আর তাই সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের আঁচ সবার আগে গিয়ে পড়ে সংসদ ভবনে। সব মিলিয়ে নেপালে(Nepal) গণ-অভ্যুত্থানের চিত্রনাট্যের খসড়া রচনা চলছিল অনেক আগে থেকেই।
লালনের প্রয়াণ দিবসকেই ‘জাতীয় দিবস’ হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের

ইসলাম বিরোধী আখ্যা দিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে লালন ফকিরের স্মরণোৎসবকে বন্ধ করে দিয়েছিল বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন যে অন্তর্বর্তী সরকার, সেই তারাই এবার লালন ফকিরের প্রয়াণ দিবসকে ‘জাতীয় দিবস’ হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত নিল। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের ৪০তম বৈঠকে এই প্রস্তাকে অনুমোদন দেওয়া হয় বলেই জানা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ঘিরে গত একবছর ধরেই নানা অভিযোগ সামনে আসছিল। পাশাপাশি সেই সব ঘটনায় প্রচ্ছন্ন মৌলবাদী মদতও লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে এই সমস্ত ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসকে সদর্থক ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। গত ফেব্রুয়ারিতে শুধু লালন স্মরণোৎসব বন্ধ করে দেওয়ারই নয়, এর আগে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী লালন মেলাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তার পিছনেও যুক্তি ছিল, লালনের মতাদর্শ ইসলাম বিরোধী। এমনকী প্রশাসনের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও বন্ধ করে দেওয়া হয় লালনের স্মরণোৎসব। যদিও বাংলাদেশে মৌলবাদ রুখতে মহম্মদ ইউনূস সরকারকে এখনও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। লালন ফকির কিন্তু নিজেকে সব সময় হিন্দু-মুসলমানের উর্ধ্বে একজন আধ্যাত্মিক সাধক হিসাবেই নিজেকে ভাবতেন। তাঁর গান তাই সময়ের গন্ডি ছাড়িয়ে চিরকালের। প্রেম, মানবতা, সম্প্রতির করুণ আর্তিই বারবার ঝরে পড়েছে তাঁর সুরে। ধর্ম ও জাতপাতের ঊর্ধ্বে তাঁর গান তাই জীবনমুখী গান। অথচ সেই লালনের মতাদর্শকে ইসলামের পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছিল বাংলাদেশের মৌলবাদীরা। শুধু লালনই নয়, বাংলাদেশে এই মৌলবাদীদের রোষে পড়েছেন রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুলও। অথচ সরকারি ভাবে এর বিরোধিতা করে কোনও বিবৃতিও দেওয়া হয়নি। এবার লালনের প্রয়াণ দিবসকেই ‘জাতীয় দিবস’ হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত নিল ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ইউনূসের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকি নিজের সোস্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে এই খবর জানান। তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন, “লালনকে উদযাপন করার মধ্য দিয়ে আমরা রবীন্দ্র-নজরুলের পাশাপাশি চেনা ছকের বাইরে তাকাতে শুরু করলাম। এটা কেবল শুরু।” আর ফারুকির এই পোস্টই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা হল— তবে কি রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলকে কোণঠাসা করতেই লালনকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করতে চাইছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।